জিজ্ঞাসু :– শরীর ভালো যাচ্ছে না বাবা ! কি ধরনের খাদ্য খেলে শরীর ভালো থাকে,তা যদি একটু আলোচনা করেন ?
গুরুমহারাজ :– দ্যাখো গৌরবাবু ! তোমার শরীরের গঠনই ঐ একরকম ! তাছাড়া তুমি শিক্ষকতা পেশায় রয়েছো। সকাল থেকে হয়তো কিছু ছাত্র-ছাত্রীদের নিয়ে Tution-ও পড়াও ! তাছাড়া তোমার তো ঝোঁক রয়েছে_ সপ্তাহান্তে ছুটি পেলে মাছ ধরতে যাওয়া (মাছধরা গৗেরবাবুর নেশা ছিল) ! সেখানেও সেই একভাবে বসে থাকতেই হয় ! ফলে তোমার শারীরিক পরিশ্রম কোথায় হয় ? এইজন্যই তো তুমি dyspepsia-য় ভুগছো ! যতদিন শরীরে যৌবন ছিল, ততদিন অতটা কাহিল হওনি – কিন্তু বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে এইবার নানারকম আদি-ব্যাধি চেপে ধরেছে ! এখন এই বয়সে(তখন ওনার বয়স প্রায় ৫৫-বছর ছিল) এসে বেশি কি আর করবে – একটু সাবধানে থাকো, নিয়মে থাকো ৷ কোন্ খাদ্য খেলে শরীর নিচ্ছে, আর কোনটা নিচ্ছে না__সেগুলো watch করো । তারপর সেভাবে একটা খাদ্যতালিকা তৈরি করে ফেলো । আর সেটাকেই Maintain করো ৷
দ্যাখো গৌরবাবু, মানুষের ‘খাদ্য’ বলতে কী বোঝায় বলোতো __ কার্বোহাইড্রেট, ফ্যাট, প্রোটিন, কিছু মিনারেল ! তাছাড়া বিভিন্ন ভিটামিন এবং জল এগুলি আনুষঙ্গিক । এখানকার মানুষ সাধারণত কার্বোহাইড্রেট বেশি পরিমাণে গ্রহণ করে । ভাত, মুড়ি,রুটি, চাওমিন ইত্যাদি যাই খাওয়া হোক না এগুলি সবই কার্বোহাইড্রেট । ডালশস্যজাতীয় যেকোনো খাবার এবং প্রাণিজ খাবার প্রোটিন খাদ্য । মাখন, তেল, চর্বি এগুলি ফ্যাট । নুন, শাকসব্জি, সামুদ্রিক মাছ ইত্যাদিতে মিনারেল থাকে যা মানব-শরীরে অপরিহার্য ৷ ভিটামিন বেশিরভাগই বিভিন্ন শাকসব্জি, সামুদ্রিক প্রাণীতে পাওয়া যায় । শুধু ভিটামিন–D সরাসরি সূর্যালোক থেকে পাওয়া যায়, আর ভিটামিন–K12 পাওয়া যায় গরুর দুধ থেকে তৈরি দই থেকে, যেটি মানব-শরীরে খুবই প্রয়োজনীয় ।
কার্বোহাইড্রেট ___চাল, গম, যব ইত্যাদি শস্যে যেমন আমরা পাই, তেমনি আলুতেও প্রচুর কার্বোহাইড্রেট রয়েছে । আর জানো__আলু থেকে প্রাপ্ত কার্বোহাইড্রেট অন্যগুলোর চাইতেও শ্রেষ্ঠ ৷ আলু যেহেতু ভারতীয় নয়, তাই ভারতীয় ধর্মগ্রন্থগুলিতে পূজা-ভোগের উপকরণে আলুর ব্যবহার উল্লেখ করা হয়নি । আলুর Original ভূমি হোল দক্ষিণ আমেরিকার পেরু । এখনও ওইসব অঞ্চলে wild আলু হয় । যেমন, ধানের Original ভূমি আমাদের দেশে,তাই এখানকার জলাভূমিতে wild ধান হয় । গমও Originally ভারতের তাই এদেশের পশ্চিমাংশে পতিত জমিতে এখনো wild গম হয় ।
ইউরোপীয়রা যখন বাণিজ্য করতে ভারতে এসেছিলো, তখন পর্তুগিজরা প্রথম আলু ভারতে এনেছিল । ওরা নিজেদের খাবার জন্যই এনেছিল । দক্ষিণ ভারতে যেখানে ওদের জাহাজ নোঙর করেছিল, সেখানকার স্থানীয়রা কিছুটা আলু ওদের কাছ থেকে বীজ হিসাবে সংগ্রহ করে জমিতে লাগিয়ে দিয়েছিল ৷ সেখান থেকেই কিছু ফলন পাওয়া গেল, Taste-ও ওদের থেকে ভালো হোল ! ব্যস্ _শুরু হয়ে গেল ভারতবর্ষে আলুর চাষ !
