স্থান:–পরমানন্দ মিশন, বনগ্রাম। সময়::–১৫/৩/_১৮/৩(১৯৯১)

উপস্থিত ব্যক্তিগণ:–গঙ্গাবাবু, সব্যসাচী মান্না, স্বরূপানন্দ এবং অন্যান্য ভক্তবৃন্দ।

জিজ্ঞাসু:–আপনার কাছে শুনেছি নক্ষত্রলোকের অন্যান্য গ্রহে উন্নত প্রাণীরা রয়েছে, কিন্তু পৃথিবী গ্রহের মানুষের সাথে তাদের যদি কোনোদিন দেখা হয় বা যোগাযোগ হয়, তাহলে communication-এর ভাষা কি হবে ? কারণ অন্য নক্ষত্রলোকের ভাষা _পৃথিবীগ্রহের যে কোনো ভাষার চেয়ে তো সম্পূর্ণ অন্যরকম হবে, তাই নয় কি?

গুরু মহারাজ:—শব্দকে সাধারণত চারটি বিশেষ ভাবে প্রকাশ করা যায় এগুলি হল পরা, প্রশান্তি, মধ্যমা বৈখরী । পৃথিবী গ্রহের জীবসকল সাধারণত বৈখরীতে পরস্পরের সঙ্গে communication করে । এছাড়া অন্যান্য যে কোনোভাবেও communication করা যায় । প্রচন্ড মনঃসংযোগ ক’রে অন্য কারো মনের ওপর প্রভাব ফেলা যায় ! তার জন্য দূরবর্তী বা নিকটবর্তী ব’লে কোনো কথা নাই । এই গ্যালাক্সীর নক্ষত্রমণ্ডলীতেই এমন স্থান আছে, যেখানে শুধুই
‘পরা’-তে communication হয় ! এমন‌ও আছে _ কোথাও ‘মধ্যমা’-তে, কোথাও ‘পশ্যন্তি’-তে যোগাযোগ হয় !

তাহলে বুঝতে পারছো_ বৈখরীর ভাষাটাই সবসময় ভাব প্রকাশের একমাত্র অবলম্বন নয় ! বোবাদের তো সেই অর্থে কোনো ভাষাই নাই ! কিন্তু তারাও তো ভাবপ্রকাশ তো করে ! ভাবোতো _যদি বোবাদের International conference হয়, সেখানে তারা পরস্পরে কোন্ ভাষায় কথা বলবে ? জানো, প্রকৃত ভাব কিন্তু ভাষায় বোঝানোই যায় না। গতকাল এই আশ্রমে কত ভালো ভালো গান হোল কিন্তু সেই সব meaningful গান‌ও দূর থেকে শুনলে মনে হবে যেন হৈ চৈ হোচ্ছে ! কালকে যে একদল বাউল এসেছিল, তারা বেশ গান গাইলো । তবে দ্যাখো, এদেরকে ‘বাউল’ বলা হচ্ছে বটে কিন্তু প্রকৃতপক্ষে এরা profetional বা পেশাদারী শিল্পী ! এরা কেউই ‘প্রকৃত বাউল’ নয় ! সে সাধনা এদের কারো নাই ! আগেকার দিনে অনেক গায়কের সঙ্গীতের মাধ্যমে সাধনার কথা শোনা যেত _ যাদের কেউ সঙ্গীতের সাহায্যে বৃষ্টি নামাতে পারতো, কেউ আগুন নেভাতে পারতো অথবা ডাকাতের কঠিন হৃদয় বিগলিত করতে পারতো ! সঙ্গীতের সুরকে একটা নির্দিষ্ট vibration-এ নিয়ে যেতে পারলে _তবেই এগুলি হয় !

তবে আর একটা কথা আছে_ ‘মহাসঙ্গীত’ ! এই ‘মহাসঙ্গীত’ কি বলো তো ! যেখানে বৈখরীতে কোনো শব্দই নাই, শুধু অন্তর্জগত আলোড়িত হয়ে চলেছে ! যে সংগীতের সুরে অন্যসব শব্দের লয় হয়, সেই সংগীতকেই বলা হয় “মহা সঙ্গীত”।

জিজ্ঞাসু:–[বিহারের এক মহিলা ভক্ত] বর্তমান(১৯৯১) বিহারের অবস্থা তো মোটেই ভালো নয়, অথচ এককালে এই বিহারেই জনকের ন্যায় রাজর্ষি রাজত্ব করতেন ! বর্তমানে যারা শাসক, তারা তো সম্পূর্ণ বিপরীত মেরুর লোক _ এমনটা হওয়ার কারণ কি?

গুরু মহারাজ:– বিদেহ অঞ্চল বা মিথিলার রাজা ছিলেন রাজর্ষি জনক _ এটা তুমি ঠিকই বলেছো কিন্তু ‘জনক’ নামে যে একজন রাজা ছিলেন, তা যেন মনে কোরোনা । রাজা জনক অর্থাৎ প্রজাপিতা_ সেই অর্থে ‘জনক’ ! তবে উল্লেখযোগ্য ব্যাপারটা হোল এই যে, মিথিলার সিংহাসনে একাধিক ‘জনক’ রাজা হিসাবে বসেছিলেন এবং এদের মধ্যে অনেকেই ছিলেন রাজর্ষি এমনকি এদের কেউ কেউ ব্রহ্মজ্ঞানীও ছিলেন ! প্রকৃতপক্ষে ‘জনক’ একটি পরম্পরা ! যেমন ‘ইন্দ্র’ একটি পরম্পরা, ‘নারদ’ একটি পরম্পরা ঠিক তেমনি ‘জনক’-ও একটি পরম্পরা !

