জিজ্ঞাসু : ~ কলকাতায় (দক্ষিণে) বিড়লাদের একটা বিরাট মন্দির হোচ্ছে(১৯৯১/৯২) – পুরোটা শ্বেত পাথরের ৷ মনে হয় পরবর্তীতে ওটাও কলকাতার একটা দর্শনীয় স্থান হবে ?
গুরু মহারাজ : ~
বিখ্যাত ব্যবসায়ী বিড়লাদের কথা বলছো তো ! ওরা কিন্তু কলকাতায় খুব পুরোনো নয় ৷ কলকাতা যখন ইংরেজদের রাজধানী হোল তখন ভাগ্যান্বেষী , সুযোগ সন্ধানী , বহু যুবক ভারতবর্ষের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে কলকাতায় চলে এসেছিল ৷ তাদের অনেকের ভাগ্য পরিবর্তন হয়েও ছিল _এই শেষের দলে পড়ে ঘনশ্যাম দাস বিড়লা ৷
বর্তমানে যে বিরাট ব্যবসাদার বিড়লা গ্রুপকে দেখছো এর প্রতিষ্ঠা হয়েছিল ঘনশ্যাম দাসের হাত ধরে । ঘনশ্যাম কলকাতায় এসে বড় বাজারের কাছে গঙ্গার ধারে রাস্তায় বসে পোস্ত-র খোলা বেচতো ৷ ভালো মত থাকা খাওয়ার ব্যবস্থাও ছিল না , তাছাড়া যে উদ্দেশ্যে বাড়ি থেকে এখানে আসা অর্থাৎ অর্থনৈতিক উন্নতি – তারও কিছু সুরাহা হচ্ছে না , এই নিয়ে তার দুশ্চিন্তার অন্ত ছিল না । মনে শুধু ঐ একটাই চিন্তা – যে করেই হোক অবস্থা ফেরাতেই হবে , বড়লোক বা বড়ো ব্যবসাদার হোতেই হবে ৷
সেই সময় কোলকাতা শহরে চলাচলের জন্য আজকের মত এতো ভালো রাস্তাঘাট বা Transportation-এর ব্যবস্থা ছিল না । তাই গঙ্গাসাগর মেলার সময় ভারতবর্ষের বিভিন্ন প্রান্তের সাধু-সন্তরা যখন আসতেন, তখন তাঁরা বেশ কয়েকদিন কোলকাতায় কাটিয়ে তারপর হাঁটা লাগাতেন সাগরের দিকে । উত্তর ভারত বা হিমালয় অঞ্চলের সাধু সন্ন্যাসীরা ট্রেনে করে যেমন আসতেন, তেমনি অনেকে গঙ্গার ধার ধরে হাঁটতে হাঁটতেও কলকাতায় এসে পৌঁছাতেন এবং তাঁরা এসে গঙ্গার তীরে ছাউনি পাততেন । দীর্ঘ পথ অতিক্রম করে এসে তৎকালীন রাজধানী শহর(কোলকাতা)-র উপকণ্ঠে কাটাতে পারলে খাদ্য-বস্ত্র ,প্রণামীর অভাব হোতো না । দীর্ঘ প্রথশ্রমে ক্লান্ত সাধুদের কাছে এটা ছিল বিশ্রামস্থল (আজও তাই রয়েছে)৷ তাছাড়া যাওয়া আসার পথে কালীক্ষেত্র কালীঘাট দর্শনও হোত !
তখনকার দিনে কলকাতার পর থেকে গঙ্গাসাগর পর্যন্ত গঙ্গার ধার বরাবর রাস্তা দূর্গম ও বিপদসংকুল ছিল ! সাধুরা এবং সাধারণ মানুষেরা হাঁটাপথেই সাগর দর্শনে যেতো । সুন্দরবন তখন অনেকটা বিস্তৃত ছিল – প্রায় বর্তমান কলকাতার কাছ পর্যন্ত ! এইসব বিভিন্ন কারণে, গঙ্গাসাগর যাবার পথে বা ওখান থেকে ফেরার পথে সব সাধুসন্ত-ই কলকাতার গঙ্গার ঘাটে ঘাটে ছাউনি করতো বা কোনো মন্দির প্রাঙ্গণে , বড় বাড়ির বাইরের দালানে আশ্রয় নিতো ৷ ঘনশ্যামজী খুব ভোরে উঠে গঙ্গাতীরে থাকা সাধুসন্তদের যতটা পারতো সেবা যত্ন করতো ! আর তাদের প্রত্যেকের কাছে একটাই আশীর্বাদ প্রার্থনা করতো, যাতে তার অর্থনৈতিক উন্নতি হয় !
