জিজ্ঞাসু : ~ স্বামী বিবেকানন্দ যে ঠাকুরের কাছে জ্ঞান, বিবেক, বৈরাগ্য চাইলেন – এটাও তো আত্মেন্দ্রিয় প্রীতি ইচ্ছা ! কারণ নিজের জন্যই তো চাওয়া ?
গুরু মহারাজ : ~ মানুষ কিরকম critical দেখেছো ? মানুষের মনে এতো কুটিলতা, এত জটিলতা যে, যে কোনো সহজ বিষয়কেও সে জটিলতর করে তোলে । নিজের সহজতা, সারল্য হারিয়ে ফেলে বলেই মহাবিশ্বপ্রকৃতির সহজতার সন্ধান পায় না !
অপরপক্ষে যে কোনো মহাপুরুষকে দ্যাখো – দেখবে তাঁরা প্রকৃতির সহজতাকে আশ্রয় করেছেন, মানুষকে-জগতকে সহজভাবে গ্রহণ করতে পেরেছেন, কারণ তাঁরা নিজেরা সহজ ছিলেন ৷ মানুষ সহজতা হারিয়েছে, আত্মবিস্মৃত হয়েছে, তাই ভুলভাল চিন্তা করে- ভুলভাল বকে – এ সবই বকওয়াস্ ৷
এবার তোমার কথার উত্তর দিচ্ছি __জ্ঞান, বিবেক, বৈরাগ্যের সাথে স্থুল ইন্দ্রিয়ের সম্পর্ক কোথায় খোকা – যে আত্মেন্দ্রিয় প্রীতি ইচ্ছা হবে !! তোমার ইন্দ্রিয়াদির ভোগ-বাসনা মেটানোর যে চাহিদা, সেই গুলিই আত্মেন্দ্রিয় প্রীতি ইচ্ছা ! যাই হোক, তোমার চেতনা দিয়ে স্বামী বিবেকানন্দকে বিচার করতে চাইছো ? কি স্পর্ধা তোমার ? অবশ্য একটা কথা রয়েছে, ” অবোধের গোবধে আনন্দ “! এখন বাংলায় বামপন্থীরা রাজত্ব করছে । এরা আর কিছু না পারুক, শিক্ষিত ছেলে-মেয়েদের মধ্যে ভারতীয় মনীষী, ভারতীয় প্রাচীন কৃষ্টি ও সংস্কৃতির প্রতি একটা অশ্রদ্ধা, একরকম নেগেটিভ মনোভাব এনে দেওয়ার চেষ্টায় অনেকটা সফল হয়েছে ৷ এদের নেতা-মন্ত্রীরা প্রকাশ্যে বা দলীয় মিটিং-এ এই মনোভাব তৈরি করার জন্য ভাষণ দেয়, বিভিন্ন মনগড়া বিকৃত তথ্য পরিবেশন করে মানুষকে বিভ্রান্ত করে । আসলে মার্কস দর্শন _বিদেশি দর্শন, আর এর থেকেও শতগুণ, সহশ্রগুন উচ্চ চিন্তার জন্ম দিয়েছে এই ভারতবর্ষ ! ভারতবর্ষের-ই চিন্তা বিভিন্ন হাত ঘুরে কালমার্কস-এর হাতে পড়েছিল ইংল্যান্ডের লাইব্রেরীতে। ওখানে গবেষণার সময় ঐ ভদ্রলোক সেগুলিকেই Synthesis করে ‘দ্বান্দ্বিক বস্তুবাদ’ নাম দিয়ে একটা গ্রন্থ রচনা করেন__যেটা মার্ক্স দর্শন নামে গোটা বিশ্বে প্রসিদ্ধি লাভ করে ।
সুতরাং ভারতবর্ষে এই দর্শন কখনই সার্বিকভাবে গ্রহণযোগ্য হবে না – হোতে পারেই না ! সাময়িক উচ্ছ্বাসে কিছু মানুষ এটা নিয়ে নাচানাচি করছে ! বিদেশ থেকে বিশেষত: বিভিন্ন কমিউনিস্ট Country থেকে প্রচুর টাকাও আসে – ভারতীয় মনীষীদের বা ভারতীয় দর্শনের চিন্তাসমূহকে অবমূল্যায়ন করার জন্য ! এই যে এইসব ছেলেরা ওই চক্রান্তের শিকার ! দ্যাখো ! কেমন জিজ্ঞাসা করছে ?
