জিজ্ঞাসু : — লাউডগা সাপটির বিষের ক্রিয়া আপনার শরীরে হয়তো হয়নি কিন্তু অন্য কারো শরীরে তো হোতেও পারে ?
গুরুমহারাজ : – বললাম তো লাউডগা সাপ বিষহীনদের দলে পড়ে। তবে একটা কথা ঠিকই বলেছো আমার শরীরে বিষের তেমন effect হয় না! অনেক সময় দেখেছি শরীর যে কোনো বিষকে ঘা বা ফোড়ার আকারে বাইরে বের করে দেয়। সিগারেট, চা বা কোনো নেশার দ্রব্যে যে উপক্ষার জাতীয় বিষ থাকে, তাও আমার শরীরে কোনো ক্রিয়া করতে পারে না। আবার বিভিন্ন বিষাক্ত কীট, পতঙ্গ, সরীসৃপের যে অ্যাসিড জাতীয় বিষ থাকে তাও আমার শরীরে ক্রিয়াশীল হয় না। আমি পরীক্ষামূলকভাবে একবার এক সাধুর কাছ থেকে অনেকটা ‘হেরোইন’ নিয়ে খেয়ে নিয়েছিলাম। কিছুটা সময় কেটে যাবার পরও আমার কিছু হয়নি দেখে সাধুটি বিস্মিত হয়ে আমাকে জিজ্ঞাসা করেছিলেন, ‘আপনি মানুষ তো ! নাকি অন্য কিছু !” একথা বলার কারণ কি তা জানতে চাইলে উনি বললেন, ‘যেটা আপনি খেলেন, আপনি কি জানেন ঐ জিনিষটা কি ? ওটা হোলো হেরোইন ! একজন বিদেশী আমার কাছে ওটা রেখে গিয়েছিল। যে পরিমাণ আপনি খেলেন, তার ১/১০ ভাগ খেলেই একজন Addicted ব্যক্তিরও নেশা হবার কথা ! কিন্তু এতোটা পরিমাণে হেরোইন খেয়েও আপনি স্বাভাবিকভাবে কথা বলছেন কি করে ?’ আমি আমার শরীরের বৈশিষ্ট্যের কথা ওনাকে বোঝালাম। এরপরে ওনার সাথে আমার বেশ ভাব জমে গিয়েছিল।
যাইহোক এইভাবে আমি দেখেছি আমার শরীরে কোনো রকম নেশার দ্রব্যের কোনো ক্রিয়া হয় না। রায়নার জগাদার সাথে Challenge করে একবার কয়েক লিটার Alcohol খেয়ে নিয়েছিলাম, তাতেও শরীরে কোনো প্রভাবই পড়েনি। পরে যখন বমনধৌতি করে ওটাকে বের করে দিলাম, তখন দেখলাম বড় বালতির প্রায় ১ বালতি হয়ে গেল। আমাকে বিষধর সাপেও কয়েকবার কামড়েছিল কিন্তু কোনোসময়েই কিছু হয়নি। একবার বনগ্রাম আশ্রমে আমার বিছানায় বালিশের পাশে একটা চন্দ্রবোড়া সাপ গরম পেয়ে শুয়েছিল। পাশ ফিরতেই ওর গায়ে চাপ পড়ায় ঘাড়ের কাছে কামড়ে দিল। এত তীব্র বিষের জ্বালা যে কি বলবো ! ঠিক সেই সময় পাশের গ্রাম কান্টিপুরের রাস্তায় বরসহ একদল বরযাত্রী বিয়ের বাজনা বাজিয়ে আনন্দ করতে করতে যাচ্ছিলো। ঐ অবস্থাতেই আমি মনে মনে ভাবছিলাম_ এই রকমই হয়, একই সময়ে কেউ আনন্দ করে, আবার কেউ জ্বালা সহ্য করে! জানো তো সেইজন্য বারবেলা, কালবেলা, খারাপ সময় এইগুলি সার্বজনীন নয়। কারো ক্ষেত্রে খারাপ ফল দিলেও হয়তো দেখা যাবে কারও ক্ষেত্রে সেই সময়টাই ভালো ফল দিলো। যাইহোক পরের দিন আমার সাপে কেটে যন্ত্রণা পাওয়ার কথা যখন ন’কাকাকে বলতে গেলাম, ভাবলাম ন’কাকা বোধহয় সমব্যথী হয়ে দুঃখপ্রকাশ করবে! ও মা—তা না করে ন’কাকা বললো, ‘সাপের মাথায় কতো নেচেছো, এখন সাপের বিষের জ্বালা ভোগ করো !”
সাধারণত গোক্ষুরা প্রজাতির যে সমস্ত সাপ রয়েছে, তারা সবাই ফণাধর। এদের বিষ খুবই তীব্র। মানুষের শরীরে এই বিষের ক্রিয়া কেমন জানো তো, ঠিক যেন মনে হবে—একটি জ্বলন্ত শলাকা শরীরের চামড়া বা মাংসের ভিতর দিয়ে pass করানো হোচ্ছে। বুঝতে পারছো কি–পীড়িত ব্যক্তির 'হু-হু' করে জ্বালা অনুভব হবে, যাকে বলে burning pain! আর চন্দ্রবোড়া সাপে কামড়ালে প্রথমটায় জ্বালা করে, পরে স্থানটা অবশ হয়ে যায়। এক ধরণের লতাগাছ রয়েছে(যার একটা বৃন্তে পাঁচটা পাতা থাকে ), ঐ লতার ১ ফুট মতো পাতাসমেত বেঁটে এক গ্লাস জলে গুড় দিয়ে খাইয়ে দিলে সাপের বিষের ক্রিয়া—যা শরীরের উপর পড়ে, তাকে প্রাথমিকভাবে রুখে দেওয়া যায়। এটা গরু, মোষ, মানুষ সবার উপরেই প্রয়োগ করা যায় ! এতে যে কাজ হয় সেটা কিন্তু পরীক্ষিত সত্য। আমাদের অখন্ডানন্দ(মানিক মহারাজ) এবং অভয়ানন্দ(অমূল্য মহারাজ) বাঁকুড়া অঞ্চলে অনেক রোগীর উপর এই লতার প্রয়োগ করে ভালো ফল পেয়েছে।।
