জিজ্ঞাসু:—আচ্ছা গুরু মহারাজ ! আধ্যাত্মিক উন্নতির ক্ষেত্রে ধ্যান-জপের কি সত্যিই প্রয়োজনীয়তা রয়েছে ?
গুরু মহারাজ:—নিশ্চয়ই রয়েছে মানব এর চিত্র সিদ্ধির জন্য পাঞ্জাবের গুরুত্ব অপরিসীম দেখো যেমন কোন জলাশয় এর জল যদি খোলা থাকে সেখানে ভিতরে কি আছে তা কিছুই দেখা যায় না কিন্তু সেই জল যদি নির্মল হয় স্বচ্ছ হয় তাহলে সবকিছুই পরিষ্কার দেখা যায় তেমনি শুদ্ধচিত্তে বা নির্মল চিত্তেই ঈশ্বরের লীলা আর বোধ হয় তার কৃপা অনুভব করা যায় ঠাকুর শ্রীরামকৃষ্ণ এইজন্যেই বলেছিলেন ঈশ্বর শুদ্ধ-অশুদ্ধ বুদ্ধির বুদ্ধিরে অবস্থা নেই তাই চিত্তশুদ্ধি হলে মন বুদ্ধি অশুদ্ধ হয়ে যায় আর শুদ্ধচিত্তে এই স্বরূপের বোধহয় ! আর এটাই ঈশ্বর বোধ।
দ্যাখো, বোধই মানবজীবনের উদ্দেশ্য ! কিন্তু সব সাধকের তো আর বোধ হয় না ! উন্নত সাধকদের হয়তো ঈশ্বর সম্বন্ধে ধারণা বা conception হোচ্ছে কিন্তু প্রকৃত সত্যের উন্মীলন ঘটছে না ! ধারণা হোচ্ছে কিন্তু সব যেন কেমন ভাসা ভাসা ! তাই তিনি, তাঁর followers-দেরকে যে ধারনা দিচ্ছেন, সেটা সত্য নয় _ সেটা হয়ে যাচ্ছে hypothesis ! বোধি ব্যক্তিই একমাত্র পূর্ণ ! আর তাই একমাত্র তারাই পূর্ণের কথা বলতে পারেন ! তাঁরাই বোধের কথা বলতে পারেন ! বাকি পৃথিবীর যত কিছু মতবাদ রয়েছে সে সমস্তই ভাসা ভাসা বা ঐ যে বললাম_hypothesis !
তবু সেই সব মতেরু প্রচুর ফলোয়ার্স এমনটা কেন হয় বলতো কারণ পৃথিবী গ্রহ তাইতো এখন উন্নত হয়নি এখানকার চেতনা যেন হামাগুড়ি দেওয়া অবস্থায় আছে মহাপুরুষদের চেষ্টায় যেন সবে সেই চেতনা উঠে দাঁড়াতে শিখছে এই অবস্থায় এই গ্রহের মানব চেতনা আর অতটা উন্নত হতে পারে না দু একজনের যায় একটু আদ্দু উন্নত অবস্থা বাকি সবাই ওই হামাগুড়ি দেওয়ার দলে পড়ে যাচ্ছে তাই এই পৃথিবীতে প্রচুর মতবাদ সৃষ্টি হয়েছে এবং সব দলেরই প্রচুর ভালোবাসি রয়েছে।
আবার দেখো পৃথিবী যে নীহারিকা মন্ডলীর মধ্যে অবস্থিত সেই নীহারিকা তেই কোন নক্ষত্রমন্ডলীর এমন গ্রহ রয়েছে যেখানকার চেতনা অ্যাডাল্ট অবস্থায় আছে এমন আগ্রহ রয়েছে সেখানকার চেতনাপ্রবাহ অবস্থায় রয়েছে এমন হতে পারে যেখানে চেতনা বৃদ্ধ অবস্থায় রয়েছে সেখানকার সকল প্রাণী জ্ঞান বৃদ্ধ স্বামী বিবেকানন্দ এসেছিলেন এমন এক নক্ষত্র মন্ডল গ্রহ থেকে যেখানে সবাই বাড়িতে রয়েছেন রয়েছে ওই চেতনায় সেখানকার পরিস্থিতি হিসেবে কিছুদিনের জন্য এখানে কাজ করে গেল।
তবে জানো তোমরা হয়তো শুনে আশ্চর্য হয়ে যাবে যে পৃথিবী গ্রহের মানুষের মধ্যেও ওইসব উন্নত নক্ষত্রলোকের গ্রহগুলির উন্নত আধারের সংস্কার রয়েছে সূক্ষাতিসূক্ষ ভাবি তাই তো সেই উন্নত আধারের পৃথিবীতে এসে শরীর গ্রহণ করতে পারছেন আবার অপরপক্ষে পৃথিবীর মানুষেরা চেষ্টার দ্বারা সাধনার দ্বারা ওইসব উন্নত আধার দেশটিতে পৌঁছাতে পারছে উন্নত আঁধারেরা অবস্থায় সব সময় পৃথিবীর মানুষদের সাহায্য করে যাচ্ছে কিন্তু তাদের সে সাহায্য বা কৃপ্তনিতে জানতে হবে মানুষ সেই কৌশলটা ও জানেনা কৌশল আর কিছুই নয় প্রচেষ্টা প্রচেষ্টা থাকলেই কৃপা লাভ করা সম্ভব হয়।
জিজ্ঞাসু:– আপনি যে সব কথাগুলো বলেন, এগুলো শুনে মনে হয় আগে কখনো এমন কথা শুনিনি ! আপনার কাছ থেকে শুনে এখান থেকে ফিরে গিয়ে যখন বন্ধু-বান্ধব বা অন্যদেরকে বলি __তখন তারাও শুনে অবাক হয়ে যায় ! আর তারাও এই কথাই বলে যে, এমন কথা আগে কখনো শুনিনি ?
