জিজ্ঞাসু :– আপনি বলছিলেন ভারতের আদর্শ সর্বত্যাগী শংকর ৷ স্বামীজী(বিবেকানন্দ)-ও এই একই কথা বলেছিলেন। তাহলে এখানে ‘আদর্শ’ কি শিবস্থিতির কোনো ব্যক্তিবিশেষ, না বিষয় ‘ত্যাগ’ __ কোনটিকে আদর্শ করতে বলা হয়েছে ?
গুরুমহারাজ :– কথাটা স্বামী বিবেকানন্দই বলেছিলেন । আধ্যাত্মিক উত্তরণের জন্য__ ‘ত্যাগ’ব্রতকে অবলম্বন করা হয়, কিন্তু আদর্শ করতে হয় কোনো ব্যক্তিকেই ! তবে ‘আদর্শ’, ‘আদর্শ’ মুখে বললে আর কি হয় বাবা, যিনি নিজের জীবনে ত্যাগব্রত অবলম্বন করেছেন এবং আমৃত্যু তা পালন করে গেছেন, একচুলও যাঁর চ্যুতি ঘটেনি – সেই ব্যক্তিই পরবর্তীকালের মানুষের কাছে আদর্শরূপে পরিগণিত হ’ন ! স্বামী বিবেকানন্দ নিজের জীবনে পূর্ণরূপে ‘সর্বত্যাগী শংকর’-কে আদর্শ করেছেন এবং তাই তিনি অপরকেও তা করতে বলেছেন ! এবার তাঁর ত্যাগ ও বৈরাগ্যের জীবন দেখে, পরবর্তীরা অনেকে তাঁকেই ‘শিবাবতার’ মেনে নিয়ে আদর্শ করেছে ! এটাই তো ভারতীয় আধ্যাত্মিক পরম্পরার বিশেষ বৈশিষ্ট্য ! “হয়ে ওঠা”! তুমি পূর্ব থেকেই পূর্ণ, অজ্ঞানতাবশতঃ তুমি আত্মবিস্মৃত অবস্থায় আছো এবং নিজেকে অপূর্ণ ভাবছো ! এই আত্মবিস্মৃতি কাটিয়ে আবার উৎসে ফিরে যাও ! এটাকেই’হয়ে ওঠা’ বলা হয়েছে ! নতুন কিছু নয়_যা ছিলে তাই হয়ে ওঠা ! সুতরাং, যে কোনো সাধক ‘শংকর’-কে, স্বামীজীকে আদর্শ করে নিজেই শংকর হয়ে উঠুক_নিজেই স্বামীজী হয়ে উঠুক !
বর্তমানে ত্যাগ-ব্রতীদের কাছে অর্থাৎ সাধু-সন্ত-ব্রহ্মচারীদের কাছে স্বামী বিবেকানন্দই আদর্শ হয়ে উঠুক ! তরুণ সম্প্রদায়ের কাছেও স্বামীজী ই আদর্শ হোক্ ৷ সত্যিই যদি এমনটা হয়_তাহলে কয়েক দশকের মধ্যে ভারতবর্ষের সর্বাঙ্গীণ উন্নতি এতোটা হবে যে, প্রকৃতপক্ষেই ভারত আবার ‘জগতসভায় শ্রেষ্ঠ আসন লবে’!