এইরকম ভাবে সাধুদের সেবা কোরতে কোরতে ঠিক একদিন এক যোগীর সাথে যোগাযোগ হয়ে গেল ! আসলে এরকমটাই হয় — জানো ! মন-প্রাণ এক করে যে কোনো বস্তু বা বিষয়ের ধ্যান কোরলে, তা তোমার সামনে চলে আসবে ! এটা একটা সূক্ষ্ম বিজ্ঞান ! ঘনশ্যামজীর ক্ষেত্রেও তাই হয়েছিল ৷ দৈবাৎক্রমে প্রতিদিন ভোরবেলায় স্নান সারার পরে, ঘনশ্যাম গঙ্গাতীরে অবস্থানরত এক উন্নত সন্ন্যাসীর সেবা করার সুযোগ পেয়ে গিয়েছিল ! সে নিজেও বুঝতে পেরেছিল __এই সন্ন্যাসী আর পাঁচজনের চাইতে উন্নত ! এঁকে ধরলে কিছু সুরাহা হোতে পারে ! সেইজন্যে ঐ সাধুকে মন-প্রাণ ঢেলে সেবা যত্ন করতো ঘনশ্যাম । আর প্রতিদিন তার নিজের ব্যবসার করুন পরিস্থিতির কথা তাঁকে জানাতে ভুলতো না !
এদিকে সেই সন্ন্যাসীর ডেরা-ডান্ডা গোটানোর সময় এসে গেল ! সাধুবাবা ফিরে যাবেন তাঁর নিজ গন্তব্যে ৷ ঘনশ্যাম কেঁদে পড়লো সাধুর পায়ে ! পা-দুটি ধরে একান্তভাবে মিনতি কোরলো__ ‘কিছু একটা উপায় করুন’ !
ঘনশ্যামের আকূল প্রার্থনায় সাধুর করুণা হোল , উনি আন্তরিকভাবে আশীর্বাদ করলেন এবং তাঁর ঝোলা থেকে একটি জিনিস বের করে ঘনশ্যামের হাতে দিয়ে বলেছিলেন – ” এটা যতদিন তোর বংশে থাকবে, ততদিন আর তোদের কোনো অসুবিধা হবে না ! তোদের অর্থনৈতিক উন্নতি হোতেই থাকবে !” ঐ জিনিসটা ছিল_ একটি ধাতুনির্মিত একটি লক্ষ্মীনারায়ণের মূর্তি ! তারপর ঐ সাধুবাবা ঘনশ্যামকে বলেছিলেন__ এই মূর্তিকে প্রতিষ্ঠা করার জন্য লক্ষ্মীনারায়ণের (রাধাকৃষ্ণ ) মন্দির তৈরি করে দিতে হবে । কিন্তু মন্দির তৈরি বন্ধ করলে হবে না__ একটার পর একটা মন্দির তৈরি করেই যেতে হবে !
