জিজ্ঞাসু:—রামকৃষ্ণ এগুলোতো বিষ্ণুর একেকটা অবতার এরূপ তাহলে বিভিন্ন গ্রন্থে এই সমস্ত অবতারদের সম্বন্ধে নানান অপব্যাখ্যা রয়েছে গান গুরু মহারাজ তার কারণ বেশিরভাগ মানুষই তোমার দলে রয়েছে তাই রাম কৃষ্ণ বা ভিষ্ণু সম্বন্ধে তোমার নিজেরই তো ধারনা তৈরি হয়নি তাহলে অপরের কাছে আশা করছে বিষ্ণু সম্বন্ধে তোমার কি ধারনা আর কৃষ্ণ সম্বন্ধে বাড়ান সম্বন্ধে তোমার কি ধারনা তোমার নিজের ধারণা এখনো পাকা হয়নি তাহলে অপরের ধারণাকে ধার করে বোঝার চেষ্টা করছ তাই এইসব বিপত্তি হচ্ছে ওই জন্য কোন অবধি ব্যক্তির কাছে থেকে পাঠ গ্রহণ করতে হয় এবং সেই শিক্ষায় শিক্ষিত হয়ে পথ চলতে হয় তাতে ভুলভ্রান্তি হবার সম্ভাবনা অনেক কমে যায় জীবনীভগবান কৃষ্ণের নামকরণ হয়েছিল কৃষ্ণ আয়ন গোত্র থেকে এবং পরিবারের লোক গুলো এই নামকরণ করেছিলেন রামচন্দ্রের ক্ষেত্রেও ইক্ষাকু বংশের তৎকালীন কুলু গুরু বশিষ্ঠ নামকরণ করেছিলেন আর তুমি যেটা বলছিলে বিভিন্ন গ্রন্থের মহাপুরুষদের সম্বন্ধে অবমূল্যায়ন করার ব্যাপার আমি এরকম একটি গ্রন্থের নাম জানি দশরথ জাতক সেখানে রয়েছে রাম ও সীতার সামাজিক ব্যাখ্যা রয়েছে বলা হয়েছে সীতা রামের বোন ছিল যেহেতু জনতা জনক অর্থাৎ বাবার মেয়ে হিসাবে বলা হয়েছে এবং এটাও বলা হয়েছে যে এই বিবাহ হবার জন্যই রাজা মেনে নেয়নি আর্য সংস্কৃতি অনুযায়ী এই বিবাহ নিষিদ্ধ তাই দশরথ পুত্রকে নির্বাসন দিয়েছিল এটাই বনবাস লিখিত হয়েছে তাছাড়া ওখানে আরো রয়েছে যে রাবণ যখন সীতা হরণ করেছিল তখন আর্যাবর্তের কোন রাজা রাম সীতা উদ্ধারের জন্য সাহায্য করেনি এটাও কারণ ছিল ওই একই যার ফলে রামকে দক্ষিণ ভারতের কাছ থেকে সাহায্য গ্রহণ করতে হয়েছিল ওই গ্রন্থে রয়েছে যে14 বছর পরে যখন রাম সীতা অযোধ্যায় করেছিল তখনও যারা যারা রামকে গ্রহণ করেনি আর রামকে গ্রহণ করলেও সীতাকে গ্রহণ করেনি সেই জন্য পুনরায়গর্ভকালীন অবস্থায় তাকে পুনরায় বনবাসে যেতে হয়েছিল এই ধরনের ব্যাখ্যা রয়েছে ওইসব গ্রন্থি এগুলো যথেষ্ট যুক্তি সম্মত ব্যাখ্যা চট করে তুমি এর কাটতে পারবে না এই সব গ্রন্থের উপর রিসার্চ করি বাংলা সাহিত্যের দিকপাল টয়লেট পেয়েছে পুরস্কারাদি পেজ জৈন গ্রন্থ দীঘার দীঘার