স্বামীজী বলেছিলেন – ‘degree of Manifestation’ ! মানুষের আত্মোন্নতিও ধাপে ধাপে হয় ৷ একবারেই যে কোনো পরিবর্তন ঘটে যাবে তা তো হয় না, ধীরে ধীরে হয় । যুবসমাজের মধ্যে স্বামীজীর প্রভাব যত পড়বে দেখবে ভারতবর্ষ গোটা পৃথিবীতে চালকের আসনে বসে যাবে । আর এটাই পৃথিবী গ্রহের Setting , এটাই হোতে হবে –যতদিন তা না হোচ্ছে, ততদিন থাকবে এই বিশৃঙ্খল অবস্থা । সমস্ত পৃথিবীর কর্তৃত্ব ভারতবর্ষের হাতে এলেই পৃথিবীতে একটা শান্তির বাতাবরণ তৈরি হয়ে যাবে ৷ এর কারণ কি বলো তো – ঐ যে বলছিলাম, তখন ভারতবর্ষের নেতৃস্থানীয় ব্যক্তিরা সকলেই, তাদের জীবনে সর্বত্যাগী শংকরকে অথবা স্বামী বিবেকানন্দকে আদর্শ হিসেবে গ্রহণ করবে, ফলে তারা নিজের দেশ সহ _গোটা বিশ্বের মানুষকেই আপনার জন হিসাবে দেখবে এবং সকলের কল্যাণের জন্য কাজ করবে ৷ তখন কোনো সম্রাজ্যবাদ নীতি, আগ্রাসন নীতি, হিংসা বা বিভেদের নীতি কাজ করবে না । আর এর ফলেই গোটা বিশ্বে একটা শান্তির বাতাবরণ তৈরি হবে।
দ্যাখো, সমাজে অনেকেই নানান আদর্শের কথা বলে থাকে ! বিশেষতঃ রাজনৈতিক আদর্শের কথায় তো শিক্ষিত বাঙালিদের মুখে খই ফোটে ! কিন্তু সেগুলো ওই মুখেই, – কারোর জীবনেই ঐ আদর্শগুলির ‘যোজনা’ হয় না ! আমি এখানকার অনেক বড় বড় সিপিএম নেতাদের জানি(১৯৯২/৯৩ সাল), যারা জীবনের অধিকাংশ সময় বড় বড় বুলি বলে এলো, কত বিদেশী আদর্শের কথা লিখে লিফলেট বিলি করলো, কিন্তু নিজের গর্ভধারিনী জননীকে শেষ অবস্থায় দেখেনি, তাঁর একেবারেই যত্ন নেয়নি ! এমনও ঘটনা আছে যে, এইরকমই কোনো নেতার মা গ্রামের বাড়িতে লোকের কাছে ভিক্ষা মেগে খাচ্ছে – আর ছেলে বড় বড় Seminer-এ বক্তব্য রাখছে, হাততালি কুড়োচ্ছে !
কিন্তু জানো –কোনো নেতা যদি সর্বত্যাগী শংকরকে আদর্শ করতো বা স্বামী বিবেকানন্দকে আদর্শ করতো__তাহলে অন্ততঃ এমনটা হোত না ! সেই ছেলে যত বড়ই হোক, যত ব্যস্তই হোক, কর্মান্তে অবসর পেলেই _স্নেহময়ী জননীর স্নেহছায়ায় ঠিক ছুটে ছুটে ফিরে আসতো ! এটাই ভারতীয় সনাতন পরম্পরার শিক্ষা, সনাতন আদর্শের শিক্ষা !!
ভারতীয় সমাজ ব্যবস্থায় এখন বর্তমানে বিদেশি দর্শনের, আর বিদেশী আদর্শ – মানবদের খুবই রমরমা চলছে ! এটা দীর্ঘদিন ধরে চলা বিদেশী শাসনেরই কু-প্রভাব ! পরাধীন অবস্থার মানসিকতা থেকে এখনও মুক্ত হোতে পারছে না ভারতবর্ষের মানুষ !
