…………………………………………..
জিজ্ঞাসু:– পৌরাণিক যুগে ”ঋষ্যশৃঙ্গ” নামে একজন মুনি বা ঋষি ছিলেন। ওনার কি মাথায় শিং ছিল বা ঐরকম কিছু ব্যাপার ছিল?

গুরু মহারাজ:– না-না__ তা কেন হবে ? উনি ছিলেন কেরালার মানুষ । ঋষি শৃঙ্গ থেকে ঋষ্যশৃঙ্গ_ ব্যাপারটা বুঝেছো!! কেরালার শৃঙ্গেরী এলাকার লোক ছিলেন উনি। আচার্য শঙ্কর ভারতবর্ষের চতুষ্প্রান্তে যে চারটি মঠ নির্মাণ করেছিলেন_ তার মধ্যে দক্ষিণভাগের মঠটির নাম হোলো শৃঙ্গেরী মঠ। আর তুমি যে বললে— ‘মুনি বা ঋষি’– ওইরকম বোলো না। কারণ ‘মুনি’ বলতে যিনি মনকে নিয়ন্ত্রণ করেছেন। এই অবস্থাতেই মানুষ ঠিকঠিক মৌন হোতে পারে, চরম মুখরতা-তেও তিনি মৌন। অপরপক্ষে ঋষি হোলেন তাঁরা__যাঁরা জ্ঞানের চরমভূমিতে পৌঁছে গেছেন। যাঁদের জন্ম-জন্মান্তরের অজ্ঞান-অন্ধকার দূরীভূত হয়েছে, যাঁরা (সাধনার দ্বারা) আজ্ঞাচক্রে স্থিত হয়েছেন।
জানো, সাধুসন্তদের পরিচয় অনেক সময় তাদের নিজের নিজের জন্মস্থান অনুযায়ীও দেওয়া হয়ে থাকে। পরে সেইটাই তাঁর নামের সাথে জুড়ে যায় বা সেইটাই তাঁর নাম হয়ে যায়। আমি যখন ঋষিকেশ কৈলাস আশ্রমে থাকতাম_ তখন ওই অঞ্চলে তিন চার জন পরমানন্দ ছিল। এই জন্য একজনকে ‘বড় পরমানন্দ’, অন্য একজনকে ‘ছোট-পরমানন্দ’_ এইরকম ভাবে পরিচয় দেওয়া হোতো। আমার যেহেতু পশ্চিমবঙ্গের বর্ধমান জেলায় বাড়ি_ তাই আমাকে ওখানকার সাধুরা বলতো_”পরমানন্দ বর্ধমানওয়ালা” ! পরবর্তীতে দেখতাম ‘পরমানন্দ’ নামে না ডেকে, ওখানকার অনেকেই আমাকে শুধু ‘বর্ধমানবালে’_ বলে ডাকতেন।
অবশ্য সাধুদের পরিচিতি অন্যভাবেও হয়! যেমন হিমালয় অঞ্চলের একজন বিখ্যাত সাধু ছিলেন ‘কালী কমলি বাবা’। ওনার এই নামে পরিচিতিটি এসেছিল__ শুধুমাত্র সব সময় উনি একটা কালো কম্বল গায়ে জড়িয়ে রাখতেন বা কাঁধে ফেলে রাখতেন_ শুধুমাত্র সেইজন্য ! তাহলে ব্যাপারটা বুঝতে পারছো তো_ যে প্রচলিত কোনো নামকরণ দেখে কখনোই তুমি বুঝতে পারবে না যে, ঐ সাধুটির প্রকৃত নাম, গুরুদত্ত নাম বা পিতৃ দত্ত নাম কি ছিল!!