স্থান ~ পরমানন্দ মিশন I সময় ~ ১৯৯১, ডিসেম্বর । উপস্থিত ব্যক্তিগণ ~ আশ্রমস্থ মহারাজগণ ও অন্যান্য ভক্তবৃন্দ I

জিজ্ঞাসু :— আপনি বলছিলেন, ইউরোপীয়দের বেশিরভাগ লোকের চর্মরোগ রয়েছে, ওদের skin ভালো নয় অপেক্ষাকৃত Indian-দের ভালো, ওদের skin-এর এই ধরনের problem-এর কারণ কি?

গুরুমহারাজ :— কারণ কি আর একটা? সহস্র সহস্র বছরের বিবর্তনের ফলে এক-একটা এলাকার মানুষ এক-এক ধরনের শরীর পায়, মন পায়, জীবন যাপনের পদ্ধতি শেখে। সাধারণভাবে ইউরোপের বেশিরভাগ এলাকাই তো শীতপ্রধান কারণ দেশগুলি পৃথিবীর উত্তর গোলার্ধের উত্তরাংশে অবস্থিত। ফলে সূর্যকিরণ এই সমস্ত অঞ্চলে লম্বভাবে না পড়ে তীর্যকভাবে পড়ে বা হেলে পড়ে, তাই ভূ-প্রকৃতি কম তাপ পায় —তাই সব সময়েই শীত ! আর শীতকালটা তো কথাই নেই 0° C বা তারও নীচে নেমে যায় তাপমাত্রা কোন কোন দেশে।তাছাড়া ইংল্যাণ্ডে হয় মারাত্মক কুয়াশা, সারাদিন সূর্যের মুখ দেখতে পায় না মানুষ। গ্রীষ্মকালে মে সমস্ত ঝড় হয়, তাতে মেক্সিকান গল্ফ হয়ে একটা লাল ধুলোর আস্তরণ ওইসব দেশের বায়ুমণ্ডলে মেশে, ফলে ইংল্যাণ্ডে এই disturbance-টা হয় ! যাইহোক, অতিরিক্ত শীতের কারণেই বেশিরভাগ ইউরোপীয়রা বছরের অধিকাংশ সময়ে বেশি বেশি পোশাক পরতে বাধ্য হয়, ফলে গায়ে সূর্যালোক লাগে না তাই skin অসুস্থ হয় ! আর এই ব্যাপারটা generation-wise চলতে চলতে আজকের সাদা চামড়ার সাহেবদের বেশিরভাগই চর্মরোগে ভোগে ! এসব ছাড়াও এর পিছনে আরো একটা scientific কারণ যেটা রয়েছে সেটা হোল শরীরের ত্বক বা চামড়ার রঙের জন্য দায়ী একটি রঞ্জক যার নাম মেলানিন, যেটিকে supply দেয় শরীরে অবস্থিত রন্জক কোন(pigmento)। রন্জক কোষের মধ্যে বিভিন্ন প্রোটিন, এনজাইম, ভিটামিন B-কমপ্লেক্স, ভিটামিন-C এবং অন্যান্য রাসায়নিক পদার্থ থাকে এছাড়াও ত্বকে সূর্যালোক লাগলে শরীরে vitamin D তৈরি করেএগুলি সব স্বাভাবিক থাকলে মানবশরীরে ত্বকের বিশেষ সমস্যা সৃষ্টি হয় না। কিন্তু ধরো কোন সদ্যজাত-র গায়ের রঙ যদি অস্বাভাবিক সাদা হয় , তখন আমরা তাদেরকে abnormal বলি (কেউ কেউ ‘জক’ বা ‘জকা’ বলে)। কিন্তু এর পিছনে বৈজ্ঞানিক কারণটি হলো এই যেঐ শিশুটির pigmento তে iron বা লোহার অভাবে রয়েছে ! আবার ত্বকের রন্জক কোষে iron-এর আধিক্য ঘটলেজাতকের গায়ের রঙ খুব কালো হয়ে যেতে পারে। পশু জগতে মিশকালো বিড়াল, বাঘ প্রজাতিতে Black-panther __এগুলো এভাবেই সৃষ্টি হয়। আবার ঠিক উল্টো কারণে অর্থাৎ pigmento-তে iron-এর অভাব ঘটার কারণেই সাদা বাঘের জন্ম হয়েছে।

