জিজ্ঞাসু (সিঙ্গুরের এক ভক্ত):~ কিন্তু মহারাজ ! এখানে প্রেম কিভাবে আসছে, উপস্থিত জনেদের জিজ্ঞাসা আছে বলেই তো কথা হোচ্ছে ?
গুরুমহারাজ :~ দেখেছো, কিরকম মাথামোটা তোমাদের ? কথাগুলি মনোযোগ সহকারে না শুনে-ই সিদ্ধান্ত করতে শুরু করলে ? জিজ্ঞাসা বলতে কি ভাবছো, এখানে যারা কিছু না কিছু কথা বলে – সে সবই ‘জিজ্ঞাসু’-র জিজ্ঞাসা (শাশ্ত্র ভক্তদেরকে পাঁচভাগে ভাগ করেছে_আর্ত, অর্থার্থী, জিজ্ঞাসু, জ্ঞানী ও প্রেমিক)? এইখানে বসে আমি তো বেশিরভাগই ‘আর্ত’ এবং ‘অর্থাথী’-র জিজ্ঞাসার উত্তর দিচ্ছি ! প্রকৃত ভক্তের বা ‘জিজ্ঞাসু’-র জিজ্ঞাসা হোলে তার উত্তরটাই “উপনিষদ” হয়ে যায়। পূর্বে পূর্বে এটাই তো হয়েছে, গুরু ও শিষ্যের জিজ্ঞাসা-উত্তরের মাধ্যমেই সৃষ্টি হয়েছে এক একটা উপনিষদ।
কিন্তু যখন কোনো আর্ত আসে আমার কাছে, তার ‘পুরাতন আমাশয় কেন সাড়ছে না’– সেই কথা বলছে, আমি দেখেছি কি জানো__ সেইসব কথা শুনেও আমার মধ্যে কিন্তু আনন্দের প্রবাহ বয়ে যাচ্ছে, আনন্দের হিল্লোল বইছে। হয়তো কোনো অর্থাথী এসে জিজ্ঞাসা করছে – ‘তার ব্যবসার মন্দা যাওয়ার কথা’ বলছে, আমি দেখছি তাতেও আমার ভিতরে আনন্দের হিল্লোল-কল্লোলের কোনো খামতি হচ্ছে না !
হয়তো সবসময় সেটা বাইরে প্রকাশ ঘটছে না কিন্তু ভিতরে এই আনন্দের প্লাবন নিত্য বহমান। একমাত্র কোনো প্রকৃত ‘ভক্ত’ আসলে সঙ্গে সঙ্গে বাইরেও প্রকাশ ঘটে যায়। তোমরা বাহ্যতঃ দেখবে, হয়তো স্বতঃস্ফূর্তভাবে আমি তাকে সম্ভাষণ করছি অথবা সে এসে আমাকে আলিঙ্গন করছে ! ব্যাপারটা বুঝতে পারছো কি ? এটা কেন হয় বলতো –ওই যে বললাম, প্রকৃত ভক্তের আগমনে ! ভক্তের ভালোবাসা যে নিঃস্বার্থ ! সে আমার কাছে কিছুই চাইতে আসেনি, কিছু পেতেও আসেনি, বরং দিয়ে যায় ! তার নিঃস্বার্থতা, তার ভালবাসা আমি গ্রহণ করি ! আর এই ভালবাসা থেকেই আমি শক্তি পাই। তাই বলছিলাম__ তারা আমাকে কিছু দেয়, বিনিময়ে কিছু চায় না !
ভক্তের যে পাঁচটি ভাব রয়েছে তারমধ্যে বাৎসল্য, দাস্য, সখ্য – এই তিন ভাবের কতিপয় ভক্তরা এখানে আসে। “শান্ত”-ভাবের ভক্তদের সাথে আমার অন্যত্র যোগাযোগ হয়–তাঁদের সাথে এখানে যোগাযোগ হবার সম্ভাবনাও কম (শান্ত ভাবের ভক্ত মানে হোলো ঋষিস্থিতির মানুষেরা)। আর “মধুর” ভাবের লীলা এই শরীরে হবে না__মা জগদম্বার সাথে আমার সেইরূপই কথা হয়ে আছে ৷ কারণ মেয়েদেরকে আমার মনে হয় জননী অথবা কন্যা_ব্যস্ আর কিছুই নয়!