দ্যাখো, আমারও চিন্তা হয় যে, বিহার দেশটির বর্তমান অবস্থা এমনটা হোল কেন ? এটা তো সত্যি যে পূর্বে নর্থ বিহার খুবই উন্নত ছিল । আমার স্মৃতিতে আছে সেইসব উজ্জ্বল দিনগুলির কথা _বেদের মন্ত্র সৃষ্টিকারী বেশিরভাগ মনীষীরা ওই অঞ্চলেই জন্মগ্রহণ করেছিলেন । উপনিষদের ঋষিরা বেশিরভাগই বর্তমান বিহারের লোক । বিহারের দক্ষিণ অংশ চিরকালই অন্যরকম কিন্তু northern part-এর সঙ্গে আমাদের এই বাংলার সংস্কৃতিসহ অনেককিছুই মেলে। ওখানকার মাটিও প্রচন্ড fertile ! ফুল, ফল ইত্যাদি ঐ মাটিতে খুব ভালো হয় এবং সেগুলো খুবই উৎকৃষ্ট মানের । এই বছরে নর্থ বিহার অঞ্চলে আমের ফলন খুবই ভালো হয়েছে । ওখানকার বৃদ্ধেরা বলছে যে, বহু বছর এমন ভালো ফলন নাকি ওখানে হয়নি ! ওই অঞ্চলে বিভিন্ন ধরনের উৎকৃষ্ট কলা পাওয়া যায় চিকনি কলা, সবরী কলা ইত্যাদি নানান উন্নত ধরনের কলা ওখানে হয় । সবরী করা গরম ভাত বা পায়েসে রাখলে মাখনের মত গলে মিশে যায় ! বুদ্ধদেব স্বয়ং এই কলা খেতে খুব ভালোবাসতেন ! উনিও গরম পায়েসে এই কলা ফেলে খেতেন ।

প্রাচীন বিহারের নালন্দা, রাজগীর এইসব স্থানের ইতিহাসের দিকে চোখ মেলে তাকালে দেখা যায়_ ওইসব অঞ্চলগুলি ছিল তৎকালীন ভারতবর্ষের সংস্কৃতির পীঠভূমি ! এছাড়া পৃথিবীতে প্রথম গণতন্ত্রের আবির্ভাব ঘটেছিল এখানেই ! লিচ্ছবি রাজবংশীয়রা এমনটা ঘটিয়েছিল_আর সেটা খ্রীষ্টপূর্বের ঘটনা ! তখন এইসব কান্ড ওই অঞ্চলে ঘটেছিল _একথা ভাবা যায় !

তাই এখনো আমি যখন নর্থ বিহারে যাই, তখন ওখানকার বর্তমান অবস্থা দেখে আমার খুবই কষ্ট হয় ! এখন কোথায় সেই দিনগুলি ? প্রকৃতির খেয়ালে সবকিছুই বদলে গেছে । এইসব দেখে আমার মনে হয়_ ওই অঞ্চল আবার কি তার হৃতগৌরব ফিরে পাবে ?

তবে মা__ বিহারের এইরূপ অবস্থার কারণ কি হোতে পারে, তা চিন্তা করতে গিয়ে আমার যেটা মনে হয়েছিল, সেটা হোচ্ছে ওই অঞ্চলে বিভিন্ন সাধু মহাত্মাদের উপর এক সময় প্রচন্ড অত্যাচার করা হয়েছিল। ফলে তাদের সূক্ষ্মশরীরের পুঞ্জীভূত ক্ষোভ ওখানকার বাতাবরণে রয়ে গেছে ! তার‌ই ফলস্বরূপ বর্তমানে এই অঞ্চল এতোটা খারাপ অবস্থার মধ্যে দিয়ে যাচ্ছে ! কিন্তু এটা জানবে যে, স্বামী বিবেকানন্দজীর পর থেকে সমগ্র ভারতবর্ষের একটু একটু করে পরিবর্তন ঘটছে । এখন আমি ঐসব অঞ্চলে মাঝে মাঝে যাই ফলে এরপর থেকে দেখবে এই অঞ্চলগুলির দ্রুত উন্নতি ঘটবে, মানুষের মানসিকতার‌ও পরিবর্তন ঘটবে।।

জিজ্ঞাসু:—অনেক সময় দেখা যায় বড় বড় গুণী শিল্পী, যাদেরকে মানুষ অনেক সম্মান করে, শ্রদ্ধা করে _ তাদের জীবনেও নানান বিপর্যয় নেমে আসে এবং তাদের অধঃপতন‌ও ঘটে । এরকমটা হওয়ার কারণ কি?

