স্থান ~ পরমানন্দ মিশন । সময় ~ অক্টোবর । উপস্থিত ব্যক্তিগণ ~ আশ্রমস্থ ও বহিরাগত ভক্তগণ ৷
জিজ্ঞাসু :— ব্রাহ্মণ্যপ্রথা বা কৌলিন্যপ্রথা যে একসময় সমাজে চালু হয়েছিল, এগুলাের সামাজিক উপযােগিতা কি কিছু ছিল ?
গুরুমহারাজ :– সামাজিক উপযােগিতা কিছুই ছিল না। কারণ এগুলি তাে ঋষিরা সৃষ্টি করেননি। করেছিল হয় কোন রাজা অথবা তৎকালীন তথাকথিত কোন পণ্ডিত। দ্যাখাে, ভারতবর্ষ এমনই একটা দেশ যে, এখানে বৈদিক অনুশাসন- ঋষিদের অনুশাসন-বিভিন্ন ধর্মগ্রন্থের উপদেশ_ এদেশের জনগণ বা রাজন্যবর্গ যত মেনে চলবে দেশটির ততই মঙ্গল হবে, আর যত এদেশের রাজন্যবর্গ বা নেতারা অন্য কোন মতকে জোর করে দেশবাসীর উপর চাপাতে চাইবে_ ততই এই দেশটির অমঙ্গল সাধিত হবে। ইতিহাস থেকে বা বর্তমান দেখে আমার কথাটা মিলিয়ে নিও, তাহলেই এই কথার সত্যতা টের পাবে।
তাছাড়া, কথাটা ভবিষ্যত প্রজন্মের জন্য সতর্কবার্তাও বটে ! রঘুনন্দনের স্মৃতিশাস্ত্র যখন সমাজে এল তখন থেকেই স্বার্থলােভী- সুবিধাভােগী ব্রাহ্মণশ্রেণী বিভিন্ন বিধানের দ্বারা সমাজের অন্যান্য শ্রেণীকে বেঁধে রাখতে বা আটকে রাখতে চাইলো। তবে ঐ যে ব্রাহ্মণশ্রেণী বললাম, ওরা কিন্তু প্রকৃত অর্থে 'ব্রাহ্মণ' কেউ ছিল না—কারণ প্রকৃতপক্ষে দেখতে গেলে একমাত্র ব্রহ্মবিদই ব্রাহ্মণ। বৈদিক যুগের পরবর্তীকালে যখন সমাজে চতুরাশ্রম প্রথা চালু হয়েছিল তখন বর্ণশ্রেষ্ঠ ব্রাহ্মণ বলা হত তাঁদেরই _যাঁরা ছিলেন, সমাজের মস্তিষ্কস্বরূপ অর্থাৎ জ্ঞানে-বিদ্যায়-বুদ্ধিতে-সংযমে-অধ্যবসায়ে সমাজের মধ্যে শ্রেষ্ঠ ছিলেন এবং সুষ্ঠুভাবে সমাজকে পরিচালনা করতে পারতেন। এইরকমটা ততদিন চলেছিল_ ততদিন পর্যন্ত সব ঠিক ছিল। কিন্তু এর পরই নেমে এল সমাজের বুকে বিপর্যয় ! যখন থেকে বংশানুক্রমিক ভাবে ব্রাহ্মণ, ক্ষত্রিয় ইত্যাদি প্রথা চালু হোল অর্থাৎ ব্রাহ্মনের ছেলে ব্রাহ্মন - শুদ্রের ছেলে শুদ্র হিসাবে মান্যতা পেতে শুরু করলো_ তখন থেকেই সমাজের সর্বনাশ সাধিত হোল এবং ভারতবর্ষের হোল চরম অধঃপতন ! নাহলে ভারতবর্ষের মতো সুপ্রাচীন সভ্যতা ও সংস্কৃতির দেশ _বিদেশীদের পদানত হয় ! তাও