জিজ্ঞাসু:—‘চৈতন্যদেব’_ সম্বন্ধীয় একটা কবিতায় আপনি “প্রত্যাশাবিহীন ভালবাসা”- কথাটি ব্যবহার করেছিলেন। এর আগে এই শব্দটির প্রয়োগ কখনো দেখিনি !
গুরু মহারাজ:—- হ্যাঁ, ‘প্রত্যাশাবিহীন ভালোবাসা’ ! এটাই হোলো প্রকৃত প্রেম ! পৃথিবী গ্রহে প্রথম জীবন্ত প্রেম প্রকটিত হয়েছিল ব্রজধামে রাধারানীরূপে ! ভগবান শ্রীকৃষ্ণের প্রতি রাধারানীর ছিল ওই ‘প্রত্যাশাবিহীন ভালোবাসা’ বা নিখাদ অকৈতব প্রেম। তাঁর জীবনে নিজের সুখের কোনো বাসনা ছিল না, যত দুঃখ-কষ্ট, পারিবারিক নির্যাতন ও লাঞ্ছনা, বিরহ-যন্ত্রণা, সামাজিক গঞ্জনা ইত্যাদি সবকিছুই ছিল শ্রীকৃষ্ণের সুখের জন্য ! এই যে চরম প্রেমের পরাকাষ্ঠা স্বরূপিনী রাধা__ এই প্রেমের taste, ভগবান শ্রীকৃষ্ণের জীবনেও ছিল না ! এইটুকু অপূর্ণতা তাঁর ছিল ! তাহলে বুঝতে পারছো কিরাধার প্রেম কি সাংঘাতিক প্রেম ! যে প্রেমে দেহের সতীত্বও কোনো বড় কথা নয়, পারিবারিক সুখ-শান্তি গ্রাহ্যের মধ্যেই আনছেন না তিনিই প্রথম জগতকে দেখালেন, ‘প্রেমিকের সুখের জন্য’ এসব কিছুই অক্লেশে ত্যাগ করা যায় !
সেইজন্যই দেখা যায় বহুদিনের প্রেম-ভালোবাসার সম্পর্ক থাকা সত্ত্বেও শ্রীকৃষ্ণ যেদিন বৃন্দাবন ছেড়ে মথুরায় চলে গেলেন, সেদিন রাধারানী তাঁকে আটকাবার জন্য বিশেষ কোনো চেষ্টাই করলেন না ! মা যশোদা বা অন্যান্য আত্মীয়দের মত তিনি আকূল হয়ে কাঁদতেও পারলেন না ! কারণ কৃষ্ণবিরহে রাধার শরীর সবসময় তখন এতো উত্তপ্ত থাকতো যে, তাঁর চোখের জল বের হোতো না ! যেটুকু বের হোতোতা সাথে সাথেই বাষ্প হয়ে যেত ! চোখের জল চোখেই শুকিয়ে যেত ! তাই বিদায়বেলায় আলাদা করে দেখা করে রাধা শ্রীকৃষ্ণকে শুধু বলেছিলেন “ভালো থেকো”! এরপর যে রাধাকে ভক্তি শাশ্ত্রে পাওয়া যায় তা মহাভাবময়ী রাধা ! যিনি সর্বদা সমাধিস্থ অবস্থায় থাকতেন । আর এই অবস্থাতেই রাধারানী শরীর ছেড়ে ছিলেন।
ভগবান শ্রীকৃষ্ণ স্বয়ং পুরুষোত্তম হওয়া সত্ত্বেও শুধুমাত্র প্রেমের এই বিশেষ taste-পাওয়ার ক্ষেত্রে তাঁর অভাব ছিল ! তাই সেইটা মেটাতে শ্রীচৈতন্যরূপে আবার তাঁকে আসতে হয়েছিল ! বৈষ্ণব মহাজনগণ এই ভাবেই 'মহাপ্রভুর আগমন'-কে ব্যাখ্যা করেছেন ! জীব উদ্ধারের কাজে__ রাধার দেহসৌষ্ঠব, রাধার বিরহ এবং অদ্বৈত আচার্যের প্রার্থনা __এই তিনটি বিষয় একত্রিত হয়ে ঈশ্বরীয় শক্তিকে "মহাপ্রভু চৈতন্য"-এর অবতাররূপে বাংলার নবদ্বীপে নামিয়ে এনেছিল ! আর চৈতন্য অবতারে মহাপ্রভূ "হা-কৃষ্ণ"___"হা-কৃষ্ণ" ক'রে কৃষ্ণ বিরহে উন্মাদপ্রায় হয়ে থাকতেন । এই অবস্থাতেই উনি রাধার বিরহের taste গ্রহণ করেছিলেন ! আর সেই taste গ্রহণ করার জন্যই ভগবান শ্রী চৈতন্যের অবতরণ ! তবে, কেউ কেউ বলেন __ভগবান শ্রীকৃষ্ণকে অনেক অভিশাপ কুড়োতে হয়েছিল, আর তাই আবার শরীর ধারণ!
