জিজ্ঞাসু :– মাঠের দিকে যে বটগাছটা রয়েছে সেখানে একটা কুঁড়ে ঘর রয়েছে – ওটাও কি আশ্রমের ঘর ?
*গুরুমহারাজ* :– না-না, ওটা আশ্রমের জায়গা নয়। গ্রামের মানুষের অথবা রাস্তার অংশও হোতে পারে। আমাদের আশ্রম শুরুর সময়টায় তো আশ্রমে কোনো ঘরই ছিল না। যে ছেলেগুলি আমাকে ভালোবেসে ঘর ছেড়ে চলে এসেছিল, তারা প্রথমটায় ন’কাকাদের কালী মন্দিরের কাছে যে টিনের চালাঘর রয়েছে – ওখানেই থাকতো। তারপর ধীরে ধীরে এখানে অর্থাৎ আশ্রমে ছোট ছোট চালাঘর তৈরি হওয়ায় ওরাও আশ্রমে চলে এলো। কিন্তু একটা ঘরে সবাই মিলে থাকতে হোতো –ফলে যারা ধ্যান-জপ করতে চাইতো তাদের একটু অসুবিধা হোতো। বিশেষতঃ মিহির (স্বামী প্রজ্ঞানন্দ) খুব বদ্ ছিল – ও সবার পিছনে লাগতো। নিজে ঠিক সময়ে ধ্যান-জপ করে নিতো – তারপর অপরকে জ্বালাতন করতো। সেই জন্য শম্ভু (সত্যানন্দ), মানিক(অখন্ডানন্দ), খোকন (আত্মানন্দ), এরা সবাই মিলে মাঠের ধারে বটগাছতলায় একটা কুঁড়েঘর বানিয়েছিল। ওরা যে যখন সময় পেতো – ওখানে গিয়ে ধ্যান-জপ করতো। আমিও ওখানে দু-চার রাত কাটিয়েছি। তাছাড়া তৃপ্তি মা(সংহিতাপ্রাণা)- ঐ কুঠিয়াতে কিছু কঠিন কঠিন যোগ-সাধনা সম্পন্ন করেছে।
জিজ্ঞাসু :– আপনিও ওখানে রাত কাটিয়েছেন ?
*গুরুমহারাজ* :– হ্যাঁ, কাটিয়েছি। আমাদের এখানে কোন সাধু-ব্রহ্মচারীর হাম বা বসন্ত (pox) হোলে তাকে ওখানে পাঠানো হোতো – যাতে অপরের এই রোগটা না ছড়ায়। হাম বা বসন্ত খুবই ছোঁয়াচে রোগ তো – তাই এটা করা হোতো। এবার তাদের সেবা-শুশ্রুষা করার জন্য আমাকে ওখানে যেতেও হোতো আবার থাকতেও হোতো। অনেক সময় এইসব করতে গিয়ে আমারও শরীরেও ঐ সব রোগের সংক্রমন ঘটতো – তখন একা একা আমিই থাকতাম। পরবর্তীতে অনাথ ছেলেরা আসতে শুরু করলো, তখন ছেলেদেরও যখন হাম-বসন্ত হোতো – তখন তাদেরকে নিয়েও আমি থাকতাম ওখানে। এখন অবশ্য দু-এক জনের হাম-বসন্ত হোলে আমার এই ঘরেই তার থাকার ব্যবস্থা করে দেওয়া হয়।
জিজ্ঞাসু :– প্রথম দিকে স্থানীয় মানুষেরা আপনাকে কিভাবে নিয়েছিল ? মানে বলতে চাইছি – অনেকে disturb করেছে কিন্তু অনেকে তো সাহায্যও করেছে ?