হাজার বছর ধরে ? কি হারিয়ে ভারতবর্ষের এই অধঃপতন সাধিত হয়েছিল--তা নিয়ে ভাবনা-চিন্তা করে এবং গবেষণা করে দেখা গেছে যে _পুরােহিত বা ব্রাহ্মণ শ্রেণীটির নৈতিক অধঃপতন এবং তার ফলস্বরূপ তাদের নিজের ধর্মকে ভুলে বা ধর্মের ভুল ব্যাখ্যা করে ধার্মিক সাজার অপচেষ্টা, বিধিকে ভুলে বিধানে আটকে যাওয়া, অপর বর্নের মানুষদেরকে 'পদে পদে নিষেধের ডোরে' আটকে দেওয়ার চেষ্টা, লক্ষ্য ভুলে উপলক্ষ্যকে প্রাধান্য দেওয়া—এই সবগুলিই ছিল মূল কারণ। 'ব্রাহ্মণ'- নামক একটি বংশানুক্রমিক জাতি সৃষ্টি হবার পর থেকে এবং এরা সমাজের শিরােমণি হবার সুবাদে, তৎকালীন সমাজে কি নির্মম-নিষ্ঠুর-অমানবিক অত্যাচার যে এরা চালিয়েছিল _তার খবর ক’জন রাখে ! কিছু পুরোনাে গ্রন্থে বা গল্প-উপন্যাসে তৎকালীন সমাজের এই সব চিত্র পাওয়া যায়। প্রেমচাঁদমুন্সী, শরৎচন্দ্র ইত্যাদিদের গ্রন্থে তৎকালীন সমাজচিত্র অনেকটাই ফুটে উঠেছে। এই সব গ্রন্থ পড়লে দেখবে সাধারণ মানুষের উপর সমাজপতিদের কি নিদারুণ অত্যাচার ! সবচেয়ে বেশী অত্যাচারচলেছে পূর্বভারতে আর দক্ষিণভারতে। শূদ্র জাগরণ বা কমুনিষ্ট মুভমেন্ট এইজন্যই এসব জায়গাতেই বেশী।
কি ধরনের কুৎসিত আচার ছিল, তার দু-একটা উদাহরণ দিচ্ছি__দক্ষিণভারতে নিয়ম ছিল কোন ব্রাহ্মণ রাস্তা দিয়ে গেলে সেই পথে যদি কোন শুদ্রশ্রেণীর নারী থাকতো_ তাহলে সাথে সাথে ঐ নারীকে তার বুকের কাপড় খুলে ততক্ষণ দাঁড়িয়ে থাকতে হোত,যতক্ষন পর্যন্ত না ঐ উচ্চবর্নের মানুষটি pass করে চলে না যায়—ভাবাে একবার ! তাছাড়া অব্রাহ্মণদের মন্দিরে প্রবেশের অধিকার, বেদপাঠে অধিকার, পড়াশুনার অধিকার_ এগুলাে তাে আগে থেকেই কেড়ে নিয়েছিল ব্রাহ্মণেরা। পূর্বভারতে ব্রাহ্মণেরা রাস্তা দিয়ে হাঁটার সময় শূদ্রদের সরে গিয়ে পথ ছেড়ে দিতে হােত _কারণ ব্রাহ্মণেরা প্রচার করতো যে, শূদ্রদের ছায়া মাড়ালে পাপ হয়। কোন রম্যরচনায় রয়েছে এক শূদ্রাণী ব্রাহ্মণ ঠাকুরকে জিজ্ঞাসা করেছিল _'তাহলে রাত্রে আমাদের ঘরে আস কেন '? ব্রাহ্মণের চটজলদি উত্তর--রাত্রের অন্ধকারে তাে ছায়া পড়ে না—তাই মাড়াতেও হয় না, ফলে পাপও হয় না।
