জিজ্ঞাসু:—বলা হচ্ছে ব্রহ্মা পূর্ণ আবার আপনি বলছেন ভ্রমণ অপূর্ণতার জ্বালা বুকে নিয়ে ছুটে চলেছে পূর্ণচ্ছেদ দি কি তাহলে পূর্ণব্রহ্ম আবার অপূর্ণতা কোথা থেকে এলো?

গুরু মহারাজ:—–এই দেখেছে তো তোমরা বুদ্ধিমান শিক্ষিত লোক তাই মাথা খাটিয়ে খাটিয়েছি জিজ্ঞাসা ঠিক খুঁজে খুঁজে বের করছে তবে এখানে কিন্তু তুমি ঠিকই বলেছ ব্রহ্মপুর উপনিষদ বলেছে পূর্ণমদঃ পূর্ণমিদং পূর্ণ পূর্ণ অর্থাৎ ব্রহ্মপুর এবং বোম্বে প্রকৃতি ও পরিধি সমান জগত এতে আছে আবার নাই অজ্ঞানে এটি আছে কিন্তু জ্ঞানে এসব কিছুই নয় বেদনায় কিন্তু বৈচিত্র্য রয়েছে অভেদ জ্ঞানে বোঝা যায় যে শুধু ব্রহ্ম‌ই রয়েছে !

ব্রম্ভ অবাঙমানসগোচর তাই ব্রহ্মা কোন ইচ্ছা নাই কিন্তু ব্রহ্মের প্রকৃতিতে ইচ্ছা রয়েছে আমি এক হাত আছি বহু হব এই ইচ্ছা গম্ভীর প্রকৃতির এই ইচ্ছার প্রাধান্য দিতে গিয়ে সগুন ব্রম্ভ ঈশ্বর বা পরম আত্মা রূপে প্রকাশমান আর এই ঐশ্বরিক শক্তি যখন ভোর আয়তন শরীর গ্রহণ করে অর্থাৎ শরীর ধারণ করে জগতের সুখ-দুঃখ হাসি-কান্না ভালো-মন্দ ইত্যাদি দ্বারা করেন তখন সেই শরীর থেকে বলা হয় ভগবান ভগবানের সদাসর্বদা ভগবত বুদ্ধি থাকে আর সাধারন মানুষের থাকে জাগতিক বুদ্ধি বুদ্ধি তাই সাধারণ মানুষ তারও জাগতিক বুদ্ধি দিয়ে কখনই কোন মহাজাগতিক ঘটনা কে বা পরম সত্যকে জানতে পারে না এটা করতে যাওয়া বাতুলতা শামিল তাই ভগবানের বিরোধিতা করা বা ভগবত তত্ত্বের বিরোধিতা করা এটা মানুষের অজ্ঞান উচিত শিশুসুলভ আচরণ জাগতিক বুদ্ধি নিয়ে মানুষ মহাবিশ্বের মহাজাগতিক ইউনিভার্সাল শাশ্বত নিয়মের কি করে সন্ধান পেতে পারে পরম সত্য বা পরমানন্দের টেস্ট কি করে পেতে পারে কখনোই পাবে না যদি কেউ করতে চায় তাহলে সে চেষ্টা টা কেমন হবে জানো যেন কোনো ব্যক্তি তার মাথা ঠুকে ঠুকে হিমালয় পর্বত কে সরাতে চাইছে এতে কি হবে ওই ব্যক্তির মাথায় রক্তাক্ত হবে কাজের কাজ কিছুই হবে না।