গুরু মহারাজ:—এটাই তো মুশকিল তুই নিজেই ভালো করে বুঝলি না যা বুঝলি তা জীবনে অনুশীলন করলিনা তুই গেলি আবার অপরকে বোঝাতে তুই নিজে আগে হয়ে ওঠে তবে তো অপরে তোর কথা শুনে তোর মত হয়ে ওঠার চেষ্টা করবে অন্যথায় কি হবে তোর সব কথাই হয়তো মানুষ শুনবে কিন্তু ওই কথাগুলির মর্যাদা দেবে না সেই কথাগুলি তাদের জীবন পরিবর্তনে সাহায্য করবে না। বিখ্যাত উর্দু কবি মির্জা গালিবের কবিতায় এই সম্বন্ধে তার নিজস্ব উপলব্ধি ফুটে উঠেছিল উনি লিখেছেন__” লা পিলা দে সাকিয়াঁ, পয়মানা পয়মানে কে বাদ ! হোঁশ কি বাত করুঙ্গা, হোঁশ মে আনে কে বাদ !”বোঝা গেল কি ব্যাপারটা উনি বলতে চাইছেন জীবনে রসের সন্ধান যখন পেয়েছি তখন আগে তা আকণ্ঠ পান করে নি তারপর যখন আসবে তখন এই রসের আস্বাদের কথা বলব!”
সুতরাং নিজের কিছু জমতে না জমতেই তা খরচ করা অথবা আমার কাছে কিছু কথা শুনেই সফরকে বলে নিজেকে জাহির করতে যাওয়াটা তো মূর্খতা এটা কেমন জানিস তো খানিকটা বমি করার মত তুই হয়তো পুষ্টিকর কিছু খাদ্য খেলে সেটা যদি পেতে কিছুক্ষণ থাকে থাকত তাহলে তার ডাইজেস্ট অ্যাড হয়ে তোর শরীরের পুষ্টি সাধন কিন্তু যদি খাবার পরপরই সেই খাদ্য বমি হয়ে যায় তাহলে আর তোর কি উপকার হলো ওই ভ্রমণকৃত খাদ্য আর কোনো মানুষের কাজে লাগে না কুকুর বিড়াল পাখিপ্রেমীদের আহার্য হয়ে যায় না হলে পচে গিয়ে ব্যাকটেরিয়া ভাইরাস ফাঙ্গাসের কাজে লাগে জগতে কিছুই অবশ্য নষ্ট হয় না সেই অর্থে তুই যে কথাগুলো বলছি তা কেউ হয়তো কারুর কিছু কাজ হবে কিন্তু যতটা কাজ হবার কথা ততটা হবে না ব্যাপারটা বুঝতে পারলি!
যাইহোক উর্দু কবি মির্জা গালিবের কথা বলা হচ্ছিল এবার ফার্সি কবি রুমির একটা কবিতায় প্রকাশিত ওনার জীবন-দর্শনের কথা বলি_ যেখানে রয়েছে, “জীবনের দুটো বেদনা বা উল্লেখযোগ্য ঘটনা আমার জীবনে “স্মরণীয়” হয়ে রয়েছে ! একটা তোমাকে পাবার আগে, আর অপরটা হোল তুমি যখন চলে গেছো ! জীবনের বাকি সব কিছু ঘটনা ছিল ফালতু!”_এই যে সিদ্ধান্ত এটা একমাত্র সুফি সাধকের আয় করতে পারে এদের চিন্তা ভাবনা বৈদান্তিক চিন্তার সাথে মিলে যে কোন ধর্মমতের উন্নত অবস্থায় বেদান্ত দর্শনের কথাই বলতে হবে কারণ নিত্য শাশ্বত পরম পরম সত্যকে বদ তো করতেই হবে যেটা সকল দর্শনের শেষ কথা !
