[ “হাতি কেন পাগল হয় ?” – এই জিজ্ঞাসার উত্তরের শেষাংশ ]
…….. পুরুষের শুক্রাণু তৈরি করার জন্য প্রয়োজন হয় Potential Energy-র যা মস্তিষ্ক থেকে সরবরাহ হয়। ফলে কোনো পুরুষের অতিরিক্ত শুক্রাণু তৈরি করা মানেই শরীরের Potential Energy- র loss বা মস্তিষ্ক কোষের ক্ষতি এবং শুক্র যে সপ্ততত্ত্বে গঠিত অর্থাৎ খাদ্যরস, রক্ত, মাংস, বসা বা চর্বি, অস্থি, মজ্জা, বীর্য বা শুক্র এই সবগুলিরই পর্যায়ক্রমে ক্ষতি। কিন্তু কোনো কারণে বা কোনো বিশেষ উপায় অবলম্বন করে যদি পুরুষ এই loss-কে রোধ করতে পারে_ তাহলেই সাংঘাতিক ব্যাপার হয়ে যায়। জীবজগতেই কত চমকপ্রদ ঘটনা ঘটে তো মনুষ্যজগতে আরও যে কত কি ঘটবে তা আর বলার অপেক্ষা রাখে না ! কামবিকৃতি থেকে যেমন হাতি মদমত্ত হয়ে ধংসাত্মক হোতে পারে, তেমনি কাম জয় করলে তার মস্তিষ্কে গজমোতি জন্মায়, মানুষের কাছে যার মূল্য অনেক ! ‘সাপের মাথায় মণি আছে’ বলে যে প্রবাদ রয়েছে_ এটারও তৈরি হবার ঐটাই কারণ। হরিণের পেটে কস্তুরী জন্মে ঐ একই কারণে। তাহলে বুঝতে পারছো ঐ একটা জিনিসের সংরক্ষণে পশুজগতে মণি-মুক্তা আদি রত্ন সৃষ্টি হোচ্ছে, তাহলে মানুষ যদি ওটা সংরক্ষণ করতে পারে তো মানুষও মানুষরতন হয়ে যাবে! আমি বলে দিচ্ছি শোনো — ১২ বছর যদি কেউ বীর্যধারণ করতে পারে তাহলে সে সমাজের বুকে একটা দাগ রেখে যাবে। যদি খারাপ কিছুও হয় তাহলে পৃথিবীর মধ্যে খারাপতমদের একজন হবে, আর যদি ভালো হয়- সৃজনাত্মক হয়, তাহলে মানুষের কাছে কালজয়ী হিসাবে চিহ্নিত হয়ে থাকবে।
কিন্তু জীবের পূর্ব পূর্ব জন্মের সংস্কারজনিত স্বাভাবিক দুর্বলতার কারণে তারা এটা করতে পারেনা! তবে নিশ্চয়ই সে চেষ্টা করতে পারে, এর জন্যই তো অভ্যাসযোগ বা যোগাভ্যাস। একদিনে না হোক ধীরে ধীরে হবে। ‘হরিসে লগন লাগাতে রহরে ভাই। তেরি বনত বনত বনি যাই।’ তাই না ? বনতে বনতে একদিন ঠিক বনে যাবে। সেইজন্য নিয়মিত ধ্যান-জপ, আসন-প্রাণায়াম করে যাও, ঠিক দেখবে সুফল ফলতে শুরু করেছে। উদ্বিগ্ন হয়ো না—তাড়াহুড়ো কোরো না, গুরুবাক্যে নিঃসংশয় হয়ে লেগে থাকো_ দেখবে গুরু ঠিক তোমাকে পারে তুলে নিয়েছেন।
যাইহোক যা বলছিলাম_ সেই কথায় ফিরে আসি। হনুমান পরম্পরাতেও দেখেছি আমার প্রবর্তিত সন্ন্যাস পরম্পরা রয়েছে। জঙ্গলে হনু এবং বানরদের যখন বাচ্ছা হয় তখন ওদের পালের গোদা অপেক্ষা করে থাকে, যদি পুরুষ বাচ্ছা হয় তো অনেক সময় তাদের মেরে ফেলে। অন্য পশুদের মধ্যেও এটা আছে কিন্তু এদের মধ্যে এই ব্যাপারটা যেন খুব বেশী। কিন্তু মায়ের কাছে সন্তানই বড়, ছেলে না মেয়ে মা কি দেখে ! ফলে প্রসবের ঠিক আগে মা হনু বা বানর নিজে গভীর জঙ্গলের মধ্যে চলে যায় অর্থাৎ একা হয়ে যায়। অনেক সময় সাথে দু-একজন মহিলা বানর ধাত্রী হিসাবে থাকে। ওদের মধ্যেও নানারকম বিশেষজ্ঞ আছে। ধাত্রী আছে, ডাক্তার আছে—সে কথায় পরে আসছি। হরিদ্বারে আমার নিজের চোখে দেখা বানরদের ঘটানো একটা ঘটনা তোমাদের বলবো_তাহলেই আমার ঐ কথাগুলির সত্যতার প্রমাণ পাবে।
তবে এখন যেটা বলছিলাম সেটাই আগে শেষ করি—বেশিরভাগ সময়ে গর্ভবতী হনুমান প্রসবের সময় একটি গাছের উপরে উঠে যায়, যেখানে অনেক ছোটো ছোটো ডাল রয়েছে। সাধারণত অন্যান্য পশু বা মানুষের প্রসবের সময় বাচ্ছার মাথা বা পা বেরোয় কিন্তু হনুমান বা বানরের প্রথম বেরোয় হাত দুটো। আর মজার ব্যাপার—হাত দুটো বেরিয়েই ঐ ছোট ছোট ডাল একটা ধরে ফেলে, আর মা বানরটা সামনের দিকে মারে এক লাফ। ব্যস্ প্রসব হয়ে গেল। প্রসব হয়েই বাচ্ছাটা ঝুলতে থাকে, সদ্যোজাত হয়েও কিন্তু ওরা হাত থেকে ডাল ছাড়ে না। তবে সঙ্গে সঙ্গেই মা-টি বাচ্ছাকে কোলে করে নিয়ে প্রথমেই দেখে নেয় বাচ্ছাটি নারী না পুরুষ। যদি নারী হয় তাহলে দলে ফিরে যায়, আর যদি পুরুষ বাচ্ছা হয় তাহলে তাকে নিয়ে মা বানর গভীর জঙ্গলে একা একা থেকে যায় বেশ খানিকটা সময় অর্থাৎ বড় না হওয়া পর্যন্ত । তারপর সে বাচ্ছাটিকে ঐ জঙ্গলে একা একা ছেড়ে দেয় অথবা সন্ন্যাসীদের দলে দিয়ে আসে। তারাই ওটিকে বড় করে।।