জিজ্ঞাসু :– এই যে আশ্রমে__বাইরে থেকে অনাথ ছেলেদেরকে নেওয়া হয়েছে, ওদেরকে নিয়ে আশ্রমের মহারাজদেরকে ঝামেলা পোহাতে হয় না ?
গুরুমহারাজ :– হয় না আবার ! যারা দায়িত্বে রয়েছে, তাদেরকে জিজ্ঞাসা করে একবার দ্যাখো__তা হোলেই বুঝতে পারবে ! আর যে কোনো কাজ করতে গেলেই ঝামেলা, কারণ বেশিরভাগ মানুষের স্বভাবেই ‘ঝামেলা’ এই ব্যাপারটা রয়েছে যে ! মজার ব্যাপারটা কি জানো__ শিশু অবস্থায় ঐ ছেলেগুলি যখন বাড়িতে বা পরিবারে থাকে, তখন হয়তো আত্মীয়-স্বজন এদেরকে পাত্তা দেয় না, ”দুরছাই”- করে ! এই ধরণের আচরণের ক্ষেত্রে__ আত্মীয়-স্বজন বা বাড়ির অন্যান্যদের কথা কি বলবো, এমন অনেক মায়েরা রয়েছে –যাদের কাছে সদ্য পিতৃহারা আপন সন্তানটাই সমস্যা হয়ে দাঁড়ায়। হয়তো মেয়েটি অল্পবয়সে স্বামী পরিত্যক্তা হয়েছে বা বিধবা হয়েছে, সে হয়তো পুনরায় বিবাহ করে নতুন জীবনে প্রবেশ করতে চায় – সেক্ষেত্রে এই ছেলেটাই তখন হয়ে ওঠে প্রধান অন্তরায় ! নতুন করে যে ছেলেটা তার স্বামী হবে, সে হয়তো ঐ সন্তানকে মেনে নিতে চাইছে না _ এবার মেয়েটি-ই বা কি করে! তখন ঐ মা-টি কোনোরকমে একটা অনাথ আশ্রমে ছেলেটাকে দিতে চায় ! এবার সেটা যদি কোনো সাধু-আশ্রম হয়, তাহলে মা একটু নিশ্চিন্ত হয় !
যাইহোক, যা বলছিলাম__ছেলেগুলিকে আত্মীয়-স্বজন বা পাড়া-পড়শীরা মহারাজদেরকে ধরে-পাকড়ে আশ্রমে ভর্তি করে দেয় ! বলে–“দেখুন, এদের কেউ নাই, খুবই অভাব, আশ্রমে দুবেলা দুমুঠো ভাত খেতে তো পাবে!”–ইত্যাদি ইত্যাদি ! এইবার কোনো কারণে ঐ ধরণের কোনো ছেলে যদি সাংঘাতিকভাবে অসুস্থ হয়ে পড়ে বা হয়তো মারা-ই গেল__ তখন কিন্তু বহু আত্মীয়-স্বজন, বন্ধু-বান্ধব, পাড়া-পড়শী আশ্রমে এসে মহারাজদের উপর চড়াও হয়_কঠিন ঝামেলা পাকায় ! আমাদের এখানে ইতিমধ্যে এইরকম ঘটনা দু-একটা ঘটে গেছে। অনেক ঝামেলা পুইয়ে তবে ব্যাপারগুলোর সমস্যা মিটেছে।
দ্যাখো, ভালো-মন্দ লোক তো সর্বত্রই রয়েছে ! অনেকে এমন রয়েছে, যারা ঝামেলা করতে চায়, ঝামেলা করতে ভালোবাসে । কিন্তু ভালো মানুষও রয়েছে সমাজে, তারা আবার আমাদের আশ্রমের দায়িত্বপ্রাপ্ত মহারাজদের পাশে এসে দাঁড়িয়ে যায়। এইভাবে সমস্যার সমাধানও হয়ে যায় ৷
তবে প্রকৃতপক্ষে কথা এই যে, তুমি যদি নিঃস্বার্থভাবে মানুষের সেবা করো বা যে কোনোভাবে সেবামূলক কাজ করো – তখন ঈশ্বর তোমার সহায় হ’ন। যতই বিপদ আসুক না কেন, যতরকম সমস্যাই আসুক না কেন – ঠিক দেখবে তুমি সাহায্য পাবে, সহায়তা পাবে ! তোমাকে কেউ যেন হাত ধরে বিপদ সমুদ্র থেকে উদ্ধার করে নিয়ে আসবে। নিঃস্বার্থভাবে কাজে নামলে তবেই তো ঈশ্বরের মহিমা বোঝা যায় !
