গুরুমহারাজ : ~ না – না ! ওটা ভালো না হয়ে আরো খারাপ হবে ৷ এতে পড়াশোনা কম করা ছেলেগুলির মনে আঘাত লাগবে, এর ফলে ওরা reaction করতে পারে ! সুতরাং এটা কোনো solution নয় ! আশ্রমে যারা ছেলেদের পড়াশোনার দায়িত্বে রয়েছে_বিশেষতঃ একেবারে শিশুশ্রেণীর দায়িত তাদের কি করতে হবে জানিস তো– যে কোনো একটাই বিষয়ের বই নিয়ে, এক একজন শিক্ষক এক একটা ক্লাসের ছাত্রদের পড়াবে। ওই বিষয়ের একটা chapter-ই সারাদিনই ওরা পড়াবে -তারপর ওখান থেকেই প্রশ্ন করবে এবং ছেলেরা উত্তর দেবে ৷ আবার ছেলেরা জিজ্ঞাসা করবে – শিক্ষকেরা উত্তর দেবে ! এইভাবে এক এক দিনে একটা বিষয়ের এক একটা chapter-এর পড়া তৈরি হয়ে যাবে । এতে করে কি হবে জানিস__আলাদা করে ছাত্রদের আর কোনো পড়াশোনা করতে হবে না ৷ ছাত্রদেরকেও কোনো হীনমন্যতায় ভুগতে হবে না !
জিজ্ঞাসু :~আগেকার সময়ে যাতায়াতের খুবই অসুবিধা ছিল। আমরা ছোটবেলায় খুব কষ্ট করে ৭/৮_মাইল হেঁটে স্কুলে গিয়ে লেখাপড়া শিখেছি। কিন্তু বর্তমানের উন্নত রাস্তাঘাট আর আধুনিক যন্ত্র-যান আবিষ্কার হওয়ায় যাতায়াতের কতো সুবিধা হয়েছে – তাই না গুরুমহারাজ ?
গুরুমহারাজ : ~ হ্যাঁ, তা হয়েছে, কিন্তু তার সঙ্গে সঙ্গেই এসেছে দূষণ ! যন্ত্রের আবিষ্কারের সঙ্গে সঙ্গে মানুষের জীবনযাত্রার উন্নতি হয়েছে ঠিকই কিন্তু এর ফলে nature-এর সহজতা নষ্ট হয়েছে। শব্দ দূষণ, বায়ু দূষণ, মাটি দূষণ, জল দূষণ ইত্যাদি যতরকমের দূষণ সৃষ্টি হয়েছে, আর এর ফলে মানুষসহ সমস্ত জীব-গাছপালা সবাই ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে, সবাই তার নিজ নিজ সহজতা হারিয়ে ফেলেছে !
পূর্বে মানুষের দ্রুতগামী বা দূরপাল্লার যান বলতে ছিল ঘোড়া ! এটা ছিল natural, এর দ্বারা কোনো দূষণ ছড়াতো না ৷ তখনকার দিনে রাস্তাঘাট ছিল না, জল-জঙ্গলাকীর্ণ ভারতবর্ষ ! ফলে ঘোড়াই ছিল মানুষের যাতায়াতের একমাত্র মাধ্যম ৷ ঘোড়া মরুভূমি, পার্বত্যভূমি, জলাভূমি, বন-জঙ্গল ইত্যাদি সব স্থানের উপর দিয়েই ছুটতে পারে। এরা সহজে ক্লান্ত হয় না। দ্যাখো নিরামিষাশী হওয়া সত্ত্বেও কি সাংঘাতিক power ! এই জন্যেই তো কোনো যন্ত্রের শক্তি Horse power দিয়ে নির্ণয় করা হয়।
জলাভূমি বা জঙ্গলের উপর দিয়ে যাবার সময় সাপে কামড়ালেও ঘোড়ার কোনো ক্ষতি হয় না ! ছোটখাটো নদী-নালা লাফ দিয়ে পার হয়ে যেতে পারে ঘোড়া ৷ পাহাড়ি এলাকাতেও ঘোড়া সমান দ্রুতবেগে ছুটতে পারে বা বাধাও টপকাতে পারে ৷ আগেকার দিনে মানুষ ঘোড়ায় করে শুধু যাতায়াতই করতো না – যুদ্ধক্ষেত্রেও ঘোড়া একটা বড় ভূমিকা পালন করতো !
