[ “বাউলের মর্মকথা”_পুস্তকের অনুমান ভজন এবং বর্তমান ভজন নিয়ে কথা হচ্ছিলো। আগের দিন এই আলোচনা গুরুতত্ত্বে এসে থেমেছিল।আজ পরবর্তী অংশ]
……. কিন্তু মজা কি জানো তো – অনুমান ভজনের চূড়ান্ত পর্যায়েও সাধক মধুর ভাব বা অবৈধী ভক্তি লাভ করতে পারে ! উদাহরণ হিসাবে বলা যায়__ সাধক রামপ্রসাদের অনুমান ভজন ছিল কিন্তু তিনি যখন বৃদ্ধ হোলেন , শরীরে অত সামর্থ্য নেই তখন একদিন তিনি বাড়ির চারিদিকের ভাঙ্গা বেড়া Repair করছছিলেন ! চপলা কিশোরী মেয়ে ‘মঙ্গলা’ বাবার কাজে সাহায্য করতে করতে কখন পাড়ার সই-দের সাথে খেলা করতে চলে গেছে । রামপ্রসাদ মাতৃসংগীত গাইছেন আর নয়নজলে বুক ভাসাচ্ছেন , মঙ্গলার অবর্তমানে হাতে হাতে বেড়া বাঁধার দড়ি যুগিয়ে যাচ্ছিলেন বালিকাবেশী মা জগদম্বা স্বয়ং ৷ এই ঘটনা সত্যি সত্যিই ঘটেছিল!
সাধক বিল্বমঙ্গল প্রথম জীবনে প্রেমিকার কাছে ঘা খেয়ে কৃষ্ণ প্রেমে আকুল হয়ে বৃন্দাবনের পথে ছুটে চলেছেন । পথে কোনো মহিলাকে দেখে মনে কুভাব আসায় , নিজে নিজেই চোখ অন্ধ করে নিয়েছিলেন ! চোখের ঘা সারিয়ে অন্ধ বিল্বমঙ্গল এবার আবার চলেছেন বৃন্দাবনের পথে, কিন্তু দুচোখের আঁধারে পথের হদিস পাওয়া যায় না । হাত ধরলেন চিরকালীন পথের দিশা দানকারী ভগবান শ্রীকৃষ্ণ! তিনি এসেছিলেন কিশোরবেশে ৷ মাঝেমধ্যেই সেই কিশোর কৌতুকবশতঃ অন্ধ বিল্বমঙ্গলের হাত ছেড়ে দিচ্ছেন – আর বিল্বমঙ্গল হাতড়ে হাতড়ে পথ খুঁজতে গিয়ে হোঁচট খাচ্ছেন অথবা কাঁটার ঝোপে গিয়ে পড়ছেন ! আর ক্ষতবিক্ষত হোচ্ছেন – রক্তাক্ত হোচ্ছেন ! ঐরকম একবার পড়ে যাবার পর, উঠে দাঁড়িয়ে বিল্বমঙ্গল শ্রীকৃষ্ণকে উদ্দেশ্য করে বলেছিলেন – ” হে কৃষ্ণ ! তুমি আমার হাত ছাড়িয়ে চলে যেতে পারো – কিন্তু আমার হৃদয় ছেড়ে যদি চলে যেতে পারো , তাহলে বুঝবো তোমার ক্ষমতা !” এক্ষেত্রেও অনুমান ভজনের দ্বারাই ভগবান মনুষ্যশরীরে প্রকট হয়ে ভক্তের সাথে লীলা করেছিলেন।
বেনারসে ত্রৈলঙ্গ স্বামী যখন শরীর ধারণ করেছিলেন এবং প্রায় পৌনে তিনশো বছর শরীরে ছিলেন তখন তাঁর এই দীর্ঘ জীবনকালে কত যে যোগবিভূতির প্রকাশ ঘটেছিল তার ইয়ত্তা নেই । কিন্তু তাঁর পূজা নিবেদনের ভঙ্গি ছিল অদ্ভুত ! তাঁর ছিল বিরাট চেহারা , সর্বদা উলঙ্গ থাকতেন । দু-পাঁচ দিন অথবা আরও বেশি