দক্ষিণ ভারত থেকে পরবর্তীতে ভারতবর্ষের বিভিন্ন প্রান্তে ছড়িয়ে পড়েছিল এই চাষ । একসময় পাঞ্জাবের নৈনিতালের আলু বিখ্যাত ছিল – এখন পশ্চিমবাংলার তারকেশ্বরের আলুর গুণগতমান সবার সাথে পাল্লা দিচ্ছে !
যাইহোক, এখন আমরা আলোচনা করবো__ কিভাবে পেরু থেকে ইউরোপে আলু গিয়েছিল সেই নিয়ে ৷ চতুর্থ বা পঞ্চম শতকে ইউরোপে খুবই দুর্ভিক্ষ হোতো । সেই সময় ইউরোপের বহু দেশের মানুষ অন্যত্র Migrate করতো_ প্রাণে বাঁচার জন্য ! আলু শীতকালীন ফসল আর ইউরোপের বেশিরভাগ অংশই শীতপ্রধান ৷ তাই পেরুতে ভারতবর্ষের মতো শুধুমাত্র শীতকালেই আলুর চাষ হোলেও__ ইউরোপে শীতকাল দীর্ঘ হওয়ায় , ওখানে ব্যাপকভাবে আলুচাষ হোতে শুরু করলো ! সত্যি কথা বলতে গেলে, বলা যায় __সেই সময় ইউরোপকে ক্ষুধা এবং মৃত্যুর হাত থেকে আলু-ই বাঁচিয়ে দিয়েছিলো !
এক তাল আলু সিদ্ধ খেয়ে নিলেই পেটও ভরছে, শরীরের পুষ্টিরও অভাব হচ্ছে না ! ফলে, কর্মে উদ্যমও বজায় থাকছে । তাছাড়া শুধু আলু সিদ্ধ খেয়ে কোনো মানুষ দীর্ঘদিন সুস্থ হয়ে বেঁচে থাকতে পারে । যেটা শুধু ভাত খেয়ে থাকলেও হয়তো অসুবিধা হবে – কারণ সে ক্ষেত্রে আয়রনের অভাব দেখা দেবে এবং শরীরের অন্যান্য নানান Problem দেখা দেবে ৷ খোসাশুদ্ধ আলু সিদ্ধ করে খেলে কার্বোহাইড্রেটের সাথে সাথে কিছু Minerels-ও পেয়ে যাচ্ছে শরীর ৷ ফলে এটা গ্রহণ করলে শরীরে কোনো অসুবিধাই হবে না l
গুণগত বা পরিমাণগত পরিসংখ্যানে শরীরে কার্বোহাইড্রেট যোগান দেবার ব্যাপারে __আলুর পরেই আসবে ধান ! ধানের পরে গম, তারপর যব, পরে পরে জোয়ার, বাজরা ইত্যাদিরা আসবে । গম, যব, জোয়ার, বাজরা, ভুট্টা এগুলি খোসা সমেত ভেজে খেলে __এগুলিতে নানান Minarels ও ভিটামিন পাওয়া যায় ।
তবে আগেকার দিনের ঢেঁকিছাঁটা চালের উপরে যে লাল রঙের একটা আস্তরণ থাকতো, সেটি খুবই প্রোটিনযুক্ত এবং প্রচুর মিনারেল যুক্ত । আগেকার দিনে ব্রাহ্মণেরা যে খাবার খেতো অর্থাৎ ঢেঁকিছাঁটা চালের ফেনসুদ্ধ ভাত, কলা, মধু আর গরুর দুধ মাখিয়ে খাওয়া__ তাতে আবার প্রথমে পাতে একটু গব্য ঘৃত – এর তুলনা হয়না ! এটাই ছিল প্রকৃত অর্থে তখনকার দিনের ‘Balanced diet’ ৷ ঠাকুর শ্রীরামকৃষ্ণ বলেছিলেন – ব্রাহ্মণদের ‘চাল কলা বাঁধা বিদ্যা’। দ্যাখো, সাধারণভাবে দেখতে খুবই সহজ সরল খাদ্য – কিন্তু কি ভীষণ Scientific ! যারা কম পরিশ্রম করে – ঐ যে বলছিলাম মাস্টারের কথা__ বা ওনার মতো যারা চাকরি-বাকরি করে – তাদের তো শারীরিক পরিশ্রম সত্যিই খুব কম হয় । দিনের মধ্যে ১২/১৪ ঘন্টা শুধু বসে বসে কাটানো – তাহলে তাদের শরীর ঠিক রাখতে হোলে__ একটু-আধটু Exercise করতেই হবে ! নাহলে, যে খাদ্য গ্রহণ করা হোচ্ছে সেগুলো হজম হবে কি করে ? এবার যদি খাদ্যে নিয়মিত Animal protein থাকে বা অতিরিক্ত fat থাকে __ তাহলে তো কথাই নেই ! শরীরে নানান ব্যাধি এসে বাসা বাঁধবে ৷