এককথায় তৎকালীন এই বংশানুক্রমিক ব্রাহ্মণেরা(বামুনেরা) ভ্রষ্ট হয়ে গিয়েছিল। গীতায় রয়েছে ভগবান শ্রীকৃষ্ণ উল্লেখ করেছেন, ‘চাতুবর্ণং ময়া সৃষ্টং গুণকর্মবিভাগশঃ।' উনি কিন্ত জন্ম-অনুযায়ীর কথা বা বংশ পরম্পরার কথা কোথাও বলেননি, বলেছিলেন _"গুণ এবং কর্ম অনুযায়ী আমি চারিটি বর্ণ সৃষ্টি করেছি"! কিন্তু রাজতন্ত্রের সাথে পুরোহিততন্ত্রের আঁতাতের কালে বংশানুক্রমিক ব্রাহ্মণবংশ ও রাজবংশের সূচনা হয়েই সমাজে সর্বনাশ সাধিত হয়েছিল। পৌরােহিত্য ব্রাহ্মণদের অন্যতম একটা বৃত্তি। পুরােহিত মানে যিনি কুল বা পুরের হিতসাধন করবেন ঈশ্বরের কাছে পূজা-পাঠ, প্রার্থনা, হােম-যজ্ঞাদির দ্বারা—যাতে তার যজমান সুস্থ থাকে, সংসারে শান্তি থাকে ইত্যাদি। কিন্তু দক্ষিণা, চাল-কলা-সিধের জন্য তাে শুধু পূজা নয়। বর্তমানে ক’জন পুরােহিত নিজের কথা না ভেবে যজমানের মঙ্গলকামনা করে বলো ? রামায়ণে বর্ণিত আছে রাবণ রামচন্দ্রের অকাল বােধনের পুরােহিত হয়েছিলেন এবং রামের মঙ্গলকামনা ও অভীষ্ট পূরণের জন্য দেবীর কাছে বর প্রার্থনা করেছিলেন, আর তাতেই রাবণবধ সম্ভব হয়েছিল। শুধু যজন, যাজন, অধ্যাপনা নয় পঠন-পাঠনও ব্রাহ্মণের একটা অন্যতম কাজ ছিল। তাঁদের যজনে এবং পাঠনে সন্তুষ্ট হয়ে শ্রদ্ধাবশতঃ যজমান ব্রাহ্মণের বাড়ীতে ‘সিধে' পাঠাতো ! ব্রাহ্মণদের কোন যাচঞা ছিল না, সদাসন্তুষ্ট চিত্ত ! রাজা বা জমিদারের দেওয়া জমির ফসল এবং ঐ সিধা বা সিধে যেটুকু পাওয়া যেতাে, তাতেই চালিয়ে নিতেন ব্রাহ্মণী। একান্ত না চললে ভিক্ষাবৃত্তি করতেও কুণ্ঠিত হতেন না ব্রাহ্মণেরা। প্রাচীন গ্রন্থে যত ব্রাহ্মণদের গল্প রয়েছে তাতে তাদের বেশীরভাগকেই দেখবে কোন না কোন সময় ভিক্ষার্থে বেরিয়েছেন। কি সুন্দর জীবন ছিল তাঁদের ! এখনও আদর্শ ব্রাহ্মণের চরিত্র বলতে গেলে প্রাচীনযুগের ঐসব ব্রাহ্মণদেরই নাম বলা হয়। পুরানে ক্ষত্রিয় বা শূদ্র থেকে ব্রাহ্মণ হয়ে ওঠার গল্পও অনেক রয়েছে। সুতরাং জন্ম অনুযায়ী ব্রাহ্মণ এটা কিন্তু কোথাও বলা ছিল না—তবু যুগপ্রভাবে এটাই হয়েছে আর তার কুফল আজও ভােগ করছে মানুষ !
