গুরু মহারাজ স্বামী পরমানন্দের অন্যতম অন্তরঙ্গ ভক্ত, পার্ষদ স্বামী মাধবানন্দ মহারাজের অকাল প্রয়াণে মর্মাহত আমরা অর্থাৎ স্বামী পরমানন্দের সাধারণ ভক্তেরা। সেইজন্য আমাদের তাঁর প্রতি শ্রদ্ধার্ঘরূপ এই স্পেশাল এপিসোড গুলি এখন কয়েক দিন ধরে “পুরোনো সেই বনগ্রামের কথা” পেজে ছাপা হবে। আজকে সেই আলোচনার দ্বিতীয় ভাগ।।

আমরা আগের দিন স্বামী মাধবানন্দের সন্ন্যাস-পূর্ব জীবনের কিছু কথা এখানে আলোচনা করেছিলাম। এইবার আজকে ওনার এবং ওনার সহোদর ভ্রাতা জ্যোতির্ময়ানন্দ মহারাজের সাথে গুরু মহারাজের প্রথম সংযোগের কথা আলোচনা করা হবে। সালটা ছিল ১৯৯১(বা১৯৯২) সাল। মাধবানন্দ মহারাজেরা(তখনকার মহাদেব ব্যানার্জী) তখন দুর্গাপুর বিধাননগরে চলে এসেছিলেন । একদিন সকাল ১০-টার মতো সময়ে জ্যোতির্ময়ানন্দ (তখনকার জয়দেব ব্যানার্জী) একটা হাফ প্যান্ট পরে এবং তার উপর একটা তোয়ালে জড়িয়ে, ওনাদের ভাড়া বাড়ির নিচের অংশে লাগানো ফুলগাছে জল দিচ্ছিলেন। এমন সময়ে উনি দেখেন যে, ঐ পাড়ার একটি লোকের সাথে গুরু মহারাজ ঐদিকেই হেঁটে আসছিলেন। সন্ন্যাসীর পোষাক পরিহিত একজন ব্যক্তিকে দেখার সাথে সাথেই জ্যোতির্ময়ানন্দ মহারাজ দৌড়ে গিয়ে তাঁকে প্রণাম করেছিলেন। সন্ন্যাসীকে দেখলে প্রণাম করার রীতিটা ওনাদের মা গীতাদেবী ওনাকে ছোটোবেলা থেকেই শিখিয়েছিলেন। তখন‌ও জ্যোতির্ময়ানন্দ মহারাজ জানতেন‌ই না কি ওনার পরিচয় !

প্রণাম করার পরেই গুরুজী ওনাকে উনি যেখানে যাচ্ছিলেন সেখানে যেতে বলেছিলেন। জ্যোতির্ময়ানন্দ মহারাজ(তখনকার জয়দেব ব্যানার্জী) ঘরে গিয়ে জামাকাপড় বদলে এসে দেখেন ওনারা আর কোথাও নাই। তারপর অনেক খুঁজে খুঁজে উনি ঠিক বের করে ফেলেছিলেন গুরুজী কোন বাড়িতে রয়েছেন ! সেখানে যাবার পর গুরুজীর শ্রীমুখের বাণী শুনে ওনার বেশ ভালো লেগে যায়। উনি ভাবতে থাকেন ”এইরকম একটা মানুষের সঙ্গ বারবার করতে পারলে বেশ হয় !”

বাড়ি ফিরে উনি ওনার friend -philoshopher cum guide, আবার অন্যদিক দিয়ে পিতৃসম দাদা মাধবানন্দ (তৎকালীন মহাদেব ব্যানার্জী)-কে গুরুজীর কথা বলেন। এদিকে আদর্শ টিচার হিসাবে তখন মাধবানন্দ মহারাজের ঐ অঞ্চলে বেশ নামডাক _বহু ছাত্র-ছাত্রীর gurdian-রা ওনাকে খুব মান্যতা দেয়। তাদের‌ মধ্যে একজন‌ও মাধবানন্দ মহারাজকে গুরুজীর কথা বলেছিল। যদিও সেইসময় উনি অন্যান্য অনেক মঠ-মিশনের সাথে যুক্ত ছিলেন এবং আনন্দমার্গ দলের হয়ে কাজ‌ও করছিলেন_তবু উনি গুরু মহারাজের কথা প্রথম শোনার পরেই ওনার ব্যাপারে খুবই কৌতুহলী হয়ে ওঠেন।। সেই সময় গুরু মহারাজ দুর্গাপুরে প্রায় তিন-চার দিন ছিলেন। ফলে মাধবানন্দ মহারাজ  বনগ্রামের ন'কাকা(শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়)-র সেজদা উমাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের বাড়িতে গিয়ে গুরুজীর সাক্ষাৎ করেছিলেন। প্রথম দর্শনেই গুরু মহারাজ ওনাকে "মাষ্টার" বলে সম্বোধন করেছিলেন। "মাষ্টার"(মাধবানন্দ মহারাজ)-ও তাঁর "মাষ্টারি বিদ্যা" প্রয়োগ করে একেবারে "মাষ্টারস্ট্রোক" দিয়ে বসেন _চলে যাবার আগে গুরুজীকে বলেন যে ওনাদের বাড়িতে একবার পদার্পণ করতে হবেই হবে! গুরুজী এক কথায় রাজী হয়ে গিয়েছিলেন !!