জিজ্ঞাসু–ঠিকমতো জপ করতে হলে, প্রতিদিন কত জপ করা উচিত ?

গুরুমহারাজ–তোমাদের কি বলব বল! যিনি অনন্ত তাঁকে সংখ্যা দিয়ে কি করে বাঁধবে! সংখ্যা গুণে কি জপ করা হয় ? এটা করতে গেলে সংখ্যা গোনাতেই মন নিবদ্ধ থাকবে, জপে নয়। অনেকসময় কোন গুরু হয়তো সংখ্যা নির্দিষ্ট করে জপ করতে বলেন কিন্তু তা তমঃপ্রধান ভক্তদের জন্য। জপে চিত্তশুদ্ধি হয়। জপের পর ধ্যান করতে হয়। চিত্তশুদ্ধি না হলে মন একাগ্র হয় না, তাই ধ্যানও জমে না। এইজন্যই বলা হয় জপ-ধ্যান অর্থাৎ আগে নিবিষ্টচিত্তে জপাভ্যাস, পরে নিরুদ্ধচিত্ত হবার জন্য ধ্যানাভ্যাস। তন্ত্রে তিনপ্রকার জপের কথা বলা হয়েছে, বাচিক অর্থাৎ উচ্চারণ বা শব্দ করে জপ, উপাঙ্গিক অর্থাৎ যা নিঃশব্দে কিন্তু ঠোঁট নড়ছে আর তৃতীয়ত মানসিক অর্থাৎ মনে মনে। সত্ত্বপ্রধান ব্যক্তিরা শেষেরটা করে থাকেন। শ্বাসে-প্রশ্বাসে জপ করাই সবচেয়ে ভালো উপায়। তুমি সবকাজই করছ কিন্তু জপ হয়ে চলেছে। অভ্যাস হয়ে গেলে এমন হবে যে, তুমি বেশ বুঝতে পারবেনিদ্রার মধ্যেও জপ হয়ে চলেছে। সারাদিনরাতে মানুষ যে ২১৬০০ বার নিঃশ্বাস-প্রশ্বাস ত্যাগ বা গ্রহণ করে, তখন দেখবে প্রতিদিন ঐ সংখ্যায় জপ হয়ে চলেছে। জপ করছো বলে কি কাজ করবে না, তাও করবে, কিন্তু শতকরা ২০ ভাগ মন কাজে রাখবে আর ৮০ ভাগ মন ঈশ্বরে সমর্পিত থাকবে। নিয়মিত নিষ্ঠা সহকারে জপ করলে মানুষের বহুবিধ মঙ্গল-সাধিত হয়। অন্যকিছু না হলেও মানুষের মস্তিষ্ককোষ- গুলির কাজ হয়, মন বিষণ্ণতা ভাব কাটিয়ে উঠে প্রফুল্ল হয়। তবে অবধূত-ক্রিয়াযোগ অনুযায়ী জপ করলে দ্রুত মস্তিষ্ককোষের বিকাশ ঘটে। মস্তিষ্কের প্রষুপ্ত কোষগুলি দ্রুত ক্রিয়াশীল হয়ে ওঠে, ফলে এক জন্মেই বহু জন্ম-জন্মান্তর পেরিয়ে যাওয়া যায়। তবে শ্বাসে-প্রশ্বাসে জপ করতে গিয়ে অনেকে নিজে নিজেই প্রাণায়াম করতে যায়, এটা কিন্তু মোটেই ঠিক নয়। কারণ গুরু ছাড়া অর্থাৎ যোগসিদ্ধ গুরু ছাড়া প্রাণায়াম অভ্যাস করা উচিত নয়। এটা মাষ্টারমশাই ছাড়া বই-এর বিদ্যা আয়ত্ত করার মতই দুরূহ ব্যাপার। আর নিজে নিজে প্ৰাণায়াম সিদ্ধ হওয়ার ব্যাপারটা মা ছাড়া সন্তান উৎপন্ন হওয়ার মতই অসম্ভব।