জিজ্ঞাসু:—রামমন্দির নিয়ে বর্তমানে(১৯৯০-৯১ সাল) খুব ঝামেলা চলছে—এ ব্যাপারে আপনার কি মত?

গুরুমহারাজ :– আমি কোনো মতবাদে বিশ্বাসী নই। কারণ আমি জানি যে কোনো মতবাদের ‘বাদ’ থেকেই বিবাদ উপস্থিত হয়। তবে আমি ঘটে চলা বর্তমান ঘটনা ও পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা করতে পারি। দ্যাখো, পৃথিবী গ্রহে ‘মানুষ’ নামক এই জীবটি যতদিন না ঠিক ঠিক মানুষ হয়ে উঠতে পারছে_ ততদিন সমাজে বাদ-বিবাদ-ঝগড়া-মারামারি চলতেই থাকবে। কোনো না কোনো issue-কে কেন্দ্র করে গোটা পৃথিবীতেই লড়াই চলতেই থাকবে। ভারতে হয়তো হিন্দু-মুসলমান সমস্যা বা সাম্প্রদায়িক issue নিয়ে লড়াই হয় কিন্তু পৃথিবীতে যে সমস্ত Muslim conuntry-গুলি রয়েছে, সেখানেও বিভিন্ন গোষ্ঠীর মধ্যে অশান্তি রয়েছে, বিভিন্ন ধরণের মত-পার্থক্য নিয়ে নিজেদের মধ্যে অর্থাৎ মুসলিমদের মধ্যেই লড়াই হোচ্ছে ! তাহলে কি বলবে বলো ?

বর্তমানে বিশ্বের communist দেশগুলো ভেঙ্গে যাচ্ছে আর সেখানে বিচ্ছিন্নতাবাদ মাথা চাড়া দিচ্ছে, ফলে সেই সব দেশগুলিও অশান্ত _নিজেরাই মারামারি করে রক্তপাত ঘটাচ্ছে। ইউরোপ বা আমেরিকা মহাদেশের খ্রীষ্টান-প্রধান দেশগুলিতে ক্যাথলিক-প্রোটেস্ট্যান্ট সংঘাত রয়েছে, চামড়ার রঙ কালো বা সাদা—এই sentiment নিয়ে প্রচণ্ড লড়াই হয় ঐ সব দেশে ! দু-দুটো মহাযুদ্ধ‌ই হয়ে গেল শুধুমাত্র মানুষের sentiment-কে কেন্দ্র করে ! তাই বলছিলাম যে, পৃথিবী গ্রহে যেখানে শিক্ষায়-দীক্ষায়, বিজ্ঞান-প্রযুক্তিতে মানুষ এতোটা উন্নত হয়েছে _তবু এই সমস্ত ঘটনা ঘটা যেমন লজ্জাজনক তেমনি দুঃখজনকও বটে। সুতরাং ঐ সব বিষয়ে উন্নত হোলে কি হবে _পৃথিবীগ্রহের মানুষের চেতনা এখনও অনেক নিচের স্তরে রয়ে গেছে, আর তাই মানুষে মানুষে এই লড়াই-সংঘাত-রক্তপাত। মানুষের অন্তরচেতনার যদি বিকাশ না হয় অর্থাৎ মানুষ যদি জড়মুখী থেকে চৈতন্যমুখী না হয় _ তাহলে আগামীদিনে পৃথিবীতে আরও রক্ত ঝরবে, কোনোভাবেই আটকানো যাবে না।

এই ধরো না যেমনটা তুমি বলছিলে–অযোধ্যার “রামমন্দির”-কে কেন্দ্র করে দুটো গোষ্ঠীতে দীর্ঘদিন ধরে লড়াই হয়ে চলেছে। এতে হাজার হাজার মানুষ মারা গেছে, সাধু- সন্তই মরেছে প্রায় কয়েক হাজার। কিছুদিন আগে যে ঝামেলাটা হয়েছিল _তার ফলে নির্মোহী মঠ আক্রান্ত হয়েছে, বাংলাদেশে প্রাচীন হিন্দুমন্দির নষ্ট করার চেষ্টা হয়েছে, ফলে ওখানেও কিছু লোক মারা গিয়েছে। যতদিন মানুষ এইসব issue নিয়ে লড়াই করবে, রক্তপাত ঘটাবে _ ততদিনই পৃথিবী গ্রহের দুর্ভাগ্য বলতে পারো।

মানুষের মধ্যে মনুষ্যত্বের বিকাশ ঘটলে তবেই এই সব বন্ধ হবে—তার আগে নয়। আর ‘মনুষ্যত্বের বিকাশ’ ঘটে বিবেকের জাগরণ ঘটলে। মানুষের বিবেকের জাগরণ ঘটে সাধুসঙ্গে-সৎসঙ্গে ! তাই তোমরা খুব করে সাধুসঙ্গ করবে _তাহলেই তোমরা তোমাদের জীবনের বহু ঝগড়া-ঝামেলা-অশান্তির হাত থেকে বাঁচতে পারবে।।