জিজ্ঞাসু :– এখন তো দেখতে পাচ্ছি, আমাদের দেশে রাজনীতির দ্বারাই যা কিছু উন্নতি হোচ্ছে – আধ্যাত্মিকতার বা আধ্যাত্মিক ব্যক্তিদের তাহলে কি ভূমিকা ?
গুরুমহারাজ :– তোমার ধারণা সম্পূর্ণ ভুল ! দ্যাখো, রাজনীতি দিয়ে সমাজের সর্বাঙ্গীণ কল্যাণ কখনোই সম্ভব হয় না ! রাজনীতির দ্বারা কোনো দেশের বা কোনো সমাজের মানুষের সামাজিক, অর্থনৈতিক ইত্যাদি কিছু কিছু উন্নতি নিশ্চয়ই হোতে পারে – কিন্তু এতে মানুষের সর্বাঙ্গীণ মঙ্গল হয়না !
পৃথিবীর সমস্ত দেশে-ই কোনো না কোনো ধরণের(ধনতন্ত্র, সমাজতন্ত্র, রাজতন্ত্র ইত্যাদি)রাজনীতি রয়েছে ! তুমি তাকিয়ে দ্যাখো, সবদেশেই দেখা যায়__সমাজের একশ্রেণীর মানুষের হাতে রাজনৈতিক ক্ষমতা আসায় অর্থনৈতিক ক্ষমতাও সেইশ্রেণীর মানুষের হাতেই চলে আসে (কমিউনিস্ট দেশেও – একই চিত্র)। এছাড়া সব দেশেই বৈশ্যরা অর্থনীতির একটা বড় অংশ নিজেদের করায়ত্ত করে রাখে ! এর ফলে যে কোনো সমাজে সবসময়েই দুটো-তিনটে শ্রেণী(অর্থনৈতিক বিচারে)-র সৃষ্টি হয়েই যায় !
আমাদের দেশে দেখবে__ সাধারণ মানুষ ১০,০০০ (দশ হাজার) টাকা কিংবা ২০,০০০(কুড়ি হাজার) টাকা ব্যাংক থেকে ‘লোন'(loan) নিলে_ তা আদায় হয়ে যায়, সেই ‘লোন’ আদায়ের জন্য বিভিন্ন আইন-ও রয়েছে ! কিন্তু এক’শ কোটি, হাজার কোটি অর্থাৎ এই ধরণের বেশি বেশি টাকা ব্যাংক বা অন্যান্য অর্থনৈতিক সংস্থা থেকে ধার (loan) নিলে, সেই টাকা আর আদায় হয় না – bad debt হয়ে যায় ! এর কারণ কি বলোতো – এইসব ক্ষেত্রে ব্যাংকের-কর্তাব্যক্তিরা এবং রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বরাও ঋণগ্রহিতার সাথে যুক্ত থাকে, তারাও ওই টাকার ভাগ পায়। এইবার কি হয় জানো__ বেশ কিছুদিন পরে ওই টাকা ‘অনাদায়ী’ হিসাবে চিহ্নিত করে দেওয়া হয় বা ‘দেউলিয়া’ ঘোষণা করে দেওয়া হয়। ঋণগ্রহীতা হয় দেশত্যাগ করে, নয় কিছুদিন জেল খাটে। ব্যস্ — হয়ে গেল ! সবাই রেহাই পেয়ে গেল ! বেশি ঘাঁটাঘাঁটি হোলে তো অনেকেই ফাঁসবে – তাই ‘অনাদায়ী’ চিহ্নিত করে দিলেই chapter closed !!
রাজনীতির দ্বারা উন্নতির কথা বলছিলে না__ রাজনৈতিক নেতাদের কথা আর বোলো না ! রাজনীতির লোকেরা, আন্দোলনের নামে দেশের কত শ্রমদিবস নষ্ট করে বলো তো ? কিন্তু এইসব করে সমাজের লাভটা কি হয় ? এর দ্বারা নেতারা নিজেদের আখের গোছায়_ আর গরীব সাধারন মানুষের সর্বনাশ হয়।
বর্তমানে(তখন বাম আমলে ছিল) আমাদের এই রাজ্যের চিত্র দেখছি তো__রাজনৈতিক নেতাদের অবিমৃষ্যকারিতায় কতশত কলকারখানা বন্ধ হয়ে গেল ! আর এইজন্যেই তো রাস্তাঘাটে এত হকার ! ফুটপাতে জুড়ে, রাস্তাজুড়ে পসরা নিয়ে শত শত হকারেরা বসে আছে ! ওরাই বা কি করবে বলো? রুজির জন্য এগুলি করতে বাধ্য হোচ্ছে !