সময় ধরে গঙ্গার জলে-ই কাটিয়ে দিতেন , পাড়ে উঠে আসতেনই না ! খাওয়া-দাওয়ারও বালাই ছিল না ৷ ঐসময় একবার গঙ্গার জল থেকে উঠে সোজা কাশী বিশ্বনাথ মন্দির এসে ঐ বিশাল চেহারার জটাজুটধারী উলঙ্গ সন্ন্যাসী দুটো পায়ের ফাঁকে বিশ্বনাথের লিঙ্গ মূর্তিকে রেখে প্রস্রাব করতে শুরু করে দিয়েছিলেন । তার প্রস্রাবের ধারায় ধৌত হোতে লাগল শিব লিঙ্গ ! আর উনি মুখে বলতে লাগলেন – “গঙ্গোদকং-গঙ্গােদকং” । কিন্তু এইভাবে শিবপূজা-শিবাভিষেক ? বেদ-বিধি দিয়ে এই পূজার রহস্য কি কখনোই বোঝা যাবে ?? যে কেউ দেখলে বলবে “ঘোর অনাচার” ! আর তৎকালীন ব্রাহ্মণরা বলতোও তাই! কিন্তু ওই অলৌকিক যোগবিভূতি সম্পন্ন মহাত্মাকে সাধারণ মানুষ বা সাধু-সন্তরা কাশীর “চলমান শিব” বলতো , আর সেই হিসাবেই ওনাকে মান্য করতো_ বলে ব্রাহ্মণেরা কিছুই করতে পারতো না ৷ আর না হোলে এই ধরনের উৎকট পূজা-পদ্ধতিকে কে সহ্য করবে বলো ?
কিন্তু মজার ব্যাপার এই যে, সচল শিবের প্রস্রাব দিয়ে যাঁর(কাশী-বিশ্বনাথ) পূজা করা হোলো __তিনি যে কত খুশি হোলেন, তার হিসাব কে করবে !! বিধি পূর্বক পূজায় যা কখনোই সম্ভব নয় ।
আমার পরপর কতো ঘটনা মনে পড়ে যাচ্ছে___ তারাপীঠের শ্মশানে দ্বারকা-নদীর পাড়ে বামদেব একদিন পায়খানা করছিলেন । হঠাৎ সেখানে ‘মা’ প্রকটিত হয়ে বললেন , ” তুই এখানে ? ওদিকে মন্দিরে ভালো ভালো খাবার দিয়ে আমার ভোগ দিয়েছে , চল্ চল্ খাবি চল্ !” শিশুর মতো সহজ-সরল বামদেব মায়ের পিছু পিছু মন্দিরে ঢুকে দেখেন সত্যিই তো ! থরে থরে সাজানো নানান খাদ্য-সামগ্রী দিয়ে মায়ের ভোগ দেওয়া হয়েছে ৷ হয়তো কোনো অনুষ্ঠান ছিল অথবা কোনো বড়লোক বা ধনী ভক্তের মনস্কামনা পূরণের ভোগ ! মা বলেছে খেতে– বামদেব আর থামে ! হেগো পোঁদে-ই মায়ের মন্দিরে , মায়ের উদ্দেশ্যে নিবেদিত ভোগ দু-হাত দিয়ে ‘হাম্-হাম্’ করে খেতে শুরু করে দিলো ৷ এই পাত্র থেকে লুচি নেয়, তো ওই পাত্র থেকে মিঠাই ! আরেকটা পাত্র থেকে পোলাও নেয় তো অপর আর একটা থেকে সন্দেশ ! কেউ একটা এই দৃশ্য দেখে দৌড়ে গিয়ে পূজারীদের খবর দিয়ে দিয়েছে ! ব্যস _ আর যায় কোথায় ? হই-হই করতে করতে পুজারির (পান্ডা)-দল ছুটে এসে বামদেবকে সে কি মার ! মেরে আধমরা করে অচৈতন্য অবস্থায় শ্মশানের পাশে নদীর ধারে ফেলে দিয়ে