জিজ্ঞাসু:–আমাদের বাড়ির ওখানে এক গোঁসাই বাবা এসে অনেককেই নাম দীক্ষা দিয়ে গেল আমি তার সঙ্গে দেখা করে জানতে চাইলাম ওনার মূল বক্তব্য কী বললেন কলিযুগের না মিশার নামে মুক্তি নামেই মুখ্য সবাই নাম করো হরে কৃষ্ণ মহামন্ত্র জপ করো তাহলেই জীবের মুক্তি ঘটবে!
গুরু মহারাজ:—-ওই ধরনের গোসাই বাবারা এই রকমই বলে ওর নিজের ধারণা হয়েছে তাই অপরকে ধারণা দেবে শুধু নাম করলে কি হবে নাম নামি অভেদ গানে নাম করতে হবেতো নামে নিষ্ঠা রাখার কথা বৈষ্ণব মহাজন’ গল্প লেগেছে সেই নিষ্ঠা করি শুধু নাম করলে হবে চিনি চিনি বললে মুখ মিষ্টি হয় না বাবা জ্বলজ্বল করলেই তৃষ্ণা নিবারণ হয় না হয় কি তাই এইসব গোসাই বোষ্টম দেব এগুলি গুরুগিরি ব্যক্তি গ্রামে গ্রামে শহরের বিভিন্ন এলাকায় গিয়ে এই ধরনের কথা বলে কিছু মানুষকে নাম দীক্ষা দেয় তাদেরকে শীর্ষ করে নেয় এ বার বছরে একবার বা দু’বার গিয়ে কিছু পাওনা আদায় করে নিয়ে আসে আবার পরের বছরে এসে নিয়ে যাবে তার বায়নাটাও করে যায় !
এগুলি আধ্যাত্মিকতা নয় মহাপ্রভু কলিহত জীবের কথা বলেছিলেন কিন্তু তার সঠিক অর্থ এইসব গোসাই বোষ্টম ওরা জানেনা অজ্ঞানতার অন্ধকারই রয়েছে বেশিরভাগ মানুষ এদেরকে কলিহত জীব বলা হয়েছে মানে হলো হঠাৎ অজ্ঞান অজ্ঞান থেকে জীবের অহংকার আসে সত্য ত্রেতা দ্বাপর এর যে বর্ণনা শাস্তি পাওয়া যায় সেখানেও দেখা যায় বহু চরিত্রে এমন রয়েছে সেখানে কত ওঙ্কার অহংকার মানুষের সংখ্যা সেইসব যুগেও কম ছিল না সুতরাং সেই অর্থে
কলিহত জীব সকালে বা সব যুগেই থাকে তবে সংখ্যায় বেশি আর এই জাতপাত এখন হয়তো সংখ্যায় বেশি।
তবে এই যে কলি কলি করছো করছে এরা আর সকলকে নাম দিয়ে বেড়াচ্ছে এরা কি কলিহত জীবন ধরে ঠিকেদারি নিয়েছে নাকি শুধু বলছে নামকরণ আম করো নামে কি হয় ঠাকুর শ্রীরামকৃষ্ণের কাছে আজ থেকে 100 বছরের বেশি আগে লোকে এই একই কথা জিজ্ঞাসা করত তার উত্তরে ঠাকুর শাখার দোকানের গল্প বলেছিলেন কেশব গোপাল হরি এদের গল্প নামে নিষ্ঠা থাকলে না থাকলে আন্তরিকতা না থাক অনন্ত কাল ধরে মুখে শুধু হরিনাম কৃষ্ণ নাম করে গেলেও কোনো লাভই হবে না কোন আধ্যাত্বিকতার কোন টেস্ট পাওয়া যাবে না।
স্থূল অর্থেই ধরনা যে কোন খাদ্যবস্তু শুধু নাম করে খাচ্ছ তাহলে তার টেস্ট পাবে কি তাহলে মানব জীবনের প্রকৃত উদ্দেশ্য যেসব প্রেম লাভ সেটা শুধু তার নাম করলেই হয়ে যাবে নাম করলেও সদ্ গুরুর কাছে গিয়ে সঠিক নামটি জানতে হবে কিভাবে সেই সঠিক নামটি যোগ করতে হয় তার তালিকা বা কৌশল শিখে নিতে হবে তারপর প্রাণ সঁপে নিষ্ঠাপূর্ণ প্রদত্ত নাম কি মনে মনে কোন জব করতে হবে শ্বাসে প্রশ্বাসে জব করতে হবে তাহলে কিছুদিন পরে নামে রুচি আসবে বা ঈশ্বর প্রতি জন্মাবে নাম জপে সিদ্ধি