জিজ্ঞাসু:–তাহলে কি বেশিরভাগ খেলাধুলোই এইভাবে সৈন্যবাহিনী থেকেই এসেছে বা সৈন্য বাহিনীর জন্যই সৃষ্টি হয়েছিল ?
গুরু মহারাজ:—হ্যাঁ, তা বলতে পারো বই কি ! অলিম্পিক game-এর খেলাগুলির কথাই ধরোনা কেন –ওখানকার বেশিরভাগ খেলা যেন, সেনাবাহিনীর প্রয়োজনে লাগবে বলেই তার practice ! এগুলি যেন যুদ্ধের জন্য সেনাবাহিনীকে প্রস্তুত রাখার মহড়া এবং তাদের শারীরিক সক্ষমতা বজায় রাখার একটা practice ! তোমরাই বলো না এগুলো দেখে মনে হয় না কি_ যে, এগুলো যুদ্ধের জন্য সেনাবাহিনীকে সবসময় ready রাখার জন্যই করা হোচ্ছে। নানারকমের দৌড়, বিভিন্ন ধরনের ঝাঁপ, বন্দুক চালানো, তীর চালানো, নৌকা চালানো, সাঁতার কাটা, ঘোড়দৌড় এগুলি সবই তো তৎকালে যুদ্ধের কাজেই বেশি লাগতো ! এখন আর ওইসব খেলার অনেকগুলোই সৈন্যবাহিনীতে বিশেষ কোনো প্রয়োজন লাগে না তবে শারীরিক fitness এবং সক্ষমতা বজায় রাখার জন্য হোলে ঠিকই আছে ! সেই অর্থে, এখনকার অলিম্পিক কমিটির উচিত বেশ কিছু পুরাতন খেলা বন্ধ করে দিয়ে নতুন নতুন কিছু খেলা সংযোজন করা, যেগুলি এখনকার সৈন্যবাহিনীর কাজে লাগতে পারে ! তবে এখন তো অলিম্পিক game ধনীদের হাতে চলে গিয়েছে, আয়োজক দেশের নাম থাকলেও এগুলি এখন বিভিন্ন এজেন্সি পরিচালনা করে।
এসব কথা থাক, দিন বদলের সঙ্গে সঙ্গে নতুন নতুন অনেক খেলা আবিষ্কার হয়েছে এবং সেগুলির মধ্যে অনেকগুলি আন্তর্জাতিকতার স্বীকৃতিও পেয়েছে ! তবে, এগুলির বেশিরভাগই ধনীলোক, জমিদার বা রাজা-রাজড়াদের মনোরঞ্জনের জন্য তৈরি হয়েছিল । Outdoor games-এর মধ্যে যেমন ক্রিকেট, টেনিস, ব্যাডমিন্টন ইত্যাদি খেলাগুলিকে এই দলে ফেলা যায় । আবার Indoor games-এর মধ্যে_ তাস, লুডো, chess, টেবিল টেনিস ইত্যাদিও ওই ধনী লোকেদের মনোরঞ্জনের অবসর সময় যাপনের একটা অঙ্গ হিসাবেই সৃষ্টি হয়েছিল। খেলাগুলোর নামকরণ দেখেই বুঝতে পারছোএগুলি ইউরোপের দেশগুলো থেকে এসেছে। তবে, দাবা, পাশা এগুলো প্রাচীনকাল থেকেই ভারতবর্ষে প্রচলিত ছিল। আর ভারতবর্ষের খেলা-ধুলার কথা যদি বলো, তাহলে দেখা যায়_ বর্তমানে একমাত্র ক্রিকেট, কুস্তি, কবাডি ইত্যাদি গোটা কয়েক খেলা ছাড়া এখানকার প্রায় কোনো খেলাধুলার মান-ই বিশ্বমানের নয় । এর মধ্যে আবার ক্রিকেট খেলাটাকে ঠিক আন্তর্জাতিক খেলা বলা যায়না ! কারণ বিশ্বের প্রায় দু-শোআড়াইশো দেশের মধ্যে মাত্র দশ-বারোটা দেশ ক্রিকেট খেলে ! যেহেতু এই খেলাটি সৃষ্টি হয়েছিল ইংল্যান্ডে, তাই ইংল্যান্ডের উপনিবেশ ছিল যে দেশগুলোতে_ সেই দেশগুলির মধ্যে কয়েকটিতে মাত্র এই খেলা হয় ! এখানে একটা কথা প্রায়ই উঠে আসে, আর সেটা হোলোএতো বড়ো দেশ এই ভারতবর্ষএতো লোকসংখ্যা, তবু সেখানে আমেরিকা-ইউরোপ এমনকি এশিয়ার কয়েকটি দেশের খেলাধুলার যে মান ভারতবর্ষ এখনো সেই মানে পৌঁছাতে পারছে না কেন ? ভারতবর্ষের খেলাধুলার মানও উন্নত হবে, যদি এ দেশের ক্রীড়া দপ্তর স্বচ্ছ ও দুর্নীতিমুক্ত হয় এবং সেখানে লবিবাজি না থাকে ! অ্যাথলেটিক্স সহ অন্যান্য বিভাগে এইদেশের খেলাধুলার মান আন্তর্জাতিক স্তরে পৌঁছাতে হোলে ভারতবর্ষের পাহাড়ি জনগোষ্ঠী এবং আদিবাসী সমাজ থেকে ছেলেমেয়েদের বাছাই করে নিয়ে আসতে হবে । সাঁওতাল, কোল,ভীল ইত্যাদি আদিবাসীরা বাঁশ ফাটিয়ে ধনুক তৈরি করে এবং নিজেদের তৈরি বেত বা কঞ্চি দিয়ে তীর বানায়, আর সেগুলোর মাথায় ইস্পাতের ফলা লাগিয়ে বনে-জঙ্গলে নিখুঁত লক্ষ্যে পশুপাখি ইত্যাদি শিকার করে ! এরা যদি অত্যাধুনিক তীর-ধনুক পায় এবং উপযুক্ত ট্রেনিং পায়, তাহলে ব’লে ব’লে লক্ষ্যভেদ করবে ! গুলতির বাঁটুল দিয়ে এরা যদি নিখুঁত লক্ষ্য স্থির করতে পারে, তাহলে তারা বন্দুকের বা পিস্তলের গুলি দিয়ে লক্ষ্য স্থির করতে পারবে না ! এদেরকে সুযোগ দিলে এরাই ঐসব stream-এর সব prize নিয়ে চলে আসতে পারে !!
