[ পৃথিবীতে যুদ্ধ, মারামারি, হানাহানি কেন ___তার উত্তর দিচ্ছিলেন গুরু মহারাজ! আজ পুর্ব আলোচনার পরবর্তী অংশ]
এই যুদ্ধ থামাতে পারেন কে ? ভগবান বুদ্ধ ! ‘বুদ্ধ’ অর্থাৎ প্রকৃত জ্ঞানী বা মহাজ্ঞানী । অশান্তির রাজত্বে বুদ্ধই শান্তির প্রতীক । ‘বুদ্ধ’-রাই অশান্তকে শান্ত করতে পারেন । যিনি নিজে শান্ত হয়েছেন তিনি পারেন অপরের সমস্ত অশান্তি দূর করে তাকে শান্তির সন্ধান দিতে । সমাজকেও শান্ত করতে পারেন তিনি — হ্যাঁ , একমাত্র তিনিই এসব পারেন , যিনি ‘বুদ্ধ’ ।
ভগবান বুদ্ধের যে শান্ত মূর্তি বেশিরভাগ‌ই দেখা যায় অর্থাৎ যেখানে তিনি ধ্যানমুদ্রায় বসে রয়েছেন ,সেই মূর্তির দিকে চেয়ে কিছুক্ষন শান্ত হয়ে বসে নিরীক্ষণ করবে , দেখবে কি অদ্ভুত শান্ত-সমাহিত তিনি ! যতই অশান্তির মধ্যেই থাকো না কেন তুমি, ঐ মূর্তির দিকে কিছুক্ষন তাকিয়ে থাকলে দেখবে যে, সাময়িকভাবে হোলেও তোমার মধ্যে একরকম শান্ত ভাব আসবে , শান্তি পাবে তুমি । যে কোনো কঠিন সময়ে, এমনকি যুদ্ধকালীন পরিস্থিতিতেও__ যুদ্ধের বাতাবরণ থেকে শান্তির আবহাওয়া ফিরিয়ে দিতে আজও বুদ্ধকেই প্রয়োজন । সেকালে অর্থাৎ ভগবান বুদ্ধ যখন শরীরে ছিলেন তখনও কিন্তু এই ভারতবর্ষে বিভিন্ন রাজ্যের মধ্যে বেশ কয়েকবারই যুদ্ধকালীন পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল , যুদ্ধ শুরু হয় হয় – এইরকম অবস্থাতেও ভগবান বুদ্ধ সেখানে সশরীরে উপস্থিত হয়ে সত্যি সত্যিই যুদ্ধ থামিয়ে দিয়েছিলেন ।
‘বুদ্ধ’ অর্থে জ্ঞানী বা মহাজ্ঞানী । যুদ্ধের কারণ তো অজ্ঞানতা । জ্ঞান খড়গ দিয়েই অজ্ঞানতাকে কাটা যায় , জ্ঞান সূর্যের আলোতে অজ্ঞান-অন্ধকার দূর হয় । এই জ্ঞান কি – ” ব্রহ্ম সত্য জগৎ মিথ্যা , জীব ব্রহ্মৈব নাপরঃ ” ৷ এই জগত-সংসারই মিথ্যা । অধিকার নিয়ে , মতাদর্শ নিয়ে হানাহানি মূর্খ বা অজ্ঞান ছাড়া আর কবে, কোথায়,কারা _করেছে ? জ্ঞানীরা , উচ্চ চেতনার মানুষেরা কখনো কোনো ঝামেলা-ঝঞ্ঝাটে নিজেদেরকে জড়াতে চান না । কারণ তারা তো জগৎ রহস্য , জীবন রহস্য জানেন ! তাঁরা জানেন যে, এই জগত-সংসার এইরকমই – “য্যায়সা কা ত্যায়সা” ! এখানে সব রকমই আছে দু’ধরণের , যেমন সুখ-দুঃখ , দিন-রাত্রি , হাসি-কান্না , ভালো-মন্দ , জ্ঞানী-অজ্ঞানী এইরকম ৷ এর মধ্য থেকে নিজের কাজটি করে বেরিয়ে যেতে হবে ৷ না হলে জন্ম-মৃত্যুর চক্রে পড়ে বারবার ঘুরে ঘুরে মরতে হবে । এই জন্মে যে হিন্দু পরে শরীরে সেই মুসলমান , এই শরীরে যে ধনীর দুলাল পরের শরীরে সেই হয়তো গরিব ঘরে জন্মেছে – এই যে জন্ম রহস্য , এটা না জেনে তুমি কার সাথে লড়াই করছো ? এ তো নিজের সাথে নিজের-ই লড়াই হচ্ছে ৷ এই জন্যই কোনো কবি তার কবিতায় লিখেছে , “ছায়ার সঙ্গে কুস্তি করে গাত্রে হল ব্যথা !”
“সত্য” কবে যে বুঝবে মানুষ ! বারবার বুদ্ধকে পৃথিবীতে আসতে হবে – মানুষের জন্য ! মানুষকে অজ্ঞানতা থেকে জ্ঞানের আলোয় পৌঁছে দেবার জন্য ! ” যুদ্ধ নয় শান্তি চাই ” – মুখে স্লোগান তুলে মিছিল করলে পৃথিবীর শান্তি আসবে কি ? কখনোই না । সমাজে যখন বেশি বেশি সংখ্যায় বুদ্ধেরা জন্মাবে অথবা বেশি বেশি সংখ্যক মানুষ ‘বুদ্ধত্ব’ অর্জন করবে তখনই পৃথিবী শান্ত হবে – পৃথিবীতে শান্তি নেমে আসবে । অন্যথায় কি করে হবে ! অশান্তি তো মানুষের মনোজগতে রয়েছেই – প্রতিটি মানুষই তো অশান্ত – ছুটে ছুটে বেড়াচ্ছে কোনো না কোনো বাসনা মেটাতে , আকাঙ্ক্ষা বা ‘এষণা’ মেটাতে !
তাহলে, যে ব্যক্তি নিজে শান্ত-ই হোলো না তার শান্তি কি করে আসবে ? শান্তি পেতে হোলে তো আগে নিজেকে শান্ত হতে হবে ৷ আর শান্ত হতে গেলে বুদ্ধ(প্রকৃত আধ্যাত্মিক জ্ঞানী)-এর শিক্ষায় নিজেকে শিক্ষিত করতে হবে , বুদ্ধের দীক্ষায় নিজেকে দীক্ষিত হোতে হবে – তবেই শান্তির সন্ধান পাওয়া যাবে _অন্যথায় শুধু উপরে উপরে ভেসে ভেসে বেড়ানো ! আর এইরূপ ভেসে ভেসে বেড়ানো হোচ্ছে বলেই সমাজে আজও হানাহানি, আজও মারামারি, আজ‌ও যুদ্ধ !!