জিজ্ঞাসু :- আপনার পর তাহলে অনেকেই দীক্ষা দেবে ?
গুরুমহারাজ :- হ্যাঁ কেন দেবে না ? দীক্ষা দেওয়া মানে তো ভার নেওয়া। তবে সেই ভার নেওয়ার মতো দক্ষতা বা যোগ্যতা থাকা চাই বা ভগবৎ নির্দেশ পাওয়া দরকার। তাই আমি যাদের যোগ্য বিবেচনা করেছি তারাই তো আমার কাজ করছে বা আমার কাজের ভার নিয়েছে। ফলে পরম্পরা চলবেই। প্রায় দু’/ আড়াই হাজার বছর চলবে এই পরমানন্দ মিশন। ফলে সেইভাবে প্রস্তুতি নিয়েই মা আমাকে পাঠিয়েছে। আমাকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন সার্কেলে Realised Person-দের নিয়ে গঠিত হয়েছে পরমানন্দ মণ্ডল। Divine-Plan অনুযায়ী এসব হয়েছে, ফলে কারুর কিছু করারও নেই। যেরকমভাবে হয়ে আছে সব কাজ সেই ভাবেই চলবে বা সেই সব নির্দিষ্ট ব্যক্তিরাই কাজগুলি সম্পন্ন করবে।

জিজ্ঞাসু : ‘পরমানন্দ মণ্ডল’ সম্বন্ধে একটু বলুন ?
গুরুমহারাজ : এই মণ্ডলটি গড়ে উঠেছে ‘এক’ কে কেন্দ্ৰ করে। এই এক-কে কেন্দ্র করে আবার ত্রিমাতৃশক্তি রয়েছে। যারা ঐ কেন্দ্রের এক-কে ব্যালেন্সে রেখেছে। এই ত্রিশক্তিকে ঘিরে রয়েছে ছয় জন, এরা এক-একটা দিকপাল। আমাদের বনগ্রামেই এদের দু’জন রয়েছে। এরা পৃথিবীর যে কোন প্রান্তে অথবা প্রচণ্ড প্রতিকূল স্থানেও অর্থাৎ জনহীন প্রান্তর বা মরুভূমিতেও জনহিতকর কোন প্রতিষ্ঠান বা আশ্রম তৈরি করার ক্ষমতা রাখে ।
এদের বাইরের সার্কেলে রয়েছে ১৬ জন পার্ষদ। এরা জীবকল্যাণে বারবার শরীরগ্রহণ করতেও কাতর হয় না। এরাই আধ্যাত্মিক ভাবতরঙ্গ পৃথিবীতে ছড়িয়ে দেয়। এদের বাইরে যে সার্কেল রয়েছে, তাতে রয়েছে ৩৪ জন, এরা কলাসিদ্ধ । এরা বিভিন্ন কলা বা Art-এ সিদ্ধ। যেমন এদের কেউ সঙ্গীতে সিদ্ধ, কেউ সাহিত্য, কেউ শিল্পে, কেউ রাজনীতিতে, কেউ ধর্মনীতিতে ইত্যাদি। এরা ছাড়া পরের সার্কেলে রয়েছে ৫৪ জন, এরা প্রজ্ঞা স্থিতিতে রয়েছে। পৃথিবীর চতুর্দিকে প্রজ্ঞার আলো ছড়িয়ে মানুষকে অজ্ঞান থেকে জ্ঞানের জগতে পৌঁছানোর কাজ করবে এরা। এর বাইরে যে সার্কেল রয়েছে, সেখানে রয়েছে ৬৪ জন গুরু। এরা সদগুরু। এরা সরাসরি জীবনে জীবনযোগ করে মানুষকে অসত্য থেকে সত্যের পথে, অজ্ঞান-অন্ধকার থেকে আলোর রাজ্যে, মৃত্যুর জগৎ থেকে অমৃততত্ত্বে নিয়ে যাবে। এদের অনেকেই আমাদের বনগ্রামে রয়েছে। এর বাইরে রয়েছে ১০৮ জনের একটি বড় সার্কেল। যাদের কাজ হবে জনসংযোগ। এরা পরমানন্দ মিশনের মূল আদর্শকে সমাজের বিভিন্ন স্তরে ছড়িয়ে দেবে, বহু মানুষ এদেরকে দেখে উদ্বুদ্ধ হয়ে আশ্রমমুখী হবে এবং এরা মানুষকে ভাবানুযায়ী পরমানন্দ মণ্ডলের নির্দিষ্ট অধিকারীর কাছে পৌঁছে দেবে। আশ্রমে আমি মানুষকে কি শেখাই— How to survive, তাইনা ! Art of Life (জীবনের কলা) এবং Art of Living (জীবন-যাপনের কলা) শেখানো হয় এখানে। সেই অর্থে বনগ্রাম পরমানন্দ মিশন তো Survival Camp ।

সে যাইহোক, কথা যাদের বললাম, এদের প্রত্যেকেরই কিন্তু জন্ম হয়ে গেছে। ১৯৮৪ সালে এদের শরীরগ্রহণ শেষ হয়ে গেছে, অর্থাৎ এদের মধ্যে সর্বকনিষ্ঠের ২০০২ সালে বয়স হবে ১৮ বছর। কারণ ২০০২ সালের পরই এরা ক্রিয়াশীল হবে। এখন যারা Se- nior তারা কাজে নেমে পড়েছে। তবে ওদের সবাই যে আমার এখানেই আছে বা ভারতেই আছে এমন নয় —পৃথিবীর বিভিন্ন প্রান্তে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে রয়েছে ওরা। পৃথিবীর সার্বিক কল্যাণের জন্য বা জাগরণের জন্য জগদম্বার ইচ্ছায় এই বিশাল পরিকল্পিত দল সৃষ্টি হয়েছে। সুতরাং তোমরা যারা ভবিষ্যৎ পৃথিবী সম্বন্ধে খুব চিন্তিত তাদের উদ্বিগ্ন হবার কোন কারণ নেই। যুদ্ধ-বিগ্রহ, লোকক্ষয়, প্রাকৃতিক বিপর্যয় এসব যাই হোক না কেন আখেরে পৃথিবীগ্রহের মঙ্গলই হবে। আর ওগুলো যা হচ্ছে তাতো action-এর reaction। প্রকৃতির উপর দিনের পর দিন আঘাতহানা হয়েছে, এখন তার প্রত্যাঘাত আসছে। এখান থেকে মানুষ শিক্ষা নিক যাতে ভবিষ্যতে এ ধরণের ভুল না হয়। যাদের কথা বললাম, ওদের সকলের সাথেই আমার যোগাযোগ আছে, কিন্তু ওদের অনেকে আমাকে এখনও দেখেনি।