এইজন্যই তোমাদেরকে বলছিলাম তোমাদের মোটা মাথার বুদ্ধি দিয়ে জীবন জগত ঈশ্বরের রহস্য ধরা কখনোই সম্ভব হবে না তাহলে এখানে জিজ্ঞাসা আসতে পারে তাহলে উপায় কি এর থেকে পরিত্রাণের উপায় কী তাহলে কি ঈশ্বর জগত জীবনের রহস্য কখনও জানতে পারবে না মানুষ হ্যাঁ নিশ্চয়ই পারবে আর তা জানতে চাইলে মানুষকে সার্চ এসে ঘুরে বেড়ালে চলবে না কেন্দ্রে আসতে হবে ব্রহ্মের প্রকৃতিতে ইচ্ছা প্রকাশ হওয়ার সাথে সাথে বহুরূপী গল্পের মধ্যে অপূর্ণতার যারা সৃষ্টি হয়েছিল বহু কে ছুটি নিয়ে চলেছে পূর্ণতার দিকে পুনরায় যারা ফেলে দিয়ে যা ছিল সেই স্বরূপ প্রাপ্ত হওয়া এটাই যেন একটা পাওয়া যাত্রা পূর্ণ থেকে সৃষ্টি কিন্তু অপূর্ণতার জ্বালা বুকে নিয়ে পূর্ণতার দিকে যাত্রা এটাকে বলা হয়েছে বৈষ্ণব শাস্ত্র বলেছে রাধার অভিসার !

কিন্তু মানুষের প্রচেষ্টা কই বহু মহাপুরুষ ঈশ্বরের অবতার তাদের জীবন পাঠ করে চেষ্টা করেন যাতে সমস্ত মানসিক কারণ মানুষ যেহেতু পৃথিবী গ্রহের শ্রেষ্ঠ জীব যাতে তার অজ্ঞানতা কাটিয়ে অর্থাৎ যা নয় তাই ভেবে বসে থাকার মোহ কাটিয়ে পুনরায় স্বরুপে ফিরে আসা বা পূর্ণত্বের বোধে ফিরে আসতে পারে কিন্তু সে সেটা পারছেনা !

কেন পারছেন না কারণ মানুষের বিবেক ক্রিয়াশীল নয় সাধু সঙ্গ ছাড়া মানুষের বিবেক জাগ্রত হয়না তাই প্রতিটি মানুষের উচিত খুব বেশি বেশি করে সাধুসঙ্গ করা যাতে করে তার ঘুমিয়ে থাকা বিবেক গর্ত ছেড়ে ছেড়ে মেরে উঠে পড়ে মানুষের ইচ্ছা খুব কম সে আজেবাজে কাজের উপর এ সময় কাটাবে তবু সান্নিধ্যে গিয়ে কিছুক্ষণ সময় কাটাতে পারবে না পৃথিবীর মানুষ যতই নিজেকে উন্নত করে দাবি করুক শিক্ষায়-দীক্ষায় সাহিত্য সংস্কৃতিতে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিতে উন্নত হয়েছে বলে দাবি করে কিন্তু চেতনা বা কনশাস্নেস জাগরণের দিক থেকে বিচার করলে মানুষ এখনো খুবই অনুন্নত।

সঠিকভাবে বিচার করলে মানবিক চেতনা যেন এখনো বুকে হেঁটে চলেছে খাড়া হয়ে উঠতেই পারিনি বুকে হেঁটে চলেছে অর্থাৎ সরিসৃপ অবস্থা নবদা বিশিষ্ট মানব শরীরের অলিতে-গলিতে ছিদ্রান্বেষণ করে ঘুরে বেড়ানো হচ্ছে এই যে ব্যক্তি যা মানুষের চেতনাকে সরীসৃপের নয় ঘোরাচ্ছে এটা কি ইসলাম বা খ্রিস্টান মত এই শয়তান বলে উল্লেখ করা হয়েছে যার আকৃতি সাপের মতো।

জিজ্ঞাসু:—আপনিও তো একজন মহামানব ! আপনি আপনার নিজের সম্বন্ধে এবং এই বনগ্রাম আশ্রম সম্বন্ধে কিছু বলুন ?

গুরু মহারাজ:—ওই সব কথা বলো না এতক্ষণ কি বলছিলাম মানুষের ধারণা সবই ভাসাভাসা মহামানব সম্বন্ধে তোমার কি কোন কংক্রিট ধারণা রয়েছে নাই শুধু বলার জন্য বলা বা একটা বিশেষণ দিয়ে বিশেষিত করা আর আমার কথা কি বলব আমি জানি সবই পরমেশ্বরী লীলা তাই আমি কখনোই অতীত নিয়ে গৌরব করিনা ভবিষ্যৎ নিয়ে রঙিন কল্পনার প্রজেক্ট করি না বর্তমানে রুপোর দাঁড়িয়ে কথা বলি আমি অতীতকে শুদ্ধা করি ভবিষ্যতে স্বাগতম করি তাই বলে কখনও বর্তমানকে উপেক্ষা করি না আমি কখনোই একই কথা দুবার বলতে ভালোবাসি না পরিবেশ-পরিস্থিতি পাল্টালে আমি আমার বক্তব্য ধরন পাল্টে ফেলি.।

