জিজ্ঞাসু : ~ ভারতবর্ষের অন্যান্য প্রদেশ অপেক্ষা বাঙালিরা কি চেতনায় উন্নত ? আমি এ কথা বলছি কারণ_শ্রী চৈতন্য মহাপ্রভু, ঠাকুর শ্রীরামকৃষ্ণ , স্বামী বিবেকানন্দ , বামদেব , বিজয় কৃষ্ণ গোস্বামী , লোকনাথ বাবা , প্রভু জগদ্বন্ধু , রাম ঠাকুর – প্রমুখেরা ধর্ম জগতের এক একজন দিকপাল – সাহিত্য সংস্কৃতিতেও রামমোহন, বিদ্যাসাগর, রবীন্দ্রনাথ, বঙ্কিমচন্দ্র, শরৎচন্দ্র প্রমুখেরা সমগ্র ভারতবর্ষের মধ্যে উল্লেখযোগ্য__তাছাড়া সুভাষ চন্দ্র, অরবিন্দের ন্যায় মহাবিপ্লবীরা এখানে জন্মেছেন__এনারা ছাড়াও আরো অনেক মহান ব্যক্তি এই মাটিতে শরীর নিয়েছেন ! বিশেষতঃ বলতে চাইছিলাম__ভগবানের অবতারগণেরা বারবার এই বাংলায় এসেছেন কেন? তাহলে নিশ্চয়ই বাংলার কোনো বিশেষত্ব রয়েছে বই কি? এই জন্যই জিজ্ঞাসা করছি ?
গুরু মহারাজ : ~
পুলিশের বড় কর্তারা , নেতা মন্ত্রীরা কোন এলাকার বেশী যায় বা ঘন ঘন যায় বলোতো ? – উপদ্রুত অঞ্চলে ! যেখানে যত বেশি গোলযোগ-গোলমাল সেখানেই তাদেরকে বেশি করে যেতে হয় ৷ যে স্থানটি যত disorder-এ আছে , যেখানে যত disharmony , সেগুলিকে order-এ আনতে বা সেই স্থানের বাতাবরণকে harmonise করতে মহাপুরুষদের বারে বারে আসতে হয় ৷ এমনকি ঈশ্বরের অবতরণও বেশি হয় সেখানেই । তাছাড়া একটু আগেই তোমাদের বলছিলাম ভারতবর্ষ পৃথিবী গ্রহের মস্তিষ্ক ! এটাকে ঠিক রাখা , সুস্থ রাখাও মহাপ্রকৃতির নিয়মের মধ্যেই পড়ে । আর প্রকৃতিকে এবং পরিবেশকে সুস্থ করতে কে পারে – একমাত্র মহাপুরুষরা ছাড়া ? সাধারণ মানুষ তো মোহগ্রস্ত – ইন্দ্রিয়াদির তারণাদুষ্ট , তাহলে সে কি করে সমাজের সংস্কার করবে ? আত্মসুখের ইচ্ছা যার নেই অর্থাৎ ত্যাগী ছাড়া কখনোই কারো দ্বারা মানব কল্যাণ , সমাজ কল্যাণ হবে না ৷
বিদ্যাসাগর , রামমোহন আদি মহাত্মারা গৃহস্থী ছিলেন কিন্তু বিষয়কীট , ইন্দ্রিয়-পরায়ন ছিলেন না , পরার্থে নিজের জীবনের সুখ-স্বাচ্ছন্দ্য , ভোগলিপ্সা ত্যাগ করেছিলেন _ পরহিতে নিজেদের জীবনকে উৎসর্গ করেছিলেন – তাই তাঁদের দ্বারা মানুষের বা সমাজের মঙ্গল সাধন হয়েছিল ৷ ভারতে ইংরেজদের বিরুদ্ধে স্বাধীনতা সংগ্রামের ইতিহাস দ্যাখো – কত যুবক হাসতে হাসতে দেশের মুক্তির জন্য প্রাণ দিয়েছে , শাসকশ্রেণীর হাতে নিদারুণ অত্যাচার সহ্য করেছে _ তবুও দমে থাকেনি ! এক ঝাঁক মরেছে_ তো আবার এক ঝাঁক সামনের সারিতে চলে এসেছে ! তারা কি তাদের নিজের জীবনের সুখ-ঐশ্বর্য-ভোগ লালসার কথা ভেবেছে ? আত্মসুখের বাসনা বিসর্জন না দিয়ে কে কবে মহান হতে পেরেছে ?