সুতরাং তোমাকে sincere হোতে হবে বৈকি ! তোমরা যারা শিক্ষিত__ তারা তো অন্ততঃ কান্ডজ্ঞান সম্পন্ন হবে ! তা না হলে কিসের শিক্ষার বড়াই ?
বিশেষতঃ মাস্টার ! তুমি তো সমাজ শিক্ষক । তোমার কাছ থেকে শিক্ষা লাভ করে কত ছাত্র-ছাত্রী সমাজে বিভিন্ন field-এ প্রতিষ্ঠা লাভ করেছে বা করছে, হয়তো আগামীতেও করবে । তাহলে তোমার Common Sense কি বলে ? তোমার শরীরের গঠন অনুযায়ী কোন্ ধরনের খাদ্যাভ্যাস গড়ে তোলা তোমার উচিত ছিল বলে তোমার মনে হয় ?
ধরে নাও, কোনো শিক্ষক প্রতিদিন সকালে একটা করে Half-boiled ডিমসিদ্ধ খেয়ে ছাত্র পড়াতে বসলো! তারপর কোনোক্রমে স্নান সেরে গরমাগরম ভাত, মাছের ঝোল, ভাজাভুজি ইত্যাদি দিয়ে খেয়ে পড়িমড়ি ছুটতে ছুটতে স্কুল গেল! সেখানে বার ২/৩ চা খেয়ে বিকালে বাড়ি ফিরে একটু fresh হয়ে নিয়ে জলখাবার খেয়ে আবার ছাত্র-ছাত্রীদের পড়াতে বসালো । এবার রাত্রি দশটায় চোব্য-চোষ্য করে খাওয়া, আবার খাওয়া সেরে বিছানায় গমন ৷ তাহলে ওই শিক্ষকমশাই কি করে সুস্বাস্থ্যের অধিকারী হবে_বলো দেখি ? কখনোই হবে না ! শরীর সুস্থ রাখতে হলে শরীরচর্চা করতে হবে । আসন, প্রাণায়াম, হাঁটাহাঁটি বা বিভিন্ন ব্যায়াম করতে হবে ৷
আর, তুমি কি ধরনের কাজ করছো সারাদিনে – সেই অনুযায়ী তোমাকে খাদ্য নির্বাচন করতে হবে । তোমার যদি শারীরিক পরিশ্রম খুব বেশি হয়_ তাহলে তোমাকে প্রোটিন জাতীয় খাদ্য খেতেই হবে । কিন্তু যদি তোমার শারীরিক পরিশ্রম খুবই কম হয়, তাহলে প্রাণিজ প্রোটিন একেবারেই খাবে না – আর শখ করে খেলেও তা খুবই কম খাবে ! এইভাবে খাদ্যবিধি মেনে চললে শরীর সুস্থ থাকবে বৈকি ! শরীর সুস্থ রাখতে চাইলে শরীর বিজ্ঞানটা জানা খুবই দরকার । ব্যাপারটা কি বুঝতে পারলে গৌরবাবু ! তাহলে এবার থেকে সেই রকম ভাবে জীবন-যাপন করো। তাহলেই দেখবে শরীর অনেকটাই সুস্থ থাকবে।।