জিজ্ঞাসু :– আচ্ছা গুরু মহারাজ ! তখন দেখতাম__শুধুমাত্র ফাল্গুন সংক্রান্তিতেই আশ্রমের main উৎসব হোতো ! এমনটা হোতো কেন ?
গুরুমহারাজ :– হ্যাঁ, ঠিকই বলেছো। আশ্রম প্রতিষ্ঠা হওয়ার বেশ কয়েক বৎসর পর্যন্ত ফাল্গুন সংক্রান্তিতেই আশ্রমের বাৎসরিক উৎসব হোতো। এর কারণ হিসেবে বলতে গেলে বলা যায় – যে প্রথম এই আশ্রমটা যখন প্রতিষ্ঠা হয়েছিল, তখন এর নাম রাখা হয়েছিল ‘ঠাকুরদাস আশ্রম’। শ্রীশ্রী ঠাকুর শ্রীরামকৃষ্ণ-ই ভগবান বা প্রভু আর বাকিরা যেন তাঁর ‘দাস’, তাই ‘ঠাকুরদাস আশ্রম’। ঠাকুর শ্রীরামকৃষ্ণের জন্ম হয়েছিল ফাল্গুন মাসে। তাই ঠাকুরের জন্মোৎসব হিসাবে ফাল্গুন মাসে একটা উৎসব হোক – এটাই ছিল আমাদের উদ্দেশ্য। কিন্তু তিথি-নক্ষত্র অনুযায়ী জন্মদিনটি ফাল্গুন মাসের আগের দিকে বা পিছনের দিকে হয় । কোনো সময় হয়তো অন্য মাসও পড়ে যেতে পারে। এইসব কারণে একটা নির্দিষ্ট দিন ধার্য করে ফাল্গুন সংক্রান্তি করা হয়েছিল। ৩০ দিনে মাস হোক বা ৩১ দিনে – ফাগুন সংক্রান্তির দিনে উৎসব ! __ব্যাপারটা বুঝতে পারলে !!
সারা দিন নরনারায়ন সেবা আর সঙ্গীতানুষ্ঠান (স্থানীয় শিল্পীদের নিয়ে) আর রাতে সারারাতব্যাপী বাউল গান ! শেষের দিকে বাউল শিল্পীরা এতো সংখ্যায় আসতে শুরু করেছিল যে, দিনের বেলা থেকেই বাউল গান পরিবেশন শুরু করতে হোতো।
পরবর্তীতে ২৫ শে ডিসেম্বরের উৎসব শুরু হবার ফলে ফাল্গুন সংক্রান্তির উৎসব বন্ধ হয়ে যায়৷ তখন ফাল্গুন সংক্রান্তি উৎসবের আগের দিন থেকে গ্রামের মেয়েরা বা মায়েরা নিজেদের বাড়ি থেকে বঁটি এনে সারি দিয়ে নিজেরাই তরকারি বা সবজি কাটতে বসতো। আশ্রমের ঐ বটগাছের তলায় কাটা কুমড়োর রাশিকৃত চূড়ো, আলুর চূড়ো হয়ে যেতো ! আর আশ্রম ঢুকতে বাঁদিকের ধানের জমিতে (এখন যেখানে চারতলা স্কুলবিল্ডিং বা চরৈবেতি কার্যালয়, ওগুলি তখন ধানের জমি ছিল।) রান্নার উনুন কাটা হোতো। মাথায় কোনো রকমে অস্থায়ী ছাউনি করে ওখানেই রান্না হোতো। প্রথম প্রথম লোক সংখ্যা কম হোলেও পরবর্তীতে প্রায় ১৫/২০ হাজার লোকের ভিড় হোতো। উৎসবে যেহেতু বাউল গান পরিবেশন হোতো – তাই বাংলার বাউল শিল্পীদের দু-একজন ছাড়া নামিদামি সব শিল্পীরাই কোনো না কোনো সময়ে এখানে গান গাইতে এসেছিল।