গুরু মহারাজ:— শুধু বড় বড় শিল্পীই বা কেন বলছো, সমাজের অনেক জ্ঞানী-গুণী ব্যক্তিদের‌ও অনেকটা ওপরে ওঠার পর এইরূপ অধঃপতন দেখা যায় । এর একমাত্র কারণ হিসাবে জানবে_ “অহংকার” বা “ব্যক্তি অহং” ! ‘অহং’ ত্যাগ করলেই সব গোলযোগ কেটে যায়, অন্যথায় ব্যক্তির অধঃপতন অবশ্যম্ভাবী হয়ে ওঠে । তবে, তুমি যে সমস্ত লোকেদের কথা বলছো _তাদের মধ্যে হয়তো সঙ্গীতশিল্পী, কবি, সাহিত্যিক, রাজনীতিবিদ ইত্যাদিরা পড়ে যাবে ! এই সমস্ত তথাকথিত গুনীজনেরা যখন মানুষের কাছ থেকে সম্মান পেতে শুরু করে, তখনই তাদের মধ্যে অহংকারের জন্ম নেয় ! আর এই অহংকার‌ই তাদের জীবনে সর্বনাশ ডেকে আনে !

এইজন্য‌ই কর্মকে দুটো ভাগে ভাগ করা হয়েছে _সুকর্ম এবং কুকর্ম ! এই দুটোরই খারাপ দিক আছে কারণ উভয়প্রকার কর্মেই ‘অহং’ খুব বেশি পরিমাণে বিদ্যমান থাকে ! যুধিষ্ঠির সশরীরে স্বর্গলাভ করে দেখলেন যে, দুর্যোধন তাকে welcome করছে ! সেখানে তিনি আরো দেখলেন যে, দূর্যোধন ইন্দ্রের পাশে বসে সুরা পান করছে এটা মহাভারতে উল্লেখ রয়েছে ! এই ঘটনা থেকে শিক্ষা পাওয়া যায় যে সুকর্ম বা সৎকর্ম‌ও ভালো নয়, কারণ স্বর্গ-সুখভোগের অন্তে আবার ভোগান্তি আসে ! সেজন্য গীতায় ভগবান শ্রীকৃষ্ণ অর্জুনকে ‘নিষ্কাম কর্ম’ করার কথা বললেন ! ‘নিষ্কাম কর্ম’– কর্ম বন্ধন কাটায় ! ভগবান অর্জুনকে বলেছিলেন অহং-মুক্ত হয়ে বা যোগযুক্ত হয়ে কর্ম করাই ‘নিষ্কাম কর্ম’ ! এই কর্মে ফলের কোনো আশা থাকে না, তাই কর্মফল‌ও ভোগ করতে হয় না । অহং-সর্বস্বতাই মানবের দুঃখের একমাত্র কারণ ! অহং-মুক্ত মানব‌ই প্রকৃতপক্ষে শান্তির যথার্থ অধিকারী।

জিজ্ঞাসু:–আচ্ছা গুরুমহারাজ ! একটু আগে আপনি সঙ্গীত এবং মহা সঙ্গীত নিয়ে কথা বলছিলেন, সংগীতে যে বিভিন্ন রাগ-রাগিনী রয়েছে সেগুলো কিভাবে এল ? আর সঠিকভাবে সঙ্গীত কিভাবে পরিবেশন করা যায় ? আমি একটু-আধটু সঙ্গীত চর্চা করি, তাই আপনাকে এসব কথা জিজ্ঞাসা করছি ?

গুরু মহারাজ:—সঙ্গীতের রাগ রাগিনী সম্বন্ধে তুমি জানতে চাইছো তো ! সঙ্গীত শাস্ত্র অনুযায়ী বলা হয় ছয় রাগ এবং ছত্রিশ রাগিণী ! তবে প্রকৃত সঙ্গীতে রাগ‌-ই প্রধান ! আঞ্চলিক ভিত্তিতে কোনো না কোনো রাগকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন রাগিনীর সৃষ্টি হয়েছে ! সেখানে কিন্তু মূল রাগটি অক্ষুন্ন রাখা হয় ! যেমন ধরো, পূর্বদেশের নাম অনুসারে পূরবী রাগ, ভূপালী-গুর্জর(গুজরাট) ইত্যাদি। একাধিক রাগ বা রাগিনীকে মিলিয়ে মিশিয়ে নতুন নতুন অনেক সুর, রাগিনী সৃষ্টি করা যায় । এগুলি আগেও হয়েছে, বর্তমানের শিল্পীরাও এসব নিয়ে খুবই research করছে এবং নতুন নতুন সুর সৃষ্টিও হচ্ছে !