দিন দিন লোকসংখ্যা বাড়ছে, তার জন্য সরকার কোথায় কর্মসংস্থান বাড়ানোর চেষ্টা করবে তা নয় – আন্দোলনের নামে কলকারখানা বন্ধ করে দিচ্ছে রাজনীতির লোকেরা ! এইগুলি সব কি হোচ্ছে_বলোতো ?
কারখানা বন্ধ হোলে মালিকদের বিশেষ ক্ষতি হয় না – মরে তো শ্রমিকেরাই ! মালিকদের বিশেষ কিছুই ক্ষতি হয় না, Public share(শেয়ার মার্কেটের টাকা) এবং গভর্মেন্টের বিভিন্ন বীমা বা তাদেরই মালিকানার অন্যান্য project থেকে তারা লাভের টাকা ঠিক তুলে নেয়। পরে বন্ধ হয়ে যাওয়া কারখানার জায়গা-জমি বেচে বা প্রমোটিং করেও কোটি কোটি টাকা পেয়ে যায় !
কিন্তু কারখানা বন্ধ হয়ে গেলে ওখানকার শ্রমিকেরা অর্থাৎ গরিব মানুষগুলো কিছুই পায় না। ইউনিয়নের নেতারা(রাজনীতির লোকেরা) কিছু বখরা পায় –কিন্তু মরে ঐ সাধারণ মানুষেরা।
আবার দ্যাখো, সরকারি সম্পত্তি ভাঙচুর, বাস-ট্রাম পোড়ানো — এগুলোও রাজনৈতিক নেতারা নিজেরা সামনে দাঁড়িয়ে থেকে, সাধারণ গরীব-গুর্বো মানুষদের দিয়েই ঘটায়। কিন্তু এইগুলি করেই বা কি সমাজের বা মানুষের কোনো লাভ হয় ? সাধারণ মানুষের আবেগ-উত্তেজনাকে কাজে লাগিয়ে এই ধ্বংসাত্মক কাজগুলি ঘটানো হয় ! এইসবের জন্য বাস মালিকেরাও বিরক্ত । ফলে বাসের সংখ্যা দিন দিন কমছে, আর ভাড়াও বেড়ে যাচ্ছে।
রাজনৈতিক নেতারা এবং ধনী ব্যক্তিরা নিজেদের গাড়িতে যাতায়াত করে, বাসে চড়ে না। ট্রামে-বাসে যাওয়া-আসা করে তো সাধারণ মানুষেরাই ! ফলে যত কিছু কষ্ট__সব তাদেরই ! অথচ তাদের মাথাতেই রাজনীতির পাঠ ঢুকিয়ে দেয় বুদ্ধিমানেরা, আর এরা বোকার মতো নিজেদেরই ক্ষতি করে বসে !
দেখবে, সরকারি বাসগুলো loss-এ run করছে ! আবার বেসরকারি বাস মালিকেরাও বাস-ব্যবসা থেকে সরে আসতে বাধ্য হোচ্ছে। যে সব মালিকের আগে ১০/১২-টা বাস ছিল__তারা হয়তো দুটো-একটা রূটে বাস চালায়। এখন গাড়ির কর্মীরা (ড্রাইভার,কন্ডাকটর ইত্যাদি) মালিকের কাছ থেকে ইন্সটলমেন্টে বাস কিনে নিচ্ছে_এই তো অবস্থা।।
কিছুদিন আগেও বিভিন্ন সঞ্চয় প্রকল্পে ৫½/৬ বছরে টাকা double হয়ে যেতো। তাহলে মালিকেরা একটা নতুন বাস কেনার জন্য ৬/৭ লাখ টাকা বা আরও বেশি টাকা invest করে loss করবে কেন ? পোস্ট অফিস অথবা ব্যাঙ্কেই বিভিন্ন স্কিমে টাকা রাখবে !! তাছাড়া এখন ধনী লোকেরা land কেনায় টাকা invest করছে – জমির দাম তো আর কমছে না বরং চড়চড় করে বাড়ছে ! এই দ্যাখোনো – আমাদের এই বনগ্রামেই ৫/৬ বছর আগেও থেকে ১৮ থেকে ২০ হাজার টাকায় এক বিঘা জমি পাওয়া যেতো ! এখন (১৯৯৭ সাল) ৪০০০০– ৫০০০০ টাকাতেও জমি পাওয়া যাচ্ছে না। … (ক্রমশঃ)
গুরুমহারাজ :– তোমার ধারণা সম্পূর্ণ ভুল ! দ্যাখো, রাজনীতি দিয়ে সমাজের সর্বাঙ্গীণ কল্যাণ কখনোই সম্ভব হয় না ! রাজনীতির দ্বারা কোনো দেশের বা কোনো সমাজের মানুষের সামাজিক, অর্থনৈতিক ইত্যাদি কিছু কিছু উন্নতি নিশ্চয়ই হোতে পারে – কিন্তু এতে মানুষের সর্বাঙ্গীণ মঙ্গল হয়না !