তাছাড়া ঘোড়া ভীষণ প্রভুভক্ত প্রাণী ৷ এমন বহু record রয়েছে – যেখানে প্রভুকে নিশ্চিত বিপদ থেকে ঘোড়া তাকে রক্ষা করে বাঁচিয়ে নিয়ে এসেছে !
আমার পূর্ব-পূর্ব জীবনের অভিজ্ঞতা রয়েছে ঘোড়ায় চড়ার ! তাই এই শরীরে আমি যেদিন প্রথম ঘোড়ায় চেপেছিলাম, আমার কোনো অসুবিধাই হয়নি। সহিসের কাছ থেকে যখন ঘোড়াটিকে নিয়ে আমি সেটার পিঠে চাপলাম – তখন সহিস লাগাম ধরে ধরে আমাকে কিছুটা নিয়ে গেল এবং কি করে ঘোড়ায় চাপতে হয়_ কি করে ঘোড়া ছোটাতে হয় – এইসব আমাকে শেখাচ্ছিল। ওর কথা শুনতে শুনতেই আমি সহিসের কাছ থেকে লাগামটা ছাড়িয়ে নিয়ে দুহাতে লাগাম ধরে এবং দু-পায়ের টো-য়ে করে ঘোড়াটির পেটের দু-পাশে জোরে টোকা মারতেই – ঘোড়াটি আচমকা জোরে ছুটতে শুরু করলো ! আমি মাঝে মাঝেই ওই একই কায়দা প্রয়োগ করছিলাম অর্থাৎ ঘোড়াটির পেটের দু-পাশে টোকা মারা এবং লাগামের দড়িটা দুইহাতে নাড়ানোর কাজটা চালিয়ে যাচ্ছিলাম ! এর ফলে ঘোড়াটি উর্ধ্বশ্বাসে সামনের দিকে ছুটতে লাগলো, আর বেচারা সহিস খানিকক্ষণ পিছু পিছু ছুটে এসে আর আমার পাত্তা করতে পেরে হতাশ হয়ে মাথায় হাত দিয়ে ওইখানেই বসে পড়েছিল!
অনেকদূরে যাবার পর যখন মনে হোলো এইবার ফেরা দরকার _তখন আমি লাগাম পিছন দিকে শক্ত করে টেনে ধরে ঘোড়াটাকে থামালাম । ঐ রকম গতিশীল অবস্থায় আচমকা থামার জন্য ঘোড়াটি একেবারে সামনের পা দুটো উপরে তুলে “চিঁ-হিঁ-হিঁ-হিঁ-“করে ডেকে উঠেছিল। এরপর ওটাকে পিছন দিকে ঘুরিয়ে কদমে ছুটিয়ে ফিরিয়ে নিয়ে এলাম ৷
আমাকে সুস্থ শরীরে ফিরতে দেখে সহিস উঠে দাঁড়িয়ে পড়েছিল। আমার যাওয়া এবং আসার পৃথক কায়দার ব্যাপারটা ও ভালোভাবে লক্ষ্য করেছিল । তারপর আমাকে বললো – “আপনি আগে বলবেন তো_ যে, আপনি ঘোড়ায় চাপার ব্যাপারে এতোটা expert ! প্রথমটায় আপনি যেভাবে ঘোড়া ছোটালেন – আমি তো ঘাবড়ে যাচ্ছিলাম যে আপনি না পড়ে যান ! কিন্তু যেভাবে আপনি running ঘোড়াকে একেবারে সামনের পা তুলিয়ে দাঁড় করালেন এবং কদমচালে ফিরে আসলেন _তখনই আমি বুঝতে পারলাম আপনি একজন পাক্কা ঘোড়সাওয়ার ৷”
আসলে ঘোড়া ছোটানোর চাইতেও ছুটন্ত ঘোড়াকে দাঁড় করানো এবং তাকে একটা নির্দিষ্ট rhythm-এ(কদমে) ছোটানোটাই প্রকৃত expert-এর কাজ !