এই কথা শুনে ঘনশ্যাম তো অবাক ! মন্দির তৈরির টাকা কোথায় ? সাধুবাবা বলেছিলেন_ “তুই ঐ সব নিয়ে চিন্তা করিস না, টাকার কোনো অভাব হবে না ।”
সেই থেকে ওরা তাই করছে । যতদিন গেছে ওদের ব্যবসা বড়ো হয়েছে_আর ওরা মন্দির নির্মাণের কাজ চালিয়েই গেছে ! পরবর্তীতে ওরা বড় বড় মার্বেল পাথরের পাহাড় (রাজস্থানে বা অন্যত্র) ভারত সরকারের কাছ থেকে দীর্ঘস্থায়ী লিজ্ চুক্তিতে নিয়ে নিয়েছে । ফলে এখন ওরা সাদা পাথরের মন্দির বানাচ্ছে ৷ যেখানেই দেখবে বিড়লাদের মন্দির , সব জায়গাতেই সাদা পাথরের লক্ষীনারায়ণ/রাধাকৃষ্ণ মন্দির ।।
গুরু মহারাজ : ~
বিখ্যাত ব্যবসায়ী বিড়লাদের কথা বলছো তো ! ওরা কিন্তু কলকাতায় খুব পুরোনো নয় ৷ কলকাতা যখন ইংরেজদের রাজধানী হোল তখন ভাগ্যান্বেষী , সুযোগ সন্ধানী , বহু যুবক ভারতবর্ষের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে কলকাতায় চলে এসেছিল ৷ তাদের অনেকের ভাগ্য পরিবর্তন হয়েও ছিল _এই শেষের দলে পড়ে ঘনশ্যাম দাস বিড়লা ৷
বর্তমানে যে বিরাট ব্যবসাদার বিড়লা গ্রুপকে দেখছো এর প্রতিষ্ঠা হয়েছিল ঘনশ্যাম দাসের হাত ধরে । ঘনশ্যাম কলকাতায় এসে বড় বাজারের কাছে গঙ্গার ধারে রাস্তায় বসে পোস্ত-র খোলা বেচতো ৷ ভালো মত থাকা খাওয়ার ব্যবস্থাও ছিল না , তাছাড়া যে উদ্দেশ্যে বাড়ি থেকে এখানে আসা অর্থাৎ অর্থনৈতিক উন্নতি – তারও কিছু সুরাহা হচ্ছে না , এই নিয়ে তার দুশ্চিন্তার অন্ত ছিল না । মনে শুধু ঐ একটাই চিন্তা – যে করেই হোক অবস্থা ফেরাতেই হবে , বড়লোক বা বড়ো ব্যবসাদার হোতেই হবে ৷
সেই সময় কোলকাতা শহরে চলাচলের জন্য আজকের মত এতো ভালো রাস্তাঘাট বা Transportation-এর ব্যবস্থা ছিল না । তাই গঙ্গাসাগর মেলার সময় ভারতবর্ষের বিভিন্ন প্রান্তের সাধু-সন্তরা যখন আসতেন, তখন তাঁরা বেশ কয়েকদিন কোলকাতায় কাটিয়ে তারপর হাঁটা লাগাতেন সাগরের দিকে । উত্তর ভারত বা হিমালয় অঞ্চলের সাধু সন্ন্যাসীরা ট্রেনে করে যেমন আসতেন, তেমনি অনেকে গঙ্গার ধার ধরে হাঁটতে হাঁটতেও কলকাতায় এসে পৌঁছাতেন এবং তাঁরা এসে গঙ্গার তীরে ছাউনি পাততেন । দীর্ঘ পথ অতিক্রম করে এসে তৎকালীন রাজধানী শহর(কোলকাতা)-র উপকণ্ঠে কাটাতে পারলে খাদ্য-বস্ত্র ,প্রণামীর অভাব হোতো না । দীর্ঘ প্রথশ্রমে ক্লান্ত সাধুদের কাছে এটা ছিল বিশ্রামস্থল (আজও তাই রয়েছে)৷ তাছাড়া যাওয়া আসার পথে কালীক্ষেত্র কালীঘাট দর্শনও হোত !
তখনকার দিনে কলকাতার পর থেকে গঙ্গাসাগর পর্যন্ত গঙ্গার ধার বরাবর রাস্তা দূর্গম ও বিপদসংকুল ছিল ! সাধুরা এবং সাধারণ মানুষেরা হাঁটাপথেই সাগর দর্শনে যেতো । সুন্দরবন তখন অনেকটা বিস্তৃত ছিল – প্রায় বর্তমান কলকাতার কাছ পর্যন্ত ! এইসব বিভিন্ন কারণে, গঙ্গাসাগর যাবার পথে বা ওখান থেকে ফেরার পথে সব সাধুসন্ত-ই কলকাতার গঙ্গার ঘাটে ঘাটে ছাউনি করতো বা কোনো মন্দির প্রাঙ্গণে , বড় বাড়ির বাইরের দালানে আশ্রয় নিতো ৷ ঘনশ্যামজী খুব ভোরে উঠে গঙ্গাতীরে থাকা সাধুসন্তদের যতটা পারতো সেবা যত্ন করতো ! আর তাদের প্রত্যেকের কাছে একটাই আশীর্বাদ প্রার্থনা করতো, যাতে তার অর্থনৈতিক উন্নতি হয় !
