জিজ্ঞাসু :– (একজন বিদেশি ভক্ত দারিয়স্) Realisation through conscience (বিবেক জাগরণের দ্বারা বোধ) এবং Realisation through discrimination (বিচারের দ্বারা বোধ) –এই দুটো ব্যাপার আমার খুব confussion লাগছে। আমাকে এগুলো একটু বুঝিয়ে বলবেন গুরুজী ?
গুরুমহারাজ :– ওঃ আচ্ছা– তুমি বোধহয় কোনো আলোচনা আগে শুনেছিলে –যেখানে আমি “পঞ্চকোষঃ বিবেকাভেদাঃ” এবং ‘নেতি’ ‘নেতি’ করতে করতে জ্ঞানবিচারের মধ্যে দিয়ে সর্বোচ্চস্তরে পৌঁছানোর ব্যাপারে আলোচনা করেছিলাম। দ্যাখো, একটা কথা সবসময় মনে রাখবে, কখনো শব্দজালে ফেঁসো না ! কোনো বই পড়া শিক্ষা অথবা কোনো বক্তব্য শুনে সেইগুলি কপচালে কিন্তু কখনোই প্রকৃত জ্ঞানলাভ হবে না !
মানুষ সাধারণত বুদ্ধি দিয়েই পড়া বা শোনা বিষয়গুলির ‘বোধ’ করার চেষ্টা করে। কিন্তু এটা মনে রাখা উচিত যে, বুদ্ধিরও কিছু limitation আছে। যেমন ধরো ‘Love’ বা ‘ভালোবাসা’ – এটি একটি শব্দ, কিন্তু কারো ভিতরে অর্থাৎ অন্তর্জগতে কার প্রতি কতটা ভালোবাসা রয়েছে – তুমি বাইরে থেকে তা কি করে বুঝবে ? কেউ যদি বলে__ ‘I understand, how much you love me.’ — ‘ তুমি আমাকে কতটা ভালোবাসো, তা আমি বুঝি’ –কিন্তু সে কি ঠিক বলছে ?__একেবারেই বলছে না। কারণ ভালোবাসার পরিমাপ হয় না, এটা dimensional factor ! ইংরেজিতে, ‘একে অপরকে ভালোবাসে’ – এটা বোঝাতে বলে I love you ! ভারতীয় প্রাচীন পরম্পরায় কিন্তু এই ব্যাপারটা ছিল না। কারণ এটা একটা বোকা বোকা কথা ! দ্যাখো, প্রাশ্চাত্ত্য দেশগুলিতে গর্ভধারিণী জননী তার সন্তানকে বলে – “I love you”! এই কথা বলে কোনো মা__ তার সন্তানকে কতটা ভালোবাসে, তার পরিমাপ পাওয়া যায় কি অথবা এইটা বলে মায়ের অন্তরের ভালবাসার ব্যাখ্যা দেওয়া যায় কি ! যায় না_কোনোদিন যাবেও না !
তবে জানো – কোনো নারী বা পুরুষ তার প্রেমাস্পদকে কতটা ভালোবাসে, সেটা তার চোখ দেখে অনেকটা বোঝা যায় _ অবশ্যই যদি তোমার বোঝার ক্ষমতা থাকে !
তাহলে কি বোঝা গেল – এটাই বোঝা গেল যে, মানুষের বুদ্ধির অথবা তার বোঝার ক্ষমতার limitation রয়েছে । কিন্তু যেটা বুঝতে চাইছি (অর্থাৎ এক্ষেত্রে ‘প্রেম’ বা ভালোবাসা (love) তার কোনো limitation নাই। প্রেমে কোনো বাধাই বাধা নয় _এখানে সবকিছুই সিদ্ধ ! শ্রীমদ্ভাগবতের ১৫-অধ্যায়ে _ গোপীদের সাথে ভগবান শ্রীকৃষ্ণের কথা কাটাকাটির কথা উল্লেখ রয়েছে! সেখানে দেখা যায় _ বৃন্দাবনের গোপীনীরা মুখে ‘খিস্তি’ উচ্চারণ করে তাদের প্রেমাস্পদ ভগবান কৃষ্ণকে গালাগালি দিচ্ছে ! সাধারণ ঝগড়াঝাঁটির ক্ষেত্র হোলে _ গোপীনীরা যেসব slang ব্যবহার করেছিল, তাতে একটা কেলেঙ্কারি হয়ে যেতো ! কিন্ত ব্রজলীলায় অপার্থিব প্রেমলীলা। সেখানে সবই অন্যরকম ! ভাগবতে রয়েছে _ গোপিনীদের slang শুনে ভগবান শ্রীকৃষ্ণ হাসছেন।
