জিজ্ঞাসু :– আমরা জানতাম রামানন্দ অবধূত আপনার গুরু, কিন্তু মাঝে মাঝেই আপনি বলেন আপনার গুরু স্বামী বাউলানন্দ ! ব্যাপারটা যদি একটু খোলসা করে বলেন !!
গুরুমহারাজ :– “গুরু”-কে তো “গুরু”-ই বলতে হয় ! হ্যাঁ, ওনারা দুজনেই আমার গুরু! তুমি একাধিক গুরু কেন_সেইটা জানতে চাইছো তো ! বলছি শোন__!
একাধিক গুরু কি তোমার নাই ? পিতা গুরু, মাতা গুরু, আচার্য বা শিক্ষক গুরু, মন্ত্রদাতা গুরু – এসব রয়েছে কি না ? তাছাড়া ভারতীয় সংস্কৃতিতে রয়েছে__ তোমার থেকে Senior হোলেই তিনি তোমার ‘গুরুজন’ হিসাবে বিবেচিত হবেন ৷ নয় কি ? দ্যাখো, এই শরীরে কার্যকরীভাবে আমার মোট ১০৮ জন গুরু রয়েছেন – ঠিকমতো ধরলে সংখ্যাটা ১০০৮ ও হতে পারে ! বাউলরা বলেছেন – ” গুরু করবি শতশত মন্ত্র করি সার, মনের মতো মানুষ পেলে তারে দিবি ভার ।”
সেই অর্থে আমার গুরু স্বামী রামানন্দ এবং স্বামী বাউলানন্দ ৷ যাঁরা আমার জীবনে যুক্ত হবার পর থেকে আমাকে সবসময় লক্ষ্য রেখেছেন, প্রয়োজনে প্রকট হয়েছেন, সাহায্য করেছেন_অর্থাৎ এই পরমানন্দ শরীরের ভার তাঁরা নিয়েছেন ! কিন্তু মজার ব্যাপারটা কি জানো __স্বামী বাউলানন্দের জীবদ্দশায় আমার সাথে তাঁর যোগাযোগ হয়নি ! যেদিন সুক্ষ অবস্থায় যোগাযোগ হোল, সেইদিনই উনি শরীর ছেড়ে দিলেন । কিন্তু এই ধরনের মহাপুরুষদের শরীর ছাড়া তো আর পাঁচটা সাধারণ মানুষের শরীর ছাড়া নয়, ওনাদের স্থূলশরীর নষ্ট হয়ে গেলেও চট্ করে তাঁদের বিদেহ মুক্তি হয় না । যে কাজের দায়িত্ব নিয়ে তাঁরা এসেছেন – যতক্ষণ না সেটা শেষ হোচ্ছে ততক্ষণ এনাদের দায়িত্ব থাকে ৷ তাই প্রয়োজনে কারণশরীর, সূক্ষ্মশরীর বা স্থূলশরীরে প্রকট হয়েও কাজ করিয়ে নেন । স্থূলশরীর বিনষ্ট হওয়ায় কোনো কাজ তিনি নিজে করেন না কিন্তু উপযুক্ত কাউকে পেলে __তাকে দিয়ে করিয়ে নেন । আর এবার মা জগদম্বা তো আমাকে এই Roll টাই দিয়েছে, সবার অসমাপ্ত, অর্ধসমাপ্ত _আরব্ধ কাজ কাঁধে নেবার দায়িত্ব !
স্বামী বাউলানন্দের সাথে আমার সাক্ষাৎ-এর ঘটনা বলছি শোনো । সেদিন আমি রায়নার শ্মশানে রয়েছি, চারিদিকে অন্ধকার ঘুরঘুট্টি, একান্ত নির্জন স্থান! আমি আকাশের দিকে চেয়ে চুপচাপ বসে আছি । রাত্রি তখন কত হবে – এই ধরো দশটা কি সাড়ে দশটা । আকাশের দিকে তাকিয়ে থাকতাম বটে কিন্তু আমার চেতনা তখন নক্ষত্রমন্ডলের পথে পথে ছুটে বেড়াতো ! ‘প্রকৃতি’- Series এর অনেক কবিতা লিখেছিলাম সেই সময় ! সেই কবিতাগুলি যদি তোমরা কেউ পড়ে থাকো, তাহলে আমার তৎকালীন মনের অবস্থার কিছুটা Touch পাবে !
