জিজ্ঞাসু(সিঙ্গুরের এক ভক্ত) :~ কিন্তু সত্যানন্দের (শম্ভু মহারাজ) সংসারে ফিরে যাওয়াটা কেমন ফিরে যাওয়া মহারাজ ? এ তো নোংরা মেখে ঘরে ফেরা ??
গুরুমহারাজ :~ শম্ভুর ঘরে ফিরে যাওয়াটাকে নোংরা মাখা বলছো স.. ! তুমি আগে তোমার দৃষ্টিভঙ্গীর পরিবর্ত্তন করো –এটা করতে পারলেই জগৎ-সংসারকে অন্যভাবে দেখতে পাবে।
এক্ষেত্রে আমার দৃষ্টিভঙ্গিটা বলছি শোনো_ আমি দেখলাম, ও life-style-এর পরিবর্তন করলো মাত্র। ওর তো কোনো পরিবর্তন হোলো না ! ওর স্বভাবে এটা ছিল, তাই ঘটনাটা ঘটে গেল_এর বেশি কিছু নয়।
যে দৃষ্টিতে তোমরা জগৎ-কে দেখো, তাতে সবসময়েই এই দ্বৈতভাব থাকে – সুখ-দুঃখ, হাসি-কান্না, ভালো-মন্দ ইত্যাদি ! তুমি এই ভাব নিয়েই কথাগুলো বললে__তাইতো তুমি এই ঘটনাটাকে কেমন অক্লেশে বলে দিলে “নোংরা মাখা”। অর্থাৎ যেহেতু শম্ভু বিয়ে-থা করলো, অতএব ব্রহ্মচর্য্য আশ্রম ত্যাগ করে সে কামনা-বাসনা চরিতার্থের জগতে প্রবেশ করবে – আর তাতেই এই ছিঃ ছিঃ ! তাই তো ! কিন্তু স.. ! জগতে কাম কোথায় ? আমার দৃষ্টিতে তো ___এই জগতে শুধু প্রেম-ই রয়েছে !
তোমাকে একটা উদাহরণ দিয়ে বোঝানোর চেষ্টা করছি ! কোনো মায়ের কোলের সন্তান, বাইরে থেকে নোংরা মেখে ঘরে ফিরে এলে মা কি করেন ? দু-একটা তিরস্কার করেন অথবা বড়জোর দু-একটা মৃদু চপেটাঘাত করেন, তারপর হয়তো কানটা ধরে কলতলায় নিয়ে গিয়ে তাকে পরিষ্কার করে দেন। এই পুরো ব্যাপারটায় আর কিছু নেই কিন্তু রয়েছে – প্রেম, যা এখানে স্নেহরূপে প্রকাশিত হোচ্ছে।
এই জগতে দেখা যায়__কাম-ও প্রাণের ধর্ম, প্রেম-ও প্রাণের ধর্ম। দুটিই প্রাকৃতিক বা জীবের স্বাভাবিক বৃত্তি ! বলা হয় “কামনা_বাসনা”__তাই না ? ‘কাম’ হোলো কামনার সেরা রূপ আর বাসনার শ্রেষ্ঠ প্রকাশ ‘প্রেম’। বলা যায় প্রাণের নিম্নতম বৃত্তি হোলো “কাম” আর প্রাণের উচ্চতম বৃত্তি “প্রেম”।
দ্যাখো, এত বিধি-নিষেধ, নিয়ম-সংযম, আচার-বিচার, শিষ্যদের প্রতি গুরুদের এতো সতর্কবার্তা – এগুলো সবই তো আধ্যাত্মিক জগতের গৌরচন্দ্রিকা ! প্রকৃতপক্ষে শুধু প্রেম-ই রয়েছে। এই যে আমি তোমাদের সাথে কথা বলছি – এ তো প্রেমে-ই। না হোলে ধ্যানের গভীরতায় ‘কথা’ কোথায় ? শুধু তো সবার অন্তরে অন্তর্যামীরূপে ‘নারায়ণ’ দেখা যাচ্ছে “সর্বভৃতান্তরাত্মা”। জ্ঞানের গভীরতাতেও তো কথা নেই – সেখানে সবই ব্রহ্মময় ! সেখানে কথা তো হোচ্ছে শুধুমাত্র “প্রেমে”। নিষ্কাম কর্মযোগী বা নিঃস্বার্থ সেবকেরও কোনো কথা থাকে না – অন্তরে প্রার্থনা থাকতে পারে, মন্ত্র-জপ থাকতে পারে_কিন্তু কোনো বাজে কথা নয় ৷
আর্ত, অর্থাথী, জিজ্ঞাসু, জ্ঞানী ও প্রেমিক এই পাঁচ-ধরনের ভক্ত রয়েছে । কোনো মহাপুরুষের কাছে বা কোনো সদ্গুরুর কাছে যখন এই পাঁচ শ্রেনীর ভক্তরা আসে – তাদের সবার সমস্ত রকম সমস্যার সমাধান করে তাদেরকে সন্তুষ্ট করতে হয় ঐ সদ্গুরুকেই ! শুধু জ্ঞানগর্ভ বক্তৃতার দ্বারা অথবা শাশ্ত্রে বর্ণিত কথার দ্বারাও এটা করা সম্ভব নয়। এটা একমাত্র সম্ভব হয় প্রেমের দ্বারা ! তাই বলছিলাম এই যে তোমাদের সাথে কথা হোচ্ছে__এটা “প্রেমে”-তেই !