  তবে প্রকৃতিতে দেখা গিয়েছে সাদা রঙ অপেক্ষা কালো রঙের skin ভালো। ভালো অর্থে glossy- চর্মরোগ-মুক্ত-প্রতিরোধ ক্ষমতাযুক্ত ইত্যাদি। সাদা চামড়ার লোকেদেরকে গায়ের দুর্গন্ধ দূর করার জন্য বিভিন্ন body-lotion ব্যবহার করতে হয়, কালো চামড়ার লোকেরা শুধু দু'বার কি একবার স্নান করে নেয়, ব্যস্ তাহলেই শরীর নির্মল হয়ে গেল ! ইউরোপীয়দের skin-চর্চা দেখার মতো, কারও কারও তো আবার এক- দু ঘন্টা লেগে যায় ! কত বিভিন্ন ধরনের lotion ব্যবহার করে জানো__ কোনটার পর কোনটা, কত ঘন্টা পর কোনটা, সব skin-specialist বলে দেয় বা লিখে দেয় — সেই অনুযায়ী ওরা শরীরে মাখে বা ম্যাসেজ্ করে। ভারতীয়দের মধ্যে যারা গ্রামে বাস করে তারা বেশিরভাগ _শরীর পরিষ্কার করার জন্য গায়ে মাটি মেখে নেয়। তোমরা যারা শহরের লোক এখানে বসে আছো — তারা হয়ত হাসছো বা শুনে অবাক হচ্ছো, কিন্তু জানো ছোটবেলায় আমার মা বা দিদিও আমাকে মাঝে মাঝে মাটি মাখিয়ে স্নান করাতো ! এতে শরীর পরিষ্কার হোত এবং গন্ধমুক্ত হোত। বিভিন্ন আফ্রিকান উপজাতিরা এখনও গায়ে মাটি মেখে স্নান করে। মাটির সাধারণ গুণ হচ্ছে গন্ধ-তন্মত্রাকে শোষণ করা ! তাছাড়া ক্ষারজাতীয় মাটি অর্থাৎ যে সমস্ত স্থানে চুনাপাথর বা ক্যালসিয়াম কার্বনেট রয়েছে সেখানকার মাটি গায়ে মাখলে শরীরে ঘামের সাথে যে সমস্ত acidic রাসায়নিক বা বিভিন্ন হরমোনের নির্যাস বেরিয়ে আসে _সেগুলির সাথে বিক্রিয়া করে তাদেরকে neutralize করে দেয়। ফলে বিশেষ ধরনের মাটি গায়ে মাখাটা হাস্যকর নয়, এটা scientific এবং বেশ কাজ দেয়। বিভিন্ন পশু-পাখি গায়ে ধুলো, মাটি বা কাদা ইচ্ছা করে মাখে _পরে আবার ঝেড়ে ফেলে দেয় বা স্নান করে পরিষ্কার হয়ে নেয়। বুনো মোষ, হাতি এদেরকে বনে-জঙ্গলে এক ধরনের মাছি এত উৎপাত করে যে, এরা বাধ্য হয়ে গায়ে প্রচুর ধুলো মাখে বা কাদায় গড়াগড়ি দেয়। পরে সেই এলাকা থেকে অন্য এলাকায় চলে গেলে আবার কোন জলাশয়ে নেমে শরীর পরিষ্কার করে নেয়।

জিজ্ঞাসু :— আমি একটু আধটু ‘কোয়াক্'(হাতুড়ে)ডাক্তারি করি। তাই বিভিন্ন ডাক্তারি বই পড়তে হয় বলেই এসব জিজ্ঞাসা করছি — আচ্ছা অস্থি আর কোমলাস্থির মধ্যে পার্থক্য কি?