এবার কৌলিন্যপ্রথার আলােচনায় আসছি। এই প্রথাটি সমাজে খুবই নবীন, বাংলায় যখন বল্লালসেনের রাজত্বকাল তখন কৌলিন্যপ্রথা সমাজে এসেছিল। এই ব্যাপারে যে গল্পটি চালু রয়েছে সেটা শুনেই বােঝা যায় যে, পুরাে ব্যাপারটি একটা 'বাজে গাল-গল্প' ছাড়া আর কিছুই নয় ! এর কোন বাস্তব ভিত্তিই নেই। পাঁচজন ব্রাহ্মণকে কনৌজ থেকে আনা হ’ল এবং এরাই বংশবিস্তার করে কয়েক শতকে সারাদেশে ছড়িয়ে পড়ল—গল্পটা হাস্যকর ! ভারতবর্ষে আর কোথাও কুলীন ছিল না—শুধু কনৌজেই ছিল ? এটাই বা কোন ইতিহাস থেকে জানা যায় বা কিভাবে মানা যায় ? হয়তাে বল্লাল সেন কয়েকজন পণ্ডিতকে কনৌজ থেকে এনেছিলেন-সমাজে কোন বিশেষ শিক্ষা দেবার জন্য, ব্রাহ্মণ্যপ্রথা বা কৌলিন্যপ্রথা প্রতিষ্ঠা করার জন্য নয়।
কথিত আছে_ শেষ বয়সে বল্লাল সেন রাজ্যপাট পুত্র লক্ষ্মণের হাতে সঁপে দিয়ে এক চণ্ডাল রমণীর সাথে বীরভূম জেলার কোন দুর্গম জঙ্গলে শক্তিসাধনা করতে চলে যান_পুত্র লক্ষনসেনের শত অনুরোধেও তিনি আর রাজধানীতে ফিরেই আসেননি। কনৌজ ব্রাহ্মণের দ্বারা সমগ্র সমাজের কৌলিন্য প্রতিষ্ঠা করতে গিয়ে তাঁর নিজের জীবনের শেষ সময়গুলি এক অন্তজ শ্রেনীর নারীর সাথে শক্তিসাধনাতেই কেটে গিয়েছিল_ঈশ্বরের মার দেখেছো! এছাড়াও দেখা যায়_ ব্রাহ্মণেতর জাতির মধ্যেও কুলীনেরা ছিল। বলা হোল_কুলীনদের অসবর্ণ বিবাহের.ফলে জাত সন্তানরা ব্রাহ্মণেতর হলেও কুলীন হবে। কিন্তু _তাহলে অসবর্ণ বিবাহের ফলে ঐ পাঁচজন কুলীন ব্রাহ্মণের কুলীনত্ব আর থাকল কোথায় ! সুতরাং বুঝতেই পারছো_এইসব ছেলেভূলানো গল্প দিয়ে মানুষকে ভূল বোঝানো হয়েছে।
মুস্কিলটা কোথায় জানাে—তখনকার দিনে তাে আর সাধারণ মানুষ শিক্ষিত ছিল না _যদিও বা কেউ কেউ থেকেও থাকে,তারা কোনদিন কোন গ্রন্থ বা ইতিহাস লেখেনি। আর যদি তেমন কেউ কিছু লিখেও থাকে তা রাজন্যবর্গ গ্রাহ্য করেনি। রাজার কোন সভাসদ বা সভাকবি-রাজপন্ডিত রাজার মনােরঞ্জনের জন্য যা লিখতাে—সেটাই হোল আজকের ইতিহাস। ফলে এই গ্রন্থগুলিতে সত্যের আভাস হয়তাে রয়েছে কিন্তু প্রকৃত সত্য কখনই লিখিত হয়নি ! কেউ লিখলেও তা পরে edit হয়েছে, রাজার মনােমত করে নেওয়া হয়েছে। এইভাবেই মেগাস্থিনিসের লেখা পড়ে আমরা আলেকজাণ্ডারের বীরত্ব