গুরুমহারাজ :–দ্যাখো, সাধারণ মানুষ যেভাবে স্বপ্ন দেখে_ সেই ভাবে আমি জীবনে কখনো স্বপ্ন দেখিনি ! তার কারণ হোলো__জাগ্রত, স্বপ্ন ও সুষুপ্তি এই তিন অবস্থাতেই আমার চেতনা সদা জাগ্রত থাকে। ছোটবেলায় বা পরবর্তীকালে আমার যতবার সবিকল্প সমাধি হয়েছে তাতে আমার শরীরে কোন প্রাণস্পন্দন থাকতো না বা শরীর সংজ্ঞাহীন হোতো। কিন্তু চেতনা কখনই অবলুপ্ত হয়নি। এইজন্যেই তো সেইসব অবস্থার কথা আমি তোমাদের বলতে পারছি। এমনকি নির্বিকল্প অবস্থার কথাও আমি পরবর্তীতে সকলকে (তখন ওখানে যারা উপস্থিত ছিল, যেমন তৃষাণ, পুতুল মা, ন’কাকা প্রমুখরা) বলেছি। পরে তোমাদেরও কিছু কিছু বলেছি ! তাই বলার জন্য অনেক সময় বলতে হয়_ ‘আমি অজ্ঞান হয়েছিলাম’, ‘বেহুঁশ হয়েছিলাম’, ‘ চেতনা বিলুপ্ত হয়েছিল’-ইত্যাদি, কিন্তু ঠিক ঠিক বেহুঁশ আমি কখনও হইনি।
যাইহোক,যা বলছিলাম __স্বপ্নাবস্থা আমার জীবনে বড় একটা কখনও আসেনি। তবে কিছুদিন আগে বনগ্রামে আমি তিনটে স্বপ্ন দেখেছিলাম। এক-একটা স্বপ্ন এক-এক রাত ধরে সারারাতই দেখেছিলাম।
প্রথম স্বপ্নটা ছিল—”আমি ভীষণ লড়াই করছি”। যুদ্ধক্ষেত্রে খোলা তরোয়াল হাতে খচাখচ্ বিপক্ষদের কেটে কুচিকুচি করে ফেলছি। যুদ্ধ করছি তো করেই চলেছি, ঘর্মাক্ত দেহ—রক্তাক্তও কিন্তু ক্লান্ত হচ্ছি না—শুধু বিপক্ষদের কাটতে কাটতে এগিয়ে চলেছি।
আমার দ্বিতীয় স্বপ্ন ছিল “আমার বিবাহ”! আমি বিয়ে করতে চলেছি বরবেশে_ মাথায় টোপর, বরের সাজ, ফুলের মালা গলায়! সঙ্গে বাদ্যি-বাজনা, আলোর রোশনাই, অনেকে চলেছে আমাদের সাথে আনন্দ করতে করতে। এ দৃশ্যটাও দেখেছিলাম সারারাত ধরে।
তৃতীয় স্বপ্ন আমি যেটা দেখেছিলাম, সেটা হোলো –“আমার মৃত্যু হয়েছে”(গুরু মহারাজ যখন কথাগুলি বলছেন তখন ১৯৯০/৯১ সাল)! আশ্রম প্রাঙ্গণে আমার মৃতদেহ শায়িত, ফুলের মালায় মালায় ঢাকা পড়ে যাচ্ছে আমার মুখ। প্রচুর মানুষ কাঁদছে, কত মানুষ আসছে—কত চলে যাচ্ছে! তাদের সবার চোখে জল !
জিজ্ঞাসু :— স্বপ্নগুলো হয়তো খুবই তাৎপর্যপূর্ণ, এগুলোর সঠিক বিচার কি হবে ?
গুরুমহারাজ :—- দ্যাখো, তোমরা যারা পণ্ডিত তারা এগুলো নিয়ে বিচার করো, তবে আমার জীবনে যা ঘটেছে সেটাই তোমাদের বললাম ! এগুলি বিচার-বিশ্লেষণ করার ভার তোমাদের।