তবে যেটা বলছিলাম, সামবেদীয় যে ছয়টি প্রধান রাগ আছে, সেগুলিই আসল ! প্রত্যেকটি রাগের‌ই পৃথক পৃথক দেবতা আছে, রাগগুলি পরিবেশনের জন্য নির্দিষ্ট সময় আছে, ওই রাগের রূপ রয়েছে_ রূপ অনুযায়ীই গানে নির্দিষ্ট কথা বসানো হয়, আবার রূপের ধ্যান আছে ! এবার কোনো সঙ্গীতের কথা, আর শিল্পীর ভাব যদিও ঐগুলোর সঙ্গে একাত্ম হয়ে যায়__ তাহলেই সঙ্গীত, সাধনায় রূপ নেয় ! যেমনটি হয়েছিল মীরাবাঈ, সুরদাস, রামপ্রসাদ, কমলাকান্ত, জয়দেব প্রমুখদের ক্ষেত্রে।

উদাহরণ হিসাবে আমি দু একটা রাগের কথা বলছি । যেমন ধরো_ ‘ভৈরব’ ! এই রাগ-চর্চার সময় নির্দিষ্ট করা হয়েছে সূর্যোদয়ের প্রাক্কালে, যখন পূর্বাকাশে লালিমা দেখা দিয়েছে তখন ! এই রাগের আরাধ্য দেবতা শংকর, ভাবনিবেদন(পার্বতীর পূজাভাব বা আত্মনিবেদনের ভাব),স্থান:–পদ্মফুল ফুটে রয়েছে এমন কোনো সরোবরের তীর, যার ঈশাণকোনে শিবমন্দির মৃদুবাতাসে সরোবরের জল আন্দোলিত !

এরপরে ধরোমালকোশ! আরাধ্যশিব, সময়-সন্ধ্যা, ভাবসাহস, রূপনির্জনে অবস্থিত জলাশয়_দুরে পাহাড়-পর্বত দেখা যাচ্ছে !

এবার সংগীতের কথার সাথে ঐ সবগুলি(সময়, দেবতা, ভাব, রূপ ইত্যাদি) সাদৃশ্য যুক্ত হোতে হবে এবং শিল্পী যদি সংগীত পরিবেশনের সময় সুরের সাথে একাত্ম হয়ে ওঠেন, তাঁর সঙ্গীত ধ্যানে পরিণত হয় _ যাতে রাগের রূপ ও ভাবটি সঠিকভাবে প্রকাশিত হয় _তাহলেই ঐ সঙ্গীত তখন সাধনায় রূপান্তরিত হয়ে যাবে ! আর এই ধরনের সঙ্গীত সাধকেরাই সঙ্গীতসিদ্ধ ! আগে যাদের নাম করা হোল, তাঁরা এইরকমই সিদ্ধ সঙ্গীতসাধক ছিলেন ! কিন্তু বর্তমানে সেই ধরনের শিল্পী আর কোথায় বাবা ! ‘রাগ’ সম্বন্ধে সঠিক ধারনাই নাই তো একাত্ম হবে কার সাথে ? ফলে, বর্তমানে সঙ্গীত শুধু recreation হিসাবেই মানুষের কাছে পরিবেশন করা হয় ‘সাধনা’ হয়ে আর উঠছে কই !

জিজ্ঞাসু:– আপনার কাছে আগে একবার শুনেছিলাম যে, আপনি অনেক উঁচু থেকে পড়ে গিয়েছিলেন । কিন্তু আপনার শরীরের বিশেষ কিছু ক্ষতি হয়নি ! ঘটনাটা ঠিক কী ঘটেছিল ? শম্ভুপুরে আপনার হঠাৎ করে অন্তর্ধান হয়ে যাবার মতই কি ওখানেও কোনো অলৌকিক কান্ড ঘটেছিল ?

গুরু মহারাজ:—না _ না, তেমন কিছু নয় ! সেবার যেটা ঘটেছিল _সেটায় আমার পূর্ণ জ্ঞান কাজ করেছিল । আর শম্ভুপুরের ঘটনাটা কি ঘটেছিল, তা সেই মুহূর্তে আমি জানতামই না ! মারপিটের জায়গা থেকে হঠাৎ করে অদৃশ্য হয়ে যাওয়াটা মা জগদম্বার ইচ্ছায় ঘটেছিল ! পরে আমি জানতে পেরেছিলাম । কিন্তু এক্ষেত্রে আমি যখন উঁচু থেকে প’ড়ে যাচ্ছিলাম তখন আমার পূর্ণ জ্ঞান ছিল !

ঘটনাটা ঘটেছিল কি, মাঝের গ্রামের কাছে একটা জায়গায় হাইটেনশন লাইনে নতুন ‘তার’ টাঙানো এবং বাইন্ডিং-এর কাজ চলছিল । ঐ কাজটা করানোর দায়িত্ব আমার উপরে ন্যস্ত ছিল। আমার টিমের যে ছেলেগুলি উঁচু পোস্টের উপরে উঠে ‘তার’ বাঁধাবাঁধি করছিল, তারা নিজেদের মধ্যে এতো গাল-গল্প, ঠাট্টা-তামাসা করছিল যে কাজে বড্ডো দেরি করছিল । আমি মাঝে মাঝেই নিচ থেকে ওদেরকে তাড়াও দিচ্ছিলাম। যেহেতু আমি তখন অ্যাসিস্ট্যান্ট লাইন্সম্যান ছিলাম, তাই ওরা বদমায়েশি করে দেরি করছিল এবং আমাকে উপরে ওঠানোর জন্য যা তা বলছিল । সময়মতো কাজটা তুলতেই হবে_তাই আমি ওদেরকে সকলকে নেমে পড়তে বলে নিজেই পোস্ট বেয়ে উপরে উঠে গেলাম । হাইটেনশন লাইনের পোল-গুলোকে দেখেছো তো কত উঁচু ! সাধারণত H.T- লাইনে যারা কাজ করে, তাদের কোমরে দড়ি বাঁধা থাকে এবং অন্যান্য সিকিউরিটির ব্যবস্থা থাকে ! কিন্তু আমার ওসব ছিল না ! কারণ আমার তো উপরে ওঠার কথা নয় _আমি তো এমনিই উঠেছি ! তাই কোনো security system আমার জন্য বরাদ্দ‌ও ছিল না ।

