জিজ্ঞাসু : ~ আমি শুনেছি আমাদের শাস্ত্রগ্রন্থে “৭”(seven) শব্দটিকে খুবই মূল্য দেওয়া হয়েছে ?
গুরু মহারাজ : ~ তুমি শাস্ত্র-গ্রন্থে পেয়েছো ? কোন্ শাস্ত্রগ্রন্থ ? জ্যোতিষ শাস্ত্রে হয়তো রয়েছে, তাছাড়া আর কোথায় রয়েছে ? তন্ত্রশাস্ত্রে কিন্তু ১, ৩, ৬, ৭, ১৮, ২৪, ১০৮ এইসব সংখ্যাকে মূল্য দেওয়া হয়েছে । ১৮ সংখ্যাটি তো খুবই তাৎপর্যপূর্ণ – সেইজন্য মহাভারতে ১৮ দিন যুদ্ধ, অষ্টাদশ পর্ব, গীতাতেও ১৮ টি অধ্যায় ইত্যাদি দেখা যায় । ‘সাত’–সংখ্যার মাহাত্ম্য তুমি কোথায় পেয়েছো জানি না কিন্তু আমি দেখেছি __পৃথিবী গ্রহে মানুষের ক্ষেত্রে সাত (৭) সংখ্যাটিরও যথেষ্ট তাৎপর্য রয়েছে ! সপ্তাহে সাতদিন,সাতে সমুদ্র, পথিবীর ঊর্দ্ধে এবং নিম্নে সাতটি করে স্তর, আলোর সাত রঙ ইত্যাদি ইত্যাদি !!
যদি কোনো মানুষের জীবনকে ভালোভাবে পর্যালোচনা করো, তাহলেও এটা দেখতে পাবে ৷ মায়েদের ঋতুচক্র ৭-এর গুণিতকে সম্পন্ন হয় । ডিম্বাণুর সক্ষমতা বা কার্যকরিতাও নির্ধারণ হয় ৭-এর গুণিতকে । মাতৃজঠরে শিশুর বৃদ্ধিও হয় একই গুনিতকে ৷ সন্তান ভূমিষ্ঠ হওয়ার পর ৭ মাস পর্যন্ত শিশু অবস্থা –এই অবস্থায় শিশু সম্পূর্ণ মায়ের উপর নির্ভরশীল থাকে। সাতমাসের পর থেকেই শিশুর দাঁত হয় ও সে নিজে অন্য খাবার খাবার উপযুক্ত হয় ৷ তাই এই বয়সে মুখেভাত বা অন্নপ্রাশনের বিধান দেওয়া হয়েছে ৷ এবার দ্যাখো ৭ বছর পর্যন্ত বাল্য, ৭x২=১৪ বছর পর্যন্ত কৈশোর, ৭x৩=২১ বছরে যৌবন শুরু – এর স্থায়িত্বকাল ৭x৭=৪৯ বছর(প্রথম ৪×৭=২৮ বছর তারুণ্য এবং পরবর্তী ৩×৭=২১ বছর প্রৌঢ়ত্ব)! তার মানে মানুষের যৌবনকাল ৭০ বছর বয়স পর্যন্ত । এরপর থেকে বার্ধক্যও আসে ৭-এর গুনিতকে । এরপর থেকে বার্ধক্য, যার স্থায়িত্বকালও ৭-এর গুনিতকে। প্রথম ও দ্বিতীয় বার্ধক্যকাল যথাক্রমে ৪×৭=২৮ বছর করে এবং শেষ বার্ধক্যকাল ৩×৭=২১ বছর। অর্থাৎ মানুষের পূর্ণ জীবনকাল হোলো ৭x২১=১৪৭ বছর ।
কিন্তু সাধারণতঃ মানুষ অতোদিন পর্যন্ত বাঁচে না।কারণ প্রাকৃতিক পরিবেশ অর্থাৎ তার বেঁচে থাকার পরিবেশ দূষিত করে ফেলছে মানুষ নিজেই – ফলে নিজেরাই নিজেদের মৃত্যুকে ত্বরান্বিত করছে ৷ তাছাড়া সর্বোপরি মানুষের Life-style এবং Food-habit অর্থাৎ আহার এবং বিহার অসহজ হয়ে পড়েছে,তাই এখন মানুষের গড় আয়ু কমে গেছে ৷ মানুষ শিক্ষার বা সভ্যতার গর্ব করে কিন্তু প্রকৃত অর্থে ‘শিক্ষিত’- মানে হচ্ছে অন্তঃচেতনার বিকাশ, চেতনার