জিজ্ঞাসু:—আচ্ছা গুরু মহারাজ! অন্যায়ের প্রতিবাদ করাটাও তো মহান কাজের মধ্যেই পড়ে ? তাই সকলেরই তো অন্যায়ের প্রতিবাদ করা উচিৎ!!
গুরু মহারাজ:—তোমার সামর্থ্য থাকলে তুমি অন্যায়ের প্রতিবাদ করবে বৈকি ? কিন্তু প্রতিবাদ করেই বা কি হবে যদি তার প্রতিকার না হয় ! গোটা পৃথিবী জুড়ে প্রতিনিয়ত কত প্রতিবাদ হয়ে চলেছে, কিন্তু প্রতিকার আর কটা ক্ষেত্রে
হয় ?
প্রতিবাদের ফল কেন ফলে না জানোতো_ তার অন্যতম কারণ হিসেবে বলা যায় _যে অন্যায়ের জন্য প্রতিবাদকারী প্রতিবাদ করছে, সে নিজেও সেই একই দোষে দুষ্ট ! অধিকাংশ ক্ষেত্রে মানুষ নিজেই অন্যায়কারী অথচ সে অপরের অন্যায়ের প্রতিবাদ করতে চায়_ সেইজন্যই প্রতিবাদ যথাযথ হয়না ! আর প্রতিবাদ যথাযথ হয় না বলেই প্রতিবাদকারীও successful হয় না ! জানো_ এইজন্য যারা প্রকৃত সাধু বা সন্ন্যাসী অর্থাৎ যারা সর্বতোভাবে ত্যাগী, তাঁরাই পারেন যে কোনো অন্যায়ের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াতে এবং সঠিকভাবে প্রতিবাদ করতে ! আর তাঁরা যে ব্যাপারে প্রতিবাদ করেন তার প্রতিকার করে তবেই তার থেকে বেড়িয়ে আসেন । তাঁরা এটা করতে পারেন, কারণ তাঁদের হারাবার কিছুই নাই ! তাই তাঁদের কোন ভয় থাকেনা ! প্রয়োজনে তাঁরা অন্যায়ের প্রতিকারের জন্য নিজের জীবনকে উৎসর্গ করে দিতে পারেন !
সুতরাং বেশিরভাগ মানুষেরই যে স্বভাবে রয়েছে_ কোথাও কোনো ঝুট-ঝামেলা বা অন্যায় দেখলেই মাথা ঘামানোর একটা tendency রয়েছে এটাতে কিন্তু বিশেষ কোনো কাজ হয়না ! আর কেন হয় না তার কারণ তোমাদের যেটা বললাম যে, নিজে অন্যায়কারী হয়ে কখনো সমাজের অন্য কারোর অন্যায়ের প্রতিকার করা যায় না ! এমনটা করতে গেলে বরং যে সমস্ত ব্যক্তিরা এগিয়ে যাবে তারাই ল্যাং খাবে অর্থাৎ কোনো না কোনো ভাবে অপমানিত হয়ে ফিরে আসবে ! এই জগৎটা মা মহামায়ার জগৎ ! তাঁর ইচ্ছাতেই সবকিছু চলছে ! তাহলে সেখানে তোমার বিদ্যাবুদ্ধির কতটুকু দাম আছে বলো দেখি ! তুমি তো নিজেকে বিরাট কিছু মনে করে বসে আছো_ কিন্তু প্রকৃতপক্ষে তুমি কি তাই ? তুমি নিজে তো জানো তুমি কি ! প্রতিদিন উলঙ্গ হয়ে দিনের শেষে অন্তত একবার একটা বড় আয়নার সামনে দাঁড়াবে _ তাহলেই নিজেকে দেখতে পাবে! তুমি প্রকৃতপক্ষে কি তা অন্য আর কাউকে বলে দিতে হবে না !
প্রকৃতপক্ষে এটাই হয় জানো _ মানুষ অনেক অন্যায়ের প্রতিবাদ করতে যায়, কিন্তু সে নিজে সুযোগ পেলে ওই সব অন্যায় নিজেই করতে পারে ! মানুষ অপরের দোষ ধরতে ওস্তাদ, শুধু সে নিজের দোষটাই দেখতে পায় না ! এইজন্যই আয়নার সামনে দাঁড়াতে বলা হোলো ! অর্থাৎ নিজেকে নিজের সামনে দাঁড়াতে বলা হোলো, যাতে তুমি নিজেই তোমার সবকিছু পর্যালোচনা করতে পারো !