আসলে আসলে পরের ধাপে উন্নীত হয় সাধক তখন হয় দেন নাম জপ তখন আপনি আপনি বন্ধ হয়ে যাবে অন্তর্জগতের খেলা শুরু হবে তখন বহির্জগতের কোন ব্যাপারই আর থাকবে না এইভাবে কমে কমে সাধক একটা একটা করে স্তর অতিক্রম করে অন্তিম লক্ষ্যের দিকে পৌঁছাতে থাকবে তাই মুখে নাম করো বললে কি লাভ হয় বাবা নাম নামে আবেদন করতে হয় এবং নামে রুচি আনতে হয় তাহলে একটু একটু আস্বাদন শুরু হয়।
আধ্যাত্মিকতার প্রথম শর্তই হলো সদ্গুরু লাভ সঠিক গুরুসঙ্গ লাভ হোলে সাধকের আর কতটা চিন্তা থাকে না সব গ্রন্থপাঠ সৎসঙ্গ ইত্যাদিতে কনস্ট্রাকশন তৈরি হয় কিন্তু পারসেপশন নিজেকেই করতে হয় সেটা কেমন যেন উদাহরণ দিয়ে বোঝাতে গেলে বলতে হয় যেমন ধরো তোমাকে জানানো হলো তুমি যেখানে রয়েছে তার পাশেই একটা পর্দার আড়ালে একটা সোনা আছে এটা conception এবার কিভাবে বা কত তাড়াতাড়ি সেটা তুমি লাভ করবে সেটা কিন্তু তোমার নিজের উপর নির্ভর করছে এই সোনার তাল লাভ করাটাই perception !
কেনই বা মানুষ এই জগত্সংসার থেকে মুক্তি পেতে চাইবে এর কারণ এই যে জগত সংসার এটি সুখ ও ক্ষেত্র নয় এখানে জন্মগ্রহণ করা মাত্রই জীবনে ত্রিতাপ জ্বালা জ্বলতে হয় আধিভৌতিক আধিদৈবিক এবং আধ্যাত্মিক এই তিন জেলা কোন জেলা থেকে মুক্তি পেতে পারে না যতক্ষণ পর্যন্ত না সে নিজের মুক্ত হয় বৈষ্ণব শিরোমনি শ্রীচৈতন্য মহাপ্রভু এই সংসার কে ব্যাখ্যা করেছিলেন আখের শুকনো শিবিরের সঙ্গে একটু একটু মিষ্টি আস্বাদন আভাস পাওয়া যায় কিন্তু সেটা আখের রস নয় নিজের মুখের লালা রস মিষ্টি রস বলে বোধ হচ্ছে জাগতিক যা কিছু সুখ আনন্দ তা টেস্ট ও এইরূপই নিজেরই কষ্টের বেশি তুলনায় খুবই বিচিত্র বেদানা ফল আম পাকা নিম ফলের উপরটা একটু ভাব রয়েছে কিন্তু তাতে একটু চাপ দিলেই কিন্তু এত যে দু থু করে ফেলে দিতে হয়।
জ্ঞানীরা এটা জানেন সাধারণ মানুষ ওই শুকনো আখের ছিবড়ে চিবিয়ে চিবিয়ে রস বের করার চেষ্টা করছে এটা বুঝতে পারছে না যে ওই সুর নসিবের তা কোনদিন আর থাকতে পারে না সে বহু পরিশ্রম করে অনেককে দিয়ে তারই লালারসে সিক্ত সিম রেখে মনে করছে রসসিক্ত আমি একবার একটা কুকুরকে একটা বহুকালের পড়ে থাকা এক টুকরো স্বপ্ন হারকে মনের সুখে চিবোতে দেখেছিলাম ওই হারে টুকরো চিবুতে গিয়ে হয়তো কুকুরটার মুখগহ্বরের অংশ রক্তাক্ত হয়ে যাচ্ছে আর কুকুরটা নিজের রক্তের স্বাদ গ্রহণ করে ভাবছে ওটা হাত থেকে নির্গত হোচ্ছে _এটাই ভ্রান্তি বা অজ্ঞানতা ! আর এটাকেই শাস্ত্র “মায়া” রূপে উপস্থাপিত করেছে।
জিজ্ঞাসু:—একটু আগে আপনি গতি নিয়ে জগত রহস্য ব্যাখ্যা করার কথা বলছিলেন আপনি আরও বললেন এটা দিয়ে জীবনকে ব্যাখ্যা করা যায় না আপনার ঐ কথাগুলো তখন চিন্তা করছিলাম কিন্তু ঠিক বুঝতে পারছি না ?
