….. দ্যাখো, পৃথিবীর সাধারণ মানুষ এইসব রহস্য জানেনা ! আর জানবেই বা কি করে ? জানার মত সাধারন মানুষের আর সে সুযোগই বা কোথায় ? অন্ন-বস্ত্র-শিক্ষা-সুরক্ষা ইত্যাদির চাহিদা মেটাতে মেটাতেই সাধারণ মানুষের সমস্ত জীবন চলে যাচ্ছে ! তাদের মুক্ত-চিন্তা করার সময় কোথায় ? সেজন্যই শাস্ত্রে বলেছে_” মহাজনঃ যেন গতঃ স পন্থা!” মহাত্মা-মহাপুরুষ-মহাজনদের কাছ থেকে এই সব রহস্য জেনে নিতে হয় !
ভারতবর্ষ-ই হোলো পৃথিবী গ্রহের মস্তিষ্ক ! তাই এখানে বারবার ঈশ্বরের অবতরণ হয়, বিভিন্ন মহাপুরুষ-যুগপুরুষেরা এখানেই শরীর ধারণ করেন__ যাতে ভারতবর্ষের সনাতন মূলধারাটি অব্যাহত থাকে ! ভারতবর্ষের হাতে সমগ্র বিশ্বের ভার থাকলে__ সমগ্র বিশ্বের মঙ্গল হবে ! কারণ পৃথিবীর মধ্যে ভারতবর্ষই একমাত্র দেশ, যে কখনো অন্য কারোর ঐতিহ্য নষ্ট তো করেইনি বরং সকলের ঐতিহ্যকে অটুট রাখার ব্যাপারে সচেষ্ট হয়েছে ! আর বর্তমানে শক্তিশালী দেশগুলো যেন ঠিক এর উল্টো দিকে অবস্থান করছে ! এইজন্যই ওরা চাইছে গোটা পৃথিবীর দেশগুলির নিজ নিজ ঐতিহ্যকে নষ্ট করে দিয়ে__ সকলকেই তাদের স্বমতে নিয়ে আসতে ! কিন্তু ওরা জানে না যে, এটা একটা অসম্ভব প্রচেষ্টা !! মহাপ্রকৃতির নিয়মেই এটা নাই ! ফলে পৃথিবীতে এই নিয়ম লাগু হবে কি করে ? শক্তিধর দেশগুলি এই রহস্য জানে না বলেই __ গোটা পৃথিবীতে আজকে টালমাটাল অবস্থা ! কেউই সুস্থির হয়ে থাকতে পারছে না ! আর এই যে অস্থিরতা__ এর অবশ্যম্ভাবী ফল হোলো তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধ ! যা এখন প্রায় দোরগোড়ায় চলে এসেছে !
ভারতবর্ষই একমাত্র সনাতন ধর্মের কথা বলে, যা সকল ধর্মকে শ্রদ্ধা করতে শেখায় ! এটা অন্য কোনো ধর্মমত ভাবতেই পারেনা ! আমরা একটু আগে ইসলামীয় দর্শনের কথা বলছিলাম ! ইসলাম শাশ্ত্র অনূযায়ী কাফেরদের প্রতি নানান আপত্তিকর আচরণ করলেও কোনো অপরাধ তো হয়ই না বরং তাতে তাদের আরাধ্য সর্বশক্তিমান খুশি হ’ন ! ভাবো একবার__পৃথিবী গ্রহের শ্রেষ্ঠ এবং সর্বোন্নোত জীব মানুষ, আর তাদেরি কোনো ধর্মগ্রন্থে এইসব কথা লেখা রয়েছে !! এই কথাগুলি চরম মানবতা বিরোধী নয় কি !!
পৃথিবীতে একমাত্র সনাতন ধর্মাবলম্বীরা ছাড়া বাকিরা সবাই বলে যে, তাদের ধর্মমতই শ্রেষ্ঠ__ অন্য যেসব ধর্মমতগুলি আছে সেগুলি নিকৃষ্ট। একমাত্র ভারতবর্ষের সনাতন পন্থীদের ধর্মমতে সাম্প্রদায়িকতা নাই, কিন্তু তাই বলে ভেবোনা এটিও সম্পূর্ণরূপে দোষমুক্ত__তা কিন্তু নয় ! কারণ এখানে আবার চরম সংকীর্ণতা রয়েছে ! জাত-পাত, বর্ণভেদ ইত্যাদি নিয়ে সংকীর্ণতা ! ধর্মের দোহাই দিয়ে ছোঁয়া-ছুঁয়ি, উচ্চ-নিচের ভেদাভেদ__ এইসব ক’রে, নিজেদেরকেই সহস্র সহস্র ভাগে বিভক্ত করে ফেলেছে সনাতনপন্থীরা।
এইজন্যেই ভারতীয়রা নিজেদের মধ্যে কখনও একতা আনতে পারেনি ! ইসলামীয়দের মধ্যে আবার এই ধরনের সংকীর্ণতা নাই ! এই কারণে এরা খুব তাড়াতাড়ি একজোট হোতে পারে, যেটা সনাতনপন্থী(হিন্দু)-রা পারে না । এর কারণ ওই যে বললাম__তাদের মধ্যে রয়েছে সংকীর্ণতা ! ভারতীয়রা কখনো যদি এই সংকীর্ণতা ত্যাগ করতে পারে__ তাহলে জানবে সত্যি সত্যিই পৃথিবীর মধ্যে ভারতবর্ষ পৃথিবীর মধ্যে পুনরায় শ্রেষ্ঠত্ব অর্জন করতে সমর্থ হবে ! মহাজাগতিক দৃষ্টিতে “মহান দেশ ভারতবর্ষ”, আবার “মহান” হয়ে উঠবে ! কোনো দেশ বা কোনো জাতির সাধ্য থাকবে না ভারতীয়দেরকে অবদমিত করে রাখার !!!
( জিজ্ঞাসু:– প্রিয় নবী সম্বন্ধে আপনি কিছু বলুন ?__এই জিজ্ঞাসার উত্তর দিচ্ছিলেন গুরু মহারাজ। আজ সেই আলোচনার শেষাংশ।)
