জিজ্ঞাসু :– আশ্রমে প্রথম কয়েকটা পায়খানা তৈরি হওয়ার পর ওগুলিকে আবার ভাঙতে হোলো কেন ?
গুরুমহারাজ :– ওই পায়খানা ঘরগুলি ভুল করে ঈশান কোণে তৈরি করা হয়েছিল, বাস্তুবিজ্ঞান সন্মতভাবে হয়নি৷ বাস্তুবিজ্ঞান মতে পায়খানা, বাথরুম, গোয়ালঘর – এগুলো তৈরি করা উচিত বায়ুকোনে। ঈশান কোণ দেবস্থান – ফলে পরবর্তীতে ওদিকে প্রার্থনাঘর, মন্দির ইত্যাদি তৈরি করা হবে। যে কোনো সাধু-আশ্রম যদি ঠিক ঠিক বাস্তুবিজ্ঞান মেনে তৈরি না হয়, তাহলে সাধারণ মানুষ কি করে সেগুলি maintain করবে বলো ? সাধুদের কাছে সমস্ত রকম ব্যবহারিক প্রয়োগ শিখে– মানুষ সেগুলি সমাজজীবনে প্রয়োগ করবে। এইভাবেই তো হবে। সাধুদেরও সমাজে দেবার অনেক কিছু আছে – ‘কিভাবে ভালোভাবে বাঁচতে হবে’ – এই শিক্ষা কে দেবে ? – সাধুসমাজ দেবে, Art of life, Art of living ! তবে, যে কোনো শিক্ষা দিতে গেলে শিক্ষকদের জীবনেও ত্যাগ, সংযম, সাধন-ভজন ইত্যাদিগুলি থাকা একান্ত বাঞ্ছনীয়। পূর্ব পূর্ব জীবনের সাধনবলে হয়তো এ জীবনে কারো সন্ন্যাস-সংস্কার হয়েছে – কিন্তু সেই জীবনে ‘কর্ম’ যদি কোনো কারনে খারাপ হয়ে যায়, তাহলে পুনরায় তাকে আবার গার্হস্থ্যজীবনে ফিরে যেতে হবে। সেখান থেকে আঘাতপ্রাপ্ত হয়ে, সংসারজীবনে বীতশ্রদ্ধ হয়ে পুনরায় আবার সন্ন্যাসজীবনে আসতে হয়।
যাইহোক, আমি যখন আশ্রমের বাইরে ছিলাম তখন পায়খানার construction-টা হয়েছিল – তাই একটু অসুবিধা হয়ে গিয়েছিল। পরে এসে দেখেছিলাম – ঈশান কোনে পায়খানা-বাথরুম হয়ে গেছে। দ্যাখো, এতে আমার কোনো অসুবিধা ছিল না কিন্তু সার্বিকভাবে আশ্রমের অসুবিধা হোতো। তাছাড়া বনগ্রামে থাকাকালীন বহু উন্নত মহাত্মা এখানে আমার কাছে আসেন – তাঁরা এমনিতে সূক্ষ্মশরীরে বা সূক্ষ্মাতিসূক্ষ্মশরীরে থাকেন কিন্তু আশ্রমের ওই ঈশান কোণে অবতরণ করে ধীরে ধীরে স্থুলশরীর গ্রহণ করেন।
এবার যেহেতু ঐ স্থানেই পায়খানা-বাথরুম হয়েছিল, তাই ওনাদের অবতরণের অসুবিধা হোতো। এইজন্য আমি, তৃষাণ এবং মুরারীকে বলেছিলাম ওগুলো ভেঙে দিতে। কিন্তু তখন আশ্রমের পয়সা কোথায় ? ওইগুলো ওরা(তৃষাণ মহারাজ, মুরারী মহারাজ রা) বহুকষ্টে বানিয়েছিল, তাই প্রথমটায় ওরা সদ্য গড়ে ওঠা ঘরগুলি ভাঙতে দেরি করছিল। কিন্তু পরে আশ্রমে নানান ঝামেলা হোতে শুরু করলো – তাই আমার কথা মেনে ওরা অল্পদিনের মধ্যেই ওগুলি ভেঙে দিয়েছিল।
এরপরে, এখন মুরারী মহারাজ যেখানে বসে_ ঐ অফিস ঘরের পাশে বায়ুকোনের দিকে পরপর অনেকগুলি পায়খানা-বাথরুম করা হয়েছে। কয়েকটা মেয়েদের জন্যেও সংরক্ষিত রাখা হয়েছে। এখন তো আরো বিল্ডিং তৈরি করা হোচ্ছে(তখন সাধনা ভবনের কাজ চলছিল), তবে যে কোনো building-ই তৈরি হোক না কেন_ তার সংলগ্ন পায়খানা-বাথরুম করা হবে, যাতে ঐসব building-এ বসবাসকারী মানুষদের কোনো অসুবিধা না হয়। দুটি পৃথক building -এর মাঝখানে পায়খানা-বাথরুম করা যায় – এতে বাস্তুবিজ্ঞানের নিয়মের কোনো ব্যাঘাত ঘটে না৷ পরে পরে আরও বিল্ডিং হবে – সেখানেও এইরকমই ব্যবস্থা রাখতে হবে।
বিশেষতঃ আশ্রমের ছাত্রসংখ্যা দিন দিন বাড়ছে, আগামীতে আরও বাড়বে (গুরু মহারাজ বলেছিলেন ৫০০ জন ছাত্র রাখার কথা!), তখন তাদের জন্য নির্দিষ্ট স্থানে বড় করে স্নান করার জায়গা থেকে শুরু করে, পায়খানা-বাথরূমসহ সব কিছুরই ব্যবস্থা রাখতে হবে। এখন তো বেশিরভাগ ছাত্ররা আশ্রমের পুকুরেই স্নান করে – পরে এসব থাকবে না, আধুনিক ব্যবস্থা হবে।