জিজ্ঞাসু:— আচ্ছা গুরুজী! আপনি যে কোন ব্যক্তির _যে কোন বিষয়ের উপর জিজ্ঞাসার উত্তর দেন কি করে?

গুরুজী :— দ্যাখো, কোন ব্যক্তি যদি উঁচুতে বসে থাকে, তবে সে উঁচুটাও দেখতে পায়_ আবার নীচেরটাও দেখতে পায়! নীচে থাকা যে কোন ব্যক্তির থেকে, সে আরও ভালভাবে ও ব্যাপকভাবে তা দেখতে পায়।সুতরাং তাকে যদি কেউ নীচের খবর জিজ্ঞাসা করে_ তাহলে সে অতি সহজেই বিস্তৃতভাবে সব বলতে পারবে।

এক্ষেত্রেও ব্যাপারটা সেইরকম হয়। পৃথিবী গ্রহের সাধারণ মানুষের যে মানসিক level তার ঊর্ধ্বে যদি তুমি থাকো_ তাহলে যে কোন মানুষের মনোজগৎ বা বুদ্ধিজগতের যে কোন সমস্যা বা জিজ্ঞাসার সমাধান কেন তুমি করতে পারবে না? তবে শুধু জিজ্ঞাসাকারীর level-এ নেমে এসে উত্তরটা দিতে হয় — না হলে সে ধরতে পারবে না। আমি সিটিং-এ বসে দেখেছি_অনেক সময় কোন ব্যক্তি জিজ্ঞাসা না করলেও তার মনে জিজ্ঞাসার উদয় হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে_আমার মধ্যে উত্তর এসে যায়।

জিজ্ঞাসু :— আপনার কথা সবাই তো ‘হাঁ’ করে শুনেই যায়, বিরোধ করে না কেন ? আমরা বাইরে কোন কিছু বোঝাতে গেলে তো ঝগড়া লেগে যায়?

গুরুজী :— আমার সঙ্গেও অনেকের বিরোধ হয় বই কি! তবে তুমি যেমন বিরোধ বলছ ওইরকম নয়_তবে বিতর্ক হয়। বহুদিনের আঁকড়ে থাকা বিশ্বাসে ‘ঘা’ পড়লে বিরোধ তো করবেই তারা, তাতে দুঃখ পাইনা — সঠিকভাবে বোঝালে আবার তারা বুঝতেও পারে। ধীরে ধীরে পুরোনো ভুল বিশ্বাস ভেঙ্গে — নতুনকে গ্রহণ করে। আবার কিছু ‘পাকাটে’ ছেলে আছে — তারা শুধুই কুতর্ক করে, জানার জন্য জিজ্ঞাসা করে না_ নিজেকে জাহির করার জন্য ঐরূপ করে। এইরকম ছেলেদের সঙ্গেও আমার মাঝে মাঝে বিতর্ক হয়।

তবে আমার কথায় ‘বিরোধ’ সৃষ্টি হয়েছে এমন কখনও হয়নি, কারণ মা জগদম্বার ইচ্ছাই নয় যে আমার এগিয়ে চলা ব্যাহত হোক্। তাই অবাধে, স্বাধীনভাবে আমার “চলা-পা” আর “বলা-মুখ” কাজ করে চলেছে — আটকাচ্ছে না কোথাও।

আর আটকাবেই বা কেন? আমি তো এখানে এই পৃথিবী গ্রহে অতিথি — বিশেষ অতিথি! তাই সবরকম অসুবিধা সত্ত্বেও মা জগদম্বা— আমাকে বিশেষ সুযোগ সুবিধার সৃষ্টি করে দেয়। তোমাদের বাড়িতে কোন বিশেষ অতিথি এলে যেমন তোমরা ছোটখাটো অসুবিধাকে সে সময় অগ্রাহ্য করে অতিথির যেন কোন অসুবিধা না হয়, সেজন্য সচেষ্ট থাকো_আমার ক্ষেত্রেও তাই হয়। পাঞ্জাবে যখন সাংঘাতিক অবস্থা — দাঙ্গা চলছে,শিখ হিন্দুদের মধ্যে মারামারি চলছে_ সেই সময় আমি এই গেরুয়া পোষাকে সন্ন্যাসীর বেশেই পাঞ্জাবের সব চাইতে উপদ্রুত অঞ্চল — গুরুদাসপুর, অমৃতসর ইত্যাদি জায়গার বিভিন্ন স্থানে হেঁটে হেঁটে ঘুরেছি — কত লোকের বাড়ি গেছি, সিটিং (Sitting) করেছি কিন্তু কখনই কোন অসুবিধা হয়নি।

জিজ্ঞাসু:— ঠাকুর শ্রীরামকৃষ্ণ বলেছিলেন — ডাক্তার উকিলদের ধর্ম হয় না …. এটা কি রকম কথা?