গুরুমহারাজ :~ শম্ভুর ঘরে ফিরে যাওয়াটাকে নোংরা মাখা বলছো স.. ! তুমি আগে তোমার দৃষ্টিভঙ্গীর পরিবর্ত্তন করো –এটা করতে পারলেই জগৎ-সংসারকে অন্যভাবে দেখতে পাবে।
এক্ষেত্রে আমার দৃষ্টিভঙ্গিটা বলছি শোনো_ আমি দেখলাম, ও life-style-এর পরিবর্তন করলো মাত্র। ওর তো কোনো পরিবর্তন হোলো না ! ওর স্বভাবে এটা ছিল, তাই ঘটনাটা ঘটে গেল_এর বেশি কিছু নয়।
যে দৃষ্টিতে তোমরা জগৎ-কে দেখো, তাতে সবসময়েই এই দ্বৈতভাব থাকে – সুখ-দুঃখ, হাসি-কান্না, ভালো-মন্দ ইত্যাদি ! তুমি এই ভাব নিয়েই কথাগুলো বললে__তাইতো তুমি এই ঘটনাটাকে কেমন অক্লেশে বলে দিলে “নোংরা মাখা”। অর্থাৎ যেহেতু শম্ভু বিয়ে-থা করলো, অতএব ব্রহ্মচর্য্য আশ্রম ত্যাগ করে সে কামনা-বাসনা চরিতার্থের জগতে প্রবেশ করবে – আর তাতেই এই ছিঃ ছিঃ ! তাই তো ! কিন্তু স.. ! জগতে কাম কোথায় ? আমার দৃষ্টিতে তো ___এই জগতে শুধু প্রেম-ই রয়েছে !
তোমাকে একটা উদাহরণ দিয়ে বোঝানোর চেষ্টা করছি ! কোনো মায়ের কোলের সন্তান, বাইরে থেকে নোংরা মেখে ঘরে ফিরে এলে মা কি করেন ? দু-একটা তিরস্কার করেন অথবা বড়জোর দু-একটা মৃদু চপেটাঘাত করেন, তারপর হয়তো কানটা ধরে কলতলায় নিয়ে গিয়ে তাকে পরিষ্কার করে দেন। এই পুরো ব্যাপারটায় আর কিছু নেই কিন্তু রয়েছে – প্রেম, যা এখানে স্নেহরূপে প্রকাশিত হোচ্ছে।
এই জগতে দেখা যায়__কাম-ও প্রাণের ধর্ম, প্রেম-ও প্রাণের ধর্ম। দুটিই প্রাকৃতিক বা জীবের স্বাভাবিক বৃত্তি ! বলা হয় “কামনা_বাসনা”__তাই না ? ‘কাম’ হোলো কামনার সেরা রূপ আর বাসনার শ্রেষ্ঠ প্রকাশ ‘প্রেম’। বলা যায় প্রাণের নিম্নতম বৃত্তি হোলো “কাম” আর প্রাণের উচ্চতম বৃত্তি “প্রেম”।
দ্যাখো, এত বিধি-নিষেধ, নিয়ম-সংযম, আচার-বিচার, শিষ্যদের প্রতি গুরুদের এতো সতর্কবার্তা – এগুলো সবই তো আধ্যাত্মিক জগতের গৌরচন্দ্রিকা ! প্রকৃতপক্ষে শুধু প্রেম-ই রয়েছে। এই যে আমি তোমাদের সাথে কথা বলছি – এ তো প্রেমে-ই। না হোলে ধ্যানের গভীরতায় ‘কথা’ কোথায় ? শুধু তো সবার অন্তরে অন্তর্যামীরূপে ‘নারায়ণ’ দেখা যাচ্ছে “সর্বভৃতান্তরাত্মা”। জ্ঞানের গভীরতাতেও তো কথা নেই – সেখানে সবই ব্রহ্মময় ! সেখানে কথা তো হোচ্ছে শুধুমাত্র “প্রেমে”। নিষ্কাম কর্মযোগী বা নিঃস্বার্থ সেবকেরও কোনো কথা থাকে না – অন্তরে প্রার্থনা থাকতে পারে, মন্ত্র-জপ থাকতে পারে_কিন্তু কোনো বাজে কথা নয় ৷
আর্ত, অর্থাথী, জিজ্ঞাসু, জ্ঞানী ও প্রেমিক এই পাঁচ-ধরনের ভক্ত রয়েছে । কোনো মহাপুরুষের কাছে বা কোনো সদ্গুরুর কাছে যখন এই পাঁচ শ্রেনীর ভক্তরা আসে – তাদের সবার সমস্ত রকম সমস্যার সমাধান করে তাদেরকে সন্তুষ্ট করতে হয় ঐ সদ্গুরুকেই ! শুধু জ্ঞানগর্ভ বক্তৃতার দ্বারা অথবা শাশ্ত্রে বর্ণিত কথার দ্বারাও এটা করা সম্ভব নয়। এটা একমাত্র সম্ভব হয় প্রেমের দ্বারা ! তাই বলছিলাম এই যে তোমাদের সাথে কথা হোচ্ছে__এটা “প্রেমে”-তেই !