কৃষ্ণের কথা রয়েছেসেখানে রয়েছে বাসুদেব প্রশ্নের কথা তার মা হিসেবে আছে দেব নন্দগোপাল দেবতার নাম যশোদা গান বড়দের সঙ্গে অবতার বলা হয়েছে কৃষ্ণ ভগবান আবার বিভিন্ন পুরানি কৃষ্ণকেঅবতার বলা হয়েছে বিষ্ণুর অংশত এমনকি ভাগবতে বলা হয়েছে কৃষ্ণস্তু ভগবান স্বয়ং তবুও অন্যান্য পুরাণে কৃষ্ণকে বিষ্ণুর অংশকে বলা হয়েছে এইভাবে নানা কন্ট্রাডিকশন তৈরি হয়েছেআবার বিভিন্নরামায়ণ মহাভারতেবুদ্ধের উল্লেখ রয়েছে এবং এইসব দেখে অনেক পণ্ডিতেরা প্রমাণ করতে চায় যে রামায়ণ মহাভারত বুদ্ধের জন্মের অনেক পরে লেখা হয়েছে প্রকৃতপক্ষে বর্তমানের পণ্ডিতেরা “ভাংরেজ” __না ভারতীয় নয় ইংরেজ!! তারাই এই সব প্রমাণ দিচ্ছি দিয়ে প্রমাণ করতে চাইছি যে ভারতীয় শাস্ত্র গুলি অনেক নবীন এবং এই শব্দগুলোর মধ্যে নানান গোলমাল রয়েছে । এসব করা হচ্ছে কারণ এগুলোর পেছনে রয়েছে অনেক বিদেশী শক্তি।যারা টাকা-পয়সা এবং সুযোগ-সুবিধা দিয়ে বিভিন্ন এদেশীয় পণ্ডিতদের অর্থাৎ “ভাংরেজ”-দের কাজে লাগায়।
দেখো এই সব আলোচনা এখন আমি কেন করছি জানো কারণ প্রকৃতিতে এইসব নিয়ে বিভিন্ন যুক্তির ঝড় উঠছে আমার মনে তার প্রভাব পড়ছে আমার চিন্তায় এগুলি আসছে তাই তোমাদের সাথে আলোচনা করলাম প্রকৃতপক্ষে দেখো এই যে সমালোচনা গুলি হয় বা বিভিন্ন যুক্তির অবতারণা বর্তমানের পণ্ডিতেরা কিন্তু তাদের কাছে কি কোন অথেনটিক গ্রন্থ আছে বা কোন ঐতিহাসিক নিখুঁত প্রমাণ আছে এরা বলছে বৌদ্ধ যুগের পরে রামায়ণ-মহাভারত দেখা হয়েছিল আবার কেউ কেউ বলছে না রামায়ণ মহাভারত প্রাচীন বৌদ্ধ আমলে এর মধ্যে বুদ্ধির কথা প্রক্ষিপ্ত শ্লোক হিসেবে ঢুকিয়ে দেওয়া হয়েছে কিন্তু দেখো সেই অর্থে ভৌত কোন আলাদা ধর্ম নয় বৌদ্ধ ধর্ম বলে যে তাকে বলা হচ্ছে তা বিরোধী ও নয় বৌদ্ধরাও তো আর্য সভ্যতা বা সনাতন ধর্মেরই অন্তর্গত। বৌদ্ধ ধর্ম গ্রন্থে আর্য আর্য পুত্র আর যা এই কথাগুলি ব্যবহার প্রচুর পাওয়া যায় সুতরাং বৌদ্ধ ধর্ম বা তাদেরকে বেদবিরোধী বলে আর্য সংস্কৃতি থেকে বিচ্ছিন্ন করার এটাও একটা ষড়যন্ত্র জেনে রাখবে এছাড়া ভারতীয় জনজীবন থেকে আদিবাসীদের বিচ্ছিন্ন করার একটা আন্তর্জাতিক চক্রান্ত বর্তমানে মানুষ ধরে ফেলেছি এইভাবে ভারতবর্ষকে বিভিন্নভাবে অবমূল্যায়িত করে পরিবেশন করার একটা বিরাট চক্র সবসময় কাজ করে যায় এবং তারা এত গভীরে প্রবেশ করে গেছে ভারতীয়রা ভারতীয়দের প্রাচীন ঐতিহ্য সংস্কৃতি একপ্রকার ভুলতে বসেছে বা বলতে পারো ভারতের সুপ্রাচীন সভ্যতা ও সংস্কৃতির প্রকৃত সত্য থেকে অনেক দূরে সরে এসেছে।