গুরুজী :— দ্যাখো, একটা কথা জেনে রাখবে — ঠাকুরের সব কথা সঠিকভাবে লেখা হয়নি! তবে ঐকথাগুলো সাধারণভাবে খুবই সত্য, তবে সবার জন্য নয়। এই কথাগুলো কেন বলা হয়েছে, সেটা বলছি শোন! সাধারণত ডাক্তার বা উকিলেরা সত্যপরায়ণ হন না। অকারণে মিথ্যার ব্যবসা করে থাকেন তাঁরা, সেইজন্যেই তাঁদের ধর্মলাভ হয় না।

শাস্ত্র বলছে ‘সত্যই ধর্ম’। ধার্মিকরা সত্যপালনের জন্য জীবন দিতেও কুণ্ঠিত হ’ন না। ঠাকুর শ্রীরামকৃষ্ণ নিজের জীবন দিয়ে সত্যকেই প্রতিষ্ঠা করেছেন। ৺রী মা-কে সব সমর্পণ করলেও ‘সত্য’ সমর্পণ করতে পারেন নি। শুধুমাত্র লোকশিক্ষার্থে অসাধারণ ত্যাগের মহিমা — ঠাকুর শ্রীরামকৃষ্ণ দেখিয়ে গেলেন!

সে যাইহোক, সাধারণভাবে বেশিরভাগ ডাক্তাররা রোগীর সাথে কি আচরণ করে দেখেছো তো — অনেক সময় রোগ না নির্বাচন করে অথবা নির্বাচন করতে না পেরেই ওষুধ দিয়ে দেয়_ শুধু পয়সা রোজগারের জন্য ! তাতে রোগীর কী হোল_ তা চিন্তা করে না। আবার দেখা গেছে — রোগী যে সমস্যা নিয়ে এসেছে, সেটা হয়তো এমন কিছু নয় — দুটো উপদেশ বা কিছু নিয়ম পালন করলেই তা দূর হয়ে যায়, কিন্তু তা না করে তারা সেক্ষেত্রেও পয়সা নিয়ে রোগীকে ওষুধ দিয়ে দেয় এবং ফলস্বরূপ রোগীটির ক্ষতিসাধন ই করে।

এবার উকিলদের কথায় আসি! দেখা যায়, তারা তাদের মক্কেলকে (বাদী বা বিবাদী যেই হোক না কেন) শুরুতেই মোকদ্দমা জিতিয়ে দেবার প্রতিশ্রুতি দিয়ে দেয় এবং একগাদা টাকা নিয়ে মক্কেলকে সর্বস্বান্ত করার চেষ্টা করে।

কিন্তু, তাই বলে ডাক্তার বা উকিলদের সবাই এই দলে পড়েন না। এঁদের মধ্যে অনেকেই আছেন_ যাঁদের লোকহিতই ব্রত, তাঁরা অবশ্যই ধার্মিক! প্রাচীনকালের জীবক, ধন্বন্তরী এঁরাও ডাক্তার ছিলেন কিন্তু এঁরা পরহিতে জীবন উৎসর্গ করেছিলেন! তাই আজও দেখো — সমাজের মানুষ এঁদের দেবতা জ্ঞানে ভক্তি-শ্রদ্ধা করেন। দেশবন্ধু চিত্তরঞ্জন দাশ পেশায় উকিল ছিলেন_কিন্তু মানুষের কল্যাণের জন্য নিজের জীবনই দান করে গেলেন!সুতরাং এখনও যদি কোন উকিল বা ডাক্তার ঐরূপ হ’ন_ তাহলে তাঁরা কেন‌ই বা ভগবানের অনুগ্রহ লাভ করবেন না — নিশ্চয়ই করবেন!