কিন্তু সাধারণ মানুষ যেন গোবরে পোকার মত মুখে এক তাল গোবরে পদ্ম মধুর টেস্ট পাওয়া যায় না মানুষের মনোজগতের যে অসংখ্য প্রজেক্ট রয়েছে সেগুলো মনে কিলবিল করছে সেখানে নতুন কোন ভাবনা প্রবেশের স্থান কোথায় এই জন্যই মানুষ ঈশ্বরের অপার মহিমা ব্যাপারটা বুঝতে পারছে না ওই প্রজেক্ট রুট গোবরের দোলা যতক্ষণ মুখ থেকে ছুঁড়ে ফেলে দেওয়া না হচ্ছে ততক্ষণ ঈশ্বরের মহিমা জানা যায় না একবার মনের প্রজেক্ট তৈরি বন্ধ হয়ে গেলে বোধহয় একমাত্র তিনিই সত্য মৃত্যু আর সবই মিথ্যা অনেক্ত বোধহয়__ “সমস্ত কল্পনামাত্রম্, আত্মা নিত্য সনাতনম্!”
জিজ্ঞাসু:—ভগবান যখন পৃথিবীতে অবতীর্ণ হন, তখন তিনি যে পরিবারে শরীর গ্রহণ করেন _তাদেরও তো বিরাট একটা ভূমিকা থাকে?
গুরু মহারাজ:—পরিবারের লোকেদের আর কি ভূমিকা বাবা শুধুমাত্র গর্ভধারিণী ভূমিকা থাকে বাকিদের দায়ভার তো ভগবান কে নিতে হয় ঈশ্বরের যখন যে পরিবারে অবতরণ বা ডিসেন্ডিং হয় তখন সেই পরিবারের ঊর্ধ্বতন সাত পুরুষ এবং পরবর্তী সাত পুরুষের পুরুষ এই চৌদ্দ পুরুষের দায়িত্বভার নিতে হয় তবে যে পরিবারে ভগবান শরীর নেয় সেই পরিবারের সদস্যদের খুবই দুর্গতি পোহাতে হয় কারণ ভগবানকে তাদের সকলের সমস্ত সংস্কার রাশি কে নিয়ে নিতে হয় আমাকে আবার সন্ধ্যার সময় আত্মশ্রাদ্ধ করতে হয়েছিল ! সেই সময় আমার পরিবারের ঊর্ধ্বতন সাত পুরুষের উদ্দেশ্যে জল দান করতে হয়েছিল ! আমি যখন তাদেরকে স্মরণ করলাম তখন দেখলাম তাদের অনেকেই জন্মগ্রহণ করেছে, বেশ দিব্যি সংসার করছে, খাচ্ছে-দাচ্ছে-ঘুমোচ্ছে, সন্তান উৎপাদন করছে, সংসারের কাজ করছে ! এই নিয়েই মেতে রয়েছে ! আধ্যাত্মিকতার বালাই নেই । এবার বোঝ তাদের সকলকেই টানতে হবে ! ওদের মধ্যে একজনকেই মাত্র দেখলাম একটু উন্নত সে অবস্থায় আমার সামনে জোড় হাতে দাড়িয়ে দাড়িয়ে আমার আত্মশ্রাদ্ধের পুরো অনুষ্ঠান টা দেখলো
এই জন্য দেখা যায় অবতার পুরুষেরা যে পরিবারে জন্মগ্রহণ করে তাদের বংশের সদস্যদের নানান ঝামেলা পোহাতে হয় বংশের ধারা হয়তো বেশি দিন বজায় থাকে না আর থাকলেও খুবই কষ্ট ভোগ করতে হয় অবতারগণ কেউ শরীর ধারণ করে প্রচুর সমস্যার সম্মুখীন হতে হয় অনেক নির্যাতন সহ্য করতে হয় আর তাঁরাও সেগুলি হাসিমুখে সহ্য করে যান। কখনোই বিরোধ করেন না বা কারুর প্রতি কোনো রিয়্যাকশন করেন না কিন্তু যে সমস্ত ব্যক্তি অবতার পুরুষদের প্রতি দুর্ব্যবহার করে তাদের মহা প্রকৃতি তাদের ওপর খুবই কষ্ট হয় তাদেরকে কখনও ক্ষমা করেনা আমার এই শরীর ধরনের পরেও বহু মানুষ আমাকে নানা রকম নির্যাতন করেছে আমি কখনোই কাউকে অভিশাপ দিই নি বা কারো উপর অন্তর থেকে বিরক্তি প্রকাশ করিনি হয়তো প্রয়োজনে অনেক সময় একটু আদ্দু পড়েছি এইমাত্র তবু দেখেছি ওই সমস্ত ব্যক্তিদের কে কর্মফল ভোগ করতে হয়েছে জামালপুর স্টেশনে যে লোকটি আমার ছোটবেলায় আমাকে লাথি মেরেছিল তার একটা এক্সিডেন্টে মৃত্যু হয়েছিল এবং তারপর পরপর সাত জন্ম তাকে শুকর জনি প্রাপ্ত হয়েছিল একদিন আমার বড় গ্রামের ঘরে বসে বসে আমি এটা প্রত্যক্ষ করলাম আর এটা দেখে আমার ভিতরে ওর প্রতি করুণার উদ্বেগ হল এবং আমি মা জগদম্বা কাছে প্রার্থনা জানালাম ত বে ইউর মুক্তি ঘটল ঘটল ঘটল অর্থ আবার মানুষের প্রাত্যহিক জীবনে অগ্রগতির পথে হাঁটতে শুরু করলো।