গুরুমহারাজ :– হয় না আবার ! যারা দায়িত্বে রয়েছে, তাদেরকে জিজ্ঞাসা করে একবার দ্যাখো__তা হোলেই বুঝতে পারবে ! আর যে কোনো কাজ করতে গেলেই ঝামেলা, কারণ বেশিরভাগ মানুষের স্বভাবেই ‘ঝামেলা’ এই ব্যাপারটা রয়েছে যে ! মজার ব্যাপারটা কি জানো__ শিশু অবস্থায় ঐ ছেলেগুলি যখন বাড়িতে বা পরিবারে থাকে, তখন হয়তো আত্মীয়-স্বজন এদেরকে পাত্তা দেয় না, ”দুরছাই”- করে ! এই ধরণের আচরণের ক্ষেত্রে__ আত্মীয়-স্বজন বা বাড়ির অন্যান্যদের কথা কি বলবো, এমন অনেক মায়েরা রয়েছে –যাদের কাছে সদ্য পিতৃহারা আপন সন্তানটাই সমস্যা হয়ে দাঁড়ায়। হয়তো মেয়েটি অল্পবয়সে স্বামী পরিত্যক্তা হয়েছে বা বিধবা হয়েছে, সে হয়তো পুনরায় বিবাহ করে নতুন জীবনে প্রবেশ করতে চায় – সেক্ষেত্রে এই ছেলেটাই তখন হয়ে ওঠে প্রধান অন্তরায় ! নতুন করে যে ছেলেটা তার স্বামী হবে, সে হয়তো ঐ সন্তানকে মেনে নিতে চাইছে না _ এবার মেয়েটি-ই বা কি করে! তখন ঐ মা-টি কোনোরকমে একটা অনাথ আশ্রমে ছেলেটাকে দিতে চায় ! এবার সেটা যদি কোনো সাধু-আশ্রম হয়, তাহলে মা একটু নিশ্চিন্ত হয় !
যাইহোক, যা বলছিলাম__ছেলেগুলিকে আত্মীয়-স্বজন বা পাড়া-পড়শীরা মহারাজদেরকে ধরে-পাকড়ে আশ্রমে ভর্তি করে দেয় ! বলে–“দেখুন, এদের কেউ নাই, খুবই অভাব, আশ্রমে দুবেলা দুমুঠো ভাত খেতে তো পাবে!”–ইত্যাদি ইত্যাদি ! এইবার কোনো কারণে ঐ ধরণের কোনো ছেলে যদি সাংঘাতিকভাবে অসুস্থ হয়ে পড়ে বা হয়তো মারা-ই গেল__ তখন কিন্তু বহু আত্মীয়-স্বজন, বন্ধু-বান্ধব, পাড়া-পড়শী আশ্রমে এসে মহারাজদের উপর চড়াও হয়_কঠিন ঝামেলা পাকায় ! আমাদের এখানে ইতিমধ্যে এইরকম ঘটনা দু-একটা ঘটে গেছে। অনেক ঝামেলা পুইয়ে তবে ব্যাপারগুলোর সমস্যা মিটেছে।
দ্যাখো, ভালো-মন্দ লোক তো সর্বত্রই রয়েছে ! অনেকে এমন রয়েছে, যারা ঝামেলা করতে চায়, ঝামেলা করতে ভালোবাসে । কিন্তু ভালো মানুষও রয়েছে সমাজে, তারা আবার আমাদের আশ্রমের দায়িত্বপ্রাপ্ত মহারাজদের পাশে এসে দাঁড়িয়ে যায়। এইভাবে সমস্যার সমাধানও হয়ে যায় ৷
তবে প্রকৃতপক্ষে কথা এই যে, তুমি যদি নিঃস্বার্থভাবে মানুষের সেবা করো বা যে কোনোভাবে সেবামূলক কাজ করো – তখন ঈশ্বর তোমার সহায় হ’ন। যতই বিপদ আসুক না কেন, যতরকম সমস্যাই আসুক না কেন – ঠিক দেখবে তুমি সাহায্য পাবে, সহায়তা পাবে ! তোমাকে কেউ যেন হাত ধরে বিপদ সমুদ্র থেকে উদ্ধার করে নিয়ে আসবে। নিঃস্বার্থভাবে কাজে নামলে তবেই তো ঈশ্বরের মহিমা বোঝা যায় !