এসেছিল টানতে টানতে ! দৈবকৃপায় জ্ঞান ফিরে পেয়ে বামদেবের যত রাগ গিয়ে পড়ল মা জগদম্বা (তারা দেবী)-র উপর ! বলতে লাগলো – “তোর কান্ডজ্ঞান নাই , তুই খাবার জন্য ডেকে আনলি – আবার তুই নিজেই আমাকে মার খাওয়ালি !” গজর গজর করেই যাচ্ছে ! তারপর বলল , ” দাঁড়া ! তোর মজা দেখাচ্ছি । তোর মন্দিরের মাথায় বাজ ফেলবো !” যা বলা , তাই কাজ ! কিছুদিনের মধ্যেই মন্দিরের চূড়ায় বাজ পড়ে খানিকটা অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল ।
দ্যাখো, এখানে মহাপুরুষের লক্ষণ হিসেবে একটা বিষয় লক্ষ্য করবে যে , বামদেবকে মারল পূজারীরা বা পান্ডারা ! কিন্তু বামদেব গালাগালি দিচ্ছেন মা-কে ! বামদেবের ন্যায় মহাত্মারা একশভাগ জানেন যে, এই বিশ্বসংস্থার হোলো ‘মায়ের জগত’ ! এই জগতে যা কিছু হয় মায়ের নির্দেশে-ই হয় ৷ তাই ঘটনা যা-ই কিছু ঘটুক না কেন, তাতে ব্যক্তির প্রতি দোষারোপ_কখনোই ঐ ধরনের জ্ঞানীরা করেন না ৷ তাঁরা জানেন, এখানে ওই ব্যক্তির বা ব্যক্তিবর্গের শুধুমাত্র একটা ভূমিকা রয়েছে – এইমাত্র । প্রকৃত অঘটন ঘটন-পটীয়সী মা মহামায়া স্বয়ং ।
যাইহোক , এখানেও দ্যাখো, বামদেবের মাতৃপূজা – তারামায়ের সাথে লীলারহস্য কি বৈধি ভক্তি দিয়ে বিচার করা যাবে ?
এই ভাবেই লীলা চলে উপযুক্ত ভক্তের সাথে ভগবানের ৷ তা সে অনুমান ভজনই হোক অথবা বর্তমান ভজন । ভক্ত হওয়া শক্ত কথা – সহজ নয় ৷ প্রকৃত অর্থে সহজ হলে তবেই ভক্ত হয় । ” কোটি মুক্ত মাঝে ভক্ত হয় কোনো কোনো জন ” – তাহলে বুঝতে পারছো তো ! ধ্যান , জপ , সাধনার দ্বারা মানুষ মায়া-মোহের বন্ধন থেকে মুক্ত হোতে পারে কিন্তু তাদের মধ্যেও সবাই ভক্ত হোতে পারে না ! ভক্ত হয় “কোনো কোনো জন” __বেদের পারে এই অবস্থা, তাই এই স্থিতিকে “নির্বেদ স্থিতি” বলা হয়েছে । বৃন্দাবনের রাসমঞ্চে শিব ঢুকতে পারছে না – গ্রামের গৃহবধূ গোপীরা পটাপট ঢুকে যাচ্ছে ! বেদ-বিধির দ্বারা লীলার ‘নিকটস্থ’ হওয়া যায় , সাধনা বা উপাসনার দ্বারাও এটা হয় কিন্তু এসব কোনো কিছুর দ্বারাই “লীলাপ্রবিষ্ট” হওয়া যায় না ! একমাত্র অবৈধী ভক্তির দ্বারা নির্বেদ স্থিতির ভক্তরাই লীলা প্রবিষ্ট হয়ে লীলা আস্বাদন করতে পারে ।