স্বামীজীর রচনাবলী ভালো করে পড়ো বাবা ! ওনার জীবন দেখো – জীবনের ত্যাগ, সংযম, সংগ্রাম দেখো ! স্বামীজীকে “শিবাবতার” বলা হয়েছে ! শংকর সর্বত্যাগী, সব সিদ্ধি – সমস্ত ঐশ্বর্য থাকা সত্বেও শ্মশানবাসী । শিবের বসন-ভূষণ কোনটাই অন্যান্য কোনো দেবতার সঙ্গে মেলে না ৷ মৃত বাঘের ছাল তাঁর পরিধেয়, সর্প তার ভূষণ, বনের ফুল তাঁর অঙ্গে শোভাবর্ধন করে, গঙ্গা স্বয়ং তাঁকে স্বতঃধৌত করে ৷ তাই, শিব হওয়া কি মুখের কথা ! শিব বা মহাদেবের অংশ হিসাবে বীরেশ্বর বিবেকানন্দ শরীর ধারণ করেছিলেন । ঠাকুর শ্রীরামকৃষ্ণ নরেন (বিবেকানন্দ) সম্বন্ধে কতো সময় কতো কথা বলেছিলেন ! একবার বললেন, ” দেখলাম অখন্ড চৈতন্যের মধ্যে উজ্জ্বল জ্যোতিষ্কের মত সাতজন ঋষি ধ্যানমগ্ন ছিলেন, একজন দেবশিশু ওদের মধ্যে একজনের গলা জড়িয়ে ধরে বলল – ‘ আমি চললাম, তুমিও এসো ৷’– নরেন ওই সপ্ত ঋষির একজন ।”
স্বামী বিবেকানন্দের মতো মহাপুরুষরা জন্মান না – ওঁরা আসেন । যুগ প্রয়োজনে, মানুষের কল্যাণে ওঁরা শরীর গ্রহণ করেন । মানুষ কি মূল্যায়ন করলো, তাতে ওঁদের কি যায় আসে । মাত্র ঊনচল্লিশ বছর বয়সে শরীর ছেড়েছিলেন স্বামীজী । 1886 সালে যখন ঠাকুর শ্রীরামকৃষ্ণ শরীর ছেড়েছিলেন তখন 10-12 জন ত্যাগী যুবক ব্রহ্মচারীর থাকা-খাওয়ার জায়গা ছিল না ৷ ঠাকুরের গৃহী ভক্তরা (গিরীশ, সুরেন্দ্র, মাস্টারমশাই, বলরাম ইত্যাদি) কোনোক্রমে তা যোগাতো । এরপর স্বামীজীর সমগ্র ভারত পরিব্রাজন করলেন ৷ 1889/1893 সালে আমেরিকা গেলেন আর 1902 সালে শরীর ছেড়ে দিলেন ৷ তাহলে বোঝো – কত অল্প সময়ে কি বিরাট কাজ করে গেলেন এই Cyclonic Hindu Monk ! 1886 পর্যন্ত শক্তির সঞ্চয় করলেন, তারপর 14/15 বছর কাজ করলেন ৷ তাতেই কালসমুদ্রে একটা বিরাট ঢেউ তুলে দিয়ে চলে গেলেন ।
স্বামীজীকে তুমি আর কি বুঝবে বাবা – আচ্ছা আচ্ছা সাধকের কয়েকজন্ম লেগে যাবে স্বামীজি কি করে গেছেন তা বুঝতে !!
গুরু মহারাজ : ~ মানুষ কিরকম critical দেখেছো ? মানুষের মনে এতো কুটিলতা, এত জটিলতা যে, যে কোনো সহজ বিষয়কেও সে জটিলতর করে তোলে । নিজের সহজতা, সারল্য হারিয়ে ফেলে বলেই মহাবিশ্বপ্রকৃতির সহজতার সন্ধান পায় না !
অপরপক্ষে যে কোনো মহাপুরুষকে দ্যাখো – দেখবে তাঁরা প্রকৃতির সহজতাকে আশ্রয় করেছেন, মানুষকে-জগতকে সহজভাবে গ্রহণ করতে পেরেছেন, কারণ তাঁরা নিজেরা সহজ ছিলেন ৷ মানুষ সহজতা হারিয়েছে, আত্মবিস্মৃত হয়েছে, তাই ভুলভাল চিন্তা করে- ভুলভাল বকে – এ সবই বকওয়াস্ ৷
এবার তোমার কথার উত্তর দিচ্ছি __জ্ঞান, বিবেক, বৈরাগ্যের সাথে স্থুল ইন্দ্রিয়ের সম্পর্ক কোথায় খোকা – যে আত্মেন্দ্রিয় প্রীতি ইচ্ছা হবে !! তোমার ইন্দ্রিয়াদির ভোগ-বাসনা মেটানোর যে চাহিদা, সেই গুলিই আত্মেন্দ্রিয় প্রীতি ইচ্ছা ! যাই হোক, তোমার চেতনা দিয়ে স্বামী বিবেকানন্দকে বিচার করতে চাইছো ? কি স্পর্ধা তোমার ? অবশ্য একটা কথা রয়েছে, ” অবোধের গোবধে আনন্দ “! এখন বাংলায় বামপন্থীরা রাজত্ব করছে । এরা আর কিছু না পারুক, শিক্ষিত ছেলে-মেয়েদের মধ্যে ভারতীয় মনীষী, ভারতীয় প্রাচীন কৃষ্টি ও