জিজ্ঞাসু : ~ এখন দেখছি _ বাস্তুবিজ্ঞান , বাস্তুতন্ত্র , বাস্তুশাস্ত্র নিয়ে সংবাদমাধ্যমে খুব আলোচনা হোচ্ছে , আগে তো অত শুনিনি ৷ এটা কি ব্যাপার গুরুদেব ??
গুরু মহারাজ : ~ বাস্তুতন্ত্র কথাটি বাস্তুবিজ্ঞানের সাথে গুলিয়ে ফেলো না ! বাস্তুতন্ত্র বা eco-system কথাটি জীবন বিজ্ঞানের Term । যেখানে জীবজগৎ-জড়জগৎ কিভাবে সুন্দররূপে সহাবস্থান করতে পারে সেই সম্বন্ধে আলোচনা রয়েছে । আর ‘বাস্তুবিজ্ঞান’ হল Total-টা । এর মধ্যে জীবনবিজ্ঞান , জড়বিজ্ঞান , সমাজবিজ্ঞান সবই পড়ে যাবে ৷
‘বাস্তুশাস্ত্র’- এই শব্দটি বর্তমানে খুব আলোচনা হোচ্ছে বলছো – কিন্তু এটি অনেক পুরনো বিদ্যা । মহাভারতে বাস্তুশাস্ত্র বা বাস্তুবিজ্ঞানের উল্লেখ পাওয়া যায় । ভগবান কৃষ্ণ , মহামতি ভীষ্ম এঁরা বাস্তু বিজ্ঞান নিয়ে আলোচনা করেছেন । তার মানে সেই যুগেও এই বিজ্ঞান পড়ানো হোতো বা সমাজে এর চর্চা ছিল এবং প্রয়োগও ছিল ।
আমি তো তোমাদের বারবার বলি সমগ্র বিশ্বকে সমাজবিদ্যার সমস্ত কিছু উপহার দিয়েছে ভারতবর্ষ ! সমাজ , সামাজিক পরিকাঠামো , সমাজের বিভিন্ন Unit-এর নামকরণ – এসবই ভারতবর্ষ থেকে প্রাচীন কালের অন্যান্য দেশের সভ্য মানুষেরা গ্রহণ করেছিল ! সংস্কৃত-র সাথে প্রাচীন ল্যাটিন-এর মিল পাবে । গ্রীস দেব-দেবীর সাথে বা ওখানকার রূপকথা উপকথার সাথে ভারতের পৌরাণিক কাহিনীর মিল পাবে । সুতরাং ভারতবর্ষ থেকেই যে সভ্যতা সংস্কৃতি বহির্বিশ্বে ছড়িয়ে পড়েছিল , তাতে কোনো সন্দেহই নাই ।
হরপ্পা-মহেঞ্জোদারোর থেকেও মেহেরগড় অঞ্চলের নগরসভ্যতার ধ্বংসাবশেষ আরও প্রাচীন । এতটাই প্রাচীন যে পৃথিবীর অন্যান্য দেশে যেসব সভ্যতার নিদর্শন পাওয়া গেছে, সেগুলো এর সাথে কোনো তুলনাতেই আসছে না ।
এবার কথা হোচ্ছে যে, এইসব সভ্যতা বা সংস্কৃতি ধ্বংস হয়ে গেল কিন্তু তার কোন ইতিহাস __লিখিত আকারে কেন পাওয়া গেল না ! মেহেরগড় থেকে কোনো লিপি আবিষ্কারের কথা শোনা যায়নি কিন্তু হরপ্পা-মহেঞ্জোদারো-য় সিন্ধু লিপি (এই নাম দেওয়া হয়েছে) পাওয়া গেছে – যার পাঠোদ্ধার করা যাচ্ছে না । ফলে এরা কোন্ রাজবংশ ছিল অথবা তাদের শিক্ষা-দীক্ষা , সংস্কৃতির কেমন ছিল_এসব কোনো ইতিহাসই পাওয়া যায়নি । ভারতবর্ষের পুরান , মহাকাব্যগুলিকে “ইতিহাস” ধরে নিলে হয়তো প্রত্ন বিজ্ঞানীরা কিছু কিছু clew পেতো ! কিন্তু পুরানগুলিও পরবর্তীকালে এত প্রক্ষিপ্ত হয়েছে যে, সত্য উদঘাটন করা খুবই দুষ্কর ! তাহলে প্রাচীন ভারতের প্রকৃত ইতিহাস কে বলবে ?