এবার আমি উপরে উঠে পটাপট বাইন্ডিং এর কাজগুলো করেছি । একটা পোলে বাইন্ডিং হয়ে গেলে পরেরটায় বাইন্ডিং করতে হয়। তখন ওই তার গুলোর উপর দিয়ে হেঁটে হেঁটে এক পোল থেকে অন্য পোলে যেতে হয় ! এটা খুবই risky কাজ, কারণ উপরের একটা তার ধরে–নিচের একটা তারের উপর পা দিয়ে দিয়ে হাঁটা ! এটা সার্কাসের বারের খেলা দেখানোর মত প্রচন্ড প্র্যাকটিসের প্রয়োজন হয় ! ঐরকম একটি কাজ করতে গিয়ে আমি যখন ঠিক পাকা রাস্তার উপরে,_ সেই সময় “বলো হরি হরিবোল” বলতে বলতে কয়েকজন লোক একটি মৃতদেহ নিয়ে হাঁটতে হাঁটতে ঐ পথ ধরেই যাচ্ছিলো । ওরা হয়তো ধাত্রীগ্রামের গঙ্গায় ওই মৃতদেহটিকে দাহ করতে যাচ্ছিলো। ফুলের মালা দিয়ে সাজানো সেই মৃতদেহটার দিকে হঠাৎ আমার নজর পড়তেই আমার চিন্তা ওই দিকে চলে গেল ! আর আমার স্বভাবই এমন যে, কোনো দিকে চিন্তা একবার চলে গেলে আর চট করে মন সে দিক থেকে অন্যদিকে যেতে চায় না ! আমি ভাবতে লাগলাম “মানুষের এইতো জীবন ! সকলকেই তো একদিন মরতে হবে ! তবে আর কেনই বা চাকরি, কেনইবা পয়সা রোজগার ! মানবজীবনের উদ্দেশ্য যে ঈশ্বরলাভ সেটাতো সফল হলো না ! কখনই বা তা সফল হবে !” এইসব ভাবতে ভাবতে অনেকটা সময় চলে গেছে ! এদিকে যারা নিচ থেকে তারগুলি টান দিচ্ছিল, তারা ‘অনেকক্ষণ কেটে গেছে এবং নিশ্চয়ই রবীনদার বাইন্ডিং হয়ে গেছে’ __এই ভেবে যেই নিচের তারটায়(যেটায় উনি দাঁড়িয়ে ছিলেন) হ্যাঁচকা টান মেরেছে অমনি প্রায় 57 ফুট উঁচু থেকে আমি ছিটকে একবারে পাকা রাস্তার উপরে আছড়ে পড়ে গেলাম !

আমি মার্শাল আর্ট-এর নানা কসরৎ জানি, তাই সময় মতো step নেবার সুযোগ পেলে হয়তো আমার কিছুই হোতো না ! কিন্তু ঐ মৃতদেহটি দেখার পর ‘আমার তাৎক্ষণিক চিন্তা’ এমনভাবে আমাকে বিবশ করে দিয়েছিল যে সেই মূহুর্তে আমার শরীরের প্রতি মন ছিল না ! ফলে শরীরে হুঁশ আসতে একটু দেরি হয়েছিল । যখন হুঁশ এলো, তখন খেয়াল হোল যে আমি নিচে পড়ে যাচ্ছি ! তখন আর বেশি সময় নেই ! তবুও বুকের হাড় যাতে না ভাঙ্গে এবং মাথাটা যাতে আঘাতপ্রাপ্ত না হয় __তার জন্য পড়তে পড়তেই শ্বাস control করে শরীরটাকে একটা বিশেষ position করে নিলাম ! কিন্তু সময় খুবই অল্প ছিল বলে বাঁ হাতের উপর শরীরের সমস্ত জোর টা গিয়ে পড়েছিল। ফলে বাঁ হাতের কুনুই এবং কব্জীর মাঝের হাড়টা ভেঙে একবারে মাংসের ভেতরে ঢুকে গেল !

