জিজ্ঞাসু:—গুরুজী ! রাস্তাঘাটে আজকাল চলাফেরা করাই খুব দায়ের কথা হয়ে পড়েছে। চারিদিকে ঠকবাজ, জোচ্চোর লোকের সংখ্যা এত বেড়ে গেছে যে, বলার নয় ! লোকে যেন ঠকাবার জন্য বসে রয়েছে ! এমন পরিস্থিতিতে পড়ে যাই যে, ঠকছি_তা জানতেই পারি না, আবার অনেক সময় এমন হয় যে, জেনেও কিছু করার থাকেনা ?
গুরু মহারাজ:—-হ্যাঁ, কিন্তু কেউ ঠকাতে চাইলেও বা তুমি ঠকবে কেন ? শুধুমাত্র common sense __ apply করেও অনেকসময় বোঝা যায় যে, তোমাকে কেউ ঠকাতে চাইছে ! কিন্তু কথাটা হোচ্ছে__তুমি ঠকবে কেন ? দ্যাখো, তুমিই বলছো_ অনেক সময় বোঝা না গেলেও কোনো কোনো ক্ষেত্রে কেউ তোমাকে ঠকাতে চাইছে সেটা তুমি বুঝতে পারছো, অথচ তুমি কিছু করতে পারছো না ! এইটা কিন্তু মানুষের এক ধরণের দূর্বলতা ! এই দূর্বলতা থাকে বলেই মানুষ ঠকে কষ্ট পায় !
অনেক সময় দেখা যায় সাধুসন্তের বেশ ধরেও অনেকে মানুষকে ঠকায় । এদেরকে চেনার উপায় আমি বলে দিচ্ছি ! “আপ কথা, বাপ কথা, দেশ কথা”_ প্রকৃত সাধুব্যক্তি কখনোই বলতে চাইবে না । আর প্রথম পরিচয়ে তো একেবারেই না ! তাছাড়া প্রথম পরিচয়ে যদি কেউ তোমাকে সাহায্য চেয়ে টাকার কথা বলে, তাহলে সে সাধুবেশীই হোক বা ভদ্রবেশীই হোক অথবা অন্য যে কোনো ব্যক্তিই হোক না কেন_ তাকে সন্দেহের চোখে দেখবে ! এই কথাগুলো তোমাদেরকে আমি আগেও অনেকবার বলেছি, তবু তোমরা প্রতারিত হও__ যেন তোমরা প্রতারিত হোতেই ভালোবাসো।
তবে জানো, আমার মনে হয় যারা বারংবার ঠকতে ভালোবাসে, তারা হয় stupid, না হয় পরমহংস ! তবে stupid আর পরমহংসের মধ্যে পার্থক্য কি, তা চেনার উপায় রয়েছে ! stupid-দের না ঠকে আর উপায় কি, সে যে ঠকতেই ভালবাসে ! তাই তাকে যে পারে, সেই ঠকায় ! আর ঠকতে ঠকতে তার যেন গা সওয়া হয়ে যায় ! অপরদিকে পরমহংস স্থিতির মহাত্মাদের ঠকা-জেতায় মনোজগতে কোনোরূপ বিকার সৃষ্টি হয়না । সর্ব অবস্থাতেই তাঁরা অবিকার, অবিচল থাকেন । ফলে, এই দুই স্থিতির মানুষের ঠকা-জেতার অনুভূতির বা উপলব্ধির জগতে পার্থক্য রয়েছে ! বোকা বা stupid-রা বারবার ঠকে এবং ঠকার পর বারবারই কষ্ট পায় ! তাছাড়া তারা সেই কষ্টের কথা অন্যকে প্রকাশও করে ফেলে_যেমনটা তুমি এখানে করছো(আমরা পরে খবর পেয়েছিলাম, ঐ ব্যক্তির সম্প্রতি বেশ কিছু টাকা, কোনো ঠকবাজ হাতিয়ে নিয়েছিল।)! অপরপক্ষে পরমহংস-স্থিতির মহাত্মারা সবেতেই সমদর্শন করেন, তাই কোনো কিছুতেই তাঁরা কষ্ট পান না_ “ন চ দুঃখম্ ন চ সুখম্, শ্চিদানন্দ রূপম্ শিবোহম্ শিবোহম্”।। তাঁরা সর্বদা শিবস্থিতিতে থাকেন ! জগতের সমস্ত কিছু কালো, সমস্ত খারাপ বা যা কিছু কষ্টদায়ক অর্থাৎ শাশ্ত্র যাকে বিষ বা গরল বলেছে__সেগুলিকে তাঁরা কন্ঠে ধারণ করে নীলকন্ঠ হয়ে যান।
তবে, তুমি যে অর্থে ঠকা বা জেতার কথা বলতে চাইলে_ সেটা নিতান্তই অর্থনৈতিক ! অনেক সময় দেখা যায়_ বন্ধু-বান্ধব, আত্মীয়-স্বজনরাও সুযোগ পেলে ঠকায় । আবার দেখা যায়, সমাজের শক্তিশালী ব্যক্তিরা, রাজা, জমিদার, ধনী ব্যক্তিরা, শক্তিশালীরা__ এরাও বলপ্রয়োগের দ্বারা বা অন্য কোনো কৌশলে মানুষের ধনরত্ন, জমি-জায়গা নিয়ে নিয়ে মানুষকে ঠকাতে পারে !