এবার এই(পরমানন্দ) লীলায় আমার অনেক মায়েরা রয়েছেন, যাদেরকে আমি ‘জননী’ বলে সম্বোধন করি। তাঁরা আমাকে গর্ভে ধারণ করেন নি __কিন্তু ওনারা আমাকে নিঃস্বার্থ ভালোবাসেন। আবার আমার সমস্ত জননীদের মধ্যে আমার গর্ভধারিনী, টগরের মা (চক্ষণযাদী), জগাদার মা (রায়না), – ইত্যাদি এঁরা সকলের চেয়ে আলাদা ! এঁরা শুধুই আমাকে ভালবাসেন–ভালবাসার জন্যেই ভালবাসা ! “তোমারি কুশলে কুশল মানি”– এই ভাব ! ওনারা যখন এখানে আসেন–তখন আমি শিশু হয়ে যাই।
যাইহোক, কথা হচ্ছিলো আর্ত, অথার্থী, জিজ্ঞাসু, জ্ঞানী ও প্রেমিক এই পাঁচপ্রকার ভক্তের ব্যাপারে৷ তোমাদের বলছিলাম যে, কোনো ভক্ত বা কোনো সাধারণ মানুষ, এমনকি যে কোনো জীব, উদ্ভিদ বা জড়জগতের দিকে তাকালে, তাদের কথা ভাবলেও আমার আনন্দ হয়। আর হবে নাই বা কেন ? জগতে আনন্দ-ই তো রয়েছে ! আনন্দ প্রতিষ্ঠিত ! পরমেশ্বরের মহিমা অপার।
তাই বলছিলাম__ আর্ত, অর্থার্থী এলেও আনন্দ হয় কিন্তু প্রকাশ হয়তো হয় না৷ জিজ্ঞাসু এলে আনন্দের একটু বেশি প্রকাশ হয়, আবার জ্ঞানী বা প্রেমিক এলে আরো আরো বেশি আনন্দের প্রকাশ ঘটে যেতে পারে। আর তেমন প্রেমিক পেলে হয়তো আমি আসন ছেড়ে উঠে দুজনাতে নাচতে শুরু করে দেবো ! !
সুতরাং আনন্দের কোনো ছেদ নাই – শুধু আনন্দ, আনন্দ আর আনন্দ। জড়ে আনন্দ, উদ্ভিদে আনন্দ, জীবে আনন্দ, আকাশ-বাতাসে আনন্দ, তবে মানুষে বেশি আনন্দ ! সবই আনন্দময় ! এটা একটা স্থিতি। অন্নময়, প্রাণময়, মনোময়, বিজ্ঞানময় ও আনন্দময় এই পঞ্চকোষ বিশিষ্ট শরীরে প্রথমাবস্থায় মানুষের অন্নময়, প্রাণময় আর মনোময় কোষের ক্রিয়া থাকে। পরে বিজ্ঞানময় কোষ ক্রিয়াশীল হয়। কিন্তু যখন সাধকের জীবনে আনন্দময় কোষের সম্পূর্ণ ক্রিয়াশীলতা আসে – তখনই সাধক এই স্থিতিলাভ করেন। এই dimension-এ পৌঁছে কাম, বিকৃতি, নোংরা এসবের আর কোনো আলাদা অস্তিত্বই থাকে না – তখন বোধ হয় শুধু প্রেম-ই রয়েছে, প্রেম-প্রেম আর প্রেম ! Unity in diversity ভিন্ন ভিন্ন নামে, ভিন্ন ভিন্ন স্বাদে। দেশ-কাল-পাত্রে যা বদলে বদলে যাচ্ছে, কিন্তু প্রেমই রয়েছে! প্রেমই প্রেম !!