হ্যাঁ, এটা সত্যি যে_ ঈশ্বরীয় শক্তি যখন অবতাররূপে ভগবৎ-শরীরে লীলা করেন, তখন তিনি অনেক সময়ই অভিশাপ গ্রহণ করেন _তবে তা যথার্থ ‘অধিকারী’র অভিশাপ ! অর্থাৎ যে কারো ভগবানকে অভিশাপ দেবার কোনো অধিকার নাই ! এমনটা যদি কেউ করতেও চায় _ তাহলে সেই অভিশাপ ভগবানের উপর ক্রিয়াশীল না হয়ে ঐ ব্যক্তি অর্থাৎ অভিশাপ দানকারীর উপরেই পতিত হয় !
ভগবান কোনো স্নেহশীলা জননী, কোনো সতী নারীর অথবা শুদ্ধসত্ত্ব সাধু ব্যক্তির অভিশাপ সাগ্রহে গ্রহণ করেন ! আর এটা করেন কারণ তাঁকে সেই অভিশাপকে ধরেই আবার শরীর গ্রহণ করতে হবে,শুধুমাত্র সেইজন্য।
অন্যথায় ভগবানের আবার সংস্কার কি যে তাঁর শরীর হবে ? কিন্তু কোনো না কোনো সংস্কার না থাকলে, কোনো না কোনো চাওয়া-পাওয়া না থাকলে বা কোনূ কিছুর পাওনা মেটাতে না হোলে_ তিনি শরীর নেবেনই বা কেন ? যেমন ধরো_ আকাশ তো শূন্য, সেখানে কি কোনো কিছুর ছায়া পড়ে ? সেখানে কি কিছু সৃষ্টি করা যায় ?_ যায় না ! যে কোনো শিল্পকর্ম করতে গেলেও একটা ক্যানভাস্ বা পর্দার প্রয়োজন হয় _ শূন্যস্থানে তা করা যায়না ! ঈশ্বরের অবতরণের জন্য ঐরূপ ‘শাপ-শাপান্ত’ হোলো একটা ক্যানভাসের মতো ! যাকে কেন্দ্র করে কোনো কিছু তৈরি করা
যায়, অর্থাৎ নতুন শরীর গ্রহণ করা যায়।
জিজ্ঞাসু:— “ঈশ্বরের পূর্ণশক্তির অবতার”_ হওয়া সত্ত্বেও প্রেম-বিরহ ইত্যাদি taste নেওয়ার জন্য ভগবান শ্রীকৃষ্ণকে চৈতন্যরূপে শরীর নিতে হয়েছিল ? এসব কথা তো ভাবতেই পারছি না !
গুরু মহারাজ:—– Individual কোনো ব্যক্তির ‘ভাবা’-য় বা ভাবনায় আর কি আসে যায় বাবা ! সবকিছুই যে সেই ঈশ্বরের ইচ্ছাতেই হয় এইটা বুঝতে পারলেই তো অনেক সমস্যার সমাধান হয়ে যায় ! কিন্তু তাতো আর হয়ে উঠছে না__আর তাই মানবের এত সমস্যা, এত জিজ্ঞাসা, এত দুঃখ-কষ্ট বা জ্বালা !