অথচ দ্যাখো – স্বাধীনতার প্রাক্কালে ঐ কয়েকজন (কয়েক শত বা হাজার) বিপ্লবী ছাড়া কি ভারতবর্ষে অন্যান্যরা ছিল না ! তারা দিব্যি তাদের নিত্যদিনের জীবন যাপন করেছে ! স্ত্রী-পুত্র-পরিবার নিয়ে সুখে-দুঃখে জীবন কাটিয়ে দিয়েছে – এসব ব্যাপারে মাথাই ঘামায় নি ! অনেকে আবার ঐসব স্বাধীনতা সংগ্রামীদের বা বিপ্লবীদের ধরিয়ে দিয়েছে_ রাজ অনুগ্রহ লাভের আশায় ! সত্যি বলছি , এমন ঘটনা বহু ঘটেছে !
প্রথমদিকে সাধারণ মানুষরাই বিপ্লবীদেরকে ইংরেজদের কাছে ধরিয়ে দিতো । আসলে তখন তো প্রচার মাধ্যম ছিল না , ফলে, গ্রামের সাধারণ মানুষ কলকাতাকে কেন্দ্র করে কি ঘটছে _তার কিছুই জানতে পারতো না ! আর তখন Communication System-ও অনুন্নত ছিল! একমাত্র ধনী ব্যক্তি , ব্যবসায়ী বা শিক্ষিত চাকুরীজীবি ছাড়া সাধারণ মানুষ কলকাতা যাবেই বা কেন ? গ্রামে-গঞ্জে ব্রিটিশবিরোধী মনোভাব জাগাতে বিপ্লবীদের বহু বছর সময় লেগেছিলো ৷ বিভিন্ন চারণ-কবিরা যখন গানের মাধ্যমে গ্রামে গ্রামে ঘুরে ঘুরে প্রচার চালাতে লাগলো, তখন সাধারণ গ্রামবাসীরাও প্রকৃত ঘটনা বুঝতে পারলো ।
আসলে ইংরেজরা বা তাদের কর্মচারীরা গ্রামে গ্রামে প্রচার করে দিয়েছিল যে একদল ডাকাত রাজকোষ লুটপাট করে গ্রামে এসে আশ্রয় নিতে চাইছে – এরা রাজার শত্রু , দেশের শত্রু । এদের দেখতে পেলেই তোমরা ধরিয়ে দাও । গ্রামের মানুষ রাজাদেশ অমান্য করে কি করে – তাই বিপ্লবীদেরকে ঐ চোর-ডাকাত মনে করে ধরিয়ে দিতো !
তাহলে দেখতে পাচ্ছো তো __তোমাদের বাঙালি চেতনার অবস্থা কি ছিল ! সত্যি কথা বলতে কি, ভারতবর্ষের সমগ্র ইতিহাস পর্যালোচনা করলে ওই গোটাকয়েক ঋষি – মুনি – মহাপুরুষ ছাড়া গর্ব করার মত এ দেশে আর রয়েছে টা কি বলো ? এখনো পর্যন্ত বাঙালির ইতিহাস যা রচনা হয়েছে _তাতে গবেষকরা বলেছে যে, ভগবান বুদ্ধ ও মহাবীর জৈন পূর্ববর্তী কালে বাংলায় সভ্য মানুষেরা বসবাস করতোই না ! মহাবীর জৈনকে কুকুর লেলিয়ে তাড়িয়ে দেওয়া হয়েছিল ! এখানকার মানুষ ওনার অহিংস নীতি গ্রহণ করেনি ৷ বাংলার ইতিহাসে (আধুনিক) পালবংশের কয়েকজন এবং শশাঙ্ক ছাড়া আর কোনো উল্লেখযোগ্য রাজার কথাই পাওয়া যায় না ! তাহলে তুমি কি দেখে উন্নত বাঙালির চিত্র পাচ্ছো ? উনবিংশ শতকের নবজাগরণের নায়কদের দেখে ? মহাপুরুষদের কথা স্বতন্ত্র – ওনারা মহাজাগতিক নিয়মে শরীর ধারণ করেন । বলা যায় ওনাদেরকে পাঠানো হয় !
