[আগের দিন আমরা দেখেছিলাম যে, একজন ভক্তের বাস্তুতন্ত্র,বাস্তুশাশ্ত্র ইত্যাদি নিয়ে আলোচনা প্রসঙ্গে গুরু মহারাজ হরপ্পা, মহেঞ্জোদারো,মেহেরগড় __এইসব নিয়েও কথা বলছিলেন। আজ তার পরবর্তী অংশ]
যাইহোক, কথা হচ্ছিলো হরপ্পা-মহেঞ্জোদারো-র সভ্যতা নিয়ে । ওখানে ঠিক ঠিক বাস্তুবিজ্ঞান মেনে নগর-সভ্যতা গুলির বিভিন্ন Construction গড়ে ওঠেনি । তা হলে এইভাবে এককালীন সবকিছু ধ্বংস হয়ে যেতো না । এখনও বিশ্বের বড় বড় শহর , নগর কি বাস্তুবিজ্ঞান মেনে তৈরি হয়েছে বা হোচ্ছে ? হোচ্ছে না ! বাস্তুবিজ্ঞানের জ্ঞান কোথায় ? ভারতেই নাই, তাহলে বিশ্বের অন্যান্য দেশ পাবে কি করে ! ভারতবর্ষে, মহাভারতের যুগের পর অর্থাৎ কৃষ্ণের পর তো আর এই চর্চাই প্রায় হয়নি (যেহেতু অন্যান্য পুরানাদিতে উল্লেখ পাওয়া যায় না) । এত কাল পরে আবার এই বিদ্যাচর্চার একটা আগ্রহ লক্ষ্য করা যাচ্ছে ! কিন্তু আচার্য কই ? এখন তো ভারতীয়রা বিদেশিদের কাছ থেকে বাস্তুবিজ্ঞান শিখছে ! তাহলেই ভাবো প্রকৃত সত্য কিভাবে বিকৃত হবার সম্ভাবনা সৃষ্টি হয়েছে !
যে কোনো প্রাচীন অবলুপ্ত বিদ্যা ভারতীয় ঋষিদের পদপ্রান্তে বসেই শিখতে হবে ! বর্তমান বিজ্ঞান সাধক (বিজ্ঞানী)-দের মধ্যে যাঁরা চেতনার Level-এ উন্নতিলাভ করেছেন তাঁরা চিন্তা ভাবনা করে নতুন আর কি আবিষ্কার করবেন ? সেই এক এবং অদ্বিতীয় ‘সত্য’-এর দিকেই তো ধীরে ধীরে আগিয়ে যাবেন_তাছাড়া আর কি করবেন ! “চিন্তামনির নাচদুয়ারে” – তো সব মণিরত্ন-ই ছড়িয়ে পড়ে রয়েছে ৷ অন্তরের অন্তঃস্থলে (সাধনার গভীরে) ডুব মেরে__ যে “বাহাদুর” সেই পারবে ঐসব মণিরত্ন উদ্ধার করে নিয়ে আসতে । এইভাবেই আবিষ্কার হয় বৈজ্ঞানিক আবিষ্কার , তত্ত্বের আবিষ্কার , মন্ত্রের আবিষ্কার __সবকিছু এইভাবেই হয় । চেতনার গভীরে ডুবে যেতে হয় , মগ্ন হয়ে যেতে হয় __আর সেই মগ্নতা থেকে অন্তঃপ্রকৃতি ও বহিঃপ্রকৃতির একাত্মতা আসে ! এমনটা যখন হয়__ তখনই জগৎ রহস্য , জীবন রহস্যের জট খুলতে থাকে সাধকের কাছে !