উত্তরণ । জড় চেতনা থেকে জীবচেতনা, জীবচেতনা থেকে মনুষ্যচেতনা, মনুষ্যচেতনা থেকে দেবচেতনা, দেবচেতনা থেকে ঋষিচেতনা – এই ক্রম ধরে ধরে এগিয়ে চলাই মানবের প্রকৃত শিক্ষা । সেই অর্থে মানব সমাজের অধিক অংশই এখনো অশিক্ষিত, academic but not literate ! মানব সমাজের বেশিরভাগ মানুষই যখন প্রকৃত অর্থে শিক্ষিত হয়ে উঠবে, তখন আর মানুষ সহ সমস্ত জীবের বেঁচে থাকার পরিবেশ দূষণ হবে না । বর্তমানের মানুষ জড়চেতনা, জীবচেতনা, বড়জোর মনুষ্যচেতনায় রয়েছে – তাই তারা তার নিজের স্বার্থ বা আত্মস্বার্থ বড় করে দেখতে গিয়ে বা ব্যক্তিকেন্দ্রিক হোতে গিয়ে নিরন্তর সমষ্টির স্বার্থ বিঘ্নিত করছে – এর ফলেই তো সবকিছুই দূষণ হোচ্ছে ! কিন্তু সমাজের বেশিরভাগ মানুষ যখন ক্ষুদ্রত্ব, সংকীর্ণতা, ব্যক্তিকেন্দ্রিকতা ত্যাগ করে সবাই দেবস্বভাবের হবে অর্থাৎ নিজের কথা না ভেবে অপরে কি কোরে সুখে-স্বাচ্ছন্দে থাকবে, তাই ভাববে – তখনই প্রকৃতি-পরিবেশ, সমাজ এই সবকিছু দোষমুক্ত বা দূষণমুক্ত হবে ! একমাত্র তখনই সমস্ত দিক থেকেই জীবনের ক্ষয় রোধ হবে ।
মানুষের জীবনে সবচাইতে মূল্যবান সময় ১৪ থেকে ২১, এই ৭ (সাত) বছর । বহুপূর্বে এইজন্যেই অভিভাবকরা তাদের সন্তানদের গুরুগৃহে বিদ্যাশিক্ষার জন্য রেখে দিয়ে আসতো । সেখানে এই বয়সের ছাত্র-ছাত্রীরা ব্রহ্মচর্য পালন করতো ৷ ব্রহ্মচর্য পালন অর্থাৎ শ্রদ্ধা, সংযম, নিষ্ঠা, নিয়মানুবতির্তার অভ্যাস পালন ৷ ঋষিরাই এই প্রথা সমাজে চালু করেছিলেন । কারণ তাঁরা জানতেন যে ১৪ থেকে ২১, এই বয়সে কোনো ছেলে বা মেয়ের জীবনে যদি একবার বদভ্যাস তৈরি হয়ে যায় – তাহলে সেই জীবনটাই ধ্বংসাত্মক হয়ে যাবে । ওই জীবন দিয়ে সমাজ আর কোনো Constructive কিছুই পাবে না । তাই মানব জীবনের সুসময় হল ঐ ১৪ থেকে ২১ বছর বয়স ৷
রামপ্রসাদের গানে রয়েছে ” মন রে কৃষি কাজ জানো না, এমন মানব জমিন রইলো পতিত _আবাদ করলে ফলতো সোনা!” দ্যাখো,– কৃষকের কৃষিকার্যেরও একটা নির্দিষ্ট সময় থাকে ৷ প্রকৃত চাষী জানে যে, জমিতে কখন ঠিক ঠিক ‘জো’ আসে ! আর ‘জো’ এলে সেই সময়েই চাষ করতে হয় বা কর্ষণ করতে হয় ৷ তেমনি মানবজীবন-রূপ জমিতেও কর্ষণ করে ফসল ফলানোর অর্থাৎ উৎকর্ষতার চরমসীমায় পৌঁছনোর শুরুটা করতে হয় ওই বয়স থেকে ৷ যে কোনো মানুষ যদি ওই বয়সটা সংযম অভ্যাসে কাটায়, তাহলে জীবনে কোনো না কোনো ক্ষেত্রে সে Successful হবেই ! অন্তত: সে আর পাঁচটা সাধারণ মানুষের থেকে – অন্য রকম হবেই হবে ।৷(ক্রমশঃ)