গুরুমহারাজ :~ দেখেছো, কিরকম মাথামোটা তোমাদের ? কথাগুলি মনোযোগ সহকারে না শুনে-ই সিদ্ধান্ত করতে শুরু করলে ? জিজ্ঞাসা বলতে কি ভাবছো, এখানে যারা কিছু না কিছু কথা বলে – সে সবই ‘জিজ্ঞাসু’-র জিজ্ঞাসা (শাশ্ত্র ভক্তদেরকে পাঁচভাগে ভাগ করেছে_আর্ত, অর্থার্থী, জিজ্ঞাসু, জ্ঞানী ও প্রেমিক)? এইখানে বসে আমি তো বেশিরভাগই ‘আর্ত’ এবং ‘অর্থাথী’-র জিজ্ঞাসার উত্তর দিচ্ছি ! প্রকৃত ভক্তের বা ‘জিজ্ঞাসু’-র জিজ্ঞাসা হোলে তার উত্তরটাই “উপনিষদ” হয়ে যায়। পূর্বে পূর্বে এটাই তো হয়েছে, গুরু ও শিষ্যের জিজ্ঞাসা-উত্তরের মাধ্যমেই সৃষ্টি হয়েছে এক একটা উপনিষদ।
কিন্তু যখন কোনো আর্ত আসে আমার কাছে, তার ‘পুরাতন আমাশয় কেন সাড়ছে না’– সেই কথা বলছে, আমি দেখেছি কি জানো__ সেইসব কথা শুনেও আমার মধ্যে কিন্তু আনন্দের প্রবাহ বয়ে যাচ্ছে, আনন্দের হিল্লোল বইছে। হয়তো কোনো অর্থাথী এসে জিজ্ঞাসা করছে – ‘তার ব্যবসার মন্দা যাওয়ার কথা’ বলছে, আমি দেখছি তাতেও আমার ভিতরে আনন্দের হিল্লোল-কল্লোলের কোনো খামতি হচ্ছে না !
হয়তো সবসময় সেটা বাইরে প্রকাশ ঘটছে না কিন্তু ভিতরে এই আনন্দের প্লাবন নিত্য বহমান। একমাত্র কোনো প্রকৃত ‘ভক্ত’ আসলে সঙ্গে সঙ্গে বাইরেও প্রকাশ ঘটে যায়। তোমরা বাহ্যতঃ দেখবে, হয়তো স্বতঃস্ফূর্তভাবে আমি তাকে সম্ভাষণ করছি অথবা সে এসে আমাকে আলিঙ্গন করছে ! ব্যাপারটা বুঝতে পারছো কি ? এটা কেন হয় বলতো –ওই যে বললাম, প্রকৃত ভক্তের আগমনে ! ভক্তের ভালোবাসা যে নিঃস্বার্থ ! সে আমার কাছে কিছুই চাইতে আসেনি, কিছু পেতেও আসেনি, বরং দিয়ে যায় ! তার নিঃস্বার্থতা, তার ভালবাসা আমি গ্রহণ করি ! আর এই ভালবাসা থেকেই আমি শক্তি পাই। তাই বলছিলাম__ তারা আমাকে কিছু দেয়, বিনিময়ে কিছু চায় না !
ভক্তের যে পাঁচটি ভাব রয়েছে তারমধ্যে বাৎসল্য, দাস্য, সখ্য – এই তিন ভাবের কতিপয় ভক্তরা এখানে আসে। “শান্ত”-ভাবের ভক্তদের সাথে আমার অন্যত্র যোগাযোগ হয়–তাঁদের সাথে এখানে যোগাযোগ হবার সম্ভাবনাও কম (শান্ত ভাবের ভক্ত মানে হোলো ঋষিস্থিতির মানুষেরা)। আর “মধুর” ভাবের লীলা এই শরীরে হবে না__মা জগদম্বার সাথে আমার সেইরূপই কথা হয়ে আছে ৷ কারণ মেয়েদেরকে আমার মনে হয় জননী অথবা কন্যা_ব্যস্ আর কিছুই নয়!