বৈষ্ণব শাশ্ত্রে প্রেমকে বলা হয়েছে ‘পঞ্চম পুরুষার্থ’ ! “ধর্ম-অর্থ-কাম-মোক্ষ”__ চতুর্বিধ ফল বা পুরুষাঙ্গের উপরে রয়েছে প্রেম ! ধ্যান-যোগ-ভক্তি-সেবা ইত্যাদির মাধ্যমে ঈশ্বরের নিকটস্থ হওয়া যায় অর্থাৎ ‘কূটস্থ’ অবস্থায় পৌঁছানো যায়, কিন্তু ‘লীলা-প্রবিষ্ঠ’ হওয়া যায় না !
লীলা-প্রবিষ্ঠ হওয়ার জন্য কোনো বিশেষ ‘যোগ’ নাই ! সেখানে শুধু অপেক্ষা ! সেখানে যেন ঈশ্বরের দুয়ার পর্যন্ত পৌঁছে গিয়েও অপেক্ষা করা _ আর মাঝে মাঝে বন্ধ দরজা খোলার জন্য knock করা ! অন্য কোনো প্রচেষ্টায় ওখানে কোনো কাজ হয়না ! ওখানে শুধুই selection হয় ! বাইবেলে রয়েছে__’The door is opened’ !
সেখানে বাঁশি বাজে_ আর বিশেষ বিশেষ নাম ধরেই বাঁশি বাজে ! যেমন বৃন্দাবনে ‘রাধা নামে সাধা বাঁশি’_ শুধুই রাধারানীর নাম করে বাজতো ! হয়তো কখনো কখনো অন্যান্য গোপীদের নামেও বাজতো ! আর রাধাসহ সমস্ত গোপীনীরা সেই বাঁশির সুর শুনে আর ঘরে স্থির থাকতে পারতো না ! ঘরের সমস্ত বাঁধন ছিন্ন করে, স্বামী-সন্তান সবকিছু ফেলে, ছুটে আসতো__ যমুনার উজানে কুঞ্জবনে কদম্বতলে !
ঠিক তেমনি করেই আজও সেই বাঁশি বাজে ! যে সেই বাঁশির সুর শুনতে পায়_ সে আজও উজান পথে অর্থাৎ কুলকুন্ডলিনী জাগ্রত করে সুষুম্না পথ ধরে সহস্রারের দিকে ধাবিত হয়!
ভগবান শ্রীকৃষ্ণের শ্রেষ্ঠ লীলা “রাসলীলা”! রাসমঞ্চে রাধা সহ গোপীদের প্রবেশেরই একমাত্র অনুমতি ছিল ! যেখানে রাসেশ্বরী ছিলেন স্বয়ং রাধা ! কিন্তু সেখানে দেবরাজ ইন্দ্রের, মনুগণের, ঋষিদের এমনকি স্বয়ং শিবেরও প্রবেশের অনুমতি মেলেনি ! এইজন্যই বৈষ্ণব মহাজনগণ লিখেছেন _’বৃন্দাবনে হয় রসের স্থিতি, বেদ-বিধি তার নাহিক গতি!’ সাক্ষাৎ রসস্বরূপ ব্রহ্মের বা সচ্চিদানন্দ রূপ সাগরের এক গন্ডুষ জল স্পর্শ করা অথবা পান করতে পারেন কোনো কোনো যোগী ! ‘যোগী’-অর্থে কর্মযোগী, জ্ঞানযোগী বা ভক্তিযোগীরা ! কিন্তু সচ্চিদানন্দ সাগরে অবগাহন করে জল ছিটিয়ে সাঁতার কাটতে পারেন শুধুমাত্র গোপীদের ন্যায় প্রেমিকেরা !