গুরু মহারাজ : ~ তুমি শাস্ত্র-গ্রন্থে পেয়েছো ? কোন্ শাস্ত্রগ্রন্থ ? জ্যোতিষ শাস্ত্রে হয়তো রয়েছে, তাছাড়া আর কোথায় রয়েছে ? তন্ত্রশাস্ত্রে কিন্তু ১, ৩, ৬, ৭, ১৮, ২৪, ১০৮ এইসব সংখ্যাকে মূল্য দেওয়া হয়েছে । ১৮ সংখ্যাটি তো খুবই তাৎপর্যপূর্ণ – সেইজন্য মহাভারতে ১৮ দিন যুদ্ধ, অষ্টাদশ পর্ব, গীতাতেও ১৮ টি অধ্যায় ইত্যাদি দেখা যায় । ‘সাত’–সংখ্যার মাহাত্ম্য তুমি কোথায় পেয়েছো জানি না কিন্তু আমি দেখেছি __পৃথিবী গ্রহে মানুষের ক্ষেত্রে সাত (৭) সংখ্যাটিরও যথেষ্ট তাৎপর্য রয়েছে ! সপ্তাহে সাতদিন,সাতে সমুদ্র, পথিবীর ঊর্দ্ধে এবং নিম্নে সাতটি করে স্তর, আলোর সাত রঙ ইত্যাদি ইত্যাদি !!
যদি কোনো মানুষের জীবনকে ভালোভাবে পর্যালোচনা করো, তাহলেও এটা দেখতে পাবে ৷ মায়েদের ঋতুচক্র ৭-এর গুণিতকে সম্পন্ন হয় । ডিম্বাণুর সক্ষমতা বা কার্যকরিতাও নির্ধারণ হয় ৭-এর গুণিতকে । মাতৃজঠরে শিশুর বৃদ্ধিও হয় একই গুনিতকে ৷ সন্তান ভূমিষ্ঠ হওয়ার পর ৭ মাস পর্যন্ত শিশু অবস্থা –এই অবস্থায় শিশু সম্পূর্ণ মায়ের উপর নির্ভরশীল থাকে। সাতমাসের পর থেকেই শিশুর দাঁত হয় ও সে নিজে অন্য খাবার খাবার উপযুক্ত হয় ৷ তাই এই বয়সে মুখেভাত বা অন্নপ্রাশনের বিধান দেওয়া হয়েছে ৷ এবার দ্যাখো ৭ বছর পর্যন্ত বাল্য, ৭x২=১৪ বছর পর্যন্ত কৈশোর, ৭x৩=২১ বছরে যৌবন শুরু – এর স্থায়িত্বকাল ৭x৭=৪৯ বছর(প্রথম ৪×৭=২৮ বছর তারুণ্য এবং পরবর্তী ৩×৭=২১ বছর প্রৌঢ়ত্ব)! তার মানে মানুষের যৌবনকাল ৭০ বছর বয়স পর্যন্ত । এরপর থেকে বার্ধক্যও আসে ৭-এর গুনিতকে । এরপর থেকে বার্ধক্য, যার স্থায়িত্বকালও ৭-এর গুনিতকে। প্রথম ও দ্বিতীয় বার্ধক্যকাল যথাক্রমে ৪×৭=২৮ বছর করে এবং শেষ বার্ধক্যকাল ৩×৭=২১ বছর। অর্থাৎ মানুষের পূর্ণ জীবনকাল হোলো ৭x২১=১৪৭ বছর ।
কিন্তু সাধারণতঃ মানুষ অতোদিন পর্যন্ত বাঁচে না।কারণ প্রাকৃতিক পরিবেশ অর্থাৎ তার বেঁচে থাকার পরিবেশ দূষিত করে ফেলছে মানুষ নিজেই – ফলে নিজেরাই নিজেদের মৃত্যুকে ত্বরান্বিত করছে ৷ তাছাড়া সর্বোপরি মানুষের Life-style এবং Food-habit অর্থাৎ আহার এবং বিহার অসহজ হয়ে পড়েছে,তাই এখন মানুষের গড় আয়ু কমে গেছে ৷ মানুষ শিক্ষার বা সভ্যতার গর্ব করে কিন্তু প্রকৃত অর্থে ‘শিক্ষিত’- মানে হচ্ছে অন্তঃচেতনার বিকাশ, চেতনার উত্তরণ । জড় চেতনা থেকে জীবচেতনা, জীবচেতনা