*গুরুমহারাজ* :– এই দ্যাখো – তুমিই জিজ্ঞাসা করছো আবার তুমিই উত্তর দিয়ে দিচ্ছো। তাহলে আমাকে আবার বলতে বলছো কেন ? দ্যাখো, সবক্ষেত্রেই জানবে তিনটি পক্ষ থাকে, –স্বপক্ষ, বিপক্ষ এবং নিরপেক্ষ। এই নিয়ম প্রকৃতিতেও রয়েছে – যে কোনো বস্তুতেও রয়েছে। সুতরাং যখনই আমি বনগ্রামে কাজ শুরু করার প্রস্তাব নিলাম – তখন থেকেই বা তার আগে থেকেই তো আমি এই রহস্য জানি ! তাই যখন যা ঘটেছে আমি তার মোকাবিলা করেছি অথবা মেনে নিয়েছি। আমি জানি মায়ের এই দুনিয়ায়, মা-ই মালিক, তিনি যা করার তা করাবেন। ব্যক্তির শুধু ভূমিকা আছে – এই মাত্র !
স্থানীয় মানুষ বলতে তুমি বনগ্রাম বা এর আশেপাশের গ্রামের মানুষজনের কথা বলছো তো ? হ্যাঁ, নিশ্চয়ই ! প্রথম থেকেই বহু মানুষ আমাদের পাশে এসে দাঁড়িয়েছিল – আজও রয়েছে অসংখ্য মানুষ। প্রথম দিকে স্থানীয় মায়েরা কত help করেছে। সারাদিনের কাজের অবসরে আশ্রমের জন্য মুড়ি ভেজে পাঠিয়ে দিতো, নানারকম খাবার রান্না করে আশ্রমে পাঠিয়ে দিতো। এইজন্যেই বনগ্রামের কোনো মা তার ছেলেমেয়েদের দিয়ে আমাকে ডেকে পাঠালেই আমি অন্যান্য কাজ ফেলে রেখেও গিয়ে দেখা করে আসি, তাদের কি বক্তব্য__সেটা শুনে আসি।
বনগ্রামের মুখার্জি বাড়ির লোকেরা ছাড়াও স্বপন খুড়ো, নবু মাস্টার, রামখুড়ো, নগেন, হুই বাড়ির অনেকেই আশ্রম তৈরীর জন্মলগ্ন থেকে আমাদেরকে সাহায্য করেছে, পাশে থেকেছে। সামন্তীর বটুখুড়ো, ক্ষুদিরাম, মদন মাস্টার প্রমুখরাও প্রথম থেকেই আমাদের পাশে থেকেছে। জাবুই-এর লক্ষ্মীমা রয়েছে– না, ওর বাবা বা ওর ভাইয়েরা যাদের বিজুরে ধানমিল আছে – ওরাও আশ্রমকে খুবই help করে ! এইভাবে অনেকেরই নাম করতে হয় – আমি তো মাত্র কয়েকজনের নাম করলাম। তাছাড়া তৃষাণকে অনেকেই নানাভাবে সাহায্য করে – তারা হয়তো আশ্রমে অতটা আসে না কিন্তু কোনো না কোনোভাবে help করে বই কি !