আবার সমাজে দেখা যায়, এমন কিছু চালাকচতুর লোকেরা রয়েছে__ যারা তোমাকে প্রতারিত করে নিজের কাজটি ঠিক হাসিল করে থাকে। দেখবে, অফিসে হয়তো কোনো যোগ্য ব্যক্তিকে টপকে অন্য একজন অযোগ্য ব্যক্তি নিজের প্রমোশনটা করিয়ে নিল অথবা রাজনীতির ক্ষেত্রে_ কোনো চালাকচতুর নেতা তার senior নেতাদের টপকে, যে কোনো অবৈধ উপায়ে গ্রামের প্রধান বা জেলা পরিষদের মেম্বার অথবা MLA, MP বনে গেল ! এইভাবে, নানা রকম cheating হয়ে থাকে সমাজে !
cheater-দের training হয় জানোতো !! তাদের ছোট-বড় institute-ও রয়েছে ! সেখানে এইসব training দেওয়া হয় ! ফলে, তারা আগে বসে নানা পরিকল্পনা করে__ তারপর কাউকে plan করে cheating করে ! বড় কোনো দাঁও মারার জন্য, ধরো_ ওরা কাউকে জালে তুলতে চায়, সেখানে cheater-দের একটা দল কাজে নেমে পড়ে ! এক নম্বর পরিকল্পনা, দুই নম্বর পরিকল্পনা, পরিকল্পনা-নম্বর তিন__ ইত্যাদি তিন-চারটে পরিকল্পনা বা plan রেডি থাকে ! একটা plan_fail হোলে, পরবর্তী গুলি কার্যকরী করে ওরা অর্থাৎ যে কোনোভাবে ওরা cheating-কার্য successful করবেই !
তবে পরমহংস স্মৃতির মহাত্মা-মহাপুরুষদের কথা যেটা বলছিলাম_ তাঁদেরকে কেউ কখনোই ‘সেই অর্থে’ cheating করতে পারেনা ! আপাতদৃষ্টিতে তুমি দেখে মনে করবে যে, হয়তো তাঁকে cheating করা হোলো কিন্তু প্রকৃতপক্ষে এইসব তুচ্ছাতিতুচ্ছ ঘটনা, অর্থনৈতিক loss বা physical-mental torture__ এগুলি তাঁদের মনোজগতে কোনোরকম রেখাপাত করতে পারেনা । তাঁরা ব্যবহারিক জীবনে সাধারণ মানুষের দ্বারা বহু ক্ষেত্রেই লাঞ্ছিত হ’ন, স্থুলদৃষ্টিতে প্রতারিতও হ’ন_অনেকসময় নির্যাতিতও হ’ন কিন্তু তাদের কখনোই কোনো মানুষের উপর কোনোদিন কোনো অভিযোগ থাকে না ! কাশী(বেনারস)-তে থাকাকালীন ত্রৈলঙ্গস্বামীর গায়ে যখন কাশীরাজ দামী গহনা বা দামী শাল পড়িয়ে দিয়েছিলেন__ তখনও তিনি নির্বিকার ছিলেন, আবার কয়েকজন বদমাশ যখন সেগুলি কেড়ে নিয়েছিল_ তখনও তিনি নির্বিকার ছিলেন ! আবার দ্যাখো, বামদেবকে