জিজ্ঞাসু :– সত্যিই মহারাজ ! ভাবতে আশ্চর্য লাগে যে, এই গন্ডগ্রামে_ যেখানে সরাসরি শহর থেকে ভালো যোগাযোগই নাই, সেইখানে এতসব হোলো, আবার বলছেন আরো কত কি হবে !
গুরুমহারাজ :– হ্যাঁ, সত্যি সত্যিই এখানে অনেক কিছুই হবে । এই তো__কিছুদিন আগে বনগ্রামে পোস্ট অফিস হোলো – এটাই কি কেউ ভেবেছিল ? বনগ্রামের পোস্ট অফিস ছিল কুচুট। এখন বনগ্রামে পোস্ট অফিস হয়েছে, পরে দেখবে এখানে ব্যাংকের শাখাও হবে ! এখন একটু সমস্যা হোচ্ছে আশ্রমের মাঠ-টা নিয়ে। দীর্ঘদিন ধরে গ্রামের ছেলেরা আশ্রমের মাঠটায় ফুটবল খেলতো। আশ্রম শুরু হবার পরেও খেলার ব্যাপারটা allow করা হয়েছিল। কিন্তু এখন আশ্রমের কাজকর্ম বেড়েছে, – ভক্তসংখ্যা, ছাত্রসংখ্যা বেড়েছে; এখন এই মাঠে গ্রামের ছেলেরা বা বাইরের ছেলেরা খেলাধুলা করতে আসছে, ফলে আশ্রমের কাজে খুবই disturb হোচ্ছে । আমাদের আশ্রমের ছেলেদের‌ই তো খেলার জন্য একটা মাঠের প্রয়োজন ! ওরা স্বাধীনভাবে খেলাধুলা করতে পারছে না।
এই অসুবিধা দূর করার জন্য, গ্রামের ছেলেদের জন্য, আশ্রমের সীমানার বাইরে পৃথক একটা খেলার মাঠ তৈরি করে দেওয়া হয়েছে – ওদেরকে সেখানেই খেলার জন্য অনুরোধ করা হোচ্ছে – কিন্তু তাতে ওরা রাজি হচ্ছে না। এটাই এখন এই আশ্রমের প্রধান সমস্যা !
তবে এই স্থান আশ্রমের কাজ হবার জন্য নির্দিষ্ট – তাই একটা সুরাহা হবেই – শুধু সময়ের অপেক্ষা। (এই আলোচনার অল্প সময়ের মধ্যেই মাঠের সমস্যার সমাধান হয়ে গেছিলো, গ্রামের ছেলেরা_আশ্রমের মাঠ ত্যাগ করে নতুন মাঠেই খেলতে রাজি হয়েছিল।)।
বর্তমানে আশ্রমের যে বটগাছটা দেখছো – ওটার একেবারে মড়ার দশা হয়ে গেছিলো। গোটাকয়েক spirit(প্রেতযোনি) গাছটাকে কেন্দ্র করে থাকতো – আর গ্রামের দু-চারজন লোকে, ছাগল-গরুকে খাওয়ানোর জন্য গাছটির পাতা কাটতো। এখানে আশ্রম হবার পর থেকে, বিশেষতঃ তপেশ্বরানন্দ মহারাজের চেষ্টায় গাছটি নতুন জীবন ফিরে পেয়েছিল।
আর একটা কথা তুমি কি যেন বলছিলে__বনগ্রাম আশ্রমের সাথে বর্ধমান-মেমারী ইত্যাদি শহরগুলির সড়কপথে যোগাযোগের অসুবিধার কথা— তাইতো ? দ্যাখো, বলা চলে এখন তো যোগাযোগ ব্যবস্থা অনেক উন্নত হয়েছে। আমি যখন প্রথম এখানে এসেছিলাম__ তখন তো জাবুইডাঙা থেকে হাঁটা পথ! পরে জাবুই থেকে সামন্তীর পথটা হোলো। ফলে ভান্ডুল পর্যন্ত মানুষজনের আসার একটা সুবিধা হয়ে গেছিলো। আমাদের আশ্রমের বড় রান্নাঘরটা যখন হয়েছিল__ তখন বড় বড় লরীতে রান্নাঘরের জন্য মোজাইক টাইলস্ দক্ষিণ ভারত থেকে আনানো হয়েছিল । সেগুলিকে ঐ ভান্ডুল মোড় পর্যন্ত-ই আনা গেছিলো। ওখান থেকে সমস্ত টালিগুলিতে গরুর গাড়ি করে বয়ে বয়ে আশ্রমে নিয়ে আসতে হয়েছিল। কিন্তু এখন দ্যাখো, মোরাম-রাস্তা হয়ে গেছে। ফলে, এখন আশ্রম পর্যন্ত ট্রাক্টর, লরী ইত্যাদি সবকিছুই চলে আসছে। পরে দেখবে হয়তো পাকা রাস্তাও হয়ে যাবে !
যখন রান্নাঘর এবং সাধু ব্যারাকের কাজ হচ্ছিলো – সেই সময়েই একদিন গভীর রাতে, আমি যখন আশ্রমে আমার কুঠিয়ার সামনে একাকী পায়চারি করছিলাম, তখন পুকুরটা আমাকে বলে উঠল – “তুমি আশ্রমকে নানাভাবে সাজাচ্ছো, আর আমাকে একটু সাজাবে না?” এই কথা শুনেই আমি ব্যাপারটা বুঝতে পারলাম। তখন আমি মুরারী, তৃষাণকে ডেকে বললাম __’এই পুকুরটাকে বেশ ভালোভাবে কাটিয়ে, চারিদিক সুন্দর করে বাঁধিয়ে দাও’। পুকুর বাঁধানো হয়ে যাবার পরে, বাস্তুবিজ্ঞান মেনে এখানে চারটে ঘাট করে দেওয়া হবে৷ পুকুরটির উত্তর-দক্ষিণে মাঝামাঝি স্থানে___Main দুটো ঘাট, এবং দুই কোণে(ঈশাণ এবং অগ্নি) আরও দুটো ঘাট । এইভাবেই আশ্রমের পুকুরকে সাজানো হবে।।