জিজ্ঞাসু:—-তন্ত্রের শবসাধনা কেমন যেন অদ্ভুত ! গভীর নিশীথে শ্মশানে মৃতদেহ নিয়ে সাধনা ভাবলেই গা শিউরে ওঠে !

গুরু মহারাজ:—–দ্যাখো, তুমি এসব ভাবতে পারো, কিন্তু এটা তো ঠিক যে, তন্ত্রসাধনা ভারতবর্ষের বহু প্রাচীন একটা পরম্পরা ! তবে তন্ত্রের শবসাধনার কথা বলছিলে__ তা সঠিক শবসাধনা আর হয়টা কোথায় ? তেমন তন্ত্রসাধক‌ই বা কজন হয়, আর তন্ত্রের প্রকৃত আচার্য‌ই বা কোথায় ? ফলে এই শবসাধনার কথা এখানে ওখানে শোনা যায় বটে, কিন্তু সেগুলোতে সাধকদের ও বিশেষ মঙ্গল হয় না, আবার বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই সমাজেরও ভালো কিছু হয় না !

শবসাধনার প্রধান উপকরণ কি জানো তো_ এর জন্য প্রথমেই প্রয়োজন হয় সদ্যমৃত যুবক বা যুবতীর শরীর ! ঐ মৃতদেহটি চন্ডালের হ‌ওয়াটাই শাশ্ত্রসম্মত ! অমাবস্যার নিশীথে_ শ্মশানে বা কোনো নির্জন দেবস্থানে এটিকে নিয়ে গিয়ে মৃতদেহটির শরীর থেকে সমস্ত পোশাক খুলে ফেলে তাকে একেবারে উলঙ্গ করে দিতে হয়, তারপর তার হাত-পা ভালো করে বেঁধে ফেলতে হয় ! এরপরে ওই দেহের বিভিন্ন অঙ্গে লাল চন্দন দিয়ে তন্ত্রে উল্লেখিত বিভিন্ন যন্ত্র আঁকতে হয় !

এই সমস্ত হয়ে গেলে উলঙ্গ মৃতদেহটি পুরুষ হলে উপুড় করে শোয়াতে হয়, আর নারী হলে চিত করে শুইয়ে দিতে হয় ! এরপর বীরাচারী তন্ত্রসাধককে উলঙ্গ হয়ে সেই শরীরের উপর বসে 10 লক্ষ বার ইষ্টমন্ত্র জপ সম্পূর্ণ করতে হয় ! এই অবস্থায় ওই মৃতদেহটির সূক্ষ্ম শরীর(spirit) নানারকম উপদ্রব করে। যেহেতু অমাবস্যার রাত্রে শ্মশানে বা নির্জন কোনো স্থানে এই ক্রিয়া করতে হয়, তাই আরো অন্য অনেক সূক্ষ্মশরীরধারীরা(spirit-এরা) সাধককে নানারকম উৎপাত করে ! শরীরটাকে medium করে বারবার তারা মৃতদেহটিকে উঠে বসতে বাধ্য করে ! ফলে মৃতদেহটি হাত পা ছুড়তে শুরু করে ! এইজন্যই তন্ত্রসাধনা শুরুর আগে দেহটির হাত-পা ভালো করে বেঁধে রাখতে হয় ! এতে দেহটি হাত পা ছুঁড়তে পারে না ! আর শবদেহ উঠতে চাইলেও দেহটাকে জোর করে চেপে ধরে শুইয়ে দিতে হয় ! একবার যদি বাঁধন কেটে উঠে বসতে পারে __তো, ওই সাধকের গলা টিপে ধরে তাকে মেরেও ফেলতে পারে !