তারাপীঠে যখন পান্ডারা মেরেছিল, তখন তিনি ✓রী তারা-মাকে গালাগালি দিয়েছিলেন পান্ডাদের বিরুদ্ধে একটি কথাও বলেননি ! ঠাকুর শ্রীরামকৃষ্ণ একবার ভাবস্থ অবস্থায় দক্ষিণেশ্বরের মন্দির-প্রাঙ্গণে পড়ে গিয়েছিলেন ! এই অবস্থায় ভিতরে পূর্ণ জ্ঞান থাকে কিন্তু বাহ্যশরীরের ক্রিয়াশীলতা প্রায়শঃই থাকে না ! এইরকম একটা অবস্থায় দক্ষিণেশ্বরের অন্য একটি পূজারী(কালীঘাটের হালদার_ যে ঠাকুরের প্রতি সবসময় ঈর্ষা পোষণ করতো), ঠাকুরের পায়ের বুড়ো আঙুলে পা দিয়ে চেপে ধরে মন্দির প্রাঙ্গণে বাঁধানো সানে(পাথরের মতো শক্ত স্থানে)বারবার রগড়ে দিচ্ছিলো এবং মুখে বলছিলো_” বল্ না ! কোন মন্ত্রে তুই মথুরবাবু বা রানীমা-কে বশ করেছিস্” ? ঠাকুর শ্রীরামকৃষ্ণের ভাবস্থ-অবস্থা কেটে যাবার পর ওনার পায়ের আঙুলে বেশ কয়েকদিন ব্যাথা ছিল ! উনি ইচ্ছা করলেই মথুরবাবুকে বলে ঐ পুরোহিত(হালদার)-কে চাকরি থেকে বরখাস্ত করিয়ে দিতে পারতেন, কিন্তু তিনি তা করেননি।
এইসব উদাহরণগুলি দিলাম __যেগুলি বিভিন্ন মহাপুরুষদের জীবনে বারবার ঘটেছিল কিন্তু সাধারন মানুষরা তো আর মহাপুরুষ নয় __তারা বেচারা ! বুদ্ধিমান ঠকবাজদের পাল্লায় পড়লে তারা সহজেই ঠকে যায় এবং কষ্ট পায় ! তাছাড়া গরীব বা মধ্যবিত্ত অথবা নিম্নবিত্ত মানুষেরা অর্থনৈতিকভাবে ঠকলে, তাদের জীবনযাত্রাও ব্যাহত হয় ! তাই মানুষকে common sense বা কান্ডজ্ঞান সম্পন্ন হোতেই হবে ! কান্ডজ্ঞান ঠিকমতন ক্রিয়াশীল থাকলে মানুষ অপেক্ষাকৃত ঠকে কম !
গুরু মহারাজ:—-হ্যাঁ, কিন্তু কেউ ঠকাতে চাইলেও বা তুমি ঠকবে কেন ? শুধুমাত্র common sense __ apply করেও অনেকসময় বোঝা যায় যে, তোমাকে কেউ ঠকাতে চাইছে ! কিন্তু কথাটা হোচ্ছে__তুমি ঠকবে কেন ? দ্যাখো, তুমিই বলছো_ অনেক সময় বোঝা না গেলেও কোনো কোনো ক্ষেত্রে কেউ তোমাকে ঠকাতে চাইছে সেটা তুমি বুঝতে পারছো, অথচ তুমি কিছু করতে পারছো না ! এইটা কিন্তু মানুষের এক ধরণের দূর্বলতা ! এই দূর্বলতা থাকে বলেই মানুষ ঠকে কষ্ট পায় !