গুরুমহারাজ :– দ্যাখো গৌরবাবু ! তোমার শরীরের গঠনই ঐ একরকম ! তাছাড়া তুমি শিক্ষকতা পেশায় রয়েছো। সকাল থেকে হয়তো কিছু ছাত্র-ছাত্রীদের নিয়ে Tution-ও পড়াও ! তাছাড়া তোমার তো ঝোঁক রয়েছে_ সপ্তাহান্তে ছুটি পেলে মাছ ধরতে যাওয়া (মাছধরা গৗেরবাবুর নেশা ছিল) ! সেখানেও সেই একভাবে বসে থাকতেই হয় ! ফলে তোমার শারীরিক পরিশ্রম কোথায় হয় ? এইজন্যই তো তুমি dyspepsia-য় ভুগছো ! যতদিন শরীরে যৌবন ছিল, ততদিন অতটা কাহিল হওনি – কিন্তু বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে এইবার নানারকম আদি-ব্যাধি চেপে ধরেছে ! এখন এই বয়সে(তখন ওনার বয়স প্রায় ৫৫-বছর ছিল) এসে বেশি কি আর করবে – একটু সাবধানে থাকো, নিয়মে থাকো ৷ কোন্ খাদ্য খেলে শরীর নিচ্ছে, আর কোনটা নিচ্ছে না__সেগুলো watch করো । তারপর সেভাবে একটা খাদ্যতালিকা তৈরি করে ফেলো । আর সেটাকেই Maintain করো ৷
দ্যাখো গৌরবাবু, মানুষের ‘খাদ্য’ বলতে কী বোঝায় বলোতো __ কার্বোহাইড্রেট, ফ্যাট, প্রোটিন, কিছু মিনারেল ! তাছাড়া বিভিন্ন ভিটামিন এবং জল এগুলি আনুষঙ্গিক । এখানকার মানুষ সাধারণত কার্বোহাইড্রেট বেশি পরিমাণে গ্রহণ করে । ভাত, মুড়ি,রুটি, চাওমিন ইত্যাদি যাই খাওয়া হোক না এগুলি সবই কার্বোহাইড্রেট । ডালশস্যজাতীয় যেকোনো খাবার এবং প্রাণিজ খাবার প্রোটিন খাদ্য । মাখন, তেল, চর্বি এগুলি ফ্যাট । নুন, শাকসব্জি, সামুদ্রিক মাছ ইত্যাদিতে মিনারেল থাকে যা মানব-শরীরে অপরিহার্য ৷ ভিটামিন বেশিরভাগই বিভিন্ন শাকসব্জি, সামুদ্রিক প্রাণীতে পাওয়া যায় । শুধু ভিটামিন–D সরাসরি সূর্যালোক থেকে পাওয়া যায়, আর ভিটামিন–K12 পাওয়া যায় গরুর দুধ থেকে তৈরি দই থেকে, যেটি মানব-শরীরে খুবই প্রয়োজনীয় ।
কার্বোহাইড্রেট ___চাল, গম, যব ইত্যাদি শস্যে যেমন আমরা পাই, তেমনি আলুতেও প্রচুর কার্বোহাইড্রেট রয়েছে । আর জানো__আলু থেকে প্রাপ্ত কার্বোহাইড্রেট অন্যগুলোর চাইতেও শ্রেষ্ঠ ৷ আলু যেহেতু ভারতীয় নয়, তাই ভারতীয় ধর্মগ্রন্থগুলিতে পূজা-ভোগের উপকরণে আলুর ব্যবহার উল্লেখ করা হয়নি । আলুর Original ভূমি হোল দক্ষিণ আমেরিকার পেরু । এখনও ওইসব অঞ্চলে wild আলু হয় । যেমন, ধানের Original ভূমি আমাদের দেশে,তাই এখানকার জলাভূমিতে wild ধান হয় । গমও Originally ভারতের তাই এদেশের পশ্চিমাংশে পতিত জমিতে এখনো wild গম হয় ।
ইউরোপীয়রা যখন বাণিজ্য করতে ভারতে এসেছিলো, তখন পর্তুগিজরা প্রথম আলু ভারতে এনেছিল । ওরা নিজেদের খাবার জন্যই এনেছিল । দক্ষিণ ভারতে যেখানে ওদের জাহাজ নোঙর করেছিল, সেখানকার স্থানীয়রা কিছুটা আলু ওদের কাছ থেকে বীজ হিসাবে সংগ্রহ করে জমিতে লাগিয়ে দিয়েছিল ৷ সেখান থেকেই কিছু ফলন পাওয়া গেল, Taste-ও ওদের থেকে ভালো হোল ! ব্যস্ _শুরু হয়ে গেল ভারতবর্ষে আলুর চাষ !