আমার লোকেরা সবাই হৈ হৈ করে ছুটে এলো ! আমাকে না তুলে _এসেই ওরা একে অপরকে দোষারোপ করতে লাগলো ! “মজা করার জায়গা পাস না? জানিস নারবীন কি ধরনের মানুষ? দ্যাখ্ এখন কেমন বিপদ বাধালি ?” ওরা এইসব বাজে বকবক করছিল কেউ মাথায় মুখে জল‌ও দিচ্ছিল না ! তখন আমাদের কোম্পানির গাড়িও ছিল ওখানে, কিন্তু কেউই হাসপাতাল নিয়ে যাবার কথা ভাবছিল না ! এদিকে পাকা রাস্তার দুদিকেই লরি বাস দাঁড়িয়ে গেছে, কেননা আমি পড়েছিলাম একেবারে মাঝ রাস্তায় ! এটা দেখে তখন আমি নিজেই ধীরে ধীরে উঠে রাস্তার পাশে সরে বসলাম ! ফলে গাড়িগুলো পাস হয়ে গেল, অযথা লোকের ভিড়টাও কমে গেল ! আমি তৎক্ষণাৎ কথা বলতে পারছিলাম না, একটু সামলে নিয়ে বললাম_ “তোরা বকবকানি বন্ধ করে আমাকে হাসপাতালে নিয়ে চল দেখি!” তখন ওরা একটু তৎপর হোল।

আমাদের যেখানে কাজ চলছিল, সেখান থেকে কালনা হাসপাতাল কাছাকাছি ছিল ব’লে ওরা আমাকে কালনায় নিয়ে গেল। সেখানে তখন একজন মহিলা ডাক্তার এমার্জেন্সিতে বসেছিলেন । আমার দলের সকলের সাথে আমাকে হেঁটে হেঁটে ঘরের ভিতরে আসতে দেখে, আমার case-টা যে এতোটা সিরিয়াস তা উনি ভাবতেও পারেননি। তাই উনি বললেন _ ” তোমরা ভিতরে আসছো কেন _ লাইনে দাঁড়াও!” আমার সঙ্গী সাথীরা তখন ওনাকে বুঝিয়ে সুজিয়ে যখন রাজি করালো তখন ইমারজেন্সিতে ঢুকতে অনুমতি দিলেন। তারপর আমার হাতের অবস্থা দেখে এবং আমি এমনি করে দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে কথা বলছি দেখে লেডি ডাক্তারটি একেবারে অবাক হয়ে গেলেন! আমাকে তাড়াতাড়ি বেডে শুইয়ে দিয়ে জিজ্ঞাসা করলেন_ “আপনি সাধারণ মানুষ‌ই তো_ না অন্য কিছু !”

সে যাই হোক, উনি আমার হাতটা সেট করার অনেক চেষ্টা করলেন কিন্তু পারলেন না ! আসলে তখন আমার
হাতটা বাচ্চাদের মতো ছোট লাগছিল । নিচের দিকের হাড়টা ভেঙে উপরের অংশের মাংসের মধ্যে ঢুকে পড়েছিল বলেই এমন ছোট লাগছিল ।

আমার হাতের ঐরকম অবস্থা দেখে উনি কিভাবে সেট করবেন তা বুজতেই পারছিলেন না । ফলে, ভদ্রমহিলা ওই অবস্থাতেই টেনেটুনে হাতটাকে প্লাস্টার করে দিলেন। ভালো করে সেট না করেই তো প্লাস্টার করে দিয়েছিল_ এতে বেশ কয়েকদিন আমাকে অকারণ কিছুটা কষ্ট সহ্য করতে হোলো । আমি বুঝতে পারছিলাম যে, আমার হাড়ের জোড়া লাগে নি । এরপর আমি জোর করে ঐ প্লাস্টার খুলে দিয়েছিলাম ! তারপরে X-ray করা হোলো _দেখা গেল হাড় জোড়া লাগেনি ! একটা হাড় আরেকটার উপর চেপেই আছে ! এইটা দেখে আমার সঙ্গী-সাথীরা আর কালনা হাসপাতালের উপর ভরসা রাখতে পারলো না। আমাকে ভালোভাবে দেখানোর জন্য আমাদের কোম্পানির এ্যাসিস্ট্যান্ট ইঞ্জিনিয়ার এবং অন্যান্য সাথীরা তখন আমাকে বর্ধমানের তখনকার বিখ্যাত ডাক্তার শৈলেন মুখার্জির কাছে নিয়ে গেল ।

এসব করতে করতে ততদিনে প্রায় এক মাস কেটে গেছিল ! শৈলেন মুখার্জীর চেম্বারে পৌঁছানোর পর ডাক্তারবাবু আমাকে ভালোমতন পরীক্ষা করে বললেন _"অপারেশন ছাড়া এই ভাঙা হায় সেট করা যাবে না !" আমি বললাম _"দেখুন ডাক্তারবাবু ! X-ray প্লেটের ছবি দেখে তো বোঝা-ই যাচ্ছে যে, একটার উপর আরেকটা হাড় চেপে আছে ! ভালো করে টেনেটুনে যদি সেট করা যায়, তাহলে খুবই ভালো হয় ! আমাকে অপারেশন করবেন না ! গরিব মানুষ, একমাস হোলো বসে আছি__অপারেশন হোলে আরো একমাস বসে থাকতে হবে !" আমার কথা শুনে ডাক্তার মুখার্জি একটু ধমকের সুরে বললেন_ "আমি ডাক্তার_ না তুমি ডাক্তার ?  যা বলছি শোনো!"