[ এতদূর কথা বলার পর গুরু মহারাজ হেঁচকি তুলতে শুরু করলেন এবং উঠে পড়লেন। উঠে যেতে যেতে বললেন , ” হেঁচকি তুলে দিলি রে বাবা !” ]
……. কিন্তু মজা কি জানো তো – অনুমান ভজনের চূড়ান্ত পর্যায়েও সাধক মধুর ভাব বা অবৈধী ভক্তি লাভ করতে পারে ! উদাহরণ হিসাবে বলা যায়__ সাধক রামপ্রসাদের অনুমান ভজন ছিল কিন্তু তিনি যখন বৃদ্ধ হোলেন , শরীরে অত সামর্থ্য নেই তখন একদিন তিনি বাড়ির চারিদিকের ভাঙ্গা বেড়া Repair করছছিলেন ! চপলা কিশোরী মেয়ে ‘মঙ্গলা’ বাবার কাজে সাহায্য করতে করতে কখন পাড়ার সই-দের সাথে খেলা করতে চলে গেছে । রামপ্রসাদ মাতৃসংগীত গাইছেন আর নয়নজলে বুক ভাসাচ্ছেন , মঙ্গলার অবর্তমানে হাতে হাতে বেড়া বাঁধার দড়ি যুগিয়ে যাচ্ছিলেন বালিকাবেশী মা জগদম্বা স্বয়ং ৷ এই ঘটনা সত্যি সত্যিই ঘটেছিল!
সাধক বিল্বমঙ্গল প্রথম জীবনে প্রেমিকার কাছে ঘা খেয়ে কৃষ্ণ প্রেমে আকুল হয়ে বৃন্দাবনের পথে ছুটে চলেছেন । পথে কোনো মহিলাকে দেখে মনে কুভাব আসায় , নিজে নিজেই চোখ অন্ধ করে নিয়েছিলেন ! চোখের ঘা সারিয়ে অন্ধ বিল্বমঙ্গল এবার আবার চলেছেন বৃন্দাবনের পথে, কিন্তু দুচোখের আঁধারে পথের হদিস পাওয়া যায় না । হাত ধরলেন চিরকালীন পথের দিশা দানকারী ভগবান শ্রীকৃষ্ণ! তিনি এসেছিলেন কিশোরবেশে ৷ মাঝেমধ্যেই সেই কিশোর কৌতুকবশতঃ অন্ধ বিল্বমঙ্গলের হাত ছেড়ে দিচ্ছেন – আর বিল্বমঙ্গল হাতড়ে হাতড়ে পথ খুঁজতে গিয়ে হোঁচট খাচ্ছেন অথবা কাঁটার ঝোপে গিয়ে পড়ছেন ! আর ক্ষতবিক্ষত হোচ্ছেন – রক্তাক্ত হোচ্ছেন ! ঐরকম একবার পড়ে যাবার পর, উঠে দাঁড়িয়ে বিল্বমঙ্গল শ্রীকৃষ্ণকে উদ্দেশ্য করে বলেছিলেন – ” হে কৃষ্ণ ! তুমি আমার হাত ছাড়িয়ে চলে যেতে পারো – কিন্তু আমার হৃদয় ছেড়ে যদি চলে যেতে পারো , তাহলে বুঝবো তোমার ক্ষমতা !” এক্ষেত্রেও অনুমান ভজনের দ্বারাই ভগবান মনুষ্যশরীরে প্রকট হয়ে ভক্তের সাথে লীলা করেছিলেন।
বেনারসে ত্রৈলঙ্গ স্বামী যখন শরীর ধারণ করেছিলেন এবং প্রায় পৌনে তিনশো বছর শরীরে ছিলেন তখন তাঁর এই দীর্ঘ জীবনকালে কত যে যোগবিভূতির প্রকাশ ঘটেছিল তার ইয়ত্তা নেই । কিন্তু তাঁর পূজা নিবেদনের ভঙ্গি ছিল অদ্ভুত ! তাঁর ছিল বিরাট চেহারা , সর্বদা উলঙ্গ থাকতেন । দু-পাঁচ দিন অথবা আরও বেশি সময় ধরে গঙ্গার জলে-ই কাটিয়ে দিতেন , পাড়ে উঠে আসতেনই না ! খাওয়া-দাওয়ারও