যাইহোক, বসে আছি তো আছিই __কারণ তখন আমার মধ্যে ‘সময়জ্ঞান ব্যাপারটা’ অতোটা কাজ করতো না ৷ সেই সময় হঠাৎ আমার সামনে বড় বড় শ্বেতশুভ্র কেশশ্মশ্রুবিশিষ্ট লম্বা চেহারার একজন সাধুবাবা এসে হাজির হলো ৷ আমার চেতনা যে শরীরে ফিরে এলো তাও নয়, আমি অবাকও হলাম না । সেই সাধু আমাকে ইশারায় কাছে ডাকলেন, আমি মন্ত্রমুগ্ধের ন্যায় ওনার কাছে উঠে গেলাম । কাছে যেতেই উনি দৃঢ় করে আমার একটা হাত চেপে ধরে বললেন – “চলো”। তারপর আমরা আকাশপথে উড়তে শুরু করলাম রকেটের গতিবেগে । আমার তখন লম্বা চুল ছিল, ওনারও লম্বা চুল-দাড়ি, হাওয়ায় হুহু করে উড়ছিলো । নিচে কত গ্রাম, শহর, নদী, পাহাড় পার হয়ে হয়ে চলে যাচ্ছি আমরা ৷ এক জায়গায় ছোট ছোট ঢিবির(অনেক উঁচু থেকে দেখছিলেন) মতো দেখিয়ে আমায় বললেন _ “ওটি মাল্যবান পর্বত, বর্তমান নাম মালকানগিরি” । কিছু পরে সুতোর মতো সরু একটা নদী দেখিয়ে বললেন, _”পাতালগঙ্গা– বর্তমান নাম গোদাবরী” ৷ পরে বললেন _ “আমরা গোদাবরীর তীরেই যাবো” ৷ তারপর এক জায়গায় উনি আমাকে নিয়ে নামলেন ৷ যেখানে নামলাম সেখানে একটা তেঁতুল গাছ ছিল, সামনেই একটা ঝরনা, ওই জায়গাটা নিচু, ওখান থেকে উপর দিয়ে উঠে যাওয়া যায় । উনি আমাকে ওইখানে দাঁড় করিয়ে উপরে ওঠার রাস্তা ধরে চলে গেলেন । আমি অপেক্ষা করতে শুরু করলাম । কিন্তু দীর্ঘ সময় কেটে যাবার পরও যখন উনি ফিরে এলেন না তখন আমি ওনারই যাওয়ার পথ follow করে উপরে উঠে গেলাম । দেখলাম একটা কুঠীর , সামনে কিছুটা প্রশস্ত জায়গা । সেই কুঠীরের দাওয়ায় বসে তিনজন বয়স্কা মহিলা কিছু কাজ করছিলেন ৷ ওনাদের দেখে আমার পরিচিত মনে হয়েছিল ৷ আমি ওনাদের জিজ্ঞাসা করলাম – “একজন সাদা চুল-দাড়ি সাধুবাবা এদিকে এসেছে কি ?” ওনারা বললেন – ” কই – এখন বাইরে থেকে তো কেউ আসেনি, তবে ঐরকম দেখতে আমাদের গুরুদেব ঘরের মধ্যে রয়েছেন ৷ ওনার খুবই শরীর খারাপ, উনি এখন বিশ্রাম নিচ্ছেন ৷”
আমি বললাম – ” ঠিক আছে, আমি ওনার সাথেই দেখা করবো । আমার বলার ভঙ্গি দেখে ওরা আমাকে ভালো করে দেখে যেন চিনতে পারলেন – এমন ভাব নিয়ে বললেন, ” কে – প্রহ্লাদ !?” আমিও ওনাদের চিনতে পারলাম – অন্নপূর্ণাম্মা, নন্দনাম্মা, রামকৃষ্ণাম্মা । কিন্তু আমার নাম তো প্রহ্লাদ নয়, তখনও আমায় সবাই ‘রবীন’ বলেই ডাকতো – তবু আমার ওই নামটা “আমার নয়”- এমনটা মনে হোলো না । ওরা আমাকে “প্রহ্লাদ” নামে ডাকতেই আমি সম্মতি দিলাম ৷ ওরাও সানন্দে আমাকে ভিতরে যেতে Permission দিল ৷
ঘরের ভেতরে ঢুকেই দেখি হ্যাঁ, সেই লোকটাই বিছানায় লম্বা হয়ে শুয়ে রয়েছে ! আমি বলে উঠলাম, ” আপনি আচ্ছা লোক তো মশাই ! আমাকে নিচে ঐ তেঁতুলতলায় দাঁড় করিয়ে রেখে দিব্যি এখানে এসে শুয়ে আছেন !!” আমাকে অবাক করে দিয়ে ঐ বৃদ্ধ দীপ্তকণ্ঠে বললেন, ” বাজে কথা বলার সময় এটা নয় ! সময় খুবই সংক্ষিপ্ত ! তোমার সাথে অনেক কথা আছে, চুপ করে বসো !”