অনেক সময় দেখা যায় সাধুসন্তের বেশ ধরেও অনেকে মানুষকে ঠকায় । এদেরকে চেনার উপায় আমি বলে দিচ্ছি ! “আপ কথা, বাপ কথা, দেশ কথা”_ প্রকৃত সাধুব্যক্তি কখনোই বলতে চাইবে না । আর প্রথম পরিচয়ে তো একেবারেই না ! তাছাড়া প্রথম পরিচয়ে যদি কেউ তোমাকে সাহায্য চেয়ে টাকার কথা বলে, তাহলে সে সাধুবেশীই হোক বা ভদ্রবেশীই হোক অথবা অন্য যে কোনো ব্যক্তিই হোক না কেন_ তাকে সন্দেহের চোখে দেখবে ! এই কথাগুলো তোমাদেরকে আমি আগেও অনেকবার বলেছি, তবু তোমরা প্রতারিত হও__ যেন তোমরা প্রতারিত হোতেই ভালোবাসো।
তবে জানো, আমার মনে হয় যারা বারংবার ঠকতে ভালোবাসে, তারা হয় stupid, না হয় পরমহংস ! তবে stupid আর পরমহংসের মধ্যে পার্থক্য কি, তা চেনার উপায় রয়েছে ! stupid-দের না ঠকে আর উপায় কি, সে যে ঠকতেই ভালবাসে ! তাই তাকে যে পারে, সেই ঠকায় ! আর ঠকতে ঠকতে তার যেন গা সওয়া হয়ে যায় ! অপরদিকে পরমহংস স্থিতির মহাত্মাদের ঠকা-জেতায় মনোজগতে কোনোরূপ বিকার সৃষ্টি হয়না । সর্ব অবস্থাতেই তাঁরা অবিকার, অবিচল থাকেন । ফলে, এই দুই স্থিতির মানুষের ঠকা-জেতার অনুভূতির বা উপলব্ধির জগতে পার্থক্য রয়েছে ! বোকা বা stupid-রা বারবার ঠকে এবং ঠকার পর বারবারই কষ্ট পায় ! তাছাড়া তারা সেই কষ্টের কথা অন্যকে প্রকাশও করে ফেলে_যেমনটা তুমি এখানে করছো(আমরা পরে খবর পেয়েছিলাম, ঐ ব্যক্তির সম্প্রতি বেশ কিছু টাকা, কোনো ঠকবাজ হাতিয়ে নিয়েছিল।)! অপরপক্ষে পরমহংস-স্থিতির মহাত্মারা সবেতেই সমদর্শন করেন, তাই কোনো কিছুতেই তাঁরা কষ্ট পান না_ “ন চ দুঃখম্ ন চ সুখম্, শ্চিদানন্দ রূপম্ শিবোহম্ শিবোহম্”।। তাঁরা সর্বদা শিবস্থিতিতে থাকেন ! জগতের সমস্ত কিছু কালো, সমস্ত খারাপ বা যা কিছু কষ্টদায়ক অর্থাৎ শাশ্ত্র যাকে বিষ বা গরল বলেছে__সেগুলিকে তাঁরা কন্ঠে ধারণ করে নীলকন্ঠ হয়ে যান।
তবে, তুমি যে অর্থে ঠকা বা জেতার কথা বলতে চাইলে_ সেটা নিতান্তই অর্থনৈতিক ! অনেক সময় দেখা যায়_ বন্ধু-বান্ধব, আত্মীয়-স্বজনরাও সুযোগ পেলে ঠকায় । আবার দেখা যায়, সমাজের শক্তিশালী ব্যক্তিরা, রাজা, জমিদার, ধনী ব্যক্তিরা, শক্তিশালীরা__ এরাও বলপ্রয়োগের দ্বারা বা অন্য কোনো কৌশলে মানুষের ধনরত্ন, জমি-জায়গা নিয়ে নিয়ে মানুষকে ঠকাতে পারে !
আবার সমাজে দেখা যায়, এমন কিছু চালাকচতুর লোকেরা রয়েছে__ যারা তোমাকে প্রতারিত করে নিজের কাজটি ঠিক হাসিল করে থাকে। দেখবে, অফিসে হয়তো কোনো যোগ্য ব্যক্তিকে টপকে অন্য একজন অযোগ্য ব্যক্তি নিজের প্রমোশনটা করিয়ে নিল অথবা রাজনীতির ক্ষেত্রে_ কোনো চালাকচতুর নেতা তার senior নেতাদের টপকে, যে কোনো অবৈধ উপায়ে গ্রামের প্রধান বা জেলা পরিষদের মেম্বার অথবা MLA, MP বনে গেল ! এইভাবে, নানা রকম cheating হয়ে থাকে সমাজে !
cheater-দের training হয় জানোতো !! তাদের ছোট-বড় institute-ও রয়েছে ! সেখানে এইসব training দেওয়া হয় ! ফলে, তারা আগে বসে নানা পরিকল্পনা করে__ তারপর কাউকে plan করে cheating করে ! বড় কোনো দাঁও মারার জন্য, ধরো_ ওরা কাউকে জালে তুলতে চায়, সেখানে cheater-দের একটা দল কাজে নেমে পড়ে ! এক নম্বর পরিকল্পনা, দুই নম্বর পরিকল্পনা, পরিকল্পনা-নম্বর তিন__ ইত্যাদি তিন-চারটে পরিকল্পনা বা plan রেডি থাকে ! একটা plan_fail হোলে, পরবর্তী গুলি কার্যকরী করে ওরা অর্থাৎ যে কোনোভাবে ওরা cheating-কার্য successful করবেই !