তোমরা যারা এখানে রয়েছো– তারা অন্তত নিজের দোষ-ত্রুটিগুলো খুঁজে বের করতে শেখো এবং সেগুলিকে খুঁজে খুঁজে বের করে সেগুলি থেকে নিজেকে মুক্ত করার চেষ্টা করো ! তোমরা প্রথমে নিজে দোষমুক্ত হয়ে ওঠো ! সবসময় চেষ্টা করবে নিজে কোনো অন্যায় না করার এবং তারপর যাবে সমাজে সদাসর্বদা ঘটে যাওয়া অন্যায়ের প্রতিবাদ করতে ! দেখবে__তখনই সঠিকভাবে অন্যায়ের প্রতিবাদ করা যাবে এবং তার প্রতিকার করাও সম্ভব হবে।
তবে সমাজের সমস্ত অন্যায়-অত্যাচারের প্রতিকার করা কখনোই সম্ভব হয় না ! মহাপুরুষগণ পৃথিবীতে শরীর ধারণ করে অনেক মানুষের চেতনার উত্তরণ ঘটিয়ে তাদেরকে অন্যায় কার্য করা থেকে বিরত করেন । সৎশিক্ষা, সৎউপদেশ দান করে যান_ যাতে সেই গুলি follow করে পরবর্তী কালের মানুষেরাও এই জীবনমুখী শিক্ষা গ্রহণ করতে পারে এবং তাদের চেতনাকে উন্নত করতে পারে ! কিন্তু তবু সমাজ থেকে কখনোই সমস্ত অন্যায় দূরীভূত হয় না ! তা যদি হোতো, তাহলে আজ থেকে আড়াই হাজার বছর আগে ভগবান বুদ্ধের জন্মের পরপরই পৃথিবী অন্যায় মুক্ত হোতো ! কিন্তু তা তো হয়নি ! তার পরেও পৃথিবীতে শত শত যুদ্ধ হয়েছে, সমাজ বারবার রক্তস্নাত হয়েছে ! তাছাড়া খুন-জখম-ধর্ষণ সবরকম অপরাধই তো আজও সংঘটিত হয়ে চলেছে !
ভগবান বুদ্ধের পরেও কত মহাপুরুষ এই পৃথিবীতে শরীর নিয়েছেন ! তাঁরাও মানুষকে কত ভালো ভালো শিক্ষা দিয়েছেন_ কিন্তু তাতে কি অন্যায়ের বীজ সমাজ থেকে, পৃথিবী থেকে মুছে গেছে ? তাতো যায়নি ! তাই সবকিছুই থাকবে, কিন্তু এসবের মধ্যে থেকে নিজেকে অন্যায় থেকে সরিয়ে রাখতে হবে এবং আত্মোন্নতির জন্য সচেষ্ট থাকতে হবে _এটাই সঠিক শিক্ষা।
দ্যাখো, জগত ‘য্যাইসা কি ত্যাইসা’ ! তুমি যদি জগতের মানুষের দোষ-অন্যায় ইত্যাদি দেখতে যাও_ তাহলে ওইসব করতেই একটা কেন _বহু জন্ম কেটে যাবে, তাও তোমার অপরের দোষ দেখা শেষ হবে না ! সুতরাং ওই ধরনের কর্ম করা বন্ধ করো ! তুমি নিজেকে উন্নত করো, নিজে অন্যায় কর্ম করা বন্ধ করো ! এইভাবে সমাজের এক একটা unit যদি perfect হয়ে যায়, তাহলে সেই সমাজে অন্যায়কারীর সংখ্যা একেবারেই কমে যাবে ! তাই নয় কি ?
“আধ্যাত্মিক সমাজতান্ত্রিক রাষ্ট্রব্যবস্থা”_ বলতে এটাকেই বোঝানো হয়, যেখানে সব ধরনের _ সব বয়সের নারী-পুরুষ থাকবে কিন্তু কেউই কারও প্রতি কখনোই কোনো অন্যায় করবে না ! বহু প্রাচীন কালের ঋষিদের আশ্রম বা মুনি-তপোবনগুলিতে এই ধরনের system চালু ছিল ।
জিজ্ঞাসু:—তাহলে ওইরকম হওয়াটাই কি মানবজীবনের উদ্দেশ্য বা লক্ষ্য?