অমাবস্যা বা কৃষ্ণাচতুর্দশীর রাত্রিতে ঘুটঘুটে অন্ধকার থাকে ! তাছাড়া নির্জন স্থানে এবং একাকী এই ক্রিয়া
করতে হয় ! গুরু সঙ্গে থাকলেও সাধনার সমস্ত উপকরণ যোগাড় করে দিয়ে এবং সাধন-ক্রিয়া শুরু করে দিয়ে __ তাঁকেও দূরে চলে যেতে হয় ! তাই ভয় পেয়ে যদি সাধক পড়ে যায়, তাহলেও তাকে তৎক্ষণাৎ রক্ষা করার কেউ থাকে না ! ফলে, অনেক সময় এই ধরনের সাধকেরা হয়ে পড়ে যায় এবং শারীরিক ভাবে নানারকম ও সক্ষমতা এসে যায় সে বোবা কালা হয়ে যেতে পারে বা পাগল হয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকে ওই স্পিরিট বা স্পিরজিরা এমনভাবে ডিস্টার্ব করে কেন তার কারণ হলো সব সাধনায় সিদ্ধ হলে ওই স্পিরিট তাকেই তার দাস হয়ে থাকতে হয় এটাই হচ্ছে মূল কারণ সব সাধনা তন্ত্রসাধনার একটা ক্রিয়া তবে এটাই তো সব নয় যেকোনো বিরাসার সিদ্ধ তন্ত্রসাধক কে এই ক্রিয়াটি অভ্যাস করতে হয় তবে অনেক অভিযোগ সাধন রয়েছে যারা শুধুমাত্র ভুত-প্রেত অর্থাৎ স্পিরিট দের কে নিয়ে সিদ্ধির জন্য শুধু এই ক্রিয়া করে থাকে এই ক্রিয়ায় সিদ্ধ হতে পারলে স্পিরিটের শক্তিকে কাজে লাগিয়ে অনেক অসাধ্য সাধন করা যায় রাজনৈতিক নেতারা শক্তি লাভ করতে চায় তাদের ধন বল জনবল যত হবে ততই তাদের পক্ষে মঙ্গল তারা চায় প্রচন্ড রাজসিক তাই তাদের শারীরিক গ্ল্যামার থাকা দরকার আর তার সাথে অন্যান্য শক্তি তো দরকার হয় এইসব লাভ করতে ওরা বেশিরভাগ তান্ত্রিকদের শরণাপন্ন হয় এজন্যই দেখবে বেশিরভাগ রাজনৈতিক নেতাদের বড় বড় জ্যোতিষী বা তান্ত্রিকদের পিছনে ছুটে থাকে।

মধ্যযুগের গুপ্ত সাম্রাজ্যের যে বাড়বাড়ন্ত দেখা গিয়েছিল বিশেষত চন্দ্রগুপ্ত বিক্রমাদিত্যের সময়ে তার পিছনে ওদের পারিবারিক তন্ত্রসাধনার প্রভাব ছিল চন্দ্রগুপ্ত তন্ত্রে তালবেতাল সিদ্ধ হয়ে ছিল ফলে হনার এইট সিদ্ধি উনাকে তৎকালীন অন্যান্য রাজাদের থেকে আলাদা করে তুলেছিল চন্দ্রগুপ্ত যে তালবেতাল সিদ্ধি অর্জন করেছিলেন তা ছিল সাধারণ স্পিচ অপেক্ষা অনেক উন্নত অপেক্ষার স্পিরিট এইজন্যে সেই সময় চন্দ্রগুপ্ত বাকিরা যাদেরকে পরাজিত করে প্রায় সমগ্র ভারতবর্ষের সাম্রাজ্যের বিস্তার ঘটাতে পড়েছিল এবং অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক ভাবে তার রাজ্যকে সমৃদ্ধ করতে সক্ষম হয়েছিল।

জিজ্ঞাসু:—আজ ঈদুল ফিতর ইসলাম ধর্মের এই দিনটির তাৎপর্য কি সম্বন্ধে একটু বলেন _গুরুজী !

গুরু মহারাজ:—ঈদ-উল-ফিতর হল উৎসবের দিন একমাসব্যাপী রমজান মাস রোজা আর কঠিন অনুশাসন পালন করার পর হাসি খুশির উৎসব ঈদ-উল-ফিতর ইসলাম জগতের এটাই সবচাইতে আনন্দের উৎসব ধনী-দরিদ্র নির্বিশেষে সকলে মিলে আনন্দ করে এই সময় ইসলাম ধর্ম মতে এই একটা ব্যাপার খুবই ভালো ওখানে রয়েছে যে ধনীরা উৎসবের সময় দরিদ্রদেরকে দাওয়াত দেবে যাতে উৎসবের দিনে কেউই নিরন্ন না থাকে কেউই জীর্ণ-বস্ত্র না থাকে সবাই যেন ভালো ভালো জিনিস খেতে পায় এবং নতুন বস্ত্র পড়তে পায় তার জন্যই এই ব্যবস্থা।