ইংরেজীতে একটা কথা আছে ‘there is no law in love and war !’ এটা তো ভগবান শ্রীকৃষ্ণ তার জীবনে করে দেখিয়েছিলেন ! তবে, এই কথাটা ইউরোপীয়রা হয়তো ভগবান শ্রীকৃষ্ণের জীবনদর্শন থেকেই পেয়েছিল৷ কারণ কুরুক্ষেত্রের যুদ্ধে ভগবান শ্রীকৃষ্ণ অর্জুনকে দিয়ে বা অন্যান্য পান্ডবদের দিয়ে ভীষ্ম, দ্রোণ, কর্ণ, দূর্যোধনাদি জ্ঞাতি এবং গুরুভ্রাতাদের হত্যা করিয়েছিলেন এবং হত্যাগুলি বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই ঘটেছিল অনৈতিক উপায়ে (unruly manner)! ভীষ্মের ক্ষেত্রে নপুংসক খাড়া করে, দ্রোণের ক্ষেত্রে পুত্রের মৃত্যুসংবাদ শুনিয়ে, কর্ণের ক্ষেত্রে _ রথচক্র মাটিতে বসে গেলে প্রায় নিরস্ত্র অবস্থায় তাকে মারা হয়েছিল ! আর দুর্যোধনের ক্ষেত্রে ‘Below the belt’ আঘাত করা হয়েছিল – যেটা তৎকালীন যুগে খুবই অন্যায় কাজ বলে বিবেচনা করা হোতো। শ্রীকৃষ্ণের দাদা বলরাম যুদ্ধক্ষেত্রে এই ধরণের অনৈতিক ঘটনা শুনে খুবই রেগে গেছিলো। যেহেতু দুর্যোধন বলভদ্রের শিষ্য ছিল – তাই আরো রেগে গিয়েছিল। শ্রীকৃষ্ণ তাঁকে কোনোক্রমে নিরস্ত করেন। যাইহোক, যা বলছিলাম _ তুমি অধ্যাত্মজগতের শিক্ষাসমূহ যা আমার কাছে শুনেছো বা হয়তো কোনো সদ্-গ্রন্থ থেকে পড়ে জানতে পেরেছো – সেগুলিকে বুদ্ধির দ্বারা বিচার করে confused হয়ে পড়বে না। এতে তোমার ভালো তো হবেই না বরং তোমার আধ্যাত্মিক উন্নতি ব্যাহত হবে।
যে কোনো বিষয়কে প্রেমের সাথে নাও, প্রেম দিয়ে বিচার করো ! ঈশ্বর তোমার loving aspect হয়ে উঠুক ! তাহলে দেখবে আর কোনো confusion নাই ! কোনো মায়ের যদি একাধিক সন্তান থাকে – তাদের মধ্যে কেউ একটু দেখতে ভালো, আবার কারো হয়তো গায়ের রং কালো, হয়তো নাক-চোখ-মুখ বা অন্য কোনো অঙ্গ একটু বিকৃত – কিন্তু তাতে কি ? এইসবের পার্থক্যে মায়ের ভালোবাসার বা স্নেহের কোনো খামতি হয় না। ঠিক তেমনি – ভক্তিভাবের সাধকের ক্ষেত্রেও কোনো শিক্ষাকে ছোট-বড়, ভালো-খারাপ ইত্যাদির পার্থক্য করলে চলে না !
Realisation through discrimination, realisation through conscience_ এইসব না বুঝতে চেয়ে তুমি realisation through devotion -কে আগে বোঝো দেখি! এতেই তোমার মঙ্গল হবে। দ্যাখো, জগতের মানুষ সবাই একপ্রকার নয় ! তাদের চেহারাও ভিন্ন – তাদের মন বা মানসিকতা ও ভিন্ন ! সুতরাং অধ্যাত্মসাধনার পদ্ধতিও ভিন্ন ভিন্ন হয়৷ কারো হয়তো জ্ঞানমার্গ – তারা through discrimination আগাবে, এই জ্ঞানমার্গীদেরই একটা অংশ through conscience – realisation -এর চেষ্টা করবে ! কিন্তু যে ভক্তিমার্গের সাধক – তার তো ওইভাবে সাধনা করতে ভালো লাগবেই না ! তার মধ্যে শুধু confusion-ই তৈরি হবে, শুধু ভুল বা ত্রুটিই চোখে পড়বে।
সুতরাং দারিয়স্ –তুমি আমার এই কথাগুলো আগে বোঝার চেষ্টা করো । তারপর তোমাকে যে পদ্ধতি দেওয়া হয়েছে _সেই অনুযায়ী সাধন-ভজন করো। দ্যাখো, যারা ভক্তিমার্গের লোক _তারা devotion-এর পথ বা ভক্তিমার্গ অবলম্বন করবে। এতেই তার কল্যাণ হবে _ যেটা তোমার পক্ষেও মঙ্গলজনক।
গুরুমহারাজ :– ওঃ আচ্ছা– তুমি বোধহয় কোনো আলোচনা আগে শুনেছিলে –যেখানে আমি “পঞ্চকোষঃ বিবেকাভেদাঃ” এবং ‘নেতি’ ‘নেতি’ করতে করতে জ্ঞানবিচারের মধ্যে দিয়ে সর্বোচ্চস্তরে পৌঁছানোর ব্যাপারে আলোচনা করেছিলাম। দ্যাখো, একটা কথা সবসময় মনে রাখবে, কখনো শব্দজালে ফেঁসো না ! কোনো বই পড়া শিক্ষা অথবা কোনো বক্তব্য শুনে সেইগুলি কপচালে কিন্তু কখনোই প্রকৃত জ্ঞানলাভ হবে না !