এরপরে আর কি করার থাকে ! বাইরে বেরিয়ে এসে একটা বেঞ্চে বসে কি করা যায় তা ভাবতে লাগলাম, আর ভিতরে অ্যাসিস্ট্যান্ট ইন্জিনিয়ার ও আমার বন্ধুরা ডাক্তারের সঙ্গে পরামর্শ করছিল কবে অপারেশন হবে ইত্যাদি ! আমার পায়ে ছিল কোম্পানির ভারী মজবুত জুতো ! আমি ধীরে ধীরে নিচে ঝুঁকে ভাঙা হাতের পাঞ্জাটা, পায়ের জুতোর তলায় চেপে ধরে_ উপর দিকে জোর করে মারলাম এক টান !! ফট্ করে একটা শব্দ হোল _আর পায়ের তলা থেকে মাথা পর্যন্ত যন্ত্রণায় যেন ঝিমঝিম করে উঠলো ! খানিকক্ষণ নিজেকে সামলে নিয়ে দেখি আমার হাত সেট হয়ে গেছে । তাড়াতাড়ি উঠে ডাক্তারের চেম্বারে গিয়ে ঘুরিয়ে ফিরিয়ে আমার হাতটা ডাক্তারকে দেখিয়ে বললাম এই দেখুন আমার হাতটা ঠিক হয়ে গেছে!” হাতটা টেনে নিয়ে, ভালো করে দেখে ডাক্তারবাবু বললেন_ “এমন পেশেন্ট মশাই আমি জীবনে কখনো দেখিনি!!” এরপর আমরা সবাই মিলে ওখান থেকে আনন্দ করতে করতে ফিরে এসে, পুনরায় কাজে যোগ দিয়েছিলাম।।

জিজ্ঞাসু:–(পূর্ণানন্দ মহারাজ) পরম গুরুদেব রামানন্দজী যখন শরীর ছেড়েছিলেন, তখন তুমি রায়নায় জগাদার উপরে ছিলে ! অথচ তুমি বলো যে, তুমি তখন উত্তরকাশীতে অবধূতজীর মৃত্যুশয্যায় তাঁর পাশে ছিলে ! তার মানে এটা বোঝা যাচ্ছে যে, কেউ যদি সম্পূর্ণ আন্তরিকভাবে কোথাও যাবার ইচ্ছা প্রকাশ করে_ তাহলে সুক্ষ্ণভাবে সেখানে যাওয়া যায় বা এই ধরনের কিছু করা সম্ভব হয় ?

গুরু মহারাজ:–হ্যাঁ পূর্ণানন্দ, তুমি ঠিকই বলেছো ! তবে গুরুদেব রামানন্দজীর ওখানে আমার যাওয়াটা সম্পূর্ণ আমার জ্ঞাতসারে ঘটেছিল ! সেদিন জগাদার উপরে রাত্রে শোয়ার পরে কেমন যেন গুরুদেবের জন্য প্রচন্ড এটা আকর্ষণ অনুভব করতে থাকি ! তারপরেই দেখি আমি উত্তরকাশীতে গুরুদেবের ঘরে রয়েছি! আমাকে দেখেই উনি বললেন “শরীর ছাড়ার সময় হয়েছে ! তুমি আমাকে একটু আদর করো !” সেই সময় হঠাৎ প্রচন্ড আমার মধ্যে পিতৃভাব জাগ্রত হয়ে গেল। গুরুদেবের শরীরটাকে কোলের উপরে তুলে নিয়ে খুব গায়ে মাথায় হাত বুলিয়ে আদর করতে লাগলাম ! আর ওনার শরীরের শেষকৃত্য নিয়ে কিছু আলোচনা সেরে নিলাম। এইসব করতে করতেই অবাক ব্যাপার ঘটলো এই _গুরুদেবের শরীরটা আমার কোলেতেই ছোট হোতে লাগলো। তারপর ছোট হোতে হোতে যেন একবারে শিশুর মতো হয়ে গেলেন । এরপরে আরো ছোট হয়ে জ্যোতিঃপুঞ্জের ন্যায় হয়ে গেলেন ! আর যেমন সমুদ্রের ঢেউ একটার পর একটা এগিয়ে আসে, ঠিক তেমনি জ্যোতিঃপুঞ্জের অনেক ঢেউ সৃষ্টি হয়ে আমার শরীরে মিশে যেতে লাগলো ! তারপর সমস্ত জ্যোতিঃপুঞ্জ যখন আমার শরীরে absorb হয়ে গেল, তখন দেখি গুরুদেবের শরীর আগের মতোই পড়ে আছে ! তিনি শরীর ছেড়ে দিয়েছেন ! মনটা খারাপ হয়ে গেল ! ওই অবস্থায় গুরুদেবের ঘর ছেড়ে বাইরে বেরিয়ে এসেছি হঠাৎ দু একজন সাধুর সাথে দেখা হয়ে গেল, তারা ওই পথ দিয়ে প্রাতঃকৃত্য সারতে যাচ্ছিলেন ! তখন ভোর হয়ে গেছিল। ওদের মধ্যে একজন বাঙালিও ছিল তার নাম দেবানন্দ ! সে এখন রিষড়ায় ‘গীতা প্রচারক সঙ্ঘে’ রয়েছে । ও আমার খুবই পরিচিত ছিল ! আমাকে দেখেই দেবানন্দ কুশল বিনিময়ের পর ‘আমি কখন এসেছি’ জিজ্ঞাসা করলো। আর তখন‌ই আমার সম্বিত ফিরে এসেছিলোআমার মনে পড়ে গেল যে আমি স্থুলে ওখানে present ছিলাম না ! ফলে, কোনরকমে ওদেরকে কাটিয়ে আমি ঘরে ঢুকে গিয়ে মনঃসংযোগ করে আবার রায়নায় ফিরে এসেছিলাম।।