তবে পরমহংস স্মৃতির মহাত্মা-মহাপুরুষদের কথা যেটা বলছিলাম_ তাঁদেরকে কেউ কখনোই ‘সেই অর্থে’ cheating করতে পারেনা ! আপাতদৃষ্টিতে তুমি দেখে মনে করবে যে, হয়তো তাঁকে cheating করা হোলো কিন্তু প্রকৃতপক্ষে এইসব তুচ্ছাতিতুচ্ছ ঘটনা, অর্থনৈতিক loss বা physical-mental torture__ এগুলি তাঁদের মনোজগতে কোনোরকম রেখাপাত করতে পারেনা । তাঁরা ব্যবহারিক জীবনে সাধারণ মানুষের দ্বারা বহু ক্ষেত্রেই লাঞ্ছিত হ’ন, স্থুলদৃষ্টিতে প্রতারিতও হ’ন_অনেকসময় নির্যাতিতও হ’ন কিন্তু তাদের কখনোই কোনো মানুষের উপর কোনোদিন কোনো অভিযোগ থাকে না ! কাশী(বেনারস)-তে থাকাকালীন ত্রৈলঙ্গস্বামীর গায়ে যখন কাশীরাজ দামী গহনা বা দামী শাল পড়িয়ে দিয়েছিলেন__ তখনও তিনি নির্বিকার ছিলেন, আবার কয়েকজন বদমাশ যখন সেগুলি কেড়ে নিয়েছিল_ তখনও তিনি নির্বিকার ছিলেন ! আবার দ্যাখো, বামদেবকে তারাপীঠে যখন পান্ডারা মেরেছিল, তখন তিনি ✓রী তারা-মাকে গালাগালি দিয়েছিলেন পান্ডাদের বিরুদ্ধে একটি কথাও বলেননি ! ঠাকুর শ্রীরামকৃষ্ণ একবার ভাবস্থ অবস্থায় দক্ষিণেশ্বরের মন্দির-প্রাঙ্গণে পড়ে গিয়েছিলেন ! এই অবস্থায় ভিতরে পূর্ণ জ্ঞান থাকে কিন্তু বাহ্যশরীরের ক্রিয়াশীলতা প্রায়শঃই থাকে না ! এইরকম একটা অবস্থায় দক্ষিণেশ্বরের অন্য একটি পূজারী(কালীঘাটের হালদার_ যে ঠাকুরের প্রতি সবসময় ঈর্ষা পোষণ করতো), ঠাকুরের পায়ের বুড়ো আঙুলে পা দিয়ে চেপে ধরে মন্দির প্রাঙ্গণে বাঁধানো সানে(পাথরের মতো শক্ত স্থানে)বারবার রগড়ে দিচ্ছিলো এবং মুখে বলছিলো_” বল্ না ! কোন মন্ত্রে তুই মথুরবাবু বা রানীমা-কে বশ করেছিস্” ? ঠাকুর শ্রীরামকৃষ্ণের ভাবস্থ-অবস্থা কেটে যাবার পর ওনার পায়ের আঙুলে বেশ কয়েকদিন ব্যাথা ছিল ! উনি ইচ্ছা করলেই মথুরবাবুকে বলে ঐ পুরোহিত(হালদার)-কে চাকরি থেকে বরখাস্ত করিয়ে দিতে পারতেন, কিন্তু তিনি তা করেননি।
এইসব উদাহরণগুলি দিলাম __যেগুলি বিভিন্ন মহাপুরুষদের জীবনে বারবার ঘটেছিল কিন্তু সাধারন মানুষরা তো আর মহাপুরুষ নয় __তারা বেচারা ! বুদ্ধিমান ঠকবাজদের পাল্লায় পড়লে তারা সহজেই ঠকে যায় এবং কষ্ট পায় ! তাছাড়া গরীব বা মধ্যবিত্ত অথবা নিম্নবিত্ত মানুষেরা অর্থনৈতিকভাবে ঠকলে, তাদের জীবনযাত্রাও ব্যাহত হয় ! তাই মানুষকে common sense বা কান্ডজ্ঞান সম্পন্ন হোতেই হবে ! কান্ডজ্ঞান ঠিকমতন ক্রিয়াশীল থাকলে মানুষ অপেক্ষাকৃত ঠকে কম !
