জিজ্ঞাসু : ~ আপনি একটু আগেই যা বলছিলেন তাতে তো মনে হয় হিন্দুধর্মেও মৌলবাদ রয়েছে ?
গুরু মহারাজ : ~ দেখুন ! আমি এরকম বলিনি যে ‘হিন্দু ধর্ম’ , ‘মুসলিম ধর্ম’ ইত্যাদি । আমি জানি ধর্ম একটাই আর তা শাশ্বত-সনাতন ৷ যা ছিল , যা আছে , যা থাকবে – তাই ধর্ম ৷ ধর্ম নিত্য , শাশ্বত , সনাতন ৷ বিভিন্ন ধর্মমত(হিন্দু, বৌদ্ধ, ইসলাম, খ্রীষ্টিয়) এক‌ই সমুদ্রে যেন বিভিন্ন তরঙ্গ ! সেই অর্থে_ হিন্দু, বৌদ্ধ, ইসলাম , খ্রিস্টান এগুলি এক একটি মত বা সম্প্রদায় ৷ আর ‘হিন্দু’- এই নামটি বিদেশিদের দেওয়া , ভারতীয়রা সনাতন ধর্মের-ই অন্তর্গত এমনকি বাকিরাও সবাই । ধর্মীয় মৌলবাদ নিয়ে এখন চারিদিকে নানা কথা উঠছে ৷ ধর্মীয় মৌলবাদের ফলে জগতে বহু রক্তপাত হয়েছে বা হচ্ছে তা ঠিকই । কিন্তু রাজনৈতিক মৌলবাদীরাই বা কম যায় কিসে ? এরাও পৃথিবীতে অনেক রক্ত ঝরিয়েছে ! পৃথিবীর কোনো কোনো স্থানে ‘ধর্মযুদ্ধ’ নাম দিয়ে ধর্মীয় মৌলবাদীরা রক্তপাত ঘটিয়েছে কিন্তু সেগুলির পিছনেও রাজনৈতিক নেতাদের উস্কানি ছিল, সাম্রাজ্যবাদীদের রাজনৈতিক উদ্দেশ্য ছিল । খ্রিস্টানরা , মুসলিমরা পৃথিবীর বিভিন্ন প্রান্তে গেছে এবং তারা সেখানে উপনিবেশ স্থাপন করেছে বা সাম্রাজ্যবাদ প্রতিষ্ঠা করতে চেয়েছে । আর সেগুলি কায়েম করা বা স্থায়ীকরণ করার জন্যই তারা অন্যতম হাতিয়ার করেছে ধর্মান্তরকরণ ।
আর ইউরোপের ক্রুসেড-গুলিকে যদি রক্তক্ষয়ী ধর্মযুদ্ধ বলো, তাহলে সেখানেও জানবে ওদিকের সুলতান এবং এদিকের ব্যারন বা লর্ড-রাও তাদের নিজেদের গদি বা সম্মান বজায় রাখার জন্য‌ই এই যুদ্ধ দীর্ঘদিন ধরে চালিয়ে গিয়েছিল । আর এর ফলে সবচাইতে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল সাধারণ মানুষ ।
অত্যাচারী ব্যারন , কাউন্টদের হাত থেকে মুক্ত হবার জন্য তৎকালীন ইংল্যান্ডের মানুষ “রবিন হুড”-এর মত এক বা একাধিক জঙ্গি নেতাকে তাদের মুক্তিদূত হিসেবে মেনে নিয়েছিল – দেশের রাজাকে নয় ৷ তাহলে এগুলি ‘ধর্মযুদ্ধ’ কি করে হোলো ? এইভাবেই প্রতিটি ক্ষেত্রে বিচার-বিশ্লেষণ করলে একই চিত্র দেখতে পাবে । প্রকৃত ধর্মযুদ্ধ ছিল কুরুক্ষেত্রের যুদ্ধ –যেখানে অধর্মাচারী কৌরবপক্ষের বিনাশ ঘটিয়ে ধর্মপরায়ণ পান্ডবদের হাতে ভারতবর্ষের ভার তুলে দিয়েছিলেন ভগবান শ্রীকৃষ্ণ ! লঙ্কার রাবন-বধ‌ও ছিল অধর্মাচারীর বিরুদ্ধে ন্যায়ধর্মের প্রতিষ্ঠার যুদ্ধ !
তবে জেনে রাখা ভালো যে, প্রতিটি ধর্মীয় Massacre-এর পিছনে অবশ্যই রাজনৈতিক মদত থাকে ৷ এইসবের মাধ্যমে রাজন্যবর্গেরা(বা রাজনৈতিক নেতারা)কোনো না কোনো ক্ষুদ্র স্বার্থ চরিতার্থ করতে গিয়ে মানবসমাজে মানবজাতির চরম অমঙ্গল করে বসে ।৷