ওনার গলার গম্ভীর কণ্ঠস্বরে আমি বিস্মিত হয়েছিলাম, তবুও সাময়িক বিহ্বলতা কাটিয়ে বললাম – “জল খাবো”। উনি ঘরের কোণার দিকে ইঙ্গিত করাতে দেখলাম সেখানে একটা জলের ‘জালা’ (মাটির বড় পাত্র) রয়েছে, আর নিচে একটা বড় নারকেলের মালা ৷ আমি জলের জালা থেকে নারকেলের মালায় জল ঢেলে নিয়ে এসে খেতে যাবো __হটাৎ আমার মধ্যে থেকে যেন কেমন একটা প্রেরণা এলো __আমি সেখান থেকে উঠে গিয়ে ওনার পায়ের কাছে বসলাম । আর বসতেই আমার ভিতর থেকে মন্ত্রোচ্চারণের মতো উচ্চারিত হতে লাগলো ” গুরু পাদোদকম্ ,গুরু পাদোদকম্ , গুরু পাদোদকম্ ৷” তারপর তিনবার প্রণাম করে জলটা খেয়ে নিলাম । অপূর্ব আস্বাদ ! জাগতিক কোনো Taste-এর সঙ্গেই সে স্বাদ মেলে না ! মনে হোলো একেই কি আমৃতের স্বাদ বলে ! ওনাকে এই কথা জিজ্ঞাসা করতেই উনি বললেন, ” হ্যাঁ, এটা অমৃতই ! ভাবামৃত !” …. [বাকী অংশ পরের দিন]
গুরুমহারাজ :– “গুরু”-কে তো “গুরু”-ই বলতে হয় ! হ্যাঁ, ওনারা দুজনেই আমার গুরু! তুমি একাধিক গুরু কেন_সেইটা জানতে চাইছো তো ! বলছি শোন__!
একাধিক গুরু কি তোমার নাই ? পিতা গুরু, মাতা গুরু, আচার্য বা শিক্ষক গুরু, মন্ত্রদাতা গুরু – এসব রয়েছে কি না ? তাছাড়া ভারতীয় সংস্কৃতিতে রয়েছে__ তোমার থেকে Senior হোলেই তিনি তোমার ‘গুরুজন’ হিসাবে বিবেচিত হবেন ৷ নয় কি ? দ্যাখো, এই শরীরে কার্যকরীভাবে আমার মোট ১০৮ জন গুরু রয়েছেন – ঠিকমতো ধরলে সংখ্যাটা ১০০৮ ও হতে পারে ! বাউলরা বলেছেন – ” গুরু করবি শতশত মন্ত্র করি সার, মনের মতো মানুষ পেলে তারে দিবি ভার ।”
সেই অর্থে আমার গুরু স্বামী রামানন্দ এবং স্বামী বাউলানন্দ ৷ যাঁরা আমার জীবনে যুক্ত হবার পর থেকে আমাকে সবসময় লক্ষ্য রেখেছেন, প্রয়োজনে প্রকট হয়েছেন, সাহায্য করেছেন_অর্থাৎ এই পরমানন্দ শরীরের ভার তাঁরা নিয়েছেন ! কিন্তু মজার ব্যাপারটা কি জানো __স্বামী বাউলানন্দের জীবদ্দশায় আমার সাথে তাঁর যোগাযোগ হয়নি ! যেদিন সুক্ষ অবস্থায় যোগাযোগ হোল, সেইদিনই উনি শরীর ছেড়ে দিলেন । কিন্তু এই ধরনের মহাপুরুষদের শরীর ছাড়া তো আর পাঁচটা সাধারণ মানুষের শরীর ছাড়া নয়, ওনাদের স্থূলশরীর নষ্ট হয়ে গেলেও চট্ করে তাঁদের বিদেহ মুক্তি হয় না । যে কাজের দায়িত্ব নিয়ে তাঁরা এসেছেন – যতক্ষণ না সেটা শেষ হোচ্ছে ততক্ষণ এনাদের দায়িত্ব থাকে ৷ তাই প্রয়োজনে কারণশরীর, সূক্ষ্মশরীর বা স্থূলশরীরে প্রকট হয়েও কাজ করিয়ে নেন । স্থূলশরীর বিনষ্ট হওয়ায় কোনো কাজ তিনি নিজে করেন না কিন্তু উপযুক্ত কাউকে পেলে __তাকে দিয়ে করিয়ে নেন । আর এবার মা জগদম্বা তো আমাকে এই Roll টাই দিয়েছে, সবার অসমাপ্ত, অর্ধসমাপ্ত _আরব্ধ কাজ কাঁধে নেবার দায়িত্ব !
