গুরুমহারাজ :— দ্যাখো, হিমালয় হোচ্ছে পৃথিবীগ্রহের মস্তিষ্ক। তাই কত রহস্য যে লুকিয়ে আছে ওর ভিতরে_ তা কখনোই মানুষ জানতে পারবে না। মনে রাখবে– হিমালয় যতদিন থাকবে, পৃথিবীগ্রহ ততদিনই থাকবে আর সভ্যতাও টিকিয়ে রাখবে এই হিমালয়ই ! হিমালয়কে কেন্দ্র করেই “গুরুকুল” রয়েছেন, যাঁরা পৃথিবীগ্রহের ভাল-মন্দ নিয়ন্ত্রণ করেন!
আধুনিক পৃথিবীতে বিজ্ঞান,প্রযুক্তি ইত্যাদি বিভিন্ন ক্ষেত্রে যখন কোনো কিছু আবিষ্কার হয় তখন তোমরা ভাবো তো যে__ ওইটা নতুন আবিষ্কার, এই দেশ এইটা করলো, ওইদেশ ঐটা করলো—এসব কিন্তু ঠিক নয়। পৃথিবী গ্রহে যা কিছু ভাল কিছু হয়ে থাকে সে সমস্ত ঐ “গুরুকুল”-এর দ্বারাই নিয়ন্ত্রিত হয়। কোনো দেশের কোনো বিজ্ঞানী বা প্রযুক্তিবিদ অথবা কোনো দার্শনিক হয়তো বর্তমান সমাজের জন্য নতুন কিছু আবিষ্কার করছেন বা নতুন কিছু চিন্তা দিচ্ছেন—সে সবই নির্দিষ্ট হোচ্ছে ঐ “গুরুকুল” দ্বারাই। সমাজের প্রয়োজনে কোন মনীষীদের কোথায় জন্মগ্রহণ করানো হবে এবং তাঁদের দ্বারা কি মানবকল্যাণ হবে_ সেই সমস্ত কিছুও ওনাদের দ্বারাই নির্দিষ্ট হয়। এমন কথাও তোমাদের বলছি শোনো__ বর্তমান পৃথিবীর অনেক রাষ্ট্রনায়ক যাঁরা কেউ কেউ ভাল কিছু করছেন, আবার কেউ হয়তো ধংসাত্মক দিকে তাদের দেশকে নিয়ে যাচ্ছেন__ এঁরা সবাই ওখানকার প্রেরিত লোক !
তবে, তোমাদের কাছে এইসব কথা বললাম বটে কিন্তু তোমাদের এই সমস্ত কথা বিশ্বাস করা মুস্কিল, কারণ তোমরা অর্থাৎ আধুনিক শিক্ষিতরা সবসময়েই প্রত্যক্ষ প্রমাণ চাও ! কিন্তু এটা তোমাদের ভাবা উচিত যে, সব জিনিস চোখে দেখা যায় না, সব কিছু বুদ্ধি দিয়েও বিচার করা যায় না। তাছাড়া পরমেশ্বর তো ‘অবাঙমনসোগোচর’—তাহলে সেই পরমেশ্বরের সীমা-পরিসীমা কি মানুষ কোনোদিন পাবে ? কখনোই তা পাবে না!
হিমালয়ের বিভিন্ন চূড়ায় মানুষ পর্বতাভিযানে যায়, এখন তো Mountaineering Course করানো হোচ্ছে, ট্রেকিং-এর নানা Institute হয়েছে। অভিভাবকরা ছেলেমেয়েদের ঐসব Training School-এ ভর্তিও করছে। কিন্তু সাধুরা যে পথে হিমালয়ের গভীরে প্রবেশ করেন, সে পথ কখনও সাধারণ মানুষ জানতে পারবে না— সেটা সাধুদের নিজস্ব, তাঁদের একান্ত গোপন ব্যাপার !
হিমালয়ের অভ্যন্তরে, গিরি-কন্দরে যাবার সাধুদের যে সমস্ত পথ রয়েছে __তার আগে কোনো সাধুসন্তের আশ্রম থাকে । যেখানে বিভিন্ন ধরণের যোগাভ্যাস শেখানো হয়, যাতে অতি উচ্চতায় —অতি শীতে শরীর রক্ষা করা যায়। এছাড়া অনাহারে বহুদিন কাটানো, বরফের উপর দিয়ে ক্রমাগত চলা অর্থাৎ যেসব কারণে শরীর জীর্ণ হোতে পারে—সেই সব থেকে কি করে শরীরকে রক্ষা করা যায় তার সমস্ত রকম ট্রেনিং দেবার ব্যবস্থা আছে। এসব পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হোলে তবেই তুমি High Altitude এ যেতে পারো, না হোলে আটকে দেওয়া হয়।
আমাকে যাঁরা নিয়ে গিয়েছিলেন(বালক গুরুজীর সাথে দু’জন নাগা সন্ন্যাসী ছিলেন) তাঁরা গণ্ডকী নদীর উৎসপথ ধরে ধরে হিমালয়ের একদম ভিতরে আমাকে ঢুকিয়ে দিয়েছিলেন। তবে সে রাস্তা বড়ই দুর্গম, পিচ্ছিল। একদিকে অতল খাদ অন্যদিকে খাড়া পাহাড় ! ঐ অঞ্চলে গণ্ডকী শীর্ণ কিন্তু তার প্রবল গতি ! ঐ প্রবল জলধারার শব্দ শুনতে শুনতে পাথরের দেওয়াল ধরে ধরে মাকড়সার মতো অগ্রসর হোতে হচ্ছিলো। মনঃসংযোগের এতটুকু অভাব হোলেই নির্ঘাত মৃত্যু !!