পৃথিবীর সমস্ত দেশে-ই কোনো না কোনো ধরণের(ধনতন্ত্র, সমাজতন্ত্র, রাজতন্ত্র ইত্যাদি)রাজনীতি রয়েছে ! তুমি তাকিয়ে দ্যাখো, সবদেশেই দেখা যায়__সমাজের একশ্রেণীর মানুষের হাতে রাজনৈতিক ক্ষমতা আসায় অর্থনৈতিক ক্ষমতাও সেইশ্রেণীর মানুষের হাতেই চলে আসে (কমিউনিস্ট দেশেও – একই চিত্র)। এছাড়া সব দেশেই বৈশ্যরা অর্থনীতির একটা বড় অংশ নিজেদের করায়ত্ত করে রাখে ! এর ফলে যে কোনো সমাজে সবসময়েই দুটো-তিনটে শ্রেণী(অর্থনৈতিক বিচারে)-র সৃষ্টি হয়েই যায় !
আমাদের দেশে দেখবে__ সাধারণ মানুষ ১০,০০০ (দশ হাজার) টাকা কিংবা ২০,০০০(কুড়ি হাজার) টাকা ব্যাংক থেকে ‘লোন'(loan) নিলে_ তা আদায় হয়ে যায়, সেই ‘লোন’ আদায়ের জন্য বিভিন্ন আইন-ও রয়েছে ! কিন্তু এক’শ কোটি, হাজার কোটি অর্থাৎ এই ধরণের বেশি বেশি টাকা ব্যাংক বা অন্যান্য অর্থনৈতিক সংস্থা থেকে ধার (loan) নিলে, সেই টাকা আর আদায় হয় না – bad debt হয়ে যায় ! এর কারণ কি বলোতো – এইসব ক্ষেত্রে ব্যাংকের-কর্তাব্যক্তিরা এবং রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বরাও ঋণগ্রহিতার সাথে যুক্ত থাকে, তারাও ওই টাকার ভাগ পায়। এইবার কি হয় জানো__ বেশ কিছুদিন পরে ওই টাকা ‘অনাদায়ী’ হিসাবে চিহ্নিত করে দেওয়া হয় বা ‘দেউলিয়া’ ঘোষণা করে দেওয়া হয়। ঋণগ্রহীতা হয় দেশত্যাগ করে, নয় কিছুদিন জেল খাটে। ব্যস্ — হয়ে গেল ! সবাই রেহাই পেয়ে গেল ! বেশি ঘাঁটাঘাঁটি হোলে তো অনেকেই ফাঁসবে – তাই ‘অনাদায়ী’ চিহ্নিত করে দিলেই chapter closed !!
রাজনীতির দ্বারা উন্নতির কথা বলছিলে না__ রাজনৈতিক নেতাদের কথা আর বোলো না ! রাজনীতির লোকেরা, আন্দোলনের নামে দেশের কত শ্রমদিবস নষ্ট করে বলো তো ? কিন্তু এইসব করে সমাজের লাভটা কি হয় ? এর দ্বারা নেতারা নিজেদের আখের গোছায়_ আর গরীব সাধারন মানুষের সর্বনাশ হয়।
বর্তমানে(তখন বাম আমলে ছিল) আমাদের এই রাজ্যের চিত্র দেখছি তো__রাজনৈতিক নেতাদের অবিমৃষ্যকারিতায় কতশত কলকারখানা বন্ধ হয়ে গেল ! আর এইজন্যেই তো রাস্তাঘাটে এত হকার ! ফুটপাতে জুড়ে, রাস্তাজুড়ে পসরা নিয়ে শত শত হকারেরা বসে আছে ! ওরাই বা কি করবে বলো? রুজির জন্য এগুলি করতে বাধ্য হোচ্ছে !