স্বামী বাউলানন্দের সাথে আমার সাক্ষাৎ-এর ঘটনা বলছি শোনো । সেদিন আমি রায়নার শ্মশানে রয়েছি, চারিদিকে অন্ধকার ঘুরঘুট্টি, একান্ত নির্জন স্থান! আমি আকাশের দিকে চেয়ে চুপচাপ বসে আছি । রাত্রি তখন কত হবে – এই ধরো দশটা কি সাড়ে দশটা । আকাশের দিকে তাকিয়ে থাকতাম বটে কিন্তু আমার চেতনা তখন নক্ষত্রমন্ডলের পথে পথে ছুটে বেড়াতো ! ‘প্রকৃতি’- Series এর অনেক কবিতা লিখেছিলাম সেই সময় ! সেই কবিতাগুলি যদি তোমরা কেউ পড়ে থাকো, তাহলে আমার তৎকালীন মনের অবস্থার কিছুটা Touch পাবে !
যাইহোক, বসে আছি তো আছিই __কারণ তখন আমার মধ্যে ‘সময়জ্ঞান ব্যাপারটা’ অতোটা কাজ করতো না ৷ সেই সময় হঠাৎ আমার সামনে বড় বড় শ্বেতশুভ্র কেশশ্মশ্রুবিশিষ্ট লম্বা চেহারার একজন সাধুবাবা এসে হাজির হলো ৷ আমার চেতনা যে শরীরে ফিরে এলো তাও নয়, আমি অবাকও হলাম না । সেই সাধু আমাকে ইশারায় কাছে ডাকলেন, আমি মন্ত্রমুগ্ধের ন্যায় ওনার কাছে উঠে গেলাম । কাছে যেতেই উনি দৃঢ় করে আমার একটা হাত চেপে ধরে বললেন – “চলো”। তারপর আমরা আকাশপথে উড়তে শুরু করলাম রকেটের গতিবেগে । আমার তখন লম্বা চুল ছিল, ওনারও লম্বা চুল-দাড়ি, হাওয়ায় হুহু করে উড়ছিলো । নিচে কত গ্রাম, শহর, নদী, পাহাড় পার হয়ে হয়ে চলে যাচ্ছি আমরা ৷ এক জায়গায় ছোট ছোট ঢিবির(অনেক উঁচু থেকে দেখছিলেন) মতো দেখিয়ে আমায় বললেন _ “ওটি মাল্যবান পর্বত, বর্তমান নাম মালকানগিরি” । কিছু পরে সুতোর মতো সরু একটা নদী দেখিয়ে বললেন, _”পাতালগঙ্গা– বর্তমান নাম গোদাবরী” ৷ পরে বললেন _ “আমরা গোদাবরীর তীরেই যাবো” ৷ তারপর এক জায়গায় উনি আমাকে নিয়ে নামলেন ৷ যেখানে নামলাম সেখানে একটা তেঁতুল গাছ ছিল, সামনেই একটা ঝরনা, ওই জায়গাটা নিচু, ওখান থেকে উপর দিয়ে উঠে যাওয়া যায় । উনি আমাকে ওইখানে দাঁড় করিয়ে উপরে ওঠার রাস্তা ধরে চলে গেলেন । আমি অপেক্ষা করতে শুরু করলাম । কিন্তু দীর্ঘ সময় কেটে যাবার পরও যখন উনি ফিরে এলেন না তখন আমি ওনারই যাওয়ার পথ follow করে উপরে উঠে গেলাম । দেখলাম একটা কুঠীর , সামনে কিছুটা প্রশস্ত জায়গা । সেই কুঠীরের দাওয়ায় বসে তিনজন বয়স্কা মহিলা কিছু কাজ করছিলেন ৷ ওনাদের দেখে আমার পরিচিত মনে হয়েছিল ৷ আমি ওনাদের জিজ্ঞাসা করলাম – “একজন সাদা চুল-দাড়ি সাধুবাবা এদিকে এসেছে কি ?” ওনারা বললেন – ” কই – এখন বাইরে থেকে তো কেউ আসেনি, তবে ঐরকম দেখতে আমাদের গুরুদেব ঘরের মধ্যে রয়েছেন ৷ ওনার খুবই শরীর খারাপ, উনি এখন বিশ্রাম নিচ্ছেন ৷”