দক্ষিণ ভারত থেকে পরবর্তীতে ভারতবর্ষের বিভিন্ন প্রান্তে ছড়িয়ে পড়েছিল এই চাষ । একসময় পাঞ্জাবের নৈনিতালের আলু বিখ্যাত ছিল – এখন পশ্চিমবাংলার তারকেশ্বরের আলুর গুণগতমান সবার সাথে পাল্লা দিচ্ছে !
যাইহোক, এখন আমরা আলোচনা করবো__ কিভাবে পেরু থেকে ইউরোপে আলু গিয়েছিল সেই নিয়ে ৷ চতুর্থ বা পঞ্চম শতকে ইউরোপে খুবই দুর্ভিক্ষ হোতো । সেই সময় ইউরোপের বহু দেশের মানুষ অন্যত্র Migrate করতো_ প্রাণে বাঁচার জন্য ! আলু শীতকালীন ফসল আর ইউরোপের বেশিরভাগ অংশই শীতপ্রধান ৷ তাই পেরুতে ভারতবর্ষের মতো শুধুমাত্র শীতকালেই আলুর চাষ হোলেও__ ইউরোপে শীতকাল দীর্ঘ হওয়ায় , ওখানে ব্যাপকভাবে আলুচাষ হোতে শুরু করলো ! সত্যি কথা বলতে গেলে, বলা যায় __সেই সময় ইউরোপকে ক্ষুধা এবং মৃত্যুর হাত থেকে আলু-ই বাঁচিয়ে দিয়েছিলো !
এক তাল আলু সিদ্ধ খেয়ে নিলেই পেটও ভরছে, শরীরের পুষ্টিরও অভাব হচ্ছে না ! ফলে, কর্মে উদ্যমও বজায় থাকছে । তাছাড়া শুধু আলু সিদ্ধ খেয়ে কোনো মানুষ দীর্ঘদিন সুস্থ হয়ে বেঁচে থাকতে পারে । যেটা শুধু ভাত খেয়ে থাকলেও হয়তো অসুবিধা হবে – কারণ সে ক্ষেত্রে আয়রনের অভাব দেখা দেবে এবং শরীরের অন্যান্য নানান Problem দেখা দেবে ৷ খোসাশুদ্ধ আলু সিদ্ধ করে খেলে কার্বোহাইড্রেটের সাথে সাথে কিছু Minerels-ও পেয়ে যাচ্ছে শরীর ৷ ফলে এটা গ্রহণ করলে শরীরে কোনো অসুবিধাই হবে না l
গুণগত বা পরিমাণগত পরিসংখ্যানে শরীরে কার্বোহাইড্রেট যোগান দেবার ব্যাপারে __আলুর পরেই আসবে ধান ! ধানের পরে গম, তারপর যব, পরে পরে জোয়ার, বাজরা ইত্যাদিরা আসবে । গম, যব, জোয়ার, বাজরা, ভুট্টা এগুলি খোসা সমেত ভেজে খেলে __এগুলিতে নানান Minarels ও ভিটামিন পাওয়া যায় ।
তবে আগেকার দিনের ঢেঁকিছাঁটা চালের উপরে যে লাল রঙের একটা আস্তরণ থাকতো, সেটি খুবই প্রোটিনযুক্ত এবং প্রচুর মিনারেল যুক্ত । আগেকার দিনে ব্রাহ্মণেরা যে খাবার খেতো অর্থাৎ ঢেঁকিছাঁটা চালের ফেনসুদ্ধ ভাত, কলা, মধু আর গরুর দুধ মাখিয়ে খাওয়া__ তাতে আবার প্রথমে পাতে একটু গব্য ঘৃত – এর তুলনা হয়না ! এটাই ছিল প্রকৃত অর্থে তখনকার দিনের ‘Balanced diet’ ৷ ঠাকুর শ্রীরামকৃষ্ণ বলেছিলেন – ব্রাহ্মণদের ‘চাল কলা বাঁধা বিদ্যা’। দ্যাখো, সাধারণভাবে দেখতে খুবই সহজ সরল খাদ্য – কিন্তু কি ভীষণ Scientific ! যারা কম পরিশ্রম করে – ঐ যে বলছিলাম মাস্টারের কথা__ বা ওনার মতো যারা চাকরি-বাকরি করে – তাদের তো শারীরিক পরিশ্রম সত্যিই খুব কম হয় । দিনের মধ্যে ১২/১৪ ঘন্টা শুধু বসে বসে কাটানো – তাহলে তাদের শরীর ঠিক রাখতে হোলে__ একটু-আধটু Exercise করতেই হবে ! নাহলে, যে খাদ্য গ্রহণ করা হোচ্ছে সেগুলো হজম হবে কি করে ? এবার যদি খাদ্যে নিয়মিত Animal protein থাকে বা অতিরিক্ত fat থাকে __ তাহলে তো কথাই নেই ! শরীরে নানান ব্যাধি এসে বাসা বাঁধবে ৷
সুতরাং তোমাকে sincere হোতে হবে বৈকি ! তোমরা যারা শিক্ষিত__ তারা তো অন্ততঃ কান্ডজ্ঞান সম্পন্ন হবে ! তা না হলে কিসের শিক্ষার বড়াই ?
বিশেষতঃ মাস্টার ! তুমি তো সমাজ শিক্ষক । তোমার কাছ থেকে শিক্ষা লাভ করে কত ছাত্র-ছাত্রী সমাজে বিভিন্ন field-এ প্রতিষ্ঠা লাভ করেছে বা করছে, হয়তো আগামীতেও করবে । তাহলে তোমার Common Sense কি বলে ? তোমার শরীরের গঠন অনুযায়ী কোন্ ধরনের খাদ্যাভ্যাস গড়ে তোলা তোমার উচিত ছিল বলে তোমার মনে হয় ?
ধরে নাও, কোনো শিক্ষক প্রতিদিন সকালে একটা করে Half-boiled ডিমসিদ্ধ খেয়ে ছাত্র পড়াতে বসলো! তারপর কোনোক্রমে স্নান সেরে গরমাগরম ভাত, মাছের ঝোল, ভাজাভুজি ইত্যাদি দিয়ে খেয়ে পড়িমড়ি ছুটতে ছুটতে স্কুল গেল! সেখানে বার ২/৩ চা খেয়ে বিকালে বাড়ি ফিরে একটু fresh হয়ে নিয়ে জলখাবার খেয়ে আবার ছাত্র-ছাত্রীদের পড়াতে বসালো । এবার রাত্রি দশটায় চোব্য-চোষ্য করে খাওয়া, আবার খাওয়া সেরে বিছানায় গমন ৷ তাহলে ওই শিক্ষকমশাই কি করে সুস্বাস্থ্যের অধিকারী হবে_বলো দেখি ? কখনোই হবে না ! শরীর সুস্থ রাখতে হলে শরীরচর্চা করতে হবে । আসন, প্রাণায়াম, হাঁটাহাঁটি বা বিভিন্ন ব্যায়াম করতে হবে ৷
আর, তুমি কি ধরনের কাজ করছো সারাদিনে – সেই অনুযায়ী তোমাকে খাদ্য নির্বাচন করতে হবে । তোমার যদি শারীরিক পরিশ্রম খুব বেশি হয়_ তাহলে তোমাকে প্রোটিন জাতীয় খাদ্য খেতেই হবে । কিন্তু যদি তোমার শারীরিক পরিশ্রম খুবই কম হয়, তাহলে প্রাণিজ প্রোটিন একেবারেই খাবে না – আর শখ করে খেলেও তা খুবই কম খাবে ! এইভাবে খাদ্যবিধি মেনে চললে শরীর সুস্থ থাকবে বৈকি ! শরীর সুস্থ রাখতে চাইলে শরীর বিজ্ঞানটা জানা খুবই দরকার । ব্যাপারটা কি বুঝতে পারলে গৌরবাবু ! তাহলে এবার থেকে সেই রকম ভাবে জীবন-যাপন করো। তাহলেই দেখবে শরীর অনেকটাই সুস্থ থাকবে।।