গুরু মহারাজ:—এই কথা আবার আমি কখন বললাম ? তোদের মাথাগুলো মোটা তাই কি বলতে কি বুঝিস ! আমি তো বলি মানবজীবনের উদ্দেশ্য হোক ‘ভগবানকে অকপট ভালোবাসা!’ কিন্তু সেটা কি হয় ? মানুষ তো জীবভাব অতিক্রমই করতে পারছেনা ! “আহার-নিদ্রা-মৈথুনঞ্চ-ভয়ম্” এই চারটি আবরণের মধ্যে থেকে যাওয়াটাই “জীবভাব”! আর এই চারটির অধীনস্থ থাকা অর্থাৎ আহারের প্রতি আসক্তি ও নির্ভরশীলতা, নিদ্রার কবলে নিজেকে সঁপে দেওয়ার প্রবৃত্তি, বংশবিস্তারের জন্য মৈথুনের প্রতি প্রবল আকর্ষণ এবং পদে পদে মৃত্যু ভয় এগুলি থেকে যিনি নিজেকে সম্পূর্ণভাবে মুক্ত রাখতে পারেন __ তিনিই “জীবভাব” অতিক্রম করে “শিবভাব” প্রাপ্ত হয়েছেন বলে ধরা হয় ! এই শিবত্ব অবস্থা অর্জনকারী ব্যক্তিরাই পারেন সমস্ত ভোগের উপকরণ ত্যাগ করে শ্মশানবাসী হোতে ! সাধনার দ্বারাই জীব শিবাবস্থা প্রাপ্ত হোতে পারে ! কিন্তু সাধনা করতে শুরু করলেই নানারকম সিদ্ধাই বা সিদ্ধি এসে জুটে যায় । বেশিরভাগ সাধক সেই সব সিদ্ধাই-এর কবলে পড়ে যায় এবং তাতেই ফেঁসে যায়।
এটা মনে রাখবে কোনো সিদ্ধি বা সিদ্ধাইই চিরন্তন নয় ! ঠাকুর শ্রীরামকৃষ্ণের সময় যে ব্রাহ্মণী ভৈরবী দক্ষিণেশ্বরে এসে ঠাকুরকে দিয়ে তন্ত্র সাধনা করিয়েছিলেন_ সেই যোগেশ্বরী ভৈরবীর আরো দুজন শিষ্য ছিল ! তাদের নাম ছিল ‘চন্দ্র’ এবং ‘গিরিজা’ ! তারা দুজনেই সাধনা করে নানা রকম সিদ্ধাই অর্জন করেছিল । ঘুরতে ঘুরতে ঠাকুর শ্রীরামকৃষ্ণের কাছে এসে তারা সেইসব সিদ্ধাই-এর প্রয়োগ যেই দেখাতে গেল, অমনি তাদের সিদ্ধাই-এর কার্যকারিতা শেষ হয়ে গেল ! পরবর্তীতে ওই সাধকদের কি পরিণতি হয়েছিল বলো দেখি __তাদেরকে নতুন করে আবার সব শুরু করতে হয়েছিল ! আর সে সব ব্যবস্থা ঠাকুর শ্রীরামকৃষ্ণই করে দিয়েছিলেন।
তন্ত্রে রয়েছে ডাকিনী-লাকিনী-রাকিনী-হাকিনী-সাকিনী ইত্যাদি নানান অবস্থার কথা ! তন্ত্র ক্রিয়ার দ্বারা কুলকুন্ডলিনী জাগ্রত করতে পারলে মনিপুরের শক্তি ক্রিয়াশীল হয় এবং তা করে ‘ডাকিনীবিদ্যা’ আয়ত্ত করা যায় ! মূলাধারে কুণ্ডলিনীশক্তি ক্রিয়াশীল করে লাকিনী শক্তির control নেওয়া যায় ! আমি দেখেছি কুণ্ডলিনীকে জাগিয়ে তন্ত্রের বিভিন্ন ক্রিয়ার সাধকেরা __অনেক উচ্চ অবস্থা প্রাপ্ত হোলেও, কোনো না কোনো সিদ্ধাই-এ ফেঁসে রয়েছে ! অনেক উচ্চ অবস্থার একজনকে দেখেছিলাম অপ্সরা সিদ্ধিতে ফেঁসেছে, আর কল্পনায় ‘বিদ্যাধরী’কে ভোগ করছে।