আমি বললাম – ” ঠিক আছে, আমি ওনার সাথেই দেখা করবো । আমার বলার ভঙ্গি দেখে ওরা আমাকে ভালো করে দেখে যেন চিনতে পারলেন – এমন ভাব নিয়ে বললেন, ” কে – প্রহ্লাদ !?” আমিও ওনাদের চিনতে পারলাম – অন্নপূর্ণাম্মা, নন্দনাম্মা, রামকৃষ্ণাম্মা । কিন্তু আমার নাম তো প্রহ্লাদ নয়, তখনও আমায় সবাই ‘রবীন’ বলেই ডাকতো – তবু আমার ওই নামটা “আমার নয়”- এমনটা মনে হোলো না । ওরা আমাকে “প্রহ্লাদ” নামে ডাকতেই আমি সম্মতি দিলাম ৷ ওরাও সানন্দে আমাকে ভিতরে যেতে Permission দিল ৷
ঘরের ভেতরে ঢুকেই দেখি হ্যাঁ, সেই লোকটাই বিছানায় লম্বা হয়ে শুয়ে রয়েছে ! আমি বলে উঠলাম, ” আপনি আচ্ছা লোক তো মশাই ! আমাকে নিচে ঐ তেঁতুলতলায় দাঁড় করিয়ে রেখে দিব্যি এখানে এসে শুয়ে আছেন !!” আমাকে অবাক করে দিয়ে ঐ বৃদ্ধ দীপ্তকণ্ঠে বললেন, ” বাজে কথা বলার সময় এটা নয় ! সময় খুবই সংক্ষিপ্ত ! তোমার সাথে অনেক কথা আছে, চুপ করে বসো !”
ওনার গলার গম্ভীর কণ্ঠস্বরে আমি বিস্মিত হয়েছিলাম, তবুও সাময়িক বিহ্বলতা কাটিয়ে বললাম – “জল খাবো”। উনি ঘরের কোণার দিকে ইঙ্গিত করাতে দেখলাম সেখানে একটা জলের ‘জালা’ (মাটির বড় পাত্র) রয়েছে, আর নিচে একটা বড় নারকেলের মালা ৷ আমি জলের জালা থেকে নারকেলের মালায় জল ঢেলে নিয়ে এসে খেতে যাবো __হটাৎ আমার মধ্যে থেকে যেন কেমন একটা প্রেরণা এলো __আমি সেখান থেকে উঠে গিয়ে ওনার পায়ের কাছে বসলাম । আর বসতেই আমার ভিতর থেকে মন্ত্রোচ্চারণের মতো উচ্চারিত হতে লাগলো ” গুরু পাদোদকম্ ,গুরু পাদোদকম্ , গুরু পাদোদকম্ ৷” তারপর তিনবার প্রণাম করে জলটা খেয়ে নিলাম । অপূর্ব আস্বাদ ! জাগতিক কোনো Taste-এর সঙ্গেই সে স্বাদ মেলে না ! মনে হোলো একেই কি আমৃতের স্বাদ বলে ! ওনাকে এই কথা জিজ্ঞাসা করতেই উনি বললেন, ” হ্যাঁ, এটা অমৃতই ! ভাবামৃত !” …. [বাকী অংশ পরের দিন]