বালাই ছিল না ৷ ঐসময় একবার গঙ্গার জল থেকে উঠে সোজা কাশী বিশ্বনাথ মন্দির এসে ঐ বিশাল চেহারার জটাজুটধারী উলঙ্গ সন্ন্যাসী দুটো পায়ের ফাঁকে বিশ্বনাথের লিঙ্গ মূর্তিকে রেখে প্রস্রাব করতে শুরু করে দিয়েছিলেন । তার প্রস্রাবের ধারায় ধৌত হোতে লাগল শিব লিঙ্গ ! আর উনি মুখে বলতে লাগলেন – “গঙ্গোদকং-গঙ্গােদকং” । কিন্তু এইভাবে শিবপূজা-শিবাভিষেক ? বেদ-বিধি দিয়ে এই পূজার রহস্য কি কখনোই বোঝা যাবে ?? যে কেউ দেখলে বলবে “ঘোর অনাচার” ! আর তৎকালীন ব্রাহ্মণরা বলতোও তাই! কিন্তু ওই অলৌকিক যোগবিভূতি সম্পন্ন মহাত্মাকে সাধারণ মানুষ বা সাধু-সন্তরা কাশীর “চলমান শিব” বলতো , আর সেই হিসাবেই ওনাকে মান্য করতো_ বলে ব্রাহ্মণেরা কিছুই করতে পারতো না ৷ আর না হোলে এই ধরনের উৎকট পূজা-পদ্ধতিকে কে সহ্য করবে বলো ?
কিন্তু মজার ব্যাপার এই যে, সচল শিবের প্রস্রাব দিয়ে যাঁর(কাশী-বিশ্বনাথ) পূজা করা হোলো __তিনি যে কত খুশি হোলেন, তার হিসাব কে করবে !! বিধি পূর্বক পূজায় যা কখনোই সম্ভব নয় ।
আমার পরপর কতো ঘটনা মনে পড়ে যাচ্ছে___ তারাপীঠের শ্মশানে দ্বারকা-নদীর পাড়ে বামদেব একদিন পায়খানা করছিলেন । হঠাৎ সেখানে ‘মা’ প্রকটিত হয়ে বললেন , ” তুই এখানে ? ওদিকে মন্দিরে ভালো ভালো খাবার দিয়ে আমার ভোগ দিয়েছে , চল্ চল্ খাবি চল্ !” শিশুর মতো সহজ-সরল বামদেব মায়ের পিছু পিছু মন্দিরে ঢুকে দেখেন সত্যিই তো ! থরে থরে সাজানো নানান খাদ্য-সামগ্রী দিয়ে মায়ের ভোগ দেওয়া হয়েছে ৷ হয়তো কোনো অনুষ্ঠান ছিল অথবা কোনো বড়লোক বা ধনী ভক্তের মনস্কামনা পূরণের ভোগ ! মা বলেছে খেতে– বামদেব আর থামে ! হেগো পোঁদে-ই মায়ের মন্দিরে , মায়ের উদ্দেশ্যে নিবেদিত ভোগ দু-হাত দিয়ে ‘হাম্-হাম্’ করে খেতে শুরু করে দিলো ৷ এই পাত্র থেকে লুচি নেয়, তো ওই পাত্র থেকে মিঠাই ! আরেকটা পাত্র থেকে পোলাও নেয় তো অপর আর একটা থেকে সন্দেশ ! কেউ একটা এই দৃশ্য দেখে দৌড়ে গিয়ে পূজারীদের খবর দিয়ে দিয়েছে ! ব্যস _ আর যায় কোথায় ? হই-হই করতে করতে পুজারির (পান্ডা)-দল ছুটে এসে বামদেবকে সে কি মার ! মেরে আধমরা করে অচৈতন্য অবস্থায় শ্মশানের পাশে নদীর ধারে ফেলে দিয়ে এসেছিল টানতে টানতে ! দৈবকৃপায় জ্ঞান ফিরে পেয়ে বামদেবের যত রাগ গিয়ে পড়ল মা জগদম্বা (তারা দেবী)-র উপর ! বলতে লাগলো – “তোর কান্ডজ্ঞান নাই , তুই খাবার জন্য ডেকে আনলি – আবার তুই নিজেই আমাকে মার খাওয়ালি !” গজর গজর করেই যাচ্ছে ! তারপর বলল , ” দাঁড়া ! তোর মজা দেখাচ্ছি । তোর মন্দিরের মাথায় বাজ ফেলবো !” যা বলা , তাই কাজ ! কিছুদিনের মধ্যেই মন্দিরের চূড়ায় বাজ পড়ে খানিকটা অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল ।
দ্যাখো, এখানে মহাপুরুষের লক্ষণ হিসেবে একটা বিষয় লক্ষ্য করবে যে , বামদেবকে মারল পূজারীরা বা পান্ডারা ! কিন্তু বামদেব গালাগালি দিচ্ছেন মা-কে ! বামদেবের ন্যায় মহাত্মারা একশভাগ জানেন যে, এই বিশ্বসংস্থার হোলো ‘মায়ের জগত’ ! এই জগতে যা কিছু হয় মায়ের নির্দেশে-ই হয় ৷ তাই ঘটনা যা-ই কিছু ঘটুক না কেন, তাতে ব্যক্তির প্রতি দোষারোপ_কখনোই ঐ ধরনের জ্ঞানীরা করেন না ৷ তাঁরা জানেন, এখানে ওই ব্যক্তির বা ব্যক্তিবর্গের শুধুমাত্র একটা ভূমিকা রয়েছে – এইমাত্র । প্রকৃত অঘটন ঘটন-পটীয়সী মা মহামায়া স্বয়ং ।
যাইহোক , এখানেও দ্যাখো, বামদেবের মাতৃপূজা – তারামায়ের সাথে লীলারহস্য কি বৈধি ভক্তি দিয়ে বিচার করা যাবে ?
এই ভাবেই লীলা চলে উপযুক্ত ভক্তের সাথে ভগবানের ৷ তা সে অনুমান ভজনই হোক অথবা বর্তমান ভজন । ভক্ত হওয়া শক্ত কথা – সহজ নয় ৷ প্রকৃত অর্থে সহজ হলে তবেই ভক্ত হয় । ” কোটি মুক্ত মাঝে ভক্ত হয় কোনো কোনো জন ” – তাহলে বুঝতে পারছো তো ! ধ্যান , জপ , সাধনার দ্বারা মানুষ মায়া-মোহের বন্ধন থেকে মুক্ত হোতে পারে কিন্তু তাদের মধ্যেও সবাই ভক্ত হোতে পারে না ! ভক্ত হয় “কোনো কোনো জন” __বেদের পারে এই অবস্থা, তাই এই স্থিতিকে “নির্বেদ স্থিতি” বলা হয়েছে । বৃন্দাবনের রাসমঞ্চে শিব ঢুকতে পারছে না – গ্রামের গৃহবধূ গোপীরা পটাপট ঢুকে যাচ্ছে ! বেদ-বিধির দ্বারা লীলার ‘নিকটস্থ’ হওয়া যায় , সাধনা বা উপাসনার দ্বারাও এটা হয় কিন্তু এসব কোনো কিছুর দ্বারাই “লীলাপ্রবিষ্ট” হওয়া যায় না ! একমাত্র অবৈধী ভক্তির দ্বারা নির্বেদ স্থিতির ভক্তরাই লীলা প্রবিষ্ট হয়ে লীলা আস্বাদন করতে পারে ।
[ এতদূর কথা বলার পর গুরু মহারাজ হেঁচকি তুলতে শুরু করলেন এবং উঠে পড়লেন। উঠে যেতে যেতে বললেন , ” হেঁচকি তুলে দিলি রে বাবা !” ]