ঋষিকেশের কৈলাস আশ্রমের অতিথি নিবাসে এসে থাকতে শুরু করেছিল একজন নবীন সাধক ! সে রোজ চার-পাঁচ ঘণ্টা গভীর ধ্যানাবস্থায় থাকতো ! সে বলতো_ সে ওই সময় গভীর সমাধিতে থাকে ! সকলেই তাকে খুবই মান্য করতো ! কারণ সকলেই মনে করতো_ সাধুটি খুবই উন্নত ! কিন্তু কিছুদিনের মধ্যেই কৈলাস আশ্রমের সাধুদের ভুল ভেঙে গেল ! একদিন ওই আশ্রমে একজন বৃদ্ধ সাধু এসে হাজির হোলেন ! তিনি এসেই ও নবীন সাধুটির বর্ণনা ও পরিচয় দিয়ে খোঁজ করতেই _সকলে দেখিয়ে দিল সাধুটি কোন ঘরে থাকে ! বৃদ্ধটি সেখানে গিয়েই ধ্যানস্থ(সমাধিস্থ!) সাধুটির চুলের মুঠি ধরে হাতে থাকা লোহার চিমটি দিয়ে প্রচন্ডভাবে যুবক সাধুটিকে প্রহার করতে থাকলো । কৈলাস আশ্রমের অন্যান্য সদস্যরা সকলে “হাঁ হাঁ” করতে করতে সেখানে এসে হাজির হয়ে বৃদ্ধ সন্ন্যাসীটিকে নিরস্ত করার চেষ্টা করতে লাগলো এবং এমন অদ্ভুত আচরণ করার কারণ কি তা জানতে চাইলো ! সাধুটি কারো কথার উত্তর না দিয়ে ওই যুবক সাধুটি (যে আসলে ঐ বৃদ্ধ সাধুটির শিষ্য ছিল)-কে উদ্দেশ্য করে বলতে লাগলো” ইঁহা বইঠ্ কর্ ওসি সব কর্ রহা হ্যয় !” যুবক সাধুটি কাঁদতে কাঁদতে বৃদ্ধের পায়ে পড়ে জোড়হাতে বলছিল “ম্যায় কেয়া কঁরু, উয়ো মুঝে ছোড়তা নেহি !” বৃদ্ধটি তাকে চুলের মুঠি ধরে টেনে তুলে তাকে সঙ্গে করে নিয়ে যেতে যেতে বলছিল “উন কো হাম দেখেঙ্গে, অব্ তু চল্ মেরা সাথ”!
ঘটনাটি কী ঘটেছিল জানো, ওই যুবক সাধুটি তার গুরুর আশ্রমেই থাকতো ! ওই বৃদ্ধ সাধুটিই ওর গুরু ! সে আশ্রমে থেকে খুব ধ্যান-জপ করতো ! বেশ কিছুদিন পর শিষ্যটি অনুভব করলো যে, তার মধ্যে কিছু আধ্যাত্মিক শক্তির সঞ্চার হয়েছে ! সে দেখলো যে তার সূক্ষ্মশরীর তার স্থুলশরীর ছেড়ে বাইরে বেড়িয়ে আসতে পারছে ! সেই সূক্ষ্মশরীরের কাছে দেওয়াল-বন্ধদরজা বা জানালা এগুলো কোনো বাধাই নয় ! তার স্থুলশরীরকে ঘরে ফেলে রেখে__ সে বাইরে যেখানে খুশি যেতে পারছিল !