পরবর্তীকালে এখন আশ্রমের ভক্ত সংখ্যা বেড়েছে, আশ্রমের নানাকাজে তারাই পাশে এসে দাঁড়াচ্ছে। মায়ের (✓রী মা জগদম্বা) কাজ ‘মা’ ঠিক করিয়ে নিচ্ছেন, আমরা আমাদের ভূমিকাটুকু পালন করছি মাত্র। আমাদের আশ্রমের দায়িত্বপ্রাপ্ত সমস্ত ব্রহ্মচারী বা সন্ন্যাসীরাই এটা করছে__আর তবেই না এই বনগ্রাম পরমানন্দ মিশন ধীরে ধীরে একটা পূর্ণাঙ্গ রূপ পরিগ্রহ করার দিকে আগাচ্ছে। এই যে তুমি _অনেকদিন ধরেই আসা যাওয়া করছো, তুমিও তোমার ভূমিকা কি–তা বুঝে নিয়ে সেটি পালন করো। তাহলে তোমারও আধ্যাত্মিক অগ্রগতি ত্বরান্বিত হবে।।
*গুরুমহারাজ* :– না-না, ওটা আশ্রমের জায়গা নয়। গ্রামের মানুষের অথবা রাস্তার অংশও হোতে পারে। আমাদের আশ্রম শুরুর সময়টায় তো আশ্রমে কোনো ঘরই ছিল না। যে ছেলেগুলি আমাকে ভালোবেসে ঘর ছেড়ে চলে এসেছিল, তারা প্রথমটায় ন’কাকাদের কালী মন্দিরের কাছে যে টিনের চালাঘর রয়েছে – ওখানেই থাকতো। তারপর ধীরে ধীরে এখানে অর্থাৎ আশ্রমে ছোট ছোট চালাঘর তৈরি হওয়ায় ওরাও আশ্রমে চলে এলো। কিন্তু একটা ঘরে সবাই মিলে থাকতে হোতো –ফলে যারা ধ্যান-জপ করতে চাইতো তাদের একটু অসুবিধা হোতো। বিশেষতঃ মিহির (স্বামী প্রজ্ঞানন্দ) খুব বদ্ ছিল – ও সবার পিছনে লাগতো। নিজে ঠিক সময়ে ধ্যান-জপ করে নিতো – তারপর অপরকে জ্বালাতন করতো। সেই জন্য শম্ভু (সত্যানন্দ), মানিক(অখন্ডানন্দ), খোকন (আত্মানন্দ), এরা সবাই মিলে মাঠের ধারে বটগাছতলায় একটা কুঁড়েঘর বানিয়েছিল। ওরা যে যখন সময় পেতো – ওখানে গিয়ে ধ্যান-জপ করতো। আমিও ওখানে দু-চার রাত কাটিয়েছি। তাছাড়া তৃপ্তি মা(সংহিতাপ্রাণা)- ঐ কুঠিয়াতে কিছু কঠিন কঠিন যোগ-সাধনা সম্পন্ন করেছে।
জিজ্ঞাসু :– আপনিও ওখানে রাত কাটিয়েছেন ?
*গুরুমহারাজ* :– হ্যাঁ, কাটিয়েছি। আমাদের এখানে কোন সাধু-ব্রহ্মচারীর হাম বা বসন্ত (pox) হোলে তাকে ওখানে পাঠানো হোতো – যাতে অপরের এই রোগটা না ছড়ায়। হাম বা বসন্ত খুবই ছোঁয়াচে রোগ তো – তাই এটা করা হোতো। এবার তাদের সেবা-শুশ্রুষা করার জন্য আমাকে ওখানে যেতেও হোতো আবার থাকতেও হোতো। অনেক সময় এইসব করতে গিয়ে আমারও শরীরেও ঐ সব রোগের সংক্রমন ঘটতো – তখন একা একা আমিই থাকতাম। পরবর্তীতে অনাথ ছেলেরা আসতে শুরু করলো, তখন ছেলেদেরও যখন হাম-বসন্ত হোতো – তখন তাদেরকে নিয়েও আমি থাকতাম ওখানে। এখন অবশ্য দু-এক জনের হাম-বসন্ত হোলে আমার এই ঘরেই তার থাকার ব্যবস্থা করে দেওয়া হয়।
জিজ্ঞাসু :– প্রথম দিকে স্থানীয় মানুষেরা আপনাকে কিভাবে নিয়েছিল ? মানে বলতে চাইছি – অনেকে disturb করেছে কিন্তু অনেকে তো সাহায্যও করেছে ?