জিজ্ঞাসু:– হিমালয়ের বিভিন্ন স্থানে গিয়ে দেখেছি, প্রায় সব জায়গাতেই অনেক নামকরা সব বাঙালি সাধু-সন্তরা রয়েছে । আধ্যাত্মিকতার দিক থেকে বাঙালি সাধুরা যে একটা বিশেষ স্থান গ্রহণ করেছে বা বিশেষ ভূমিকা পালন করছে _ এটা বেশ ভালোই বোঝা যায় । তাই না গুরুজী ?

গুরু মহারাজ:—দ্যাখো, সেই অর্থে বলতে গেলে শুধু আধ্যাত্মিকতায় কেন_ ভারতবর্ষের যতকিছু ভালো, তার সব ব্যাপারেই বাংলার একটি বিশেষ ভূমিকা রয়েছে ! একথা ঠিক যে, বহুকাল থেকে বাংলার মনীষাই দেশের তথা বিশ্বের মানুষের ভালোর কথা সবার আগে ভেবে এসেছে ! গৌরাঙ্গ মহাপ্রভু কত বছর আগে ব্রাহ্মণ্যবাদের বিরোধিতা করেছিলেন ! রামমোহন, বিদ্যাসাগর, স্বামী বিবেকানন্দ প্রমূখ বাংলার মহামানবেরা সামাজিক এবং ধর্মীয় সেন্টিমেন্টকে দেশে-বিদেশে তীব্রভাবে আঘাত করে বিশ্বের দরবারে সমাজ ও ধর্মের প্রকৃত তথ্য তুলে ধরেছেন । বিশেষতঃ কোনো কুসংস্কারের প্রতিবাদী হিসেবে বাংলাকে ‘এক নম্বরে’ বলতে পারো ! কপিল, পাতঞ্জল এরা সকলেই বাঙালি ছিলেন ! সতীদাহ প্রথার বিরুদ্ধে বাঙালিরাই আন্দোলন কোরলো । ভারতের স্বাধীনতা আন্দোলনের সূচনা হয়েছিল বাংলায়, ভারতের কমিউনিজমের আদি পিতা মানবেন্দ্র রায় বাঙালি ! যদিও বর্তমানের সিপিএম নেতারা মানবেন্দ্র রায়কে খুব একটা পাত্তা দেয় না, তবু ‘কমিউনিজমের কঙ্কাল’ নিয়ে ভবিষ্যতের মানুষ যখন গবেষণা করবে, তখন লেনিন, স্তালিন, কার্ল মার্কস, ফিদেল কাস্ত্রো, সান ইয়াৎ সেন প্রমূখদের সাথে একমাত্র বাঙালি হিসেবে মানবেন্দ্র রায়ের নাম থাকবে ! তবে, ভারতবর্ষের উল্লেখযোগ্য বাঙালি কমিউনিষ্ট হিসাবে আরেকজনের নাম বিবেচিত হতে পারে _ তার নাম ‘হরে কৃষ্ণ কুমার’ ! ভূমি সংস্কারের জন্য এঁর নাম উল্লেখযোগ্য হয়ে থাকতে পারে ভারতবর্ষের কমিউনিস্ট ইতিহাসে !


[ চরৈবেতি কার্যালয়ে কিছু বই বই পোকায় কেটেছে, এই খবর পাওয়ার পর গুরু মহারাজ সিটিংয়ে উপস্থিত ব্যক্তিদেরকে জিজ্ঞাসা করলেন উই-এর ইংরেজি প্রতিশব্দ কি ? উপস্থিত ব্যক্তিদের বেশিরভাগই মাথা চুলকাচ্ছে দেখে ইতালির আলেক্স বলল “হোয়াইট অ্যান্ট” এবং “টার্মিট” ! গুরুজী এটা শুনে বললেন “সংস্কৃতে উই-কে বলে “বল্মীক”! বল্মীক থেকে বাল্মিকী কথাটা এসেছে ! তাহলে বুঝতে পারছো তো _ প্রাচীন ল্যাটিনের সঙ্গে সংস্কৃতের কেমন অনেকটাই মিল রয়েছে ! মেগাস্থিনিস “ইন্ডিকা” গ্রন্থে উই-কে একটি ‘অদ্ভুত প্রাণী’_ বলে বর্ণনা করেছিলেন ! তাঁর বই-য়ে উই সম্বন্ধে তিনি লিখেছেন _”ক্ষুদ্র হলেও এটি এমন একটি জীব, যাদের বিরুদ্ধে শক্তিশালী সম্রাটও কিছু করতে পারেনা!”