আল-কোরআনের সৃষ্টিতত্ত্ব টা কিন্তু ভারতীয় দর্শনের কোন সৃষ্টিতত্ত্বের সঙ্গে একেবারেই মেয়েদের না ওখানে রয়েছে আল্লাহই সব কিছু সৃষ্টি করেছিলেন আকাশ মাটি জল সূর্য চন্দ্র পশুপাখি তারপর আল্লাহ মাটি দিয়ে তার মতো দেখতে প্রথম মানব আদমকে সৃষ্টি করলেন তখন আদম আল্লাহকে দেখতে পেত তার সঙ্গে কথা বলতেন আদম যেমনটা বলতো আল্লাহ সেগুলি শুনতেন কিন্তু একদিন আল্লাহ দেখলেন আদম খুবই বিষন্ন উনি এর কারণ জিজ্ঞাসা করলেন কিন্তু জানালেন তা হল যা কিছু সৃষ্টি হয়েছে তা আল্লাহর মনের মত কিন্তু কোন কিছুই আদমের মনের মতন নয় আদমের মনের মত কেউ একটা সঙ্গী পেলে তার বেশ হয়।

এরপর আল্লাহ আদমকে ঘুম পাড়িয়ে তার বাঁ দিকের পাঁজর থেকে হাবিব কে সৃষ্টি করলেন বাবা আদমের মত মনুষ্য কিন্তু নারী শরীর ঘুম ভেঙ্গে জেগে উঠে আদম হাওয়াকে দেখে খুবই খুশি হলো দুজনে হাত ধরাধরি করে আল্লাহর সৃষ্ট স্বর্গের কারণে ঘটতে লাগল দুজনেই সেখানে চিরবসন্ত গাছে গাছে পাখিরা সুরেলা কন্ঠে গান গায় আর গাছগুলি সুন্দর সুন্দর এবং ফলাফলে সমৃদ্ধ হয়ে রয়েছে সেখানে নিত্য বহমান একাধিক নদী রয়েছে জলের নদী, সুরার নদী, দুধের নদী, মধুর নদী ইত্যাদি ! সেখানে আরেকজন ছিল ইবলিশ তাকে শয়তান বলা হয়েছে কারণ সে আল্লাহর কথা শোনে না বরং আল্লাহর কাজের বিরোধিতা করতে চায় আল্লাহ আদমকে বলে দিয়েছিলেন ওই কারণে সবচাইতে ঝলমলে সুন্দর যে কাজটি রয়েছে আর তার শাখায় যে থোকা থোকা অপূর্ব বর্ণময় ফল রয়েছে সেগুলো দেখে যেন তার লোক না জন্মায় এবং সেই ফল যেন সে কখনো না হয় ওইখানে বাবা গানের অন্য যে কোন ফল খাবার ব্যাপারে কোনো নিষেধাজ্ঞা ছিল না সেখানে যে নদী গুলি রয়েছে সেইসব নদীর জল পান করাতে ও কোন বাধা ছিল না যত বাধা ছিল সেটা হচ্ছে ওই ঝলমলে গাছটির ফল ভক্ষণে।

ইবলিশ কিন্তু আদমকে বারবার প্রলোভিত করত ওই বৃক্ষের ফল খাবার জন্য কিন্তু আদম শয়তান ইবলিশ কে চিনে ফেলেছিলো তখন ইবলিশ হাওয়াকে প্রলোভিত করতে লাগল আর হাওয়া প্ররোচিত হয়ে উঠল সে আদমকে প্রচিত করে ফেলল ফলে ওই নিষিদ্ধ বৃক্ষের ফল হা ভাত হোগেয়া আদম কেউ খেতে বাধ্য করলো সেই ফল খাওয়া তাদের মধ্যে এসে গেল লজ্জাবোধ যতদিন তাদের মধ্যে ছিল না এতদিন দিব্যি তারা উলঙ্গ অবস্থায় হাত ধরাধরি করে ঘুরে বেরিয়েছে একসাথে খেয়েছি শুয়ে ঘুমিয়েছে কিন্তু কখনো একে অপরকে লজ্জা করেনি অপরের অনাবৃত অঙ্গের দিকে তাকিয়ে কোনো আকর্ষণ অনুভব করেনি !