ঐ যে বলা হোল ভক্তিযোগীদের কথা ! এই ভক্তি আবার দুই প্রকারবৈধি ভক্তি এবং অবৈধি ভক্তি ! গোপীদের ভক্তি — ছিল অবৈধি ! সচ্চিদানন্দ-সাগরে নেমে অবগাহন করতে বা স্নান করতে হোলে প্রয়োজন হয় অবৈধি ভক্তির ! একমাত্র অবৈধি ভক্তির দ্বারাই লীলাপ্রবিষ্ট হওয়া যায় ! বাউল গানে রয়েছে ‘সে যে আলেকলতার মূল, সে জগ-ডুমুরের ফুল সন্ধান না জানলে পরে জীবের পক্ষে ভুল!’ এখানে প্রেমের কথাই বলা হয়েছে ! গানটির অর্থ হোল প্রকৃত প্রেমের কোনো হেতু নাই ! এটি অহেতুক ! গোপীদের প্রেম ছিল শুধুই কৃষ্ণেন্দ্রিয় প্রীতি-ইচ্ছার নিমিত্তে ! তাদের ভক্তি ছিল অহেতুক ! জ্ঞানমার্গীদের মতো আত্মজ্ঞান লাভ, চরম বা পরমজ্ঞান লাভ করার ন্যায় কোনো প্রত্যাশাও গোপীদের ছিল না ! তাই বলা হয়েছে_গোপীদের প্রেমেই ছিল ‘প্রত্যাশাবিহীন ভালোবাসা’ !
এই অবস্থাটাই জীবের সহজতা কিন্তু মানব এই সহজতা হারিয়ে অসহজ হয়ে গেছে, বিকৃত হয়ে গেছে, আত্মবিস্মৃত হয়ে গেছে ! আর এই জন্যই কষ্ট পাচ্ছে মানুষ ! সে ‘বুদ্ধি’ প্রয়োগ করে_ প্রেমের স্বরূপ বুঝতে চায় ! কিন্তু মোহগ্রস্ত মানুষ কি করে তা বুঝবে ? প্রথমে তো তাকে নির্মোহ হোতে হবে ! নির্মোহ ভালোবাসাই হোচ্ছে প্রকৃত অর্থে প্রেম বা ‘প্রত্যাশাবিহীন ভালোবাসা’!
জিজ্ঞাসু:—গুরুজী ! আপনার কাছে একবার শুনেছিলাম “বিনম্রতাই সাধুর লক্ষণ” _ ব্যাপারটা একটু বুঝিয়ে বলবেন ?
গুরু মহারাজ:---দ্যাখো, যে কোনো সাধুর আচরণে বিনম্রতা, বিনয়__ এইগুলিই তো থাকবে, এইগুলি যে সাধুতার অন্যতম লক্ষণ ! 'সাধু' বলতে তুমি যদি __শুধুমাত্র গেরুয়া পড়া কোনো ব্যক্তিকে বোঝো_ তাহলে আলাদা কথা ! কিন্তু 'সাধু ব্যক্তি' বলতে তো সন্ন্যাস-আশ্রমে বসবাসকারী সন্ন্যাসীদেরকেও বোঝায়, আবার গৃহস্থাশ্রমে বসবাস করা কোনো সৎ মানুষকেও বোঝায় । শাস্ত্রে রয়েছে _'বিদ্যা দদাতি বিনয়ম্!' বিদ্বান ব্যক্তির একটি অন্যতম লক্ষণ হোলো বিনয় ! বিনম্র, শ্রদ্ধাবান,বিনয়ী ব্যক্তিরাই তো মানবসমাজের সম্পদ ! আর সভ্য মানবসমাজের একজন সদস্য হিসাবে যে কোনো ব্যক্তিকে শ্রদ্ধাবান তো হোতেই হবে ! উপনিষদে রয়েছে _"শ্রদ্ধাবান লভতে জ্ঞানম্!" সন্ন্যাস-আশ্রমের সাধুই হোক অথবা গৃহস্থাশ্রমে বসবাসকারী কোনো সৎ-ব্যক্তিই হোক__পরমজ্ঞান লাভের জন্য তাদেরকে বিনম্র, বিনয়ী এবং শ্রদ্ধাবান হোতেই হবে।
জানো, দুটো কথা আছে ‘স্পর্ধিত’ আর ‘গৌরবান্বিত’ ! আমাদেরই আশ্রমের একজন সিনিয়র সন্ন্যাসীর উদাহরণ দিয়ে ব্যাপারটা বুঝিয়ে বলার চেষ্টা করছি_ শোনোউনি ছোট থেকেই স্বামী বিবেকানন্দের একনিষ্ঠ ভক্ত
ছিলেন ! ফলে উনি তাঁর সম্বন্ধে সারাজীবনে নানাভাবে চর্চা করেছেন এবং বর্তমানে উনি বিভিন্ন স্থানে ভক্তদের সামনে স্বামীজীকে নিয়ে আলোচনা করেন ! কিন্তু আমি লক্ষ্য করে দেখেছি ওনার কথা বলার ভঙ্গিতে স্পর্ধা থাকে ! ফলে, এতে যারা ওনার কথা শোনে তাদের কোনো কল্যাণ তো হয়ইনা বরং অনেকসময় তাদের মধ্যে reaction-এর সৃষ্টি হয় !