গুরুমহারাজ :— সে কি — এগুলো জানো না? এগুলো তো school-final course-এই রয়েছে। অস্থি অর্থাৎ bone, আর কোমলাস্থি হচ্ছে cartilage (কার্টিলেজ)। Bone বা হাড় হচ্ছে শক্ত, সুস্থিত আর কার্টিলেজ বা তরুণাস্থি (কোমলাস্থি) flexible আর প্রচণ্ড sensitive ! সেইজন্য স্নায়ুপ্রধান ও নরম অঙ্গসমূহতেই কার্টিলেজথাকে। কান, নাক, ঘাড়ের পিছনে ইত্যাদি বিভিন্ন স্থানে এর অবস্থান। এগুলি এত sensitive organ যে, স্পর্শ লাগলেই ভীষণ সুড়সুড়ি অনুভূত হয়। অল্পতেই এগুলির বর্ণ পরিবর্তন হয়, আকার বা আকৃতিরও সামান্য পরিবর্তন হতে পারে। লজ্জা পেলে অথবা খুব রেগে গেলে এইজন্যেই দেখবে কান,নাক বা এককথায় মুখমন্ডল সহজেই লাল বর্ণ ধারণ করে। শিক্ষক বা গুরুজনেরা ছোট ছেলেদের ‘কানমলা’ শাস্তি দিতো, এর পিছনে কারণটা হচ্ছে এই যে, অল্প আঘাতে তাদেরকে লজ্জায় ফেলে দিয়েঅপরাধ প্রবনতা কমানো ! চিনারা সাধারণত কাউকে কানে হাত দিতে দেয় না বলে — ‘দু-চার ঘা মার দাও কিন্তু কানে হাত দিও না।’ এটা ওদের একটা সেন্টিমেন্ট! আবার দেখবে কুষ্ঠরোগ হলে এই স্থানগুলিই সহজে আক্রান্ত হয়।

জিজ্ঞাসু :— বিভিন্ন ধর্মশাস্ত্রে মনকে আয়ত্তে আনার অনেক পথনির্দেশ বর্ণনা করা আছে — এ ব্যাপারে আপনি কোনটি সঠিক বলে মনে করেন?

গুরুমহারাজ :— কি জানি বাবা! শাস্ত্রাদি আর পড়া হয়ে উঠল কই? ছোটবেলায় তেমন সুযোগ সুবিধাও পাইনি, লেখাপড়াও শিখতে পারিনি। কোনোক্রমে খবরের কাগজটা পড়তে পারি — তাও শক্ত শব্দগুলি বানান করে পড়তে হয় ! ভালো করে চিঠি লিখতে পারি না, বানান ভুল হয়ে যায়। ছোটবেলায় সুযোগ পাইনি বলতে — দেখেছিলাম বাড়িতে খুবই অভাব। মায়ের কষ্ট মনকে স্পর্শ করেছিল, ভাবলাম যে করেই হোক কিছু পয়সা রোজগার করে মায়ের হাতে তুলে দিতে হবে। সেই চেষ্টা করতে গিয়ে পড়াশোনা আর করা হয়ে উঠল না। আর দ্যাখো তোমরা সব কত লেখাপড়া করেছ_পণ্ডিত ব্যক্তি, বিভিন্ন ধর্মগ্রন্থ পড়েছ, কত শাস্ত্র পড়েছ — ধন্য ধন্য তোমরা। আমার আবার এইজন্য পণ্ডিত লোক দেখলে ভয় লাগে, মনে হয় এই রে এই বুঝি ব্যাকরণের ভুল ধরে বসলো!