পতঞ্জলি বলেছে “প্রযত্ন শৈথিল্য” আর “অনন্ত সমাপত্তি মনঃ” , মন অনন্তে যুক্ত হয়ে গেলে সমস্ত বিদ্যা অধিগত হয় । আর একমাত্র সাধকের আজ্ঞাচক্র ভেদ হলেই মন অনন্তে লীন হয় – এটাই ঋষি অবস্থা ! যে কোনো জড়বিজ্ঞানী বা জীববিজ্ঞানীদেরও এই অবস্থা লাভ হতে পারে __ যদি তিনি কোনো সদ্-গুরুর সান্নিধ্য লাভ করে থাকেন । ঠিক ঠিক সাধন-পদ্ধতি অবলম্বন না করলে শক্তির উর্ধ্বগতি স্তব্ধ হয়ে যায় __আর তা তখন প্রবলবেগে নিচের দিকে নামতে থাকে এবং নানান অনর্থ ঘটায় ৷ সমাজে যত বড় বড় অনিষ্ট শক্তিমান ব্যক্তির এইরূপ নিম্নগামী শক্তি প্রবাহের জন্যই হয়ে থাকে । সাধারণ অবস্থায় কুলকুণ্ডলিনীর একটু ঊর্দ্ধগতি হলেই সেটা যখন নামে তখন প্রচন্ড কাম-ক্রোধ ইত্যাদির বেগ হয় । আর যারা শক্তিমান সাধক তাদের শক্তি একটা Particular উচ্চতায় উঠার পর রুদ্ধ হয়ে যদি নিচের দিকে নামে – তাহলে বড় বড় অনিষ্ট সাধন হয়ে যায় ৷ যার বিষময় ফল ভোগ করে সমাজের মানুষ! তখন আবার কোনো না কোনো মহাপুরুষের আগমন ঘটে _মানুষদেরকে পুনরায় ঠিকপথে ফিরিয়ে আনার জন্য !
এইসব নানান রহস্য রয়েছে এই জগতে ! আমাদের কথা হচ্ছিলো প্রাচীন ইতিহাস নিয়ে এবং বাস্তু বিজ্ঞান নিয়ে । সিন্ধু সভ্যতা গড়ে উঠেছিল শুধু সিন্ধুনদের উপত্যকাতেই নয় _আরও বিস্তৃত ছিল এর পরিধি ! ঐ অঞ্চলে তখন সরস্বতী নদী প্রবাহিত হোতো । বেদে কয়েক স্থানে সরস্বতী নদীর উল্লেখ রয়েছে । ওই নদী হিমালয়ের বরফগলা জলে পুষ্ট ছিল, ফলে সারাবছর জলের যোগান পাওয়া যেত । সেই জন্য যে সব স্থান এখন মরুভূমিপ্রায় __সেই সব অঞ্চল বহুপূর্বে খুবই সমৃদ্ধ ছিল ৷ ‘সারস্বত’ বলা হত ওই অঞ্চলের লোকেদের । হরপ্পা-মহেঞ্জোদারোতে সারস্বতরা রাজত্ব করতো । ওটা ছিল কোল dynasty ৷
আর্য সভ্যতা , দ্রাবিড় সভ্যতা এবং কোল সভ্যতা একসময় ভারতবর্ষে পাশাপাশি বিকশিত হয়েছিল । রামচন্দ্র তার রাজত্বকালে এই তিন সভ্যতা-কে একসূত্রে বেঁধেছিলেন ৷ ভারতবর্ষের প্রাচীন ইতিহাসের Link-টা একবারে কেটে গেল – মুসলমান আক্রমণের ফলে বা এদেশে মুসলমানেরা রাজত্ব করার পর থেকে । ওরা ভারতবর্ষে পুঁথিগুলিকে অকারনে নষ্ট করে দিয়েছিল – যদি তা না করতো তাহলে সমস্ত Missing link পাওয়া যেত । ইংরেজরা এসে গ্রাম-গঞ্জ , পাহাড়-জঙ্গল , খুঁজে বাকি যা কিছু ছিল_তার বেশিরভাগটাই সব লুট করে ইংল্যান্ডে নিয়ে চলে গেছে ৷ ওদের সাথে মুসলমানদের এটাই বড় তফাৎ যে, ওরা পুঁথিগুলো নষ্ট করেনি – সংরক্ষণ করেছে ।
