জিজ্ঞাসু : আপনার জীবনের তিনটি স্বপ্নের কথা বলছিলেন —সেগুলো কি যদি অনুগ্রহ করে বলেন ?
গুরুমহারাজ : আমি জীবনে কখনো স্বপ্ন দেখিনি জানো ! —কারণ জাগ্রত, স্বপ্ন ও সুষুপ্তি এই তিন অবস্থাতেই আমার চেতনা সদা জাগ্রত থাকে। ছোটবেলায় বা পরবর্তীকালে আমার যতবার সবিকল্প সমাধি হয়েছে তাতে আমার শরীরে কোন প্রাণস্পন্দন থাকতো না বা শরীর সংজ্ঞাহীন হত। কিন্তু চেতনা কখনই অবলুপ্ত হয়নি। যারজন্য সেসব অবস্থার কথা আমি তোমাদের বলতে পারছি। এমনকি নির্বিকল্প অবস্থার কথাও আমি তখন ওখানে যারা উপস্থিত ছিল, যেমন তৃষাণ, পুতুল মা, ন’কাকা ওদের বলেছি। পরেও তোমাদের কিছু বলেছি, এবার বলার জন্য অনেক সময় বলেছি, ‘আমি অজ্ঞান হয়েছিলাম’, ‘বেহুঁশ হয়েছিলাম’, ‘কি চেতনা বিলুপ্ত হয়েছিল’- কিন্তু ওরকম আমার কখনও হয়নি।
যাইহোক তবু স্বপ্নাবস্থা আমার জীবনে বড় একটা কখনও আসেনি। কিছুদিন আগে বনগ্রামে আমি তিনটে স্বপ্ন দেখেছিলাম। এক-একটা স্বপ্ন এক-এক রাত ধরে সারারাতই দেখেছি। প্রথম স্বপ্নটা ছিল—আমি ভীষণ লড়াই করছি। যুদ্ধক্ষেত্রে খোলা তরোয়াল হাতে খচাখচ্ বিপক্ষদের কেটে কুচিকুচি করে ফেলেছি। যুদ্ধ করছি তো করেই চলেছি, ঘর্মাক্ত দেহ—রক্তাক্তও কিন্তু ক্লান্ত হচ্ছি না—শুধু বিপক্ষদের কাটতে কাটতে এগিয়ে চলেছি।
আমার দ্বিতীয় স্বপ্ন ছিল আমার বিবাহ, আমি বিয়ে করতে চলেছি বরবেশে। মাথায় টোপর, বরের সাজ, ফুলের মালা গলায়, সঙ্গে বাদ্যি-বাজনা, আলোর রোশনাই, অনেকে চলেছে সাথে আনন্দ করতে করতে। এ দৃশ্যটাও দেখেছিলাম সারারাত ধরে।
আমি তৃতীয় স্বপ্ন দেখেছিলাম যে, আমার মৃত্যু হয়েছে। আশ্রম প্রাঙ্গণে আমার মৃতদেহ শায়িত, ফুলের মালায় মালায় ঢাকা পড়ে যাচ্ছে আমার মুখ। প্রচুর মানুষ কাঁদছে, কত মানুষ আসছে—কত চলে যাচ্ছে। সবার চোখে জল।