দিন দিন লোকসংখ্যা বাড়ছে, তার জন্য সরকার কোথায় কর্মসংস্থান বাড়ানোর চেষ্টা করবে তা নয় – আন্দোলনের নামে কলকারখানা বন্ধ করে দিচ্ছে রাজনীতির লোকেরা ! এইগুলি সব কি হোচ্ছে_বলোতো ?
কারখানা বন্ধ হোলে মালিকদের বিশেষ ক্ষতি হয় না – মরে তো শ্রমিকেরাই ! মালিকদের বিশেষ কিছুই ক্ষতি হয় না, Public share(শেয়ার মার্কেটের টাকা) এবং গভর্মেন্টের বিভিন্ন বীমা বা তাদেরই মালিকানার অন্যান্য project থেকে তারা লাভের টাকা ঠিক তুলে নেয়। পরে বন্ধ হয়ে যাওয়া কারখানার জায়গা-জমি বেচে বা প্রমোটিং করেও কোটি কোটি টাকা পেয়ে যায় !
কিন্তু কারখানা বন্ধ হয়ে গেলে ওখানকার শ্রমিকেরা অর্থাৎ গরিব মানুষগুলো কিছুই পায় না। ইউনিয়নের নেতারা(রাজনীতির লোকেরা) কিছু বখরা পায় –কিন্তু মরে ঐ সাধারণ মানুষেরা।
আবার দ্যাখো, সরকারি সম্পত্তি ভাঙচুর, বাস-ট্রাম পোড়ানো — এগুলোও রাজনৈতিক নেতারা নিজেরা সামনে দাঁড়িয়ে থেকে, সাধারণ গরীব-গুর্বো মানুষদের দিয়েই ঘটায়। কিন্তু এইগুলি করেই বা কি সমাজের বা মানুষের কোনো লাভ হয় ? সাধারণ মানুষের আবেগ-উত্তেজনাকে কাজে লাগিয়ে এই ধ্বংসাত্মক কাজগুলি ঘটানো হয় ! এইসবের জন্য বাস মালিকেরাও বিরক্ত । ফলে বাসের সংখ্যা দিন দিন কমছে, আর ভাড়াও বেড়ে যাচ্ছে।
রাজনৈতিক নেতারা এবং ধনী ব্যক্তিরা নিজেদের গাড়িতে যাতায়াত করে, বাসে চড়ে না। ট্রামে-বাসে যাওয়া-আসা করে তো সাধারণ মানুষেরাই ! ফলে যত কিছু কষ্ট__সব তাদেরই ! অথচ তাদের মাথাতেই রাজনীতির পাঠ ঢুকিয়ে দেয় বুদ্ধিমানেরা, আর এরা বোকার মতো নিজেদেরই ক্ষতি করে বসে !
দেখবে, সরকারি বাসগুলো loss-এ run করছে ! আবার বেসরকারি বাস মালিকেরাও বাস-ব্যবসা থেকে সরে আসতে বাধ্য হোচ্ছে। যে সব মালিকের আগে ১০/১২-টা বাস ছিল__তারা হয়তো দুটো-একটা রূটে বাস চালায়। এখন গাড়ির কর্মীরা (ড্রাইভার,কন্ডাকটর ইত্যাদি) মালিকের কাছ থেকে ইন্সটলমেন্টে বাস কিনে নিচ্ছে_এই তো অবস্থা।।
কিছুদিন আগেও বিভিন্ন সঞ্চয় প্রকল্পে ৫½/৬ বছরে টাকা double হয়ে যেতো। তাহলে মালিকেরা একটা নতুন বাস কেনার জন্য ৬/৭ লাখ টাকা বা আরও বেশি টাকা invest করে loss করবে কেন ? পোস্ট অফিস অথবা ব্যাঙ্কেই বিভিন্ন স্কিমে টাকা রাখবে !! তাছাড়া এখন ধনী লোকেরা land কেনায় টাকা invest করছে – জমির দাম তো আর কমছে না বরং চড়চড় করে বাড়ছে ! এই দ্যাখোনো – আমাদের এই বনগ্রামেই ৫/৬ বছর আগেও থেকে ১৮ থেকে ২০ হাজার টাকায় এক বিঘা জমি পাওয়া যেতো ! এখন (১৯৯৭ সাল) ৪০০০০– ৫০০০০ টাকাতেও জমি পাওয়া যাচ্ছে না। … (ক্রমশঃ)