আমি কখনো নিজেকে স্পেশালাইজ করিনা সবাইকে বন্ধু ভাবি কারণ আমি জানি সব কিছুই পরমেশ্বরের প্রকাশ এই বনোগ্রাম কে কেন্দ্র করে যে ডিফাইন প্রজেক্ট চলছে তার অতীত বর্তমান ভবিষ্যৎ সবই আমি জানি আমি জানি এই প্রজেক্টে অনেকেই বিভিন্ন রয়েছে তার মধ্যে আমারও একটা এইমাত্র সুতরাং নিজেকে স্পেশালাইজ করবো কেন আমি জানি রামকৃষ্ণ রামকৃষ্ণ সবাই অখন্ড চৈতন্য সত্তা থেকেই রূপ পরিগ্রহ করেছিলেন তবে কোন ব্যক্তির জন্মান্তর যেভাবে হয় তাদের রেইনকার্নেশন সেভাবে হয় না কারণ তারা কোনো ব্যক্তি স্বত্তা নন অখন্ড চৈতন্যসত্তার‌ই খন্ডিত রূপ ।

সমাধি অবস্থায় মানবের ঝুলন্ত অবস্থা এটা ঠিক কিন্তু প্রকৃতপক্ষে আমি দেখি সকলেই সেই সমাধিতেই রয়েছে উদাহরণস্বরূপ যেমন ধরো জল এই মাছ রয়েছে কিন্তু মাছের ঝোল বিজ্ঞানের জ্ঞান নাই বা বদলায় সেইরূপ সচ্চিদানন্দ সাগরের সবাই রয়েছে শুধু বোধ নাই এবার মানবের কাজ হলো শুধু ওই বোধে বোধ করা এটা কি রিয়েলাইজেশন বা পারফেকশন বলা হয়েছে কিন্তু এই রিয়েলাইজেশন বা পারফেকশন কোন নতুন জিনিস আবিষ্কার নয় বা সাধকের শরীরের বাইরে থেকে কোন ফরেন রেজিমেন্ট পাওয়ার প্রবেশ করা হয় যার ছিল তার অজ্ঞানতা অবিদ্যা না আসলেই এই বোধ হয় ।

অবিদ্যা, অজ্ঞান কিভাবে আসে ? কি তাকা সে যেন অহমের মেঘ আকমার মহিমা রূপ সূর্যকে ঢেকে রেখেছে ওই মেঘ কে সরাতে গেলে প্রয়োজন হয় সাধনারূপ বাতাসের blow ! মেঘ সরে গেলেই পূর্ণতার প্রকাশ করবে পূর্ণ ছিল যেন আবরণ দিয়ে ঢাকা সেই আবরণ অজ্ঞান অবিদ্যার আবরণ !

মানুষের জীবনের চূড়ান্ত অ্যাচিভমেন্ট হলো নিরবিচ্ছিন্ন আনন্দ বাসন্তী প্রতিটি মানুষ জ্ঞাতসারে অজ্ঞাতসারে সেটাই পেতে চাইছে কিন্তু কোনোভাবেই তা পাওয়া যাচ্ছে না ধনী ঐশ্বর্যে বিষয় দ্বারা সুতো ইত্যাদি আত্মীয়ের মধ্যে আনন্দ বা শান্তি খোঁজে মানুষ কিন্তু ক্ষণিক সুখ পেলে নিরবিচ্ছিন্ন আনন্দ বা শান্তি পাওয়া যায় না এটা না পাওয়ার কারণ মানুষের মনোজগতের রয়েছে তৃষ্ণা মানুষের মনে ভবিষ্যতের জন্য নানা প্রজেক্টর রয়েছে আর সেগুলোরই বাস্তবে অ্যাপ্লিকেশন দেখতে চাইছে মানুষ বাস্তবে না হলে কল্পনার জগতে দেখতে চাইছে কিন্তু বাস্তবে তো সেগুলো শব্দ হচ্ছে না তাই চলে যাচ্ছি আর কল্পনায় তা ভেবে একটু সুখ বা ক্ষণিক আনন্দ পাচ্ছে !