তবে_ আমি আবার বলছি ইতিহাস কখনো নষ্ট হয় না ৷ প্রকৃতির এই বাতাবরনে সবকিছুই আছে ৷ অতীত-ও আছে – বর্তমানের মতোই ! উপযুক্ত ব্যক্তির কাছে অতীত ও ভবিষ্যৎ বর্তমানের মতোই দৃশ্যমান ! স্থান-কাল-পাত্র ! উপযুক্ত সময়ে বা উপযুক্ত পরিবেশে, উপযুক্ত মানুষের কাছে অতীতের সমস্ত সত্য উদ্ঘাটিত বা প্রকাশিত হয়ে থাকে ৷ আর তখনই তাঁদের ‘বলা কথা’_ প্রসাদরূপে সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছে যায় ! তারাও প্রাচীন ইতিহাস সহ সবকিছুর সম্বন্ধেই অনেক সঠিক তথ্য জানতে পারে।৷
যাইহোক, কথা হচ্ছিলো হরপ্পা-মহেঞ্জোদারো-র সভ্যতা নিয়ে । ওখানে ঠিক ঠিক বাস্তুবিজ্ঞান মেনে নগর-সভ্যতা গুলির বিভিন্ন Construction গড়ে ওঠেনি । তা হলে এইভাবে এককালীন সবকিছু ধ্বংস হয়ে যেতো না । এখনও বিশ্বের বড় বড় শহর , নগর কি বাস্তুবিজ্ঞান মেনে তৈরি হয়েছে বা হোচ্ছে ? হোচ্ছে না ! বাস্তুবিজ্ঞানের জ্ঞান কোথায় ? ভারতেই নাই, তাহলে বিশ্বের অন্যান্য দেশ পাবে কি করে ! ভারতবর্ষে, মহাভারতের যুগের পর অর্থাৎ কৃষ্ণের পর তো আর এই চর্চাই প্রায় হয়নি (যেহেতু অন্যান্য পুরানাদিতে উল্লেখ পাওয়া যায় না) । এত কাল পরে আবার এই বিদ্যাচর্চার একটা আগ্রহ লক্ষ্য করা যাচ্ছে ! কিন্তু আচার্য কই ? এখন তো ভারতীয়রা বিদেশিদের কাছ থেকে বাস্তুবিজ্ঞান শিখছে ! তাহলেই ভাবো প্রকৃত সত্য কিভাবে বিকৃত হবার সম্ভাবনা সৃষ্টি হয়েছে !
যে কোনো প্রাচীন অবলুপ্ত বিদ্যা ভারতীয় ঋষিদের পদপ্রান্তে বসেই শিখতে হবে ! বর্তমান বিজ্ঞান সাধক (বিজ্ঞানী)-দের মধ্যে যাঁরা চেতনার Level-এ উন্নতিলাভ করেছেন তাঁরা চিন্তা ভাবনা করে নতুন আর কি আবিষ্কার করবেন ? সেই এক এবং অদ্বিতীয় ‘সত্য’-এর দিকেই তো ধীরে ধীরে আগিয়ে যাবেন_তাছাড়া আর কি করবেন ! “চিন্তামনির নাচদুয়ারে” – তো সব মণিরত্ন-ই ছড়িয়ে পড়ে রয়েছে ৷ অন্তরের অন্তঃস্থলে (সাধনার গভীরে) ডুব মেরে__ যে “বাহাদুর” সেই পারবে ঐসব মণিরত্ন উদ্ধার করে নিয়ে আসতে । এইভাবেই আবিষ্কার হয় বৈজ্ঞানিক আবিষ্কার , তত্ত্বের আবিষ্কার , মন্ত্রের আবিষ্কার __সবকিছু এইভাবেই হয় । চেতনার গভীরে ডুবে যেতে হয় , মগ্ন হয়ে যেতে হয় __আর সেই মগ্নতা থেকে অন্তঃপ্রকৃতি ও বহিঃপ্রকৃতির একাত্মতা আসে ! এমনটা যখন হয়__ তখনই জগৎ রহস্য , জীবন রহস্যের জট খুলতে থাকে সাধকের কাছে !
