জিজ্ঞাসু :– বর্তমানে Astronomy-তে বিজ্ঞানীরা খুবই উন্নতি করেছে, অনেক রহস্য জেনেছে_এসব কথা কি ঠিক ?
গুরুমহারাজ :– ‘জেনেছে’_বলতে জেনে গেছে, এমনটা ভাবলে কিন্তু ভুল হবে, বিজ্ঞানীরা প্রতিনিয়তই আরো বেশি বেশি করে জানছে। ইউরোপে আমার সাথে কিছু মহাকাশ বিজ্ঞানীর কথা হচ্ছিলো, ওরা একটা term ব্যবহার করছিল __”Anthropological Astronomy” ! ওরা যা বলছিল, তার সারমর্ম হোলো এই যে, এই বিশ্বব্রহ্মাণ্ড সমগ্রটা অর্থাৎ নক্ষত্রসমূহ, Galaxy, Milkyway, Nova, Supernova – এই সমস্ত গুলোকে একত্রে দেখলে মনে হয় এই বিশ্বব্রহ্মাণ্ড যেন “নরাকার”! Astronomy-র Modern Research এই তথ্য দিয়েছে ! মহাকাশ বিজ্ঞান সম্বন্ধে খুব strong যুক্তি দিচ্ছে এরা–এর ফলে এতদিনকার প্রচলিত মতগুলি খন্ডন হয়ে যাচ্ছে। তবে, আমি ওদের কথাগুলো শুনে বুঝতে পারছিলাম_ বেদের ১০ম মন্ডলের পুরুষ সুক্তের বর্ণনার সঙ্গে ওদের কথা মিলে যাচ্ছে !
Research-এ আরো কি সিদ্ধান্ত করেছে জানো – ওরা বলছে যে, এই পৃথিবী গ্রহের সৃষ্টির প্রারম্ভ থেকে__ যে কোনো সৃষ্টি যেন ‘মানুষ’ নামক জীবকে তৈরি করার জন্য প্রস্তুতি পর্ব হিসাবে কাজ করেছে। এককোষী জীব থেকে শুরু করে বিভিন্ন জীবের ভ্রুনের গঠন, D.N.A structure- ইত্যাদিকে amphasise করে, culture করে__ ওরা এই ধরণের সূত্রে এসেছে! আর বর্তমান বিজ্ঞানীদের ‘নরাকার বিশ্বে’-র যে concept, সেটা বেদাদি শাস্ত্রে বিরাট পুরুষের যে কল্পনা তার সাথে একদম মিলে যাচ্ছে। “বিশ্বতোচক্ষু বিশ্বতোবাহু…” – এইভাবে বিশ্বরূপ বা বিরাটরূপের বর্ণনা রয়েছে শাশ্ত্রে। ভারতীয় শাস্ত্রে বলা হয়েছে, “বিরাট–হিরণ্যগর্ভ–প্রাজ্ঞ– বা ঈশ্বর”। বেদোক্ত এই “হিরণ্যগর্ভ” আসলে কি বলোতো – field, Energy-র field ! এক একটা galaxy-তে হয়তো Big-Bang হোচ্ছে, আবার কোনটায় Big Crounch ! যেখানে Big-Bang__ সেখানে বিস্তার হোচ্ছে, আবার যেখানে Big Crounch__ সেখানে সৃষ্টি হোচ্ছে Black Hole ! পৃথিবীর time বা সময় দিয়ে যদি বিচার করো, তাহলে এই ধরনের এক একটা ঘটনা ঘটতে বহু বছর সময় লাগছে – কিন্তু বিরাটের দৃষ্টিতে মহাবিশ্বে অনবরত Big Bang এবং Big Crounch একসাথে হয়ে চলেছে। It is spontaneous and it is beginingless but not permanent ! হিরণ্যগর্ভ বা energy-field-এর পিছনে রয়েছে ‘প্রাজ্ঞ’– ‘The great cause’, অর্থাৎ আদিকারণ বা মহাকারণ।
জিজ্ঞাসু :– কিন্তু গুরুমহারাজ ! অন্যান্য নক্ষত্রমন্ডলের কোনো কোনো গ্রহে ‘উন্নত জীব রয়েছে’__ বলে অনেক বিজ্ঞানীর ধারণা। সেখানে তো জীবদের আকৃতি পৃথিবীর মনুষ্য আকৃতির মতো নয় ! তাহলে “নরাকার”-ই বা কেন ? অন্য নক্ষত্রমন্ডলের উন্নত জীবাকৃতি নয় কেন ?
গুরুমহারাজ :– দ্যাখো, প্রথম কথা হোলো__এসব কথাগুলি কিন্তু আমি বলছি না। আমি তো বললাম, ইউরোপে (সুইডেন/জার্মানি) কয়েকজন মহাকাশ বিজ্ঞানীদের সাথে আমার কথাবার্ত্তা হয়েছিল – ওরা এসব বলছিল। আমি শুধু ওদের কথার সাথে ভারতবর্ষের বেদবর্ণিত পুরুষসুক্তের মিল খুঁজে পেয়েছিলাম৷
তবে কথা হোচ্ছে – এটা ঠিকই যে, বিজ্ঞানীদের বর্ণনায় উন্নত কোনো গ্রহাদির (অন্য নক্ষত্রমণ্ডলীর) জীবেরা exact মানুষের মতো নয়, তেমনি নিম্নতর প্রাণীদের ভ্রুন বা gene-এর গঠনের যে আকৃতি তাও কি অবিকল ঠিক ঠিক মানুষের মতো-ই – তাও তো exact নয় ! সেইজন্যেইই বলা হোচ্ছে ‘নরাকৃতি’ অর্থাৎ অনেকটা নরের মতন ! অন্যান্য গ্রহের জীব সকলের যে concept সেটাও অনেকটা “নরের মতন” বা নরাকৃতি ! কার্টুন চিত্রে যে মানুষগুলিকে দেখা যায়_সেগুলোও তো নরাকার ! ঠিক ঠিক মানুষ নয়, কিন্তু মানুষের মতন__ব্যাপারটা বুঝতে পারলে কি !!