যে সমস্ত উন্নত Soul-এর(সাধনার দ্বারা) ‘ইচ্ছা-অনিচ্ছা’-র অন্ত হয়ে যায় _ তখন তাঁরা “Reserve” হিসাবে থেকে যান ৷ পৃথিবীকে সুস্থির বা সাম্য অবস্থায় রাখার জন্য এঁদের যখন- যেখানে – যে রূপে শরীর নেবার প্রয়োজন হয়_ওনারা সেই ভাবেই শরীর ধারণ করেন এবং আরদ্ধ কাজ ঠিকঠাক করে দিয়ে _আবার যেখানকার লোক(যে স্থিতিতে অবস্থান করছিলেন) _সেখানে ফিরে আসেন ! পার্থিব কামনা-বাসনার বাঁধন এদেরকে বাঁধতে পারে না ৷ হিটলার , নেতাজি সুভাষচন্দ্র – ইত্যাদিরাও এমন-ই Soul জানবে ! মানুষ এঁদের নিয়ে আলতু-ফালতু যা খুশি বলতে পারে – কিন্তু এঁরা এক একটা নির্দিষ্ট Roll Play করে আবার নিজের নিজের স্থানে ফিরে গেছেন ! সেখানে অপেক্ষা করছেন পরবর্তী নির্দেশ কখন আসবে_তার জন্য!
কিন্তু সাধারণ মানুষ তো genarel principle-এর মধ্যে পড়ে । পূর্ব পূর্ব জীবনের সংস্কারজনিত কর্মবন্ধন এবং পার্থিব জগতের মায়া-মোহের আবর্তে পড়ে, ইন্দ্রিয়ের দাসত্ব থেকে বা ষড়রিপুর হাত থেকে মুক্ত হতে পারে না মানুষ ! কামনা বাসনার প্যাঁচে প্যাঁচে জড়িয়ে প’ড়ে হাহাকার করে __তবুও বেরোতে পারে না ! বেরোবার চেষ্টাই বা তেমন কোথায়? এই অবস্থা থেকে মানুষকে মুক্তির স্বাদ দিতে পারেন একমাত্র মহাপুরুষেরা । তাঁরা তাঁদের নিজস্ব সাধনার দ্বারা , বৈরাগ্যের দ্বারা _ মোহাবর্ত ও ইন্দ্রিয়ের দাসত্ব থেকে বেরিয়ে আসতে সমর্থ হয়েছেন _ তাই তাঁরা এই আবর্ত থেকে বা সমস্ত বন্ধন থেকে বাকিদেরকে মুক্তির উপায় বলে দিতে পারেন ।
আর এটাই তাঁরা করেন ! কেউ কেউ উপদেশাদির মাধ্যমে বা প্রবচনের মাধ্যমে করেন, কেউ অন্য কোনো ভাবে করেন__আবার কেউ কেউ সরাসরি মানুষকে মোহগর্ত থেকে ঠেলে তুলে আনেন ! মানবের সমস্ত বন্ধন খচখচ্ করে কেটে তাদেরকে মুক্ত করে দেন! এনারাই বোধিসত্ত্ব ! … (ক্রমশঃ)
[ বাকি অংশ পরের দিন ]
গুরু মহারাজ : ~
পুলিশের বড় কর্তারা , নেতা মন্ত্রীরা কোন এলাকার বেশী যায় বা ঘন ঘন যায় বলোতো ? – উপদ্রুত অঞ্চলে ! যেখানে যত বেশি গোলযোগ-গোলমাল সেখানেই তাদেরকে বেশি করে যেতে হয় ৷ যে স্থানটি যত disorder-এ আছে , যেখানে যত disharmony , সেগুলিকে order-এ আনতে বা সেই স্থানের বাতাবরণকে harmonise করতে মহাপুরুষদের বারে বারে আসতে হয় ৷ এমনকি ঈশ্বরের অবতরণও বেশি হয় সেখানেই । তাছাড়া একটু আগেই তোমাদের বলছিলাম ভারতবর্ষ পৃথিবী গ্রহের মস্তিষ্ক ! এটাকে ঠিক রাখা , সুস্থ রাখাও মহাপ্রকৃতির নিয়মের মধ্যেই পড়ে । আর প্রকৃতিকে এবং পরিবেশকে সুস্থ করতে কে পারে – একমাত্র মহাপুরুষরা ছাড়া ? সাধারণ মানুষ তো মোহগ্রস্ত – ইন্দ্রিয়াদির তারণাদুষ্ট , তাহলে সে কি করে সমাজের সংস্কার করবে ? আত্মসুখের ইচ্ছা যার নেই অর্থাৎ ত্যাগী ছাড়া কখনোই কারো দ্বারা মানব কল্যাণ , সমাজ কল্যাণ হবে না ৷