 আজকাল বহু জায়গায় যাই — দেখি যে আগের তুলনায় মানুষের অর্থনৈতিক অভাব অনেক কম। দ্রব্যমূল্য বেড়েছে ঠিকই, কিন্তু সাধারণ মানুষ খেতে পরতে পাচ্ছে না এমনটা প্রায় নেই বললেই চলে। এর ফলে অভিভাবকদের মধ্যে ছেলেমেয়েদেরকে লেখাপড়া শেখানোর একটা প্রবণতা তৈরি হয়েছে। অনেক গ্রাম-গঞ্জের ছেলেমেয়েরা পরীক্ষায় ভালো ফল করছে, জীবনে উন্নতি করছে দেখে ভালো লাগে। আবার কত বাবা-মায়ের শত  প্রচেষ্টা, প্রচুর সুযোগ-সুবিধা করে দেওয়া সত্ত্বেও কোন কোন ছেলে-মেয়ে লেখাপড়ায় ভালো ফল করতে পারছে না — এমনটা দেখলে আবার খুবই কষ্ট লাগে। তবে এক একসময় আমার কি মনে হয় জানো _ছোটবেলায় আমি যদি তেমন সুযোগ সুবিধা পেতাম, তাহলে তোমাদের চাইতে ভাল পণ্ডিত হতাম! পরক্ষনেই আবার ভাবনা আসে_পন্ডিত হ‌ইনি ভালো হয়েছে, কারণ পণ্ডিত হবার নানা মুশকিল‌ও রয়েছে — বেশি পড়াশোনা করে সব গোলমাল হয়ে যায়, কেমন যেন সব জট পাকিয়ে যায় ! এই শরীরে আমি পণ্ডিত নই কিন্তু আমার কোন কিছুতেই গোলমাল হয় না। আমি জানি 'গোলে'র মধ্যে 'মাল' রয়েছে, সেইটা খুঁজে পেলেই সব পরিষ্কার _আর কোন কিছুরই অভাব নেই, অসুবিধা নেই।

 তুমি কি যেন বলছিলে? মনকে আয়ত্তে আনতে চাইছো ? ও__আচ্ছা আচ্ছা ! দ্যাখো, তুমি মনকে আয়ত্তে আনতে চাইছো মানে --ধরে রাখতে তো চাইছো না ! তাহলে তাকে ছেড়ে দাও ! মনকে কোন কিছুতে আবদ্ধ করে রাখতে চাইছো কেন — ধরে রাখতে চাইছো কেন? এটা খুব শক্ত কাজ —ওটি তোমার কম্ম নয়। তুমি মনকে ছেড়ে দাও। যেমন ছেলেরা ঘুড়ি ওড়ায়, লাটাইটি সুতোসমেত ধরে রাখে আর ঘুড়িটি ছেড়ে দেয়_ঠিক তেমনি ছেড়ে দাও। ঘুড়ি আপনমনে উড়ে বেড়ায় আকাশে, ভেসে বেড়ায় বাতাসের টানে _কখনও তরতর করে উপরে ওঠে, কখনও ঢাল খেয়ে নিচে নামে ! ঠিক তেমনি তুমি লক্ষ্যে স্থির থেকে মনকে অবলোকন করো — ঘুড়ির মতো মনকে উড়তে দাও। ঠাকুর শ্রীরামকৃষ্ণ রামপ্রসাদের একটি গান খুবই গাইতেন — "শ্যামামা ওড়াচ্ছেন ঘুড়ি...", ঠাকুর আরও বলতেন — "মানুষ মনেতেই বদ্ধ, মনেতেই মুক্ত",_সুতরাং তুমি  মনকে মুক্ত করে দাও — স্বাধীন করে দাও। তবে লাটাই-এর সুতোরূপ বিবেকযুক্ত বিচারটি ধরে রাখতে হবে, নাহলে মন এলোমেলো হয়ে যাবে !