একটা মজার ব্যাপার লক্ষ্য করেছ — দেখবে এই দুটো পেশাতেই কিন্তু লোক-কল্যাণের সুযোগ অপেক্ষাকৃত অনেক বেশি! কিন্তু শুধুমাত্র অর্থলালসায় এই দুটি পেশার মানুষেরা লোককল্যাণের ব্যাপারটা ভুলে বসে থাকে। নিজেকে সেবকের ভূমিকা পালন করতে পারলেই এদের দ্বারা লোক-কল্যাণ হোত, আর সেব্যকে যদি সাক্ষাৎ ইষ্টজ্ঞানে সেবা করা যেতো তাহলেই এদের কর্ম_ ‘নিষ্কাম কর্ম’ হয়ে যেত ! কি সুবর্ণ সুযোগ ছিল ভাবোতো একবার! কর্মকৌশল না জেনে কর্ম করায় এদের আর ধর্মলাভ হয়ে ওঠে না!

তবে আমি মাদার টেরিজার আশ্রমে ঐরূপ সেবাপরায়ণা এক বিদেশিনীকে দেখেছিলাম। একজন কুষ্ঠরোগীকে তিনি যে রকম মনপ্রাণ ঢেলে দিয়ে সেবা শুশ্রুষা করছিলেন তা দেখে অবাক হতে হয়! কৌতূহলী হয়ে তাঁকে জিজ্ঞাসা করেছিলাম যে, বিদেশিনী হয়ে এই ধরনের একটা এ দেশীয় রোগীর সেবা , এত নিষ্ঠা সহকারে তিনি কি করে করছেন? উত্তরে তিনি বলেছিলেন যে, তিনি সব রোগীকেই একইরকম নিষ্ঠা সহকারে সেবা করেন। কারণ তিনি বিশ্বাস করেন ভগবান যীশু ছলনাময়_ তাই ভক্তদের পরীক্ষাকরতে ছলনা করে কখন যে ভগবান কিরূপ ধারণ করেন কে জানে? তাই তিনি যে কোন রোগীকেই ভাবেন ছলনাময় যীশু — তাঁকে পরীক্ষা করার জন্য রোগীর বেশ ধারণ করেছেন মাত্র!

এই হচ্ছে কর্মকৌশল। ঠাকুর শ্রীরামকৃষ্ণ এটাকেই বলেছিলেন “শিবজ্ঞানে জীব সেবা”। দেখো ঠাকুর শ্রীরামকৃষ্ণ ছিলেন ঋষির ঋষি, দেবতার দেবতা! মানুষের কল্যাণের জন্যই তাঁর দেহধারণ! তাই তাঁর কথার অন্য অর্থ খুঁজতে যেওনা, তিনি যা ‘সত্য’, তাই বলেছিলেন — ঋষি বাক্য তো মিথ্যা হবার নয়!

জিজ্ঞাসু :— আগেকার দিনে গ্রামগুলো কেমন সুন্দর ছিল, এখন যেন কেমন অন্য রকম হয়ে যাচ্ছে — গ্রামের লোক শহরমুখী হচ্ছে, আবার গ্রামেও শহরের হাওয়া এসে লাগছে। ভবিষ্যতে গ্রামগুলো কি নষ্ট হয়ে যাবে মহারাজ?

গুরুজী :— না-না, নষ্ট হবে কেন? গ্রাম-শহর এগুলো সমাজ বিবর্তনের এক একটা ধাপ। আগে গ্রামীণ সভ্যতা পরে নগর সভ্যতা। এখনও দেখোনা — অনেকগুলো গ্রামকে কেন্দ্র করেই তো একটা শহর গড়ে ওঠে। আর গ্রামের মানুষ শহরে যায় কর্মসংস্থানের জন্য, শিক্ষাদীক্ষার জন্য, উপযুক্ত চিকিৎসালাভের জন্য — এগুলোর তো প্রয়োজন‌ও রয়েছে। গ্রামের লোক যারা শহরে যাচ্ছে_ তাদের মধ্যে কেউ কেউ জীবনে উন্নতি করছে, আবার কেউ কেউ হয়তো দুর্নীতিগ্রস্ত হচ্ছে বা বিকৃত রুচির হচ্ছে! তার জন্য শহরের দোষ কি —ঐ ব্যক্তিরই দোষ!