তাহলে কি করলে মানুষ প্লেস মুক্ত হতে পারে তার জন্য মানুষকে নির্বাচন হতে হবে তোমরাও যদি ক্ষণিক সুখ ছেড়ে এভাবে চিহ্ন আনন্দ বাসান্তি লাভ করতে চাও তাহলে তোমরাও নিদর্শনা হও মনোজগতে প্রজেক্ট তৈরি করা বন্ধ করো এটা করতে পারলি দেখবে তুমি যা ছিলে তাই আজ এই অবস্থা প্রাপ্ত হলে তবেই ঈশ্বরের লীলা সাধন হয় অন্যথায় তো শুধুই জ্বালা লীলার বোধ হবে কি করে ?

পৃথিবীতে বহু সাধক রয়েছে যারা বলে থাকে তারাই ঈশ্বর লাভ করেছে তারা আত্মজ্ঞান লাভ করেছে অবশ্য এমনটা মনে হয় কারণ দীর্ঘ সাধনার ফলে বেশকিছু সিদ্ধি সিদ্ধি এসে যায় ওই সাধকের জীবনে এইগুলির ফলে ওই সাধকের মধ্যে কিছু অলৌকিক শক্তি প্রকাশ করে যায় এবং বহু মানুষকে ঘিরে জড়ো হয়ে যায় তারা ও সাধকের শক্তির কিছু কিছু ফল পেয়ে থাকে তারাই ওই সাধককে ভগবান বানিয়ে বসে।

কিন্তু সে যাই হোক ব্রহ্মজ্ঞানী বা ঈশ্বর লাভ করা ব্যক্তি সঠিকভাবে চিনবে কি করে যখন দেখবে ওই ব্যক্তির জীবনী আধিভৌতিক আধিদৈবিক জ্বালার অবসান হয়ে গেছে তার জীবনে সদাসর্বদা প্রশান্তি বিরাজ করছে তার চোখে-মুখে থাকবে সবসময় একটা প্রসন্নতার ছাপ ওই ব্যক্তি তার জীবনের যেকোনো সুখে-দুঃখে নিরুদ্বিগ্ন মনে থাকবে গীতায় ভগবান শ্রীকৃষ্ণ এই অবস্থা কি স্থিতপ্রজ্ঞ স্থিতি বলেছেন কিন্তু সব হসিত সদস্য অনেক ভগবান প্রাণীকে ঠিক ঠিক চিনতে গেলে তার মধ্যে আধিভৌতিক এবং আধিদৈবিক জ্বালা জলন রয়েছে কিনা তাই দিয়ে বিচার করতে হবে এই দুই জ্বালা মুক্ত হয়ে গেলি বনে আধ্যাত্বিকতার টেস্ট পাওয়া যায় জীবনের প্রতিটি পদে-পদে তখন nectar of divinity, extassy of divinity অনুভূত হতে থাকে ! তখন আবার আধিভৌতিক আধিদৈবিক জ্বালার স্থান কোথায় শুধু আধ্যাত্বিক জালা থাকতে পারে পূর্ণতার আগে পর্যন্ত কিন্তু পূর্ণতাপ্রাপ্ত হলে আর কোন জেলায় নাই তাইতো spirituality কে বলা হয়েছে– art of life এবং art of living !

প্রথমেই যে কথা বলা হয়েছিল অর্থাৎ ভেঙে যাবে এর ফলে চিত্তশুদ্ধি কথা প্রকৃতপক্ষে disharmony of body organs এবং disharmony of mental tracks গুলি harmonised করতে পারলে তবেই চিত্র শুদ্ধ হয় আর এই রূপ শুদ্ধচিত্তে ভগবানের মহিমা প্রকট হয়ে ওঠে এটাই ধ্যান জপ বা সাধন-ভজনের তাৎপর্য এবং উদ্দেশ্য।