এইভাবে প্র্যাকটিস করতে করতে সে এক রাত্রে দূরের একটা বড় বাড়ির দোতালার জানলা দিয়ে একটি পরমাসুন্দরী কুমারী কন্যাকে দেখলো ! তাকে দেখেই তার মাথায় একটা ভাবনা এলো ! যেই ভাবা __অমনি মুহূর্তের মধ্যে সাধুটি সেই ঘরের জানালা দিয়ে একেবারে পরমা সুন্দরী নারীর কাছে পৌঁছে গেল ! মেয়েটি তাকে দেখতে পাচ্ছে না কিন্তু সাধুটি তাকে খুব কাছ থেকে দেখতে লাগলো ! মেয়েটা তার বন্ধ ঘরে রয়েছে ফলে তার বেশবাস অসংবৃত ছিল ! একসময় সে বিছানায় শুয়ে পড়ল কিন্তু এতটা কাছ থেকে ওই সুন্দরী কুমারীর সান্নিধ্যে কাটানোর ফলে, ঐ যুবক সাধুটির এতদিনের সংযম ও ধৈর্যের বাঁধ ভেঙে গেল ! সে ওই নারীকে প্রবলভাবে কামনা করে বসলো !
ধীরে ধীরে ওই যুবক সাধুটি তার সাধনশক্তির সাহায্যে ওই মেয়েটির সাথে communication করলো ! এমনকি সেখানে স্থূলভাবে প্রকটিতও হয়ে গেল ! কুমারীকন্যাটি ধনীর ঘরের মেয়ে, তাতে পূর্ণ যৌবনবতী ! একাকী বন্ধ ঘরে রাত্রিবেলায় একটি সৌন্দর্যবান যুবা পুরুষকে একান্তে পেয়ে, সে তার সাথে যৌবনমদে মত্ত হয়ে গেল ! যুবক সাধুটিও তার ব্রহ্মচর্য ভেঙে তার সাথে কামক্রিড়ায় মেতে গেল !
এইভাবে সাধুটি প্রত্যহ তার স্থুলশরীরকে আশ্রমে রেখে দিয়ে সুক্ষশরীরে সেখানে প্রকট হয়ে ওই রমণীর সাথে নানান ফস্টি-নস্টি ও কামক্রীড়ায় লিপ্ত হয়ে চার-পাঁচ ঘণ্টা করে কাটাতো ! কিন্তু গুরুর আশ্রমে থেকে, ওই গর্হিত কাজ করতে তার খুবই অসুবিধা হচ্ছিলো ! তাই সাধুটি ঘুরতে ঘুরতে ঋষিকেশের কৈলাস আশ্রমে এসে থাকতে শুরু করেছিল । সেখানকার সাধুরা দেখতো ঐ যুবক সন্ন্যাসী দিনে ৪/৫-ঘণ্টার মতো (যতক্ষণ সে ঐ সুন্দরী নারীর কাছে
থাকতো) সময় একেবারে নিষ্প্রাণ অবস্থায় পড়ে থাকতো ! তাই তারা এই সাধুটিকে ‘উন্নত অবস্থার সাধু’, (যে ‘সমাধি অবস্থা’-য় রয়েছে) বলে তারা মনে করতো এবং সকলের কাছে তাকে ‘উন্নত অবস্থার সাধু’ বলেই পরিচয় করাতো ! কিন্তু যুবক সাধুটির গুরুদেব ঠিক খুঁজে খুঁজে তাকে বের করে ফেলেছিল এবং তাকে আবার মূল ধারায় ফিরিয়ে নিয়ে গেছিলো ! আর তিনি এইটা করতেই ওখানে এসেছিলেন বলেই __কৈলাস আশ্রমের সাধুরা প্রকৃত ঘটনাটা জানতে পেরেছিল।
তাই বাবা, সাধনপথে নির্দিষ্ট লক্ষ্যে মসৃণভাবে এগিয়ে চলা চাট্টিখানি কথা নয় ! এইটা খুবই দুরূহ কাজ ! যে পারে_ সেই ধন্য ! বাকিদের অধিকাংশই কোনো না কোনোভাবে ফেঁসে যায়। উত্তরকাশীর আরেকজন সাধু 12 বছর ধরে একটা নির্দিষ্ট সংকল্প সিদ্ধির কামনায় ঊর্ধ্ববাহু হয়ে তপস্যা করেছিল ! কিন্তু 12 বছর হতে মাত্র 1 সপ্তাহ আগে তার সংকল্প ভেঙে যায় এবং সে হাত নামিয়ে ফেলে ! পরবর্তীতে দেখেছিলাম, সে-ও একটি ইউরোপিয়ান মেয়েকে বিবাহ করে দিব্যি সংসার পাতিয়ে বসে আছে !