গুরু মহারাজ:—বুঝতে না পারার কোন কারণ নেই দেখো জগতে তো গতি রয়েছে এখানকার যা কিছু দেখছ সবই গতিময় জনবিজ্ঞান তাই বলে এই বিশ্বব্রহ্মাণ্ডে সবকিছুই আপেক্ষিক সেই অর্থে চরম স্থিতি বলে কিছু হয়না যেকোনো আপাত স্থির বস্তু কে নিয়ে যদি বিচার করো তাহলে দেখতে পাবে পদার্থের ক্ষুদ্রতম কণা পরমাণু অভ্যন্তরে চলছে প্রচুর ক্ষতির কারবার তাই যে কোনো বস্তুকে দেখতে স্ট্যাটিক মনে হলেও তা প্রচন্ড ডায়নামিক কোন বস্তু বা ফিজিক বলতে বোঝায় যার নাম এবং রূপ রয়েছে অর্থাৎ নেম এন্ড ফর্ম এবং যার আইডেন্টিটি রয়েছে যে কোন বস্তুকে বিশ্লেষণ করতে করতে দেখা যায় সেই পদার্থের পরমাণুর মধ্যে প্রধান কণাগুলি রয়েছে তার মধ্যে ইলেকট্রন প্রচন্ড গতিশীল এছাড়া পরমাণুর মধ্যে আপাত স্থির নিউক্লিয়াসের মধ্যে অবস্থিত কণাগুলি সবসময়ই আধান বিনিময় করে যাচ্ছে সুতরাং এটা বুঝা যায় যে ফেসবুকের আধার ডায়নামিক বস্তুর ডায়নামিক অবস্থাতেই এর ক্যারেক্টার স্টিক্স বা বৈশিষ্ট্য এবং কোয়ালিটি গুণাবলী পাওয়া যায় কিন্তু ডায়নামিক এর আধার কি এটা কিন্তু এখনও বিজ্ঞানীরা দিতে পারেনি!
একমাত্র প্রাচীন ভারতীয় অধ্যাত্ম বিজ্ঞানীরা অর্থাৎ ডিসিরা বলেছিলেন ডায়নামিক আধার হলো আদ্যা শক্তি কালী তারা আরও বলেছিলেন আদ্যা শক্তি বাকালি রাধার শিব শক্তির উৎস অবস্থাকে বলা হচ্ছে স্ট্যাটিক
অ্যাবসোলিউট মানবের চিরকালীন চিরন্তন জিজ্ঞাসা আমি কে বাঁকিয়ে আমি হু এম আই ভারতীয় স্বাস্থ্য বলেছে ব্যক্তি যেন চৈতন্য এবং বহু জনপ্রিয় চৈতন্য উদাহরণ হিসেবে তারা আরও বলেছেন ব্রহ্মানন্দ সাগর আর জীবন সেই সাগরের বুদবুদ রাজিব ও ব্রম্ভ প্রকাশ করার জন্য আরও উদাহরণ দিয়েছেন ব্রম্য যেন আকাশ বাষ্পে সর্বত্র বিরাজমান আর ব্যক্তি যেন গোটা আকাশ আর দিপু যেন চিদাকাশ যে কোন ব্যক্তির পিছনে রয়েছে এন্টিটি এন্টিটি জীবের স্বরূপ এই স্বরূপের পথেই জীবের প্রকৃত আনন্দের বোধহয় এই আনন্দ জন্ম-জন্মান্তর ধরি’ পেতে চাইছে মানুষ !