দ্যাখো, যেখানে ভারতবর্ষই সমস্ত দর্শনের জনক, সমস্ত বিদ্যার জননী__ সেখানে এখানকার শিক্ষিত মানুষেরা ধার করা বিদেশী দর্শনের প্রতি আকৃষ্ট হয়ে, সেই দর্শন প্রণেতাকে জীবনের আদর্শ করে বসেছে ! এইটাকে আহাম্মকি বা এক ধরণের বিকৃতি ছাড়া আর কি বলবে ! তবে, ঐ যে আগে বলছিলাম__ সমাজে উপযুক্ত শিক্ষক অর্থাৎ সমাজ-শিক্ষকের দীর্ঘকালের অনুপস্থিতি সমাজকে আরও পিছিয়ে দিয়েছে ৷ স্বামী বিবেকানন্দের পর থেকে আবার ভারতীয় সমাজে সনাতন আদর্শের প্রতি আগ্রহ বা শ্রদ্ধা বাড়ছে ৷ এটাই আশার কথা ।৷
গুরুমহারাজ :– কথাটা স্বামী বিবেকানন্দই বলেছিলেন । আধ্যাত্মিক উত্তরণের জন্য__ ‘ত্যাগ’ব্রতকে অবলম্বন করা হয়, কিন্তু আদর্শ করতে হয় কোনো ব্যক্তিকেই ! তবে ‘আদর্শ’, ‘আদর্শ’ মুখে বললে আর কি হয় বাবা, যিনি নিজের জীবনে ত্যাগব্রত অবলম্বন করেছেন এবং আমৃত্যু তা পালন করে গেছেন, একচুলও যাঁর চ্যুতি ঘটেনি – সেই ব্যক্তিই পরবর্তীকালের মানুষের কাছে আদর্শরূপে পরিগণিত হ’ন ! স্বামী বিবেকানন্দ নিজের জীবনে পূর্ণরূপে ‘সর্বত্যাগী শংকর’-কে আদর্শ করেছেন এবং তাই তিনি অপরকেও তা করতে বলেছেন ! এবার তাঁর ত্যাগ ও বৈরাগ্যের জীবন দেখে, পরবর্তীরা অনেকে তাঁকেই ‘শিবাবতার’ মেনে নিয়ে আদর্শ করেছে ! এটাই তো ভারতীয় আধ্যাত্মিক পরম্পরার বিশেষ বৈশিষ্ট্য ! “হয়ে ওঠা”! তুমি পূর্ব থেকেই পূর্ণ, অজ্ঞানতাবশতঃ তুমি আত্মবিস্মৃত অবস্থায় আছো এবং নিজেকে অপূর্ণ ভাবছো ! এই আত্মবিস্মৃতি কাটিয়ে আবার উৎসে ফিরে যাও ! এটাকেই’হয়ে ওঠা’ বলা হয়েছে ! নতুন কিছু নয়_যা ছিলে তাই হয়ে ওঠা ! সুতরাং, যে কোনো সাধক ‘শংকর’-কে, স্বামীজীকে আদর্শ করে নিজেই শংকর হয়ে উঠুক_নিজেই স্বামীজী হয়ে উঠুক !
বর্তমানে ত্যাগ-ব্রতীদের কাছে অর্থাৎ সাধু-সন্ত-ব্রহ্মচারীদের কাছে স্বামী বিবেকানন্দই আদর্শ হয়ে উঠুক ! তরুণ সম্প্রদায়ের কাছেও স্বামীজী ই আদর্শ হোক্ ৷ সত্যিই যদি এমনটা হয়_তাহলে কয়েক দশকের মধ্যে ভারতবর্ষের সর্বাঙ্গীণ উন্নতি এতোটা হবে যে, প্রকৃতপক্ষেই ভারত আবার ‘জগতসভায় শ্রেষ্ঠ আসন লবে’!
