জিজ্ঞাসু : আপনার হিমালয় ভ্রমণের কথা যদি অনুগ্রহ করে। বলেন তাহলে বড়ই কৃতার্থ হই ।

গুরুমহারাজ : দ্যাখো, হিমালয় হচ্ছে পৃথিবীগ্রহের মস্তিষ্ক। তাই কত রহস্য যে লুকিয়ে আছে ওর ভিতর তা কখনই মানুষ জানতে পারবে না। মনে রাখবে হিমালয় যতদিন থাকবে, পৃথিবীগ্রহ ততদিনই থাকবে আর সভ্যতাও টিকিয়ে রাখবে এই হিমালয়ই। ওখানে গুরুকুল রয়েছেন, যাঁরা পৃথিবীগ্রহের ভাল-মন্দ নিয়ন্ত্রণ করেন। তোমরা ভাবো—এটা নতুন আবিষ্কার—ওটা নতুন আবিষ্কার, এদেশ এই করল ওদেশ ঐ করল—এসব কিন্তু ঠিক নয়। যা কিছু ভাল হচ্ছে গুরুকুলের দ্বারা নিয়ন্ত্রিত। কোন দেশের কোন বিজ্ঞানী বা প্রযুক্তিবিদ বা দার্শনিক হয়তো নতুন কিছু আবিষ্কার করছেন বা নতুন কিছু চিন্তা দিচ্ছেন—সে সবই নির্দিষ্ট হচ্ছে গুরুকুল দ্বারাই। প্রয়োজনে কোন মনীষীদের কোথায় জন্মগ্রহণ করানো হবে এবং তাঁদের দ্বারা কি মানবকল্যাণ হবে এটাও ওখান থেকেই নির্দিষ্ট হয়। এমন কথাও তোমাদের বলছি শোন, বর্তমান পৃথিবীর অনেক রাষ্ট্রনায়ক যাঁরা কেউ কেউ ভাল কিছু করছেন, আবার কেউ হয়তো ধংসাত্মক দিকে দেশকে নিয়ে যাচ্ছেন, এঁরা সবাই ওখানকার প্রেরিত লোক। তবে তোমাদের এসব কথা বিশ্বাস করা মুস্কিল হবে, কারণ তোমরা প্রত্যক্ষ প্রমাণ চাও, কিন্তু এটা ভাবা উচিত যে, সব জিনিস চোখে দেখা যায় না, সব কিছু বুদ্ধি দিয়েও বিচার করা যায় না। আর পরমেশ্বর তো ‘অবাত্মনসোগোচর’—তাঁর সীমা কি বুঝবে !

হিমালয়ের বিভিন্ন চূড়ায় মানুষ পর্বতাভিযানে যায়, এখন তো Mountaineering Course করানো হচ্ছে, ট্রেকিং-এর নানা Institute হয়েছে। অভিভাবকরা ছেলেমেয়েদের ঐসব Training School-এ ভর্তিও করছে। কিন্তু সাধুরা যে পথে হিমালয়ের গভীরে প্রবেশ করেন, সে পথ কখনও সাধারণ মানুষ জানতে পারবে না— সেটা সাধুদের নিজস্ব ব্যাপার।
হিমালয়ের কন্দরে যাবার জন্য তার আগেই নানান আশ্রম আছে যেখানে বিভিন্ন যোগাভ্যাস শেখানো হয়, যাতে অতি উচ্চতায় —অতি শীতে শরীর রক্ষা করা যায়। এছাড়া অনাহারে বহুদিন কাটানো, বরফের উপর দিয়ে ক্রমাগত চলা, এসব কারণেও শরীর জীর্ণ হতে পারে—সে সব থেকে কি করে শরীরকে রক্ষা করা যায় তার সমস্ত রকম ট্রেনিং দেবার ব্যবস্থা আছে। এসব পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হলে তবেই তুমি High Altitude এ যেতে পারো, না হলে আটকে দেওয়া হয়।

আমাদেরকে যারা নিয়ে গেল তারা গণ্ডকী নদীর উৎসপথ ধরে ধরে হিমালয়ের একদম ভিতরে ঢুকিয়ে দিয়েছিল। তবে সে রাস্তা বড়ই দুর্গম, পিচ্ছিল। একদিকে অতল খাদ। গণ্ডকী শীর্ণ কিন্তু তার প্রবল ধারার শব্দ শুনতে শুনতে পাথরের দেওয়াল ধরে ধরে মাকড়সার মতো অগ্রসর হতে হচ্ছিল। মনঃসংযোগের এতটুকু অভাব হলেই মৃত্যু।