বিদ্যাসাগর , রামমোহন আদি মহাত্মারা গৃহস্থী ছিলেন কিন্তু বিষয়কীট , ইন্দ্রিয়-পরায়ন ছিলেন না , পরার্থে নিজের জীবনের সুখ-স্বাচ্ছন্দ্য , ভোগলিপ্সা ত্যাগ করেছিলেন _ পরহিতে নিজেদের জীবনকে উৎসর্গ করেছিলেন – তাই তাঁদের দ্বারা মানুষের বা সমাজের মঙ্গল সাধন হয়েছিল ৷ ভারতে ইংরেজদের বিরুদ্ধে স্বাধীনতা সংগ্রামের ইতিহাস দ্যাখো – কত যুবক হাসতে হাসতে দেশের মুক্তির জন্য প্রাণ দিয়েছে , শাসকশ্রেণীর হাতে নিদারুণ অত্যাচার সহ্য করেছে _ তবুও দমে থাকেনি ! এক ঝাঁক মরেছে_ তো আবার এক ঝাঁক সামনের সারিতে চলে এসেছে ! তারা কি তাদের নিজের জীবনের সুখ-ঐশ্বর্য-ভোগ লালসার কথা ভেবেছে ? আত্মসুখের বাসনা বিসর্জন না দিয়ে কে কবে মহান হতে পেরেছে ?
অথচ দ্যাখো – স্বাধীনতার প্রাক্কালে ঐ কয়েকজন (কয়েক শত বা হাজার) বিপ্লবী ছাড়া কি ভারতবর্ষে অন্যান্যরা ছিল না ! তারা দিব্যি তাদের নিত্যদিনের জীবন যাপন করেছে ! স্ত্রী-পুত্র-পরিবার নিয়ে সুখে-দুঃখে জীবন কাটিয়ে দিয়েছে – এসব ব্যাপারে মাথাই ঘামায় নি ! অনেকে আবার ঐসব স্বাধীনতা সংগ্রামীদের বা বিপ্লবীদের ধরিয়ে দিয়েছে_ রাজ অনুগ্রহ লাভের আশায় ! সত্যি বলছি , এমন ঘটনা বহু ঘটেছে !
প্রথমদিকে সাধারণ মানুষরাই বিপ্লবীদেরকে ইংরেজদের কাছে ধরিয়ে দিতো । আসলে তখন তো প্রচার মাধ্যম ছিল না , ফলে, গ্রামের সাধারণ মানুষ কলকাতাকে কেন্দ্র করে কি ঘটছে _তার কিছুই জানতে পারতো না ! আর তখন Communication System-ও অনুন্নত ছিল! একমাত্র ধনী ব্যক্তি , ব্যবসায়ী বা শিক্ষিত চাকুরীজীবি ছাড়া সাধারণ মানুষ কলকাতা যাবেই বা কেন ? গ্রামে-গঞ্জে ব্রিটিশবিরোধী মনোভাব জাগাতে বিপ্লবীদের বহু বছর সময় লেগেছিলো ৷ বিভিন্ন চারণ-কবিরা যখন গানের মাধ্যমে গ্রামে গ্রামে ঘুরে ঘুরে প্রচার চালাতে লাগলো, তখন সাধারণ গ্রামবাসীরাও প্রকৃত ঘটনা বুঝতে পারলো ।
আসলে ইংরেজরা বা তাদের কর্মচারীরা গ্রামে গ্রামে প্রচার করে দিয়েছিল যে একদল ডাকাত রাজকোষ লুটপাট করে গ্রামে এসে আশ্রয় নিতে চাইছে – এরা রাজার শত্রু , দেশের শত্রু । এদের দেখতে পেলেই তোমরা ধরিয়ে দাও । গ্রামের মানুষ রাজাদেশ অমান্য করে কি করে – তাই বিপ্লবীদেরকে ঐ চোর-ডাকাত মনে করে ধরিয়ে দিতো !