তাহলে ঐ সৎ-প্রসঙ্গের কি ফল হলো বলতো ? বক্তারও মঙ্গল হলো না, আবার শ্রোতাদেরও অকল্যাণ হোলো ! অপরপক্ষে যদি কোনো মহাপুরুষের গরিমা শ্রদ্ধার সঙ্গে পরিবেশন করা হয়, তাঁর গৌরবে গৌরবান্বিত হয়ে বলা হয় __তাহলে জনমানসে তার প্রভাব পড়ে এবং এতেই সকলের মঙ্গলসাধন হয় !
তবে, ‘বিনম্রতা’_ অভ্যাসের দ্বারা শেখা যায় না ! এমনটা করতে গেলেও সেটা অভিনয় হয়ে যাবে ! ফলে, তখন তার আচরণে বিকৃতি ঘটে যাবে ! সাধুই হোক, সন্ন্যাসীই হোক বা গৃহীই হোক_সবাই তো মানুষ ! আর এইটাই হোক তার প্রথম পরিচয় ! একমাত্র বিবেকের জাগরণ ঘটলেই মানুষের জীবনে ‘স্পর্ধা’-র বিনাশ হয় এবং মানুষ নম্র হয় ! আধুনিক মানবসমাজের ইতিহাস পর্যালোচনা করলে দেখা যায় আজ থেকে 2500 বছর আগে ভগবান বুদ্ধের মধ্যে মানবিক এবং অতিমানবিক সমস্ত গুনগুলির পরিপূর্ণ বিকাশ বা প্রকাশ ঘটে ছিল ! বিনম্রতা, শান্ততা, সৌম্যতা এইগুলি শুধু মানবিক গুণ বললেই হবে না_ এগুলি অতিমানবিক গুণ ! এইগুলিই প্রকৃত আধ্যাত্মিক মানবের গুন !
মানবিক গুণ বা আধ্যাত্মিক মানবের গুন যাই হোক না কেন, এগুলি কোনো মানুষের অন্তর থেকে না জাগলে, শুধু তা প্রদর্শন করতে গেলে _অভিনয় হয়ে যায় ! বৈষ্ণব, বাউলদের মধ্যে রয়েছে নারীভাব ধারণ করে সাধনা । তারা মেয়েদের মত বড় বড় চুল রাখে, ঝুঁটি বাঁধে, মেয়েদের মতো ওইরকম কাপড় পড়ে, মেয়েলি ঢঙে চলাফেরা করে- কথা বলে ! কিন্তু এসব করতে গিয়ে বেশিরভাগটাই অভিনয় হয়ে যায়, বিকৃত হয়ে যায়।
বৃন্দাবনে মোহনানন্দ ব্রহ্মচারীকে দেখেছিলাম রাধা কুন্ডের পাশে আশ্রম তৈরি করে রয়েছে ! রাধাভাবে সাধন করে ! হররোজ নতুন নতুন বেনারসি শাড়ি পড়ে, হাতে এক হাত চুড়ি পড়ে, মেয়েদের মতো অন্যান্য গহনাও পড়ে ! সকাল থেকে শৃঙ্গার করতে করতেই কতো সময় লেগে যায় ! অনেক শিষ্য-ভক্ত রয়েছে ওনার, খুব নামডাকও হয়েছে ! এইরকম রাধাভাবের সাধক বৃন্দাবনে বা অন্যত্র আরো কত রয়েছে ! এদের মধ্যে দু-একজনেরই ঠিকঠিক সাধন হয়, বাকিরা পুরুষ হয়ে নারী সেজে এক প্রকারের সুখ পায় __ এটাকে বলা হয় ‘আত্মরতি’ ! এগুলো perversion of sex ছাড়া আর কিছুই নয় !!