মানুষ সাধারণত বুদ্ধি দিয়েই পড়া বা শোনা বিষয়গুলির ‘বোধ’ করার চেষ্টা করে। কিন্তু এটা মনে রাখা উচিত যে, বুদ্ধিরও কিছু limitation আছে। যেমন ধরো ‘Love’ বা ‘ভালোবাসা’ – এটি একটি শব্দ, কিন্তু কারো ভিতরে অর্থাৎ অন্তর্জগতে কার প্রতি কতটা ভালোবাসা রয়েছে – তুমি বাইরে থেকে তা কি করে বুঝবে ? কেউ যদি বলে__ ‘I understand, how much you love me.’ — ‘ তুমি আমাকে কতটা ভালোবাসো, তা আমি বুঝি’ –কিন্তু সে কি ঠিক বলছে ?__একেবারেই বলছে না। কারণ ভালোবাসার পরিমাপ হয় না, এটা dimensional factor ! ইংরেজিতে, ‘একে অপরকে ভালোবাসে’ – এটা বোঝাতে বলে I love you ! ভারতীয় প্রাচীন পরম্পরায় কিন্তু এই ব্যাপারটা ছিল না। কারণ এটা একটা বোকা বোকা কথা ! দ্যাখো, প্রাশ্চাত্ত্য দেশগুলিতে গর্ভধারিণী জননী তার সন্তানকে বলে – “I love you”! এই কথা বলে কোনো মা__ তার সন্তানকে কতটা ভালোবাসে, তার পরিমাপ পাওয়া যায় কি অথবা এইটা বলে মায়ের অন্তরের ভালবাসার ব্যাখ্যা দেওয়া যায় কি ! যায় না_কোনোদিন যাবেও না !
তবে জানো – কোনো নারী বা পুরুষ তার প্রেমাস্পদকে কতটা ভালোবাসে, সেটা তার চোখ দেখে অনেকটা বোঝা যায় _ অবশ্যই যদি তোমার বোঝার ক্ষমতা থাকে !
তাহলে কি বোঝা গেল – এটাই বোঝা গেল যে, মানুষের বুদ্ধির অথবা তার বোঝার ক্ষমতার limitation রয়েছে । কিন্তু যেটা বুঝতে চাইছি (অর্থাৎ এক্ষেত্রে ‘প্রেম’ বা ভালোবাসা (love) তার কোনো limitation নাই। প্রেমে কোনো বাধাই বাধা নয় _এখানে সবকিছুই সিদ্ধ ! শ্রীমদ্ভাগবতের ১৫-অধ্যায়ে _ গোপীদের সাথে ভগবান শ্রীকৃষ্ণের কথা কাটাকাটির কথা উল্লেখ রয়েছে! সেখানে দেখা যায় _ বৃন্দাবনের গোপীনীরা মুখে ‘খিস্তি’ উচ্চারণ করে তাদের প্রেমাস্পদ ভগবান কৃষ্ণকে গালাগালি দিচ্ছে ! সাধারণ ঝগড়াঝাঁটির ক্ষেত্র হোলে _ গোপীনীরা যেসব slang ব্যবহার করেছিল, তাতে একটা কেলেঙ্কারি হয়ে যেতো ! কিন্ত ব্রজলীলায় অপার্থিব প্রেমলীলা। সেখানে সবই অন্যরকম ! ভাগবতে রয়েছে _ গোপিনীদের slang শুনে ভগবান শ্রীকৃষ্ণ হাসছেন।
ইংরেজীতে একটা কথা আছে ‘there is no law in love and war !’ এটা তো ভগবান শ্রীকৃষ্ণ তার জীবনে করে দেখিয়েছিলেন ! তবে, এই কথাটা ইউরোপীয়রা হয়তো ভগবান শ্রীকৃষ্ণের জীবনদর্শন থেকেই পেয়েছিল৷ কারণ কুরুক্ষেত্রের যুদ্ধে ভগবান শ্রীকৃষ্ণ অর্জুনকে দিয়ে বা অন্যান্য পান্ডবদের দিয়ে ভীষ্ম, দ্রোণ, কর্ণ, দূর্যোধনাদি জ্ঞাতি এবং গুরুভ্রাতাদের হত্যা করিয়েছিলেন এবং হত্যাগুলি বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই ঘটেছিল অনৈতিক উপায়ে (unruly manner)! ভীষ্মের ক্ষেত্রে নপুংসক খাড়া করে, দ্রোণের ক্ষেত্রে পুত্রের মৃত্যুসংবাদ শুনিয়ে, কর্ণের ক্ষেত্রে _ রথচক্র মাটিতে বসে গেলে প্রায় নিরস্ত্র অবস্থায় তাকে মারা হয়েছিল ! আর দুর্যোধনের ক্ষেত্রে ‘Below the belt’ আঘাত করা হয়েছিল – যেটা তৎকালীন যুগে খুবই অন্যায় কাজ বলে বিবেচনা করা হোতো। শ্রীকৃষ্ণের দাদা বলরাম যুদ্ধক্ষেত্রে এই ধরণের অনৈতিক ঘটনা শুনে খুবই রেগে গেছিলো। যেহেতু দুর্যোধন বলভদ্রের শিষ্য ছিল – তাই আরো রেগে গিয়েছিল। শ্রীকৃষ্ণ তাঁকে কোনোক্রমে নিরস্ত করেন। যাইহোক, যা বলছিলাম _ তুমি অধ্যাত্মজগতের শিক্ষাসমূহ যা আমার কাছে শুনেছো বা হয়তো কোনো সদ্-গ্রন্থ থেকে পড়ে জানতে পেরেছো – সেগুলিকে বুদ্ধির দ্বারা বিচার করে confused হয়ে পড়বে না। এতে তোমার ভালো তো হবেই না বরং তোমার আধ্যাত্মিক উন্নতি ব্যাহত হবে।
যে কোনো বিষয়কে প্রেমের সাথে নাও, প্রেম দিয়ে বিচার করো ! ঈশ্বর তোমার loving aspect হয়ে উঠুক ! তাহলে দেখবে আর কোনো confusion নাই ! কোনো মায়ের যদি একাধিক সন্তান থাকে – তাদের মধ্যে কেউ একটু দেখতে ভালো, আবার কারো হয়তো গায়ের রং কালো, হয়তো নাক-চোখ-মুখ বা অন্য কোনো অঙ্গ একটু বিকৃত – কিন্তু তাতে কি ? এইসবের পার্থক্যে মায়ের ভালোবাসার বা স্নেহের কোনো খামতি হয় না। ঠিক তেমনি – ভক্তিভাবের সাধকের ক্ষেত্রেও কোনো শিক্ষাকে ছোট-বড়, ভালো-খারাপ ইত্যাদির পার্থক্য করলে চলে না !
Realisation through discrimination, realisation through conscience_ এইসব না বুঝতে চেয়ে তুমি realisation through devotion -কে আগে বোঝো দেখি! এতেই তোমার মঙ্গল হবে। দ্যাখো, জগতের মানুষ সবাই একপ্রকার নয় ! তাদের চেহারাও ভিন্ন – তাদের মন বা মানসিকতা ও ভিন্ন ! সুতরাং অধ্যাত্মসাধনার পদ্ধতিও ভিন্ন ভিন্ন হয়৷ কারো হয়তো জ্ঞানমার্গ – তারা through discrimination আগাবে, এই জ্ঞানমার্গীদেরই একটা অংশ through conscience – realisation -এর চেষ্টা করবে ! কিন্তু যে ভক্তিমার্গের সাধক – তার তো ওইভাবে সাধনা করতে ভালো লাগবেই না ! তার মধ্যে শুধু confusion-ই তৈরি হবে, শুধু ভুল বা ত্রুটিই চোখে পড়বে।
সুতরাং দারিয়স্ –তুমি আমার এই কথাগুলো আগে বোঝার চেষ্টা করো । তারপর তোমাকে যে পদ্ধতি দেওয়া হয়েছে _সেই অনুযায়ী সাধন-ভজন করো। দ্যাখো, যারা ভক্তিমার্গের লোক _তারা devotion-এর পথ বা ভক্তিমার্গ অবলম্বন করবে। এতেই তার কল্যাণ হবে _ যেটা তোমার পক্ষেও মঙ্গলজনক।