তাহলে দেখতে পাচ্ছো তো __তোমাদের বাঙালি চেতনার অবস্থা কি ছিল ! সত্যি কথা বলতে কি, ভারতবর্ষের সমগ্র ইতিহাস পর্যালোচনা করলে ওই গোটাকয়েক ঋষি – মুনি – মহাপুরুষ ছাড়া গর্ব করার মত এ দেশে আর রয়েছে টা কি বলো ? এখনো পর্যন্ত বাঙালির ইতিহাস যা রচনা হয়েছে _তাতে গবেষকরা বলেছে যে, ভগবান বুদ্ধ ও মহাবীর জৈন পূর্ববর্তী কালে বাংলায় সভ্য মানুষেরা বসবাস করতোই না ! মহাবীর জৈনকে কুকুর লেলিয়ে তাড়িয়ে দেওয়া হয়েছিল ! এখানকার মানুষ ওনার অহিংস নীতি গ্রহণ করেনি ৷ বাংলার ইতিহাসে (আধুনিক) পালবংশের কয়েকজন এবং শশাঙ্ক ছাড়া আর কোনো উল্লেখযোগ্য রাজার কথাই পাওয়া যায় না ! তাহলে তুমি কি দেখে উন্নত বাঙালির চিত্র পাচ্ছো ? উনবিংশ শতকের নবজাগরণের নায়কদের দেখে ? মহাপুরুষদের কথা স্বতন্ত্র – ওনারা মহাজাগতিক নিয়মে শরীর ধারণ করেন । বলা যায় ওনাদেরকে পাঠানো হয় !
যে সমস্ত উন্নত Soul-এর(সাধনার দ্বারা) ‘ইচ্ছা-অনিচ্ছা’-র অন্ত হয়ে যায় _ তখন তাঁরা “Reserve” হিসাবে থেকে যান ৷ পৃথিবীকে সুস্থির বা সাম্য অবস্থায় রাখার জন্য এঁদের যখন- যেখানে – যে রূপে শরীর নেবার প্রয়োজন হয়_ওনারা সেই ভাবেই শরীর ধারণ করেন এবং আরদ্ধ কাজ ঠিকঠাক করে দিয়ে _আবার যেখানকার লোক(যে স্থিতিতে অবস্থান করছিলেন) _সেখানে ফিরে আসেন ! পার্থিব কামনা-বাসনার বাঁধন এদেরকে বাঁধতে পারে না ৷ হিটলার , নেতাজি সুভাষচন্দ্র – ইত্যাদিরাও এমন-ই Soul জানবে ! মানুষ এঁদের নিয়ে আলতু-ফালতু যা খুশি বলতে পারে – কিন্তু এঁরা এক একটা নির্দিষ্ট Roll Play করে আবার নিজের নিজের স্থানে ফিরে গেছেন ! সেখানে অপেক্ষা করছেন পরবর্তী নির্দেশ কখন আসবে_তার জন্য!
কিন্তু সাধারণ মানুষ তো genarel principle-এর মধ্যে পড়ে । পূর্ব পূর্ব জীবনের সংস্কারজনিত কর্মবন্ধন এবং পার্থিব জগতের মায়া-মোহের আবর্তে পড়ে, ইন্দ্রিয়ের দাসত্ব থেকে বা ষড়রিপুর হাত থেকে মুক্ত হতে পারে না মানুষ ! কামনা বাসনার প্যাঁচে প্যাঁচে জড়িয়ে প’ড়ে হাহাকার করে __তবুও বেরোতে পারে না ! বেরোবার চেষ্টাই বা তেমন কোথায়? এই অবস্থা থেকে মানুষকে মুক্তির স্বাদ দিতে পারেন একমাত্র মহাপুরুষেরা । তাঁরা তাঁদের নিজস্ব সাধনার দ্বারা , বৈরাগ্যের দ্বারা _ মোহাবর্ত ও ইন্দ্রিয়ের দাসত্ব থেকে বেরিয়ে আসতে সমর্থ হয়েছেন _ তাই তাঁরা এই আবর্ত থেকে বা সমস্ত বন্ধন থেকে বাকিদেরকে মুক্তির উপায় বলে দিতে পারেন ।
আর এটাই তাঁরা করেন ! কেউ কেউ উপদেশাদির মাধ্যমে বা প্রবচনের মাধ্যমে করেন, কেউ অন্য কোনো ভাবে করেন__আবার কেউ কেউ সরাসরি মানুষকে মোহগর্ত থেকে ঠেলে তুলে আনেন ! মানবের সমস্ত বন্ধন খচখচ্ করে কেটে তাদেরকে মুক্ত করে দেন! এনারাই বোধিসত্ত্ব ! … (ক্রমশঃ)
[ বাকি অংশ পরের দিন ]