   ওই যে ওখানে মুরারি দাঁড়িয়ে রয়েছে, যে ওকে চেনেনা _এমন কেউ ভাবতে পারে_ 'ওর হাতে ছুরি বা কোন অস্ত্র নেই তো'? কেউ ভাবতে পারে_ 'লোকটা C.B.I হতে পারে, নাহলে অনেকক্ষণ একভাবে দাঁড়িয়েই বা আছে কেন?" এখানে যারা বসে আছে_ তাদের অনেকেই তো মুরারিকে তেমন করে চেনে না __ফলে ওকে নিয়ে তারা কত কি ভাবতে পারে ? কিন্তু যারা মুরারিকে চেনে তাদের কোন ভাবনা নেই —তারা  নির্ভাবনায় চুপটি করে পরম নিশ্চিন্তে বসে আছে। এইরকমভাবে কারো যদি স্বরূপের বোধ থাকে_তাহলে তার আর কোন ব্যাপারেই কোনরকম উদ্বিগ্নতা অথবা বিচলতা থাকে না। তবে তোমাদেরকে আমি এটাও বলছি যে, তোমরা তোমাদের স্বরূপকে চেনো আর নাই চেনো_অন্ততঃ জাগ্রত বিবেকের প্রহরায় যদি মনকে ছেড়ে দিতে পারো — যদি ঘুড়ি ওড়ানোর মতো মনকে মহাশুন্যে  উড়িয়ে দিতে পারো __তো দেখবে একদিন তোমার ঘুড়ি 'ভোকাট্টা' ! দ্যাখো না চেষ্টা করে_ 'মার দিয়া যায় — কি ছোড় দিয়া যায়' —। যে কোন অভ্যাসে যদি নিষ্ঠা থাকে তাহলে একদিন না একদিন কৃতকার্যতা আসবেই। তাই মনেকে যদি আয়ত্তে আনতে চাও, তাহলে যেমন বললাম অমনি করে অভ্যাস করো ! দেখবে ভোকাট্টা ঘুড়ির উপর যেমন লাটাই বা সুতোর বা ওই ব্যক্তিটির কোন কর্তৃত্ব থাকে না __তেমনি মনও আসক্তিহীন, অভিমানশূন্য হয়ে যাবে অর্থাৎ যার মন তারই হয়ে যাবে, আর তোমার মন থাকবে না ! 'তোমার মন' — এই ভাবনা থেকেই তো তোমার যাবতীয় অশান্তি ! তুমি 'তোমার মন'-কে আয়ত্তে আনতে চাইছো, বশে আনতে চাইছো_ কিন্তু পারছো না ! আর তা থেকেই কষ্ট পাচ্ছো, যন্ত্রণা ভোগ করছো। কিন্তু যখন তুমি নিজে বুঝবে যে, "মন আমার নয়_ মন তাঁর", অর্থাৎ এই জগতসংসার যিনি সৃষ্টি করেছেন_সবকিছুই "তাঁর" __তখনই তো তোমার মুক্তি ঘটবে। এই অবস্থায়  মন থেকে যত যন্ত্রণা পায় মানুষ সেগুলির মুক্তি ঘটবে অর্থাৎ মানবের আধিদৈবিক জ্বালা সমূহের অবসান ঘটবে।

 তাই 'তোমার মন'-কে তাঁকে দিয়ে দাও। 'তাঁকে' অর্থাৎ যাঁর মন — তাঁকে। মনকে তাঁর পায়ে সমর্পণ করে দাও। 'মন' যখন তোমারই নয় তখন সেই মনকে নিয়ে আর কোন মাথাব্যথাও থাকবে না—তখন তুমি কেমন যেন হালকা বোধ করবে, realise করবে যে এতদিন যেন পিঠে পাথর বেঁধে ডুবে ছিলে — এবার হালকা হয়ে-মুক্ত হয়ে- স্বাধীন হয়ে কেমন ভেসে বেড়াচ্ছো, আর জগতের বৈচিত্র্য দেখছো কিন্তু আসক্ত হোচ্ছ না। রূপ-রসাদির taste পাচ্ছো কিন্তু তোমার কিছুই প্রয়োজন নেই, এসবের মধ্যে তোমার কোন involvement নেই। এটাই স্বাধীন মনের অবস্থা — মুক্ত মনের অবস্থা। মনকে বশীভূত করার রহস্য আর বশীভূত হলে কি হয় তার রহস্য —এই দুটোই এতক্ষন ধরে তোমাদেরকে জানাবার চেষ্টা করাহোল, কিন্তু কাজের কাজ কতটা হোল__তোমরা কি অন্য সব প্রলোভনের বিষয়বস্তু ছেড়ে মনকে আয়ত্তে আনার চেষ্টায় ব্রতী হবে!!!