বলবে কালদ্রষ্টারা , ঋষি স্থিতির মানুষেরা , ত্রিকালজ্ঞ মানুষেরা ! অনেকের ধারণা রয়েছে ঋষি-মুনিরা প্রাচীনকালে ছিল – এখন কি আর আছে ?___ কেন থাকবে না ? ‘ঋষি’ মানে হচ্ছে যাদের চেতনা আজ্ঞাচক্রে স্থিত । ওখান থেকে হৃদয় অব্দি ক্রিয়াশীল – তার নিচে আর নামে না ৷ এখনো যে সমস্ত সাধক বা মহাসাধক তাঁর সাধনায় অবিচল থেকে একে একে মূলাধার , স্বাধিষ্ঠান , মনিপুর , অনাহত , বিশুদ্ধ চক্র পার করে আজ্ঞাচক্র বা দ্বিদল পদ্ম বিশিষ্ট রুদ্র গ্রন্থিতে নিজের চেতনাকে স্থিত করতে পারেন – তিনিই ঋষি পদবাচ্য হবেন । আর তাঁর আজ্ঞাচক্র বা তৃতীয় নয়ন উন্মীলিত হওয়ায় তিনি ইচ্ছামাত্র ভূত ,বর্তমান , ভবিষ্যৎ ত্রিকাল-কে দেখার যোগ্য হয়ে উঠবেন ৷ ঐরূপ কেউ থাকলে __তিনিই তো পারেন ‘সত্য’ বলতে ! গবেষণা করে পণ্ডিতদের পুঁথিপত্র ঘেঁটে কি কখনো ‘সত্য’ উদঘাটন হয় নাকি ? ওগুলো তো Hipothesis ! ” এই এই কারণের জন্য ধরে নেওয়া হোচ্ছে –এটি সত্য !” – এইরকম বলা হয় । ঐতিহাসিক গবেষণায় শুধুই “ধরে নেওয়া” হয় , __প্রকৃত সত্যের জ্ঞান থেকে উদ্গীত হয়না ।
এ যুগে স্বামী বিবেকানন্দ “ঋষি স্থিতি” থেকে, আগামী পৃথিবীর কল্যাণের জন্য অনেক কথা বলে গেছেন । মানুষ সেগুলো এখনো পর্যন্ত অর্থাৎ স্বামীজীর শরীর ছাড়া প্রায় ১০০ বছর পরেও গ্রহণ করলো কি !_করতে পারলো না। তবে কথা হচ্ছে ‘mass’ এভাবে সত্যকে গ্রহণ করতে পারবেও না কোনোদিন । দু-চারজনই তা করে (সত্যকে গ্রহণ করে) – এবং সেখান থেকেই এক একটি পরম্পরা তৈরি হয়__ যারা সত্যকে অন্বেষণ করার পথ বাৎলে দেয় । “সত্য কি” – তা জানার চেষ্টায় ব্রতী না হয়ে অন্যান্য কর্ম সিদ্ধি করতে চায় যেসব পরম্পরা , জানবে সেগুলি লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়ে গেছে ৷ শীঘ্র মা মহামায়ার কোপ নেমে আসবে সেই পরম্পরার উপর ! অথবা কোনো মহাপুরুষ সেই পরম্পরায় শরীর ধারণ করে আবার পরবর্তী প্রজন্মকে সত্যের পথে চলার লক্ষ্যে উদ্বুদ্ধ করতে আসবেন । … [ক্রমশঃ]