থেকে মনুষ্যচেতনা, মনুষ্যচেতনা থেকে দেবচেতনা, দেবচেতনা থেকে ঋষিচেতনা – এই ক্রম ধরে ধরে এগিয়ে চলাই মানবের প্রকৃত শিক্ষা । সেই অর্থে মানব সমাজের অধিক অংশই এখনো অশিক্ষিত, academic but not literate ! মানব সমাজের বেশিরভাগ মানুষই যখন প্রকৃত অর্থে শিক্ষিত হয়ে উঠবে, তখন আর মানুষ সহ সমস্ত জীবের বেঁচে থাকার পরিবেশ দূষণ হবে না । বর্তমানের মানুষ জড়চেতনা, জীবচেতনা, বড়জোর মনুষ্যচেতনায় রয়েছে – তাই তারা তার নিজের স্বার্থ বা আত্মস্বার্থ বড় করে দেখতে গিয়ে বা ব্যক্তিকেন্দ্রিক হোতে গিয়ে নিরন্তর সমষ্টির স্বার্থ বিঘ্নিত করছে – এর ফলেই তো সবকিছুই দূষণ হোচ্ছে ! কিন্তু সমাজের বেশিরভাগ মানুষ যখন ক্ষুদ্রত্ব, সংকীর্ণতা, ব্যক্তিকেন্দ্রিকতা ত্যাগ করে সবাই দেবস্বভাবের হবে অর্থাৎ নিজের কথা না ভেবে অপরে কি কোরে সুখে-স্বাচ্ছন্দে থাকবে, তাই ভাববে – তখনই প্রকৃতি-পরিবেশ, সমাজ এই সবকিছু দোষমুক্ত বা দূষণমুক্ত হবে ! একমাত্র তখনই সমস্ত দিক থেকেই জীবনের ক্ষয় রোধ হবে ।
মানুষের জীবনে সবচাইতে মূল্যবান সময় ১৪ থেকে ২১, এই ৭ (সাত) বছর । বহুপূর্বে এইজন্যেই অভিভাবকরা তাদের সন্তানদের গুরুগৃহে বিদ্যাশিক্ষার জন্য রেখে দিয়ে আসতো । সেখানে এই বয়সের ছাত্র-ছাত্রীরা ব্রহ্মচর্য পালন করতো ৷ ব্রহ্মচর্য পালন অর্থাৎ শ্রদ্ধা, সংযম, নিষ্ঠা, নিয়মানুবতির্তার অভ্যাস পালন ৷ ঋষিরাই এই প্রথা সমাজে চালু করেছিলেন । কারণ তাঁরা জানতেন যে ১৪ থেকে ২১, এই বয়সে কোনো ছেলে বা মেয়ের জীবনে যদি একবার বদভ্যাস তৈরি হয়ে যায় – তাহলে সেই জীবনটাই ধ্বংসাত্মক হয়ে যাবে । ওই জীবন দিয়ে সমাজ আর কোনো Constructive কিছুই পাবে না । তাই মানব জীবনের সুসময় হল ঐ ১৪ থেকে ২১ বছর বয়স ৷
রামপ্রসাদের গানে রয়েছে ” মন রে কৃষি কাজ জানো না, এমন মানব জমিন রইলো পতিত _আবাদ করলে ফলতো সোনা!” দ্যাখো,– কৃষকের কৃষিকার্যেরও একটা নির্দিষ্ট সময় থাকে ৷ প্রকৃত চাষী জানে যে, জমিতে কখন ঠিক ঠিক ‘জো’ আসে ! আর ‘জো’ এলে সেই সময়েই চাষ করতে হয় বা কর্ষণ করতে হয় ৷ তেমনি মানবজীবন-রূপ জমিতেও কর্ষণ করে ফসল ফলানোর অর্থাৎ উৎকর্ষতার চরমসীমায় পৌঁছনোর শুরুটা করতে হয় ওই বয়স থেকে ৷ যে কোনো মানুষ যদি ওই বয়সটা সংযম অভ্যাসে কাটায়, তাহলে জীবনে কোনো না কোনো ক্ষেত্রে সে Successful হবেই ! অন্তত: সে আর পাঁচটা সাধারণ মানুষের থেকে – অন্য রকম হবেই হবে ।৷(ক্রমশঃ)