আবার যে বলছো, গ্রামে শহরের হাওয়া লাগছে — এটাতো হবেই! যোগাযোগ ব্যবস্থা উন্নত হওয়ায় গ্রাম-শহর কাছাকাছি হয়েছে, অনেক শহরের আদব-কায়দা গ্রামের মানুষেরা রপ্ত করার সুযোগ পাচ্ছে বা চেষ্টা করছে। এগুলো ভালো তো! দ্যাখো, গতিশীলতাই জীবনের লক্ষণ, কালের নিয়মে গ্রামীণ জীবনে পরিবর্তন আসছে — এটা গতির লক্ষণ, বাঁচার লক্ষণ! সুতরাং সব গ্রাম ধ্বংস হয়ে যাবে — এমন ভাবনার কারণ নেই।

তবে,আগেকার গ্রামগুলোর সঙ্গে এখনকার গ্রামের তুলনা কোরোনা! কারণ নগরকেন্দ্রিক সভ্যতার আগে বাংলার এক-একটা গ্রাম গড়ে উঠত স্বয়ংসম্পূর্ণভাবে। কামার, কুমোর, ছুতোর, তাঁতি ইত্যাদি সমস্ত নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যাদির উৎপাদক গোষ্ঠীকে গ্রামে এক-একটা পাড়ায় বাস করতে দেওয়া হোত। গ্রামের মোড়লের নেতৃত্বাধীনে বাস করত সবাই। কৃষকেরা চাষ করত। উৎপন্ন ফসল বিনিময় পদ্ধতিতে সবাই পেয়ে যেতো নিজ নিজ জিনিসের বিনিময়ে, মুদ্রার কোন প্রয়োজন‌ই ছিল না। পরে, সমাজে আর্থ-সামাজিক পরিকাঠামো গড়ে ওঠার পরই গ্রামীণ সমাজেও একটা পরিবর্তন আসে। নিজ নিজ পেশায় নিযুক্ত না থেকে অনেকেই লাভজনক পেশাগুলিতে নিজেদেরকে নিয়োজিত করে_ অল্পাশ্রমে বেশি অর্থ রোজগারের ধান্দা করতে লাগল। জনসংখ্যা বৃদ্ধি এবং অসমবণ্টন নীতি একশ্রেণীর মানুষকে দুর্বল করে তুলল এবং আর এক শ্রেণীর মানুষ ফুলে ফেঁপে উঠল। এইভাবেই নানা সমস্যায় জর্জরিত হয়ে গেছে আজকের গ্রামীণ সমাজ।

কিন্তু, আসল কথা হচ্ছে পরিবর্তন তো হবেই! এতে দুঃখিত হচ্ছো কেন_মেনে নাও। তোমার শরীরটাই তো কত পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে আজ এই অবস্থায় দাঁড়িয়েছে(বাল্য, শৈশব, যৌবন ইত্যাদি)—ভবিষ্যতে আরও পরিবর্তন ঘটবে, সেটা তো মানতেই হবে। সুতরাং সামাজিক পরিবর্তনও মানতে হবে। গোঁড়ামি ভালনয় — উদার হও, পরিবর্তনশীলতাকে মেনে নেবার এবং তার সাথে নিজেকে মানিয়ে নেবার চেষ্টা করো, তাহলে অনেক ক্লেশ থেকে মুক্ত হতে পারবে।

জিজ্ঞাসু:— তবে গ্রাম্য জীবনে কিছু কুসংস্কার আছে — গাছতলায় পাথর বসিয়ে দেব-দেবীর পূজা — এগুলো একেবারেই মূল্যহীন নয় কি?

গুরুজী :— গাছতলায় পাথর বসিয়ে পূজা অর্থাৎ ষষ্ঠীপূজা, শীতলা পূজা এসব বলছ তো? এগুলোকে কুসংস্কার বোলোনা। একসময় এগুলোর নানারকম প্রয়োজন ছিল, এখনও আছে। এর একটা উপকারিতার দিক বলছি, শোন। দেখবে, বিভিন্ন সাত্ত্বিক বৃক্ষ — যারা বায়ুমণ্ডলকে প্রচুর পরিমাণে শুদ্ধ অক্সিজেন দেয় এবং যাদের মূল থেকে পাতা পর্যন্ত মানুষ তথা জীব জগতের কোন না কোন কল্যাণে লাগে, সেই সমস্ত বৃক্ষের নীচে কোন পাথর রেখে ষষ্ঠী, চণ্ডী, শীতলা ইত্যাদি দেব-দেবীর প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে। আগেকার দিনে এর ফলে কি হোত — গ্রামের মেয়েরা স্নানের পর গাছগুলির গোড়ায় জল দিত এবং তলাটা পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন রাখতো, ফলে গাছগুলি দ্রুত বৃদ্ধিপ্রাপ্ত হোতো বা জলের অভাবে মারা যেত না। এরপর গ্রামের কোন সংঘ অথবা কোন সহৃদয় ব্যক্তি গাছগুলির গোড়াটা মাটি দিয়ে অথবা সিমেন্ট দিয়ে বাঁধিয়ে দিত। ফলে এটা গ্রামের লোকের বসবার বা বিভিন্ন আলোচনা করার একটা নির্দিষ্ট স্থান হিসাবে চিহ্নিত হোত। এই গাছগুলির ডালপালাও কেউ কেটে নষ্ট করতে পারতো না — দেবতার গাছ বলে মান্য করতো, আর যদি কেউ জোর করে কাটার চেষ্টাও করতো তাহলে তৎক্ষণাৎ তার বিরুদ্ধে গ্রামে জনমত তৈরি হয়ে যেত এবং তাকে বাধা দিত। এইভাবে এই প্রতিষ্ঠা করা গাছগুলি দীর্ঘস্থায়ী হোত।

এখন সরকারিভাবে বৃক্ষরোপণের প্রয়োজনীয়তা ও তার সংরক্ষণের কথা ভাবা হচ্ছে। কিন্তু বলোতো — এত টাকা খরচ করে ও প্রচার করে বৃক্ষ রোপণ হচ্ছে বটে — কিন্তু যদি গাছ কাটার ফলে শাস্তির ভয় অর্থাৎ পুলিশ আদালতের ভয় না থাকতো তাহলে সরকারি রোপণ করা গাছ থাকতো একটাও? সব লোপাট করে দিত মানুষ। এমনিতেই কত গাছ কেটে নিচ্ছে সব। কিন্তু দ্যাখো, তখন কি সুন্দর পদ্ধতিতে ভাল ভাল গাছগুলি সংরক্ষণ করা হোত, এরজন্য আলাদা কোন সংরক্ষণ নীতি প্রয়োগের প্রয়োজন‌ই হোত না।

জিজ্ঞাসু :— তাহলে বাড়িতে গৃহদেবতার প্রতিষ্ঠা করে তাঁদের পূজার্চনা করারও প্রয়োজন আছে নিশ্চয়?

গুরুজী :— হ্যাঁ, নিশ্চয়ই আছে। গৃহে কোন দেব-দেবীর পূজার ব্যবস্থা থাকা তো নিশ্চয়ই ভালো। কারণ শ্রদ্ধা ও ভক্তি সহকারে গৃহকর্তা যদি দেব-দেবীর পূজা করেন, তাহলে বাড়িতে একটা শ্রদ্ধা-ভক্তির atmosphere তৈরি হয়। শাস্ত্রে রয়েছে_ “শ্রদ্ধাবান্ লভতে জ্ঞানম্।” বাড়ির ছেলে-মেয়েরা শ্রদ্ধাবান হলে তো পিতামাতারও সুখ, ছেলেদেরও মঙ্গল। মা যখন সন্ধ্যায় তুলসীতলায় প্রদীপ জ্বালেন, তখন মায়ের পিছু পিছু ছোট্ট মেয়েটিও সেখানে যায়। মা যখন গলায় আঁচল দিয়ে প্রণাম করেন, সেও তাই করে। ভাবোতো_ এই দৃশ্যটাই কত সুন্দর! বাচ্ছা মেয়েটিও পরবর্তীকালে বড় হয়ে অপর একটি সংসারে এই ধরনের atmosphere গড়ে তুলতে সাহায্য করবে। এইভাবে সমাজকে সুস্থ রাখতে এক-একটা পরিবারের ভূমিকা অপরিসীম। পরিবারকে সুস্থ রাখে পরিবারের কর্ত্রী। সুতরাং যদি সামাজিক দিক দিয়েও বিচার করো তো দেখবে — গ্রামবাংলার এই সব ছোট ছোট আচার অনুষ্ঠানগুলিও সমাজ উন্নয়নে প্রভূত কল্যাণ করে থাকে।