স্বামীজী বলেছিলেন – ‘degree of Manifestation’ ! মানুষের আত্মোন্নতিও ধাপে ধাপে হয় ৷ একবারেই যে কোনো পরিবর্তন ঘটে যাবে তা তো হয় না, ধীরে ধীরে হয় । যুবসমাজের মধ্যে স্বামীজীর প্রভাব যত পড়বে দেখবে ভারতবর্ষ গোটা পৃথিবীতে চালকের আসনে বসে যাবে । আর এটাই পৃথিবী গ্রহের Setting , এটাই হোতে হবে –যতদিন তা না হোচ্ছে, ততদিন থাকবে এই বিশৃঙ্খল অবস্থা । সমস্ত পৃথিবীর কর্তৃত্ব ভারতবর্ষের হাতে এলেই পৃথিবীতে একটা শান্তির বাতাবরণ তৈরি হয়ে যাবে ৷ এর কারণ কি বলো তো – ঐ যে বলছিলাম, তখন ভারতবর্ষের নেতৃস্থানীয় ব্যক্তিরা সকলেই, তাদের জীবনে সর্বত্যাগী শংকরকে অথবা স্বামী বিবেকানন্দকে আদর্শ হিসেবে গ্রহণ করবে, ফলে তারা নিজের দেশ সহ _গোটা বিশ্বের মানুষকেই আপনার জন হিসাবে দেখবে এবং সকলের কল্যাণের জন্য কাজ করবে ৷ তখন কোনো সম্রাজ্যবাদ নীতি, আগ্রাসন নীতি, হিংসা বা বিভেদের নীতি কাজ করবে না । আর এর ফলেই গোটা বিশ্বে একটা শান্তির বাতাবরণ তৈরি হবে।
দ্যাখো, সমাজে অনেকেই নানান আদর্শের কথা বলে থাকে ! বিশেষতঃ রাজনৈতিক আদর্শের কথায় তো শিক্ষিত বাঙালিদের মুখে খই ফোটে ! কিন্তু সেগুলো ওই মুখেই, – কারোর জীবনেই ঐ আদর্শগুলির ‘যোজনা’ হয় না ! আমি এখানকার অনেক বড় বড় সিপিএম নেতাদের জানি(১৯৯২/৯৩ সাল), যারা জীবনের অধিকাংশ সময় বড় বড় বুলি বলে এলো, কত বিদেশী আদর্শের কথা লিখে লিফলেট বিলি করলো, কিন্তু নিজের গর্ভধারিনী জননীকে শেষ অবস্থায় দেখেনি, তাঁর একেবারেই যত্ন নেয়নি ! এমনও ঘটনা আছে যে, এইরকমই কোনো নেতার মা গ্রামের বাড়িতে লোকের কাছে ভিক্ষা মেগে খাচ্ছে – আর ছেলে বড় বড় Seminer-এ বক্তব্য রাখছে, হাততালি কুড়োচ্ছে !
কিন্তু জানো –কোনো নেতা যদি সর্বত্যাগী শংকরকে আদর্শ করতো বা স্বামী বিবেকানন্দকে আদর্শ করতো__তাহলে অন্ততঃ এমনটা হোত না ! সেই ছেলে যত বড়ই হোক, যত ব্যস্তই হোক, কর্মান্তে অবসর পেলেই _স্নেহময়ী জননীর স্নেহছায়ায় ঠিক ছুটে ছুটে ফিরে আসতো ! এটাই ভারতীয় সনাতন পরম্পরার শিক্ষা, সনাতন আদর্শের শিক্ষা !!
ভারতীয় সমাজ ব্যবস্থায় এখন বর্তমানে বিদেশি দর্শনের, আর বিদেশী আদর্শ – মানবদের খুবই রমরমা চলছে ! এটা দীর্ঘদিন ধরে চলা বিদেশী শাসনেরই কু-প্রভাব ! পরাধীন অবস্থার মানসিকতা থেকে এখনও মুক্ত হোতে পারছে না ভারতবর্ষের মানুষ !
দ্যাখো, যেখানে ভারতবর্ষই সমস্ত দর্শনের জনক, সমস্ত বিদ্যার জননী__ সেখানে এখানকার শিক্ষিত মানুষেরা ধার করা বিদেশী দর্শনের প্রতি আকৃষ্ট হয়ে, সেই দর্শন প্রণেতাকে জীবনের আদর্শ করে বসেছে ! এইটাকে আহাম্মকি বা এক ধরণের বিকৃতি ছাড়া আর কি বলবে ! তবে, ঐ যে আগে বলছিলাম__ সমাজে উপযুক্ত শিক্ষক অর্থাৎ সমাজ-শিক্ষকের দীর্ঘকালের অনুপস্থিতি সমাজকে আরও পিছিয়ে দিয়েছে ৷ স্বামী বিবেকানন্দের পর থেকে আবার ভারতীয় সমাজে সনাতন আদর্শের প্রতি আগ্রহ বা শ্রদ্ধা বাড়ছে ৷ এটাই আশার কথা ।৷