পতঞ্জলি বলেছে “প্রযত্ন শৈথিল্য” আর “অনন্ত সমাপত্তি মনঃ” , মন অনন্তে যুক্ত হয়ে গেলে সমস্ত বিদ্যা অধিগত হয় । আর একমাত্র সাধকের আজ্ঞাচক্র ভেদ হলেই মন অনন্তে লীন হয় – এটাই ঋষি অবস্থা ! যে কোনো জড়বিজ্ঞানী বা জীববিজ্ঞানীদেরও এই অবস্থা লাভ হতে পারে __ যদি তিনি কোনো সদ্-গুরুর সান্নিধ্য লাভ করে থাকেন । ঠিক ঠিক সাধন-পদ্ধতি অবলম্বন না করলে শক্তির উর্ধ্বগতি স্তব্ধ হয়ে যায় __আর তা তখন প্রবলবেগে নিচের দিকে নামতে থাকে এবং নানান অনর্থ ঘটায় ৷ সমাজে যত বড় বড় অনিষ্ট শক্তিমান ব্যক্তির এইরূপ নিম্নগামী শক্তি প্রবাহের জন্যই হয়ে থাকে । সাধারণ অবস্থায় কুলকুণ্ডলিনীর একটু ঊর্দ্ধগতি হলেই সেটা যখন নামে তখন প্রচন্ড কাম-ক্রোধ ইত্যাদির বেগ হয় । আর যারা শক্তিমান সাধক তাদের শক্তি একটা Particular উচ্চতায় উঠার পর রুদ্ধ হয়ে যদি নিচের দিকে নামে – তাহলে বড় বড় অনিষ্ট সাধন হয়ে যায় ৷ যার বিষময় ফল ভোগ করে সমাজের মানুষ! তখন আবার কোনো না কোনো মহাপুরুষের আগমন ঘটে _মানুষদেরকে পুনরায় ঠিকপথে ফিরিয়ে আনার জন্য !
এইসব নানান রহস্য রয়েছে এই জগতে ! আমাদের কথা হচ্ছিলো প্রাচীন ইতিহাস নিয়ে এবং বাস্তু বিজ্ঞান নিয়ে । সিন্ধু সভ্যতা গড়ে উঠেছিল শুধু সিন্ধুনদের উপত্যকাতেই নয় _আরও বিস্তৃত ছিল এর পরিধি ! ঐ অঞ্চলে তখন সরস্বতী নদী প্রবাহিত হোতো । বেদে কয়েক স্থানে সরস্বতী নদীর উল্লেখ রয়েছে । ওই নদী হিমালয়ের বরফগলা জলে পুষ্ট ছিল, ফলে সারাবছর জলের যোগান পাওয়া যেত । সেই জন্য যে সব স্থান এখন মরুভূমিপ্রায় __সেই সব অঞ্চল বহুপূর্বে খুবই সমৃদ্ধ ছিল ৷ ‘সারস্বত’ বলা হত ওই অঞ্চলের লোকেদের । হরপ্পা-মহেঞ্জোদারোতে সারস্বতরা রাজত্ব করতো । ওটা ছিল কোল dynasty ৷
আর্য সভ্যতা , দ্রাবিড় সভ্যতা এবং কোল সভ্যতা একসময় ভারতবর্ষে পাশাপাশি বিকশিত হয়েছিল । রামচন্দ্র তার রাজত্বকালে এই তিন সভ্যতা-কে একসূত্রে বেঁধেছিলেন ৷ ভারতবর্ষের প্রাচীন ইতিহাসের Link-টা একবারে কেটে গেল – মুসলমান আক্রমণের ফলে বা এদেশে মুসলমানেরা রাজত্ব করার পর থেকে । ওরা ভারতবর্ষে পুঁথিগুলিকে অকারনে নষ্ট করে দিয়েছিল – যদি তা না করতো তাহলে সমস্ত Missing link পাওয়া যেত । ইংরেজরা এসে গ্রাম-গঞ্জ , পাহাড়-জঙ্গল , খুঁজে বাকি যা কিছু ছিল_তার বেশিরভাগটাই সব লুট করে ইংল্যান্ডে নিয়ে চলে গেছে ৷ ওদের সাথে মুসলমানদের এটাই বড় তফাৎ যে, ওরা পুঁথিগুলো নষ্ট করেনি – সংরক্ষণ করেছে ।
তবে_ আমি আবার বলছি ইতিহাস কখনো নষ্ট হয় না ৷ প্রকৃতির এই বাতাবরনে সবকিছুই আছে ৷ অতীত-ও আছে – বর্তমানের মতোই ! উপযুক্ত ব্যক্তির কাছে অতীত ও ভবিষ্যৎ বর্তমানের মতোই দৃশ্যমান ! স্থান-কাল-পাত্র ! উপযুক্ত সময়ে বা উপযুক্ত পরিবেশে, উপযুক্ত মানুষের কাছে অতীতের সমস্ত সত্য উদ্ঘাটিত বা প্রকাশিত হয়ে থাকে ৷ আর তখনই তাঁদের ‘বলা কথা’_ প্রসাদরূপে সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছে যায় ! তারাও প্রাচীন ইতিহাস সহ সবকিছুর সম্বন্ধেই অনেক সঠিক তথ্য জানতে পারে।৷