এবার এই(পরমানন্দ) লীলায় আমার অনেক মায়েরা রয়েছেন, যাদেরকে আমি ‘জননী’ বলে সম্বোধন করি। তাঁরা আমাকে গর্ভে ধারণ করেন নি __কিন্তু ওনারা আমাকে নিঃস্বার্থ ভালোবাসেন। আবার আমার সমস্ত জননীদের মধ্যে আমার গর্ভধারিনী, টগরের মা (চক্ষণযাদী), জগাদার মা (রায়না), – ইত্যাদি এঁরা সকলের চেয়ে আলাদা ! এঁরা শুধুই আমাকে ভালবাসেন–ভালবাসার জন্যেই ভালবাসা ! “তোমারি কুশলে কুশল মানি”– এই ভাব ! ওনারা যখন এখানে আসেন–তখন আমি শিশু হয়ে যাই।
যাইহোক, কথা হচ্ছিলো আর্ত, অথার্থী, জিজ্ঞাসু, জ্ঞানী ও প্রেমিক এই পাঁচপ্রকার ভক্তের ব্যাপারে৷ তোমাদের বলছিলাম যে, কোনো ভক্ত বা কোনো সাধারণ মানুষ, এমনকি যে কোনো জীব, উদ্ভিদ বা জড়জগতের দিকে তাকালে, তাদের কথা ভাবলেও আমার আনন্দ হয়। আর হবে নাই বা কেন ? জগতে আনন্দ-ই তো রয়েছে ! আনন্দ প্রতিষ্ঠিত ! পরমেশ্বরের মহিমা অপার।
তাই বলছিলাম__ আর্ত, অর্থার্থী এলেও আনন্দ হয় কিন্তু প্রকাশ হয়তো হয় না৷ জিজ্ঞাসু এলে আনন্দের একটু বেশি প্রকাশ হয়, আবার জ্ঞানী বা প্রেমিক এলে আরো আরো বেশি আনন্দের প্রকাশ ঘটে যেতে পারে। আর তেমন প্রেমিক পেলে হয়তো আমি আসন ছেড়ে উঠে দুজনাতে নাচতে শুরু করে দেবো ! !
সুতরাং আনন্দের কোনো ছেদ নাই – শুধু আনন্দ, আনন্দ আর আনন্দ। জড়ে আনন্দ, উদ্ভিদে আনন্দ, জীবে আনন্দ, আকাশ-বাতাসে আনন্দ, তবে মানুষে বেশি আনন্দ ! সবই আনন্দময় ! এটা একটা স্থিতি। অন্নময়, প্রাণময়, মনোময়, বিজ্ঞানময় ও আনন্দময় এই পঞ্চকোষ বিশিষ্ট শরীরে প্রথমাবস্থায় মানুষের অন্নময়, প্রাণময় আর মনোময় কোষের ক্রিয়া থাকে। পরে বিজ্ঞানময় কোষ ক্রিয়াশীল হয়। কিন্তু যখন সাধকের জীবনে আনন্দময় কোষের সম্পূর্ণ ক্রিয়াশীলতা আসে – তখনই সাধক এই স্থিতিলাভ করেন। এই dimension-এ পৌঁছে কাম, বিকৃতি, নোংরা এসবের আর কোনো আলাদা অস্তিত্বই থাকে না – তখন বোধ হয় শুধু প্রেম-ই রয়েছে, প্রেম-প্রেম আর প্রেম ! Unity in diversity ভিন্ন ভিন্ন নামে, ভিন্ন ভিন্ন স্বাদে। দেশ-কাল-পাত্রে যা বদলে বদলে যাচ্ছে, কিন্তু প্রেমই রয়েছে! প্রেমই প্রেম !!