*গুরুমহারাজ* :– এই দ্যাখো – তুমিই জিজ্ঞাসা করছো আবার তুমিই উত্তর দিয়ে দিচ্ছো। তাহলে আমাকে আবার বলতে বলছো কেন ? দ্যাখো, সবক্ষেত্রেই জানবে তিনটি পক্ষ থাকে, –স্বপক্ষ, বিপক্ষ এবং নিরপেক্ষ। এই নিয়ম প্রকৃতিতেও রয়েছে – যে কোনো বস্তুতেও রয়েছে। সুতরাং যখনই আমি বনগ্রামে কাজ শুরু করার প্রস্তাব নিলাম – তখন থেকেই বা তার আগে থেকেই তো আমি এই রহস্য জানি ! তাই যখন যা ঘটেছে আমি তার মোকাবিলা করেছি অথবা মেনে নিয়েছি। আমি জানি মায়ের এই দুনিয়ায়, মা-ই মালিক, তিনি যা করার তা করাবেন। ব্যক্তির শুধু ভূমিকা আছে – এই মাত্র !
স্থানীয় মানুষ বলতে তুমি বনগ্রাম বা এর আশেপাশের গ্রামের মানুষজনের কথা বলছো তো ? হ্যাঁ, নিশ্চয়ই ! প্রথম থেকেই বহু মানুষ আমাদের পাশে এসে দাঁড়িয়েছিল – আজও রয়েছে অসংখ্য মানুষ। প্রথম দিকে স্থানীয় মায়েরা কত help করেছে। সারাদিনের কাজের অবসরে আশ্রমের জন্য মুড়ি ভেজে পাঠিয়ে দিতো, নানারকম খাবার রান্না করে আশ্রমে পাঠিয়ে দিতো। এইজন্যেই বনগ্রামের কোনো মা তার ছেলেমেয়েদের দিয়ে আমাকে ডেকে পাঠালেই আমি অন্যান্য কাজ ফেলে রেখেও গিয়ে দেখা করে আসি, তাদের কি বক্তব্য__সেটা শুনে আসি।
বনগ্রামের মুখার্জি বাড়ির লোকেরা ছাড়াও স্বপন খুড়ো, নবু মাস্টার, রামখুড়ো, নগেন, হুই বাড়ির অনেকেই আশ্রম তৈরীর জন্মলগ্ন থেকে আমাদেরকে সাহায্য করেছে, পাশে থেকেছে। সামন্তীর বটুখুড়ো, ক্ষুদিরাম, মদন মাস্টার প্রমুখরাও প্রথম থেকেই আমাদের পাশে থেকেছে। জাবুই-এর লক্ষ্মীমা রয়েছে– না, ওর বাবা বা ওর ভাইয়েরা যাদের বিজুরে ধানমিল আছে – ওরাও আশ্রমকে খুবই help করে ! এইভাবে অনেকেরই নাম করতে হয় – আমি তো মাত্র কয়েকজনের নাম করলাম। তাছাড়া তৃষাণকে অনেকেই নানাভাবে সাহায্য করে – তারা হয়তো আশ্রমে অতটা আসে না কিন্তু কোনো না কোনোভাবে help করে বই কি !
পরবর্তীকালে এখন আশ্রমের ভক্ত সংখ্যা বেড়েছে, আশ্রমের নানাকাজে তারাই পাশে এসে দাঁড়াচ্ছে। মায়ের (✓রী মা জগদম্বা) কাজ ‘মা’ ঠিক করিয়ে নিচ্ছেন, আমরা আমাদের ভূমিকাটুকু পালন করছি মাত্র। আমাদের আশ্রমের দায়িত্বপ্রাপ্ত সমস্ত ব্রহ্মচারী বা সন্ন্যাসীরাই এটা করছে__আর তবেই না এই বনগ্রাম পরমানন্দ মিশন ধীরে ধীরে একটা পূর্ণাঙ্গ রূপ পরিগ্রহ করার দিকে আগাচ্ছে। এই যে তুমি _অনেকদিন ধরেই আসা যাওয়া করছো, তুমিও তোমার ভূমিকা কি–তা বুঝে নিয়ে সেটি পালন করো। তাহলে তোমারও আধ্যাত্মিক অগ্রগতি ত্বরান্বিত হবে।।
