[এর আগে দেখানো হয়েছিল যে অপুত্রক রাজা অনেক চেষ্টায় পুত্রলাভ করার দৈব আশির্বাদ প্রাপ্ত হয়েছিল। আহ্লাদে আটখানা রাজা এই আনন্দ রাজ্যবাসীর সাথে ভাগ করে নেবার জন্য নদীর মধ্যস্থলে বজরার উপরে যাতে রাজপুত্রের জন্ম হয় _তার ব্যবস্থা করেছিল। কিন্তু তারপরেই বিপত্তি – – রাজার হাত ফসকে শিশু পড়ে গেল জলে..এরপরের অংশ আজ.]
….ঘটনার আকস্মিকতায় সকলে সাময়িক বিহ্বল হয়ে পড়লেও মন্ত্রী, সেনাপতি, সান্ত্রীরা হাঁ – হাঁ করে উঠল! নদীর দুই কