জিজ্ঞাসা :– দুঃখময় পৃথিবীতে বেশীদিন বেঁচে থেকে লাভ কি? তাড়াতাড়ি চলে যাওয়াই তো ভাল?

গুরুমহারাজ :– সে কি রে? যাবি কোথায়? বল্ কোথায় যাবি? স্থূলে যেটুকু দেখছিস তার বিচার করতে চাইছিস্ তো_ কিন্তু স্থূল জগৎ ছাড়াও তো আরও জগৎ আছে, সেগুলির কোন জ্ঞান তোর হয়েছে কি? মানুষের আসা (জন্ম) অথবা চলে যাওয়া (মৃত্যু) এসবের পিছনে রহস্যটা কি – সেটা জানতে হবে। এই জ্ঞান না হওয়া পর্যন্ত কোথাও যেতে পারবি না। স্থূলদেহ বিনষ্ট হবে, কিন্তু নতুন দেহে, নতুন নামে আবার কোথাও না কোথাও দেহধারণ করতে হবে। আর এই যাওয়া-আসা যে চলে আসছে কতদিন – তার হিসাব কে রাখছে! তাই এইভাবে চলে যাওয়ায় কোন লাভ নেই, যদি যেতে হয় তো তোমরা সোজাপথে – পূর্ণতার দিকে এগিয়ে চলো ! বিস্মৃতির ঘোর অন্ধকার কাটাও, জ্ঞানাগ্নি প্রজ্বলিত করো। চরৈবেতি – চরৈবেতি – চরৈবেতি।ঋষিরা এই শিক্ষাই জগৎকে দিলেন।

দ্যাখো, আত্মবিস্মৃত মানুষ মৃতবৎ, তাই তোমরা বিস্মৃতি কাটিয়ে ওঠো! কোন বোধি ব্যক্তির সন্ধান পেলে তাঁর সামনে কৃতাঞ্জলিপুটে অধ্যাত্ম-জিজ্ঞাসার দ্বারা অজ্ঞান-অন্ধকার দূর করো। শ্রীমদ্ভগবদ গীতায় ভগবান শ্রীকৃষ্ণ অর্জুনকে বলছেন -

‘তদ্বিদ্ধি প্রণিপাতেন পরিপ্রশ্নেন সেবয়া।

উপদেক্ষ্যন্তি তে জ্ঞানং জ্ঞানিনস্তত্ত্বদর্শিনঃ।।’

  শ্রোত্রীয় ব্রহ্মনিষ্ঠ সদগুরুর নিকট প্রণিপাত পূর্বক - সশ্রদ্ধ জিজ্ঞাসা ও সেবার দ্বারা তাঁকে প্রসন্ন করে তাঁর উপদেশ দ্বারা জ্ঞান লাভ করতে হয়। তবে কথা হচ্ছে - জ্ঞান লাভের জন্য প্রথম শর্তই হোল ব্যাকুলতা। সত্যি-সত্যিই বর্তমান অবস্থা থেকে মুক্তির জন্য তোমার প্রাণ-মন কি ব্যাকুল হয়েছে? ঠাকুর শ্রীরামকৃষ্ণ বলতেন, 'ঈশ্বরের জন্যে যখন প্রাণ আটুপাটু করবে, তখন জানবে যে, তাঁর সাক্ষাৎকারের আর দেরী নেই।' কিন্তু মহামায়ার ভুবন-মোহিনী মায়ায় জীবকুল বদ্ধ। অসার সংসারকে সার ভেবে বসে প্রকৃত সার'কে আর খোঁজা হয়ে উঠছে না, তাই এই 'যাওয়া-আসা', শুধু 'যাওয়া' আর হয়ে উঠছে না। সেই জন্যই ওকে বলছিলাম "যাবি কোথায়, আবার তো আসতে হবে।"

 কিন্তু একবার যদি কেউ "যো-সো" করে পরমানন্দ-সাগরের গভীরে ডুব দিতে পারে তাহলেই যাওয়া-আসার পরপারে পৌঁছানো যায়। আর অবস্থাটা যেন একটা 'স্থিতি'। আর এই যে দেখছো এক-একটা জীবন, এগুলো যেন এক-একটা 'দশা' যা পরিবর্তনশীল। আর যা অপরিবর্তনীয় তাই 'স্থিতি'। তাই স্থিতিপ্রাপ্ত হও, সচ্চিদানন্দ স্বরূপকে আস্বাদন করো, আর এটাই তোমাদের চাওয়া হোক্ - যা তোমাদের যাত্রাপথের অন্তিম লক্ষ্য।

জিজ্ঞাসু :— অনেক মহাপুরুষই তাঁর সন্তানদের ভালবেসে সুগন্ধী দ্রব্য কোন কোন সময় দিয়েছেন, এতে নাহয় বাইরেটা সুগন্ধী হোল, কিন্তু অন্তর কি সুগন্ধী হয়?

গুরুমহারাজ :— অহরহ ইষ্ট-চিন্তায় অন্তর সুগন্ধী বা সুবাসিত হয়। যার গুরুই ইষ্ট তার ক্ষেত্রে অন্তরে গুরুচিন্তন ঠিক ঠিক চলতে থাকলে গুরুই অন্তর্যামীরূপে সেখানে বিরাজমান হবেন আর অন্তর সুগন্ধময় হয়ে উঠবে। আঘ্রাণের (বহিরিন্দ্রিয়ের) দ্বারা যেমন বাইরের সুগন্ধ টের পাওয়া যায়, তেমনি অতীন্দ্রিয়ের দ্বারা অন্তরের সুগন্ধ টের পাওয়া যাবে। তখন শুধু তুমি কেন, অন্যরাও তার সুঘ্রাণ পেয়ে ছুটে আসবে তোমার কাছে, যেমন সুগন্ধী ফুল ফুটলে মৌমাছিরা ছুটে আসেঠিক তেমনি! এর একটা সুন্দর উদাহরণ আছে শাস্ত্রে। কস্তুরী মৃগের নাভি-অভ্যন্তরদেশে যখন কস্তুরীর সৃষ্টি হয়, তখন সুন্দর গন্ধ নির্গত হতে থাকে। মৃগটিও ঐ গন্ধে বিভোর হয়ে এদিক ওদিক ছোটে, কিন্তু বুঝতে পারে না গন্ধের উৎস কোথায়! অত্যন্ত সুগন্ধে পাগল-প্রায় হয়ে যায় মৃগটি। অবশেষে এক সময় সেটি মারাও যায় কিন্তু বহুকাল সুগন্ধ দিয়ে যায় তার শরীরে-সৃষ্ট কস্তুরী।

তাই বলছিলাম — তুমি যদি তোমার অন্তর সুগন্ধযুক্ত করতে পারো তাহলে শুধু তুমিই ন‌ও, সমগ্র জগৎ তার সুফল পাবে। কিন্তু মুস্কিলটা কি জানো সবাইতো অন্তরকে সৌগন্ধযুক্ত বা সুন্দর করতে চায়‌ই না। বাইরেটা চাকচিক্য হোক — সুগন্ধী হোক, এটাই বেশির মানুষ ভাগ চায়। Material Science এর যে উন্নতিদেখছো এটা ঐ চাওয়ারই পরিণতি। আর্যঋষিরা যেন ঠিক এর উল্টো রাস্তায় হেঁটেছিলেন। তাঁরা বাইরের দিকে দৃষ্টি না দিয়ে, স্থূল শরীরকে জীর্ণ করে — ভোগ-বিলাসকে উপেক্ষা করে অন্তর্জগতের রত্নের অনুসন্ধানে লেগে গেলেন। সমুদ্রের অতল গভীরে ডুবুরীরা নেমে যেমন একটি-একটি করে মুক্তা তুলে আনে, তেমনি গুরু-পরম্পরায় কত ঋষি নিজেদের জীবনকে উৎসর্গ করে করে একটি একটি বোধজাত সত্য উদঘাটন করলেন। যার ফসল বেদ ,যার ফসল উপনিষদ্। লিখিত আকারে যা জ্ঞানের ভাণ্ডার। এছাড়াও গুরুপরম্পরায় আরও অনেক তত্ত্ব ও তথ্য রয়ে গেছে_ যেগুলি হয়তো লেখার আকারে আসেও নি_শুধু মুখে মুখে পরম্পরাগতভাবে রয়ে গেছে।

 আমরাএকটা দধীচির গল্প শুনে আজও চোখের জল ফেলে মানুষ, কিন্তু আমি বলছি — কত দধীচির আত্মত্যাগের ফসল যে ঐ বেদ বা উপনিষদ্ তার হিসাব কেউ রাখেনি। মানুষ তাঁদের‌ নাম মনে রাখবে বা তাঁদের মান্য করবে — এই মন নিয়ে তাঁরা নিজেদের জীবন উৎসর্গ করেননি। কাজেই মান-চাওয়া মানুষ কি করে তাঁদের মান-মর্যাদা দেবে! তাঁদের কোন আত্মপ্রচার ছিল না, ছিল না জগৎ থেকে আলো-বাতাস-জল খাদ্য ছাড়া অন্যকিছু নেবার তাগিদ! কিন্তু দেবার ছিল — সর্বস্ব বিলিয়ে দেবার অদম্য নেশায় এক-একটি দধীচি! বহির্মুখীসর্বস্ব জড়জগতের মানবকে দিয়ে গেলেন অমরত্বের সন্ধান, শেখালেন — Art of Life এবং Art of Living.

কিন্তু যা বলছিলাম, Material Science এর উন্নতির যে Perfection — সেটাও কিন্তু Spiritual Science-এই পৌঁছাবে। ভারতীয় ঋষিপরম্পরার অন্তর্জগতের অন্বেষণ যেন গণেশের মাকে প্রদক্ষিণ আর জড় বিজ্ঞানীদের বাড়ির ল্যাবরেটরি থেকে মহাকাশকেন্দ্রগুলিতে গবেষণা যেন কার্তিকের ত্রিভুবন ঘুরে আসা।

জিজ্ঞাসু :— নবদ্বীপ আমাদের মহাপ্রভুর লীলা-ভূমি, আমরা এখানকার মানুষেরা সেই হিসাবে ধন্য নই কি?

গুরুমহারাজ :— স্থান-মাহাত্ম্য আছে বইকি? কিন্তু ‘মহাপ্রভু আমাদের’ এই বলে যে গর্ব করছো_ এটা কতটা সঠিক সেটা ভেবে দেখেছ কি? মহাপ্রভু লীলা করে গেলেন প্রায় পাঁচশো বছর হয়ে গেল, কিন্তু আজও সঠিকভাবে মানুষটার মূল্যায়ন হল কি জনমানসে? সমকালীন মানুষ কখনোই — কোনকালেই মহাপুরুষদের নিতে পারেনি, যারা পেরেছে তারা ধন্য হয়েছে! কত বড় পণ্ডিত কেশব কাশ্মীরী! তাঁকে অবলীলায় পরাস্ত করেছিলেন কম বয়সী নিমাই পণ্ডিত। কেশব চিনতে পারলেন কিন্তু সাধারণ মানুষ, এমনকি হিন্দু পন্ডিতেরা? তারা চিনলো না তো বটেই, বরং বিরোধের মাত্রা আরো বাড়িয়ে দিল। শেষে এমন অবস্থা হল যে, তিনি নবদ্বীপ ছেড়েই চলে গেলেন। কারন কি বলো তো? মহাপ্রভুর জীবনে অভূতপূর্ব ত্যাগ মূর্ত হয়েছিল — উনি দেখলেন সাধারণ মানুষ তা বুঝতে পারবে না। সংসার ত্যাগ করলেন তো স্ত্রীর মুখদর্শনও করলেন না, সামান্য হরীতকী সঞ্চয়ের জন্য এক ভক্ত(গোবিন্দ)কে তাঁর সঙ্গ ত্যাগের আদেশ দিলেন। বুঝতে পারছো, কি অসাধারণ ত্যাগ মূর্ত হয়েছিল তাঁর জীবনে! সাধারণ সংসারী মানুষ কি করে বুঝবে এই ত্যাগের মহিমা! সংসারীরা যাতে গ্রহণ করতে পারে তাই আজন্ম সন্ন্যাসী নিত্যানন্দ অবধূতকে মহাপ্রভু বিবাহের আদেশ দিলেন। তখন নিত্যানন্দ বিবাহ করে সংসারী হয়ে মানুষের দ্বারে দ্বারে নাম বিলাতে লাগলেন। সাধারণ মানুষ সংসারী নিতাইকে গ্রহণ করল। দলে দলে মানুষ বোষ্টম-বোষ্টমী হোল। সেই যুগে জাতপাতের বেড়া ভাঙ্গা সহজ কথা ছিল না। কিন্তু মহাপ্রভু, নিত্যানন্দ প্রভুর সাহায্যে সেই অসাধ্য সাধন করলেন। ভাবো, আজ থেকে পাঁচশো বছর আগে ছেলে-মেয়ে রাস্তায় অথবা বাড়ির উঠানে খোল-করতাল বাজিয়ে নৃত্য করছে আর ‘হরিবোল’ ‘হরিবোল’ বলছে। কি আধুনিকতা! ফলে মানুষ গ্রহণ করল নিতাইকে। নিতাইকে চিনে যদি গৌরকে চেনে — এই ছিল উদ্দেশ্য। তাই তোমাদের ওখানকার লোকেআজও বলে দেখবে “জয় নিতাই, জয় গৌর” অথবা “নিতাই-গৌর হরিবোল”। ব্যাপারটা বুঝতে পেরেছো।

তারপরেও মহাপ্রভুর জীবন দেখ, উড়িষ্যার মানুষ কি তাঁকে নিতে পারল! বাসুদেব সার্বভৌমের মত দিকপাল পণ্ডিত স্বীকৃতি দিলেন বলেই হয়ত রাজা তাঁকে মেনে নিল। কিন্তু তা সত্বেও পাণ্ডারা মানতে পারল না। কথিত আছে মন্দিরের গর্ভগৃহেই তাঁকে মেরে ফেলা হয়। এইতো মানুষের মানসিকতা! বুদ্ধকে পচা শূকরের মাংস খাইয়ে মেরেছে, যীশুকে ক্রুশবিদ্ধ করেছে। কাজেই মহাপ্রভু মানুষের কাছে কি বেশি ভালো আচরণ আশা করবেন!

  এই জন্যই বলছিলাম ভারতবর্ষের অথবা বাংলার কোন মহাপুরুষের নাম শুনে গর্ব করার কিছুই নেই। যদি পারো তাঁদের আদর্শকে জীবনে প্রতিষ্ঠা করো — সেটাই হবে জীবনের সার্থকতা যা যথার্থ প্রশংসার বা গর্বের। অন্যথায় বাকি যা কিছু তা শুধু কথার কথাই হয়ে থাকবে — কাজের কাজ হবে না।

জিজ্ঞাসু :— নবদ্বীপ ধামে মহাপ্রভু বা তাঁর পার্ষদরা ভিন্ন আর কোন বিশেষ ব্যক্তি ছিলেন কি?

গুরুমহারাজ :— দ্যাখো, গঙ্গার তীরে নবদ্বীপধাম মহাপ্রভুর লীলাভূমি। ফলে তাঁর উত্তরকালের বহু সাধক-সাধিকারা নবদ্বীপধাম দর্শন করতে এসেছিলেন, অনেকেই এখানে থেকে সাধন-ভজন‌ও করেছিলেন। ঠাকুর শ্রীরামকৃষ্ণ তো সমস্ত নবদ্বীপ-মায়াপুর ঘুরে গঙ্গাবক্ষে মহাপ্রভুর জন্মস্থান পরিলক্ষিত করলেন। জয়দেব গোস্বামীও নবদ্বীপেই বিদ্যাশিক্ষা করেছিলেন কারণ বহুকাল থেকেই নবদ্বীপ পূর্বভারতের শিক্ষাকেন্দ্র হিসাবে সুপ্রসিদ্ধ ছিল। বারাণসী যেমন সমগ্র ভারতের মূল শিক্ষাকেন্দ্র হিসাবে গণ্য হত, তেমনি পূর্ব ভারতেরও নবদ্বীপ নিজের স্বাতন্ত্র্য বজায় রেখে চলতো। বেদান্ত শিক্ষা হত বারাণসীতে আর ন্যায়ের চূড়ান্ত শিক্ষার স্থান ছিল নবদ্বীপ। যার জন্য বারাণসীর পণ্ডিতরা নবদ্বীপের নৈয়ায়িকদের ব্রাত্য করে রেখেছিল। মহাপ্রভু অবশ্য বারাণসীর বিখ্যাত পণ্ডিত সমাজের শিরোমণি প্রকাশানন্দ সরস্বতীকে স্বমতে আনতে বাধ্য করেছিলেন, ফলে বারাণসী ও নবদ্বীপের পণ্ডিতদের মধ্যে সংযোগ স্থাপন সম্ভব হয়েছিল।

 সে যাই হোক, নবদ্বীপে অনেক সাধক বা উন্নত মহাপুরুষ জন্মগ্রহণও করেছিলেন বইকি! আমার ছোট বয়সে নবদ্বীপে ব্রজানন্দ নামে একজন বৈষ্ণব সাধু ছিলেন। তাঁর শিষ্যরা তারকব্রহ্ম নামের বদলে আশ্রমে 'জয় ব্রজানন্দ হরে' এই নাম কীর্তন করতেন।

 এছাড়া উল্লেখযোগ্য ছিলেন কৃষ্ণানন্দ আগমবাগীশ। পূর্বভারতের তন্ত্রশাস্ত্রের প্রথম সংকলক তিনিই। বর্তমানে বিভিন্ন দেবী পূজার যে পদ্ধতি এখানে চালু আছে, তা সবই কৃষ্ণানন্দের গ্রন্থ থেকে নেওয়া। গুরু-পরম্পরায় মুখে মুখে পরম্পরাগতভাবে থাকা অথবা হাতে লেখা লালকালির পুঁথিতে অত্যন্ত গোপনভাবে তন্ত্র ও তার আচারসমূহ বহুকাল থেকে (বেদের সমসাময়িক বা বেদের পূর্বে) সাধকদের মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিল। আগমবাগীশ মহাশয়ই প্রথম সার্বজনীনভাবে তন্ত্রের কিছু অংশ গ্রন্থাকারে প্রকাশ করেন। উন্নত আধার ছাড়া এই দুঃসাহস দেখানো সম্ভব নয়। বর্তমানে যে চতুর্ভুজা কালীমূর্তি এদেশের ঘরে ঘরে পূজিতা হচ্ছেন, এই মূর্তির রূপকারও কৃষ্ণানন্দ আগমবাগীশ। শোনা যায় _কৃষ্ণবর্ণের এক গোয়ালার মেয়ে গোবর হাতে ঘুঁটে দেবার সময় আগমবাগীশ মহাশয়কে দেখে লজ্জায় জিভ কেটে ফেলেন_এইটা দেখেই উনি মা কালীর মূর্তির রূপ দান করেন।  শক্তিপূজা বহুকাল থেকেই ভারতে চালু ছিল কারণ ঋগ্বেদের দশমমণ্ডলের ১২৫ তম সূক্ত অম্ভৃণ ঋষির কন্যা বাকের। ঐ সূক্তকে দেবীসূক্তও বলা হয়। ওখানে শক্তির যে রূপ এবং তার কার্যকারিতার বর্ণনা পাওয়া যায়, কথিত আছে সেখান থেকেই শ্রীশ্রীচণ্ডীগ্রন্থের আবির্ভাব হয়।

এসব কথা প্রসঙ্গক্রমে চলে এল, কিন্তু কথা হচ্ছে নবদ্বীপকে কেন্দ্র করেই যেন দুটি ধারা, একটি বৈষ্ণব ধারা গৌড়ীয় বৈষ্ণবরূপে এবং অন্যটি তন্ত্রের ধারা যা অতি সাধারণ মানুষকেও তন্ত্রের সাধনে প্রবৃত্ত করেছে — এ দুটিই উৎপত্তি ও বিকাশ লাভ করেছে।

মা জগদম্বার এই বিপরীতমুখী লীলার রহস্য শিব ছাড়া আর কেই বা জানতে পারে!