এইরকম ভাবে সাধুদের সেবা কোরতে কোরতে ঠিক একদিন এক যোগীর সাথে যোগাযোগ হয়ে গেল ! আসলে এরকমটাই হয় — জানো ! মন-প্রাণ এক করে যে কোনো বস্তু বা বিষয়ের ধ্যান কোরলে, তা তোমার সামনে চলে আসবে ! এটা একটা সূক্ষ্ম বিজ্ঞান ! ঘনশ্যামজীর ক্ষেত্রেও তাই হয়েছিল ৷ দৈবাৎক্রমে প্রতিদিন ভোরবেলায় স্নান সারার পরে, ঘনশ্যাম গঙ্গাতীরে অবস্থানরত এক উন্নত সন্ন্যাসীর সেবা করার সুযোগ পেয়ে গিয়েছিল ! সে নিজেও বুঝতে পেরেছিল __এই সন্ন্যাসী আর পাঁচজনের চাইতে উন্নত ! এঁকে ধরলে কিছু সুরাহা হোতে পারে ! সেইজন্যে ঐ সাধুকে মন-প্রাণ ঢেলে সেবা যত্ন করতো ঘনশ্যাম । আর প্রতিদিন তার নিজের ব্যবসার করুন পরিস্থিতির কথা তাঁকে জানাতে ভুলতো না !
এদিকে সেই সন্ন্যাসীর ডেরা-ডান্ডা গোটানোর সময় এসে গেল ! সাধুবাবা ফিরে যাবেন তাঁর নিজ গন্তব্যে ৷ ঘনশ্যাম কেঁদে পড়লো সাধুর পায়ে ! পা-দুটি ধরে একান্তভাবে মিনতি কোরলো__ ‘কিছু একটা উপায় করুন’ !
ঘনশ্যামের আকূল প্রার্থনায় সাধুর করুণা হোল , উনি আন্তরিকভাবে আশীর্বাদ করলেন এবং তাঁর ঝোলা থেকে একটি জিনিস বের করে ঘনশ্যামের হাতে দিয়ে বলেছিলেন – ” এটা যতদিন তোর বংশে থাকবে, ততদিন আর তোদের কোনো অসুবিধা হবে না ! তোদের অর্থনৈতিক উন্নতি হোতেই থাকবে !” ঐ জিনিসটা ছিল_ একটি ধাতুনির্মিত একটি লক্ষ্মীনারায়ণের মূর্তি ! তারপর ঐ সাধুবাবা ঘনশ্যামকে বলেছিলেন__ এই মূর্তিকে প্রতিষ্ঠা করার জন্য লক্ষ্মীনারায়ণের (রাধাকৃষ্ণ ) মন্দির তৈরি করে দিতে হবে । কিন্তু মন্দির তৈরি বন্ধ করলে হবে না__ একটার পর একটা মন্দির তৈরি করেই যেতে হবে !
এই কথা শুনে ঘনশ্যাম তো অবাক ! মন্দির তৈরির টাকা কোথায় ? সাধুবাবা বলেছিলেন_ “তুই ঐ সব নিয়ে চিন্তা করিস না, টাকার কোনো অভাব হবে না ।”
সেই থেকে ওরা তাই করছে । যতদিন গেছে ওদের ব্যবসা বড়ো হয়েছে_আর ওরা মন্দির নির্মাণের কাজ চালিয়েই গেছে ! পরবর্তীতে ওরা বড় বড় মার্বেল পাথরের পাহাড় (রাজস্থানে বা অন্যত্র) ভারত সরকারের কাছ থেকে দীর্ঘস্থায়ী লিজ্ চুক্তিতে নিয়ে নিয়েছে । ফলে এখন ওরা সাদা পাথরের মন্দির বানাচ্ছে ৷ যেখানেই দেখবে বিড়লাদের মন্দির , সব জায়গাতেই সাদা পাথরের লক্ষীনারায়ণ/রাধাকৃষ্ণ মন্দির ।।