সে দিক থেকে দেখতে গেলে বর্তমানের বৈষ্ণবরাও বেদের অনেক কিছুই মানে না যোগ্য মানেনা মন মানেনা মানেনা জয়পতাকা স্বামী মহারাজ এরা এখনও এগুলি বিরোধ করে যাচ্ছে হাজার 991 সাল তাহলে এদের কে বেদবিরোধী বাহিনী ধর্মবিরোধী বলছো না কেন শুধু বুদ্ধ বৌদ্ধদেরকে বেদবিরোধী বলাটা তাহলে অন্যায় হচ্ছে নাকি কারণ তৎকালে বৌদ্ধরাও যোগ্য এবং পশুবলি বন্ধ করেছিল ওরা কিন্তু সন্ন্যাস বৈরাগ্য যোগ্য এগুলো মেনে নিয়েছিল সবকিছু মেনে নিয়েছিল সুতরাং এটা জেনে রাখবে যেবহুজনহিতায় বহুজনসুখায় যা কিছু তা সবই বৈদিক চিন্তা আর চিন্তা হিন্দু ধর্ম বলে কোন ধর্ম কোন দিনই ছিল না যখন বিদেশীরা বিশেষত শ্রমিকরা সিন্ধু নদীর উপত্যকা পার হয়ে হিন্দুকুশ পর্বতমালা অতিক্রম করে এদেশে আক্রমণ করতে পালন করতে এসেছিল তখন তারাই এই দেশের বসবাসকারী যাত্রীদেরকে হিন্দু বলে আখ্যা দিলো এটা খুব বেশিদিন কার কথা নয় এইতো মাত্র কয়েক হাজার বছর আগের কথা এইভাবে এই মধ্যপ্রাচ্যের লোকেরা হাঙ্গেরি ওদের নিয়েছে আমাদের আসামে একটা উপজাতি রয়েছে এরা সকলেই মঙ্গোলিয়ান গোষ্ঠীর লোক ভারতে ইংরেজদের কে দেশ বলা হয়শঙ্করাচার্য কেউ প্রচ্ছন্ন বুদ্ধ বলা হয়েছিলচৈতন্যদেব কাশিতে গিয়ে এই কথার বিরোধ করেছিলেন করে তাকে বুঝিয়ে দিয়েছিলেন যে শঙ্করাচার্য কে প্রচ্ছন্ন বুদ্ধ বলা উচিত নয় কারণ বৌদ্ধ ধর্ম কোন ধর্ম ভারতবর্ষে আসেনি কিছু লোক বৌদ্ধ মন্দির হয়েছিল শঙ্করাচার্য যখন দেখলেন যে বৌদ্ধমতাবলম্বীদের মধ্যে বিকার ঢুকে গেছে তখন তিনি তাদেরকে আবার চ্যানেল আইস করেছিলেন।
জিজ্ঞাসু:– প্রকৃতিতে নারী এবং পুরুষ নিয়েই জীবজগৎ গড়ে উঠেছে ! কিন্তু নারী-পুরুষ সংক্রান্ত আলোচনায় আপনি নারীদেরকেই প্রাধান্য বেশি দেন __ এর কি কোনো বিশেষ কারণ রয়েছে?
গুরু মহারাজ:—-উঠেছে সেটাও ঠিক নয় নিম্নতর প্রজাতির জীবে স্ত্রী পুরুষের দেহে থাকে না উন্নততর প্রাণীতে এই ভেদ পরিলক্ষিত হয় কিন্তু প্রকৃত জ্ঞান হয়ে গেলে তখন দেখা যায় যে কোথাও কোনো ভেদ নেই যা দেখা যাচ্ছে তা শুধু বৈচিত্র্য ছাড়া আর কিছুই সম্ভব আর সবকিছুই ব্রভে প্রকাশ যাইহোক তুই নারী-পুরুষ বলতে মানুষের ক্ষেত্রে মনুষ্য সমাজের দেখা যায় নারীকে নিয়ে পুরুষের লড়াই আমি যদি দেখি বেচারা পুরুষ সে প্রাকৃতিকভাবেই বলিস আর সামাজিকভাবেই বলিস অথবা পারিবারিকভাবে সে শুধু এক্সপেক্টেড হচ্ছে পুরুষের ভরে এবং সন্ধ্যায় শুক্রাণু তৈরি হয় এই শুক্রাণু তৈরি হতে গেলে মস্তিষ্ক পোটেনশিয়াল এনার্জি র ক্ষয় হয়। এই দুই সময়কে কাজে লাগাতে পারলে মানুষের বিশেষত প্রাক যৌবনকালে বা যৌবনকালে যুবকদের পোটেনশিয়াল এনার্জি সঞ্চয় হয় এইজন্যই ভারতীয়রা এই দুঃসময়ে ধ্যান জপ বা পূজা পাঠ করার ওপর জোর দিয়েছেন এগুলো অনেক এইভাবে যাদের কাজ নেই তাই বোধহয় সকাল-সন্ধ্যায় ধ্যানযোগ পূজা পাঠ করে কিন্তু এর প্রকৃত বিজ্ঞান জানলে প্রতিটা বাবা-মায়ের তার