জিজ্ঞাসু :– আচ্ছা গুরু মহারাজ ! তখন দেখতাম__শুধুমাত্র ফাল্গুন সংক্রান্তিতেই আশ্রমের main উৎসব হোতো ! এমনটা হোতো কেন ?
গুরুমহারাজ :– হ্যাঁ, ঠিকই বলেছো। আশ্রম প্রতিষ্ঠা হওয়ার বেশ কয়েক বৎসর পর্যন্ত ফাল্গুন সংক্রান্তিতেই আশ্রমের বাৎসরিক উৎসব হোতো। এর কারণ হিসেবে বলতে গেলে বলা যায় – যে প্রথম এই আশ্রমটা যখন প্রতিষ্ঠা হয়েছিল, তখন এর নাম রাখা হয়েছিল ‘ঠাকুরদাস আশ্রম’। শ্রীশ্রী ঠাকুর শ্রীরামকৃষ্ণ-ই ভগবান বা প্রভু আর বাকিরা যেন তাঁর ‘দাস’, তাই ‘ঠাকুরদাস আশ্রম’। ঠাকুর শ্রীরামকৃষ্ণের জন্ম হয়েছিল ফাল্গুন মাসে। তাই ঠাকুরের জন্মোৎসব হিসাবে ফাল্গুন মাসে একটা উৎসব হোক – এটাই ছিল আমাদের উদ্দেশ্য। কিন্তু তিথি-নক্ষত্র অনুযায়ী জন্মদিনটি ফাল্গুন মাসের আগের দিকে বা পিছনের দিকে হয় । কোনো সময় হয়তো অন্য মাসও পড়ে যেতে পারে। এইসব কারণে একটা নির্দিষ্ট দিন ধার্য করে ফাল্গুন সংক্রান্তি করা হয়েছিল। ৩০ দিনে মাস হোক বা ৩১ দিনে – ফাগুন সংক্রান্তির দিনে উৎসব ! __ব্যাপারটা বুঝতে পারলে !!
সারা দিন নরনারায়ন সেবা আর সঙ্গীতানুষ্ঠান (স্থানীয় শিল্পীদের নিয়ে) আর রাতে সারারাতব্যাপী বাউল গান ! শেষের দিকে বাউল শিল্পীরা এতো সংখ্যায় আসতে শুরু করেছিল যে, দিনের বেলা থেকেই বাউল গান পরিবেশন শুরু করতে হোতো।
পরবর্তীতে ২৫ শে ডিসেম্বরের উৎসব শুরু হবার ফলে ফাল্গুন সংক্রান্তির উৎসব বন্ধ হয়ে যায়৷ তখন ফাল্গুন সংক্রান্তি উৎসবের আগের দিন থেকে গ্রামের মেয়েরা বা মায়েরা নিজেদের বাড়ি থেকে বঁটি এনে সারি দিয়ে নিজেরাই তরকারি বা সবজি কাটতে বসতো। আশ্রমের ঐ বটগাছের তলায় কাটা কুমড়োর রাশিকৃত চূড়ো, আলুর চূড়ো হয়ে যেতো ! আর আশ্রম ঢুকতে বাঁদিকের ধানের জমিতে (এখন যেখানে চারতলা স্কুলবিল্ডিং বা চরৈবেতি কার্যালয়, ওগুলি তখন ধানের জমি ছিল।) রান্নার উনুন কাটা হোতো। মাথায় কোনো রকমে অস্থায়ী ছাউনি করে ওখানেই রান্না হোতো। প্রথম প্রথম লোক সংখ্যা কম হোলেও পরবর্তীতে প্রায় ১৫/২০ হাজার লোকের ভিড় হোতো। উৎসবে যেহেতু বাউল গান পরিবেশন হোতো – তাই বাংলার বাউল শিল্পীদের দু-একজন ছাড়া নামিদামি সব শিল্পীরাই কোনো না কোনো সময়ে এখানে গান গাইতে এসেছিল।