সংস্কৃতির প্রতি একটা অশ্রদ্ধা, একরকম নেগেটিভ মনোভাব এনে দেওয়ার চেষ্টায় অনেকটা সফল হয়েছে ৷ এদের নেতা-মন্ত্রীরা প্রকাশ্যে বা দলীয় মিটিং-এ এই মনোভাব তৈরি করার জন্য ভাষণ দেয়, বিভিন্ন মনগড়া বিকৃত তথ্য পরিবেশন করে মানুষকে বিভ্রান্ত করে । আসলে মার্কস দর্শন _বিদেশি দর্শন, আর এর থেকেও শতগুণ, সহশ্রগুন উচ্চ চিন্তার জন্ম দিয়েছে এই ভারতবর্ষ ! ভারতবর্ষের-ই চিন্তা বিভিন্ন হাত ঘুরে কালমার্কস-এর হাতে পড়েছিল ইংল্যান্ডের লাইব্রেরীতে। ওখানে গবেষণার সময় ঐ ভদ্রলোক সেগুলিকেই Synthesis করে ‘দ্বান্দ্বিক বস্তুবাদ’ নাম দিয়ে একটা গ্রন্থ রচনা করেন__যেটা মার্ক্স দর্শন নামে গোটা বিশ্বে প্রসিদ্ধি লাভ করে ।
সুতরাং ভারতবর্ষে এই দর্শন কখনই সার্বিকভাবে গ্রহণযোগ্য হবে না – হোতে পারেই না ! সাময়িক উচ্ছ্বাসে কিছু মানুষ এটা নিয়ে নাচানাচি করছে ! বিদেশ থেকে বিশেষত: বিভিন্ন কমিউনিস্ট Country থেকে প্রচুর টাকাও আসে – ভারতীয় মনীষীদের বা ভারতীয় দর্শনের চিন্তাসমূহকে অবমূল্যায়ন করার জন্য ! এই যে এইসব ছেলেরা ওই চক্রান্তের শিকার ! দ্যাখো ! কেমন জিজ্ঞাসা করছে ?
স্বামীজীর রচনাবলী ভালো করে পড়ো বাবা ! ওনার জীবন দেখো – জীবনের ত্যাগ, সংযম, সংগ্রাম দেখো ! স্বামীজীকে “শিবাবতার” বলা হয়েছে ! শংকর সর্বত্যাগী, সব সিদ্ধি – সমস্ত ঐশ্বর্য থাকা সত্বেও শ্মশানবাসী । শিবের বসন-ভূষণ কোনটাই অন্যান্য কোনো দেবতার সঙ্গে মেলে না ৷ মৃত বাঘের ছাল তাঁর পরিধেয়, সর্প তার ভূষণ, বনের ফুল তাঁর অঙ্গে শোভাবর্ধন করে, গঙ্গা স্বয়ং তাঁকে স্বতঃধৌত করে ৷ তাই, শিব হওয়া কি মুখের কথা ! শিব বা মহাদেবের অংশ হিসাবে বীরেশ্বর বিবেকানন্দ শরীর ধারণ করেছিলেন । ঠাকুর শ্রীরামকৃষ্ণ নরেন (বিবেকানন্দ) সম্বন্ধে কতো সময় কতো কথা বলেছিলেন ! একবার বললেন, ” দেখলাম অখন্ড চৈতন্যের মধ্যে উজ্জ্বল জ্যোতিষ্কের মত সাতজন ঋষি ধ্যানমগ্ন ছিলেন, একজন দেবশিশু ওদের মধ্যে একজনের গলা জড়িয়ে ধরে বলল – ‘ আমি চললাম, তুমিও এসো ৷’– নরেন ওই সপ্ত ঋষির একজন ।”
স্বামী বিবেকানন্দের মতো মহাপুরুষরা জন্মান না – ওঁরা আসেন । যুগ প্রয়োজনে, মানুষের কল্যাণে ওঁরা শরীর গ্রহণ করেন । মানুষ কি মূল্যায়ন করলো, তাতে ওঁদের কি যায় আসে । মাত্র ঊনচল্লিশ বছর বয়সে শরীর ছেড়েছিলেন স্বামীজী । 1886 সালে যখন ঠাকুর শ্রীরামকৃষ্ণ শরীর ছেড়েছিলেন তখন 10-12 জন ত্যাগী যুবক ব্রহ্মচারীর থাকা-খাওয়ার জায়গা ছিল না ৷ ঠাকুরের গৃহী ভক্তরা (গিরীশ, সুরেন্দ্র, মাস্টারমশাই, বলরাম ইত্যাদি) কোনোক্রমে তা যোগাতো । এরপর স্বামীজীর সমগ্র ভারত পরিব্রাজন করলেন ৷ 1889/1893 সালে আমেরিকা গেলেন আর 1902 সালে শরীর ছেড়ে দিলেন ৷ তাহলে বোঝো – কত অল্প সময়ে কি বিরাট কাজ করে গেলেন এই Cyclonic Hindu Monk ! 1886 পর্যন্ত শক্তির সঞ্চয় করলেন, তারপর 14/15 বছর কাজ করলেন ৷ তাতেই কালসমুদ্রে একটা বিরাট ঢেউ তুলে দিয়ে চলে গেলেন ।
স্বামীজীকে তুমি আর কি বুঝবে বাবা – আচ্ছা আচ্ছা সাধকের কয়েকজন্ম লেগে যাবে স্বামীজি কি করে গেছেন তা বুঝতে !!