এই লজ্জা বোধ থেকে ওরা দুজনে দুজনের কাছ থেকে দূরে সরে গেল আদম পাশের একটা ডুমুর গাছের
আড়ালে লুকানো এবং হ্যাঁ ভালো কাল আঙ্গুর লতার ঝোপের আড়ালে তারপর আদম ডুমুর পাতা দিয়ে তার লজ্জা লাগল এবং হাপা হাওড়া থেকে বেরিয়ে এল আঙ্গুর পাতায় অঙ্গটিকে এই ঘটনার পর আদম আর আল্লাহ কে দেখতে পেল না দুজনের মাঝে একটা পর্দা পড়ে গেল আদম আল্লাহর কাছে আকুল হয়ে কাঁদতে লাগল বারবার তার পূর্বের অবস্থায় ফিরে পাওয়ার জন্য আবেদন জানাতে লাগলো কিন্তু আর সে কোনোদিনই আল্লাহকে দেখতে পেল না সে শুধু আল্লাহর কণ্ঠস্বর শুনতে পেল !

আল্লাহ আদমকে বললেন আদম তুমি আমার কথা অমান্য করেছো তাই তুমি আর সর্গে থাকতে পারবে না তুমি বাবাকে নিয়ে মর্তলোকে চলে যাও সেখানে গিয়ে তোমরা ঘর বাঁধব তোমাদের সন্তান-সন্ততি হবে সেখানেই কষ্ট করে তোমাদের নিজেদেরকেই ভরণপোষণের ব্যবস্থা করতে হবে স্বর্গের সুখ ভোগ রাজভোগ আর তোমরা করতে পারবে না আল্লাহ এই কথাগুলো বলছিলেন আর আদম নতশিরে বলছিল আমিন এরপর আল্লাহ আমাকে উদ্দেশ্য করে বললেন _”ওই নিষিদ্ধ বৃক্ষের ফল তুমি প্রথমে খেয়েছ ! তাই তুমি প্রথম অন্যায় কার্য বা পাপকার্য করেছ এবং তুমি আদমকেও পাপ করতে বাধ্য করেছো ! তাই তোমাকে তার প্রায়শ্চিত্ত করতে হবে ! তুমি আদমের পদসেবা করবে, সব সময় তার মনোরঞ্জনের জন্য সচেষ্ট থাকবে ! এটাই তোমার উত্তরণের একমাত্র পথ ! আদমকে প্রসন্ন করেই তুমি আবার আল্লাহর কৃপা প্রাপ্ত হোতে পারো!”

আল্লাহ পুরাতনের পুনরুত্থানের দিনের কথা বললেন যেদিন হাভা বা নারীরা আদমের পা পুরুষদের পিছন পিছন স্বর্গে আল্লাহর দরবারে প্রবেশের অনুমতি পাবে যদি নারীর সেবায় পুরুষ তার প্রতি সন্তুষ্ট থাকে তবেই সেই নারী সেই পুরুষের অনুগামিনী হতে পারবে রোজকেয়ামত শেষ বিচারের দিনে সেই সভায় আল্লাহর সিংহাসনের পাশের সিংহাসন গুলিতে নবীগণ বসে থাকবেন তবে ওই নবীগণের মধ্যে শ্রেষ্ঠ ও শেষ নবী মোহাম্মদ আল্লাহর সবচাইতে প্রিয় পাত্র তাই তিনি আল্লাহর বাঁদিকের আসনে বসবেন নবীরা বসার পর ও অনেক আসন সেখানে ফাঁকা পড়ে থাকবে সেগুলোতে প্রথম বসার অনুভূতি পাবে শেষ নবী মুহাম্মদের মোমিনগণ যারা পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ পড়ে যাকাত দেয় রমজান মাসে রোজা রাখে এবং সারা জীবনে অন্তত 112 হজ করতে মক্কা মদিনায় যায় তারপরে সুযোগ পাবে অন্যান্য নবীদের ফলো আশরা যদি তারাও ঠিক ঠিক ধর্মাচরণ করে থাকে তবে সুযোগ তারা পেতে পারে আর যারা নবীদের প্রশ্ন করতে পারে না তাদের হয় নরক ভোগ নরক ভোগ আন্তে তারা আবার স্বর্গে আসার সুযোগ পায় এভাবেই কোরআনে মানবের শুরু থেকে শেষের কাহিনী বর্ণনা করা আছে।