নিয়ে ইতিহাস পড়ি কিন্তু পুরু বা পুরুর জ্যেষ্ঠপুত্রের বীরত্বকাহিনীর কথা ভারতীয়রা জানতেই পারল না। প্রকৃতপক্ষে পুরুর ছেলের হাতে আলেকজান্ডার পরাজিত হয়েছিল ! তৎকালীন আফগানিস্থানের সীমান্তে আলিশান নদীর তীরে পুষ্কলাবতী নগরীর রাণী কি অসীম সাহসে অল্পসংখ্যক সৈন্য নিয়ে আলেকজান্ডারের সাথে যুদ্ধ করেছিলেন _তার ইতিহাসও ম্লান হয়ে গেছে। মাত্র কয়েক'শ মাওয়ালী যুবক নিয়ে রামদাস-শিষ্য মারাঠীবীর শিবাজী প্রবল পরাক্রমী ঔরঙ্গজেবের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে কি অসাধারণ গেরিলাযুদ্ধ চালিয়েছিল—তার ইতিহাস ছেলেমেয়েদের কতটুকু জানানো হয় ? শিবাজী ইচ্ছা করেই ধরা দিয়েছিল এবং ঔরঙ্গজেবের রাজদরবারে হাজির হয়েছিল গুরু(সমর্থ রামদাস)-র নির্দেশে। শ্রীকৃষ্ণ যেমন অকস্মাৎ কংসের দরবারে উপস্থিত হয়ে তাকে মার্শাল আর্ট প্রয়োগ করে মেরে ফেলেছিলেন _ঠিক তেমনিভাবে সেদিন ঔরঙ্গজেবকে মেরে ফেলার নির্দেশ ছিল গুরুদেবের ! ধূর্ত ঔরঙ্গজেব তা বুঝতে পেরে তাকে আটকে দিয়েছিল। কিন্তু এসব ইতিহাস তেমনভাবে লেখাই হয়নি।
যাইহােক, ইতিহাসের কথা থাক_ কথা হচ্ছিল বিভিন্ন সামাজিক কুপ্রথা নিয়ে। সামাজিক কুপ্রথাগুলি মনুষ্য-সমাজের পরস্পর পরস্পরকে অবহেলা করতে ও ঘৃণা করতে শেখায়—সুতরাং তা কি করে সমাজের মঙ্গলকারক হবে ? সেইজন্যই বলছিলাম _ দেখা যায় সমাজ বিবর্তনের কোন না কোন সময়ে,কোন পণ্ডিত বা কোন রাজা _যে কোন একটা ‘বাদ' বা ‘প্রথা'কে সমাজে চাপিয়ে দিয়ে ভাবে--“খুব একটা কাজ করা হোল" কিন্তু এতে আখেরে মঙ্গল না হয়ে সমাজের ক্ষতিই হয়। একমাত্র যাঁরা মহাজ্ঞানী- মহাজন- মহাপুরুষ, যাঁরা কালদ্রষ্টা বা বােধী অর্থাৎ সত্যকে বােধ করেছেন তাঁরাই পারেন যথার্থ নতুন কিছু সমাজকে উপহার দিতে—যা জীবনে আচরণ করলে, অনুসরণ করলে মানুষের কল্যাণ হয়, সমাজের মঙ্গলসাধিত হয়। সাম্যবােধে উপনীত হওয়ায় কার কি প্রয়ােজন, কি করলে সমাজে balance থাকবে তা তাঁরা জানেন--তাই যখনই এই ধরণের মহামানবরা পৃথিবীতে আসেন তখন কোন কোন নতুন চিন্তা-ভাবনা, কিছু শিক্ষা মানুষকে দিয়ে যান, যা অনুসরণ করে বা যেগুলি জীবনে পালন করে পরবর্তীকালের মানুষ প্রকৃত সুখ-শান্তি বা সত্যের সন্ধান পায়।