ছেলেমেয়েদের সকাল-সন্ধ্যায় প্রজাপাট করাতে যাইহোক পুরুষের এইযে সকাল-সন্ধ্যায় শুক্রাণু উৎপাদনে ব্যবস্থা প্রকৃতিগতভাবে হয়ে আছে তাই এই শক্তি হয় হবার প্রবণতা ততবেশি অপরপক্ষে নারীর চন্দ্র মাস অনুযায়ী মাসে একবার অর্থাৎ 28 দিনে একটা বা দুটো ডিম্বাণু তৈরি হয় সেজন্য বলা হয়েছে নারী ব্রহ্মচারী প্রকৃতিগতভাবেই যেখানে প্রতিদিন দুবার করে পুরুষের লক্ষ লক্ষ শুক্রাণুর উৎপাদনের ব্যবস্থা রয়েছে নারী মাত্র 28 দিনে একটি বা দু’টি উৎপন্ন হয় তাহলে আমার কথাটা বুঝতে পারলে কি পুরুষ প্রকৃতিগতভাবে কিভাবে এক্সপার্ট হয়ে চলেছে পুরুষের বীর্য রক্ষার জন্য তাই এত নিয়ম সংযম ইত্যাদি বিধান দিয়েছিলেন তবে পুরুষের এইযে সকাল-সন্ধ্যায় শুক্রাণু উৎপাদনে ব্যবস্থা এর সুফল এবং কুফল রয়েছে এই শক্তিকে যদি করা যায় তাহলে সুবিধা আর যদি একে চালাইস না করা যায় কারণ এর ক্ষয় হবে তাহলেই বজ্রাহত বৃক্ষ এই জন্য কোন পুরুষ এবং নারীর মধ্যেতুলনা করলে যদি তারা একসাথে ধ্যান জপ করা অভ্যাস শুরু করে তাহলে দেখা যাবে নারীদের উন্নতি অনেক তাড়াতাড়ি হবে কিন্তু নারীদের নারীরা সাধারণত ঈর্ষাপরায়ন হয় এবং তারা ছলা কলা দিয়ে পুরুষ মানুষকে ভোলাতে চায় এইভাবে সমাজে নারীদেরও অধঃপতন হয়, পুরুষদেরও পতন ঘটে।
নারী ছোলা কলায় পুরুষ নিজের নিজস্বতা ভুলে যায় এবং প্রকৃতির বশে চলে যায় মহাভারতে রয়েছে দ্রৌপদী তার অপমানের শোধ নেওয়ার জন্য প্রতিজ্ঞা করেছিল যে চুলে হাত দিয়েছে সেই চুল আর বাঁচবে না এইভাবে চুল খুলে রেখে এবং অর্জুন কে বারবার উসকে দিয়েছে এরা হয়তো ভুলে যেতে চেয়েছে কিন্তু খোলা চুল দেখে প্রতিশোধ স্পৃহা জাগ্রত হয়েছে স্ত্রীর অপমানের কথা মনে পড়ে গেছে। আবার দেখো সীতা আর সুস্থ রাখার জন্যেই তো রামায়ণের লঙ্কাকাণ্ড ! এরা না থাকলে কি রাম রাবণের যুদ্ধ হতো না লংকা কান্ড হোতো? এই ভাবেই দেখা যায় দুটি দুটি মহাকাব্যই গড়ে উঠেছে _ কোনো না কোনো নারীকে কেন্দ্র করে। ভারতবর্ষের ইতিহাসে অন্যতম উল্লেখযোগ্য যে ঘটনা ভারত বিভাগ সেখানেও কারণ হিসেবে ছিল প্রচ্ছন্নভাবে এক নারী এখন ইতিহাস অনেক স্বচ্ছ হয়েছে তাই মানুষ এসব কথা জানতে পারছে। এক্ষেত্রেও তৎকালীন ভারতের রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দের নারীর প্রতি দুর্বলতা এরকম একটা কাজ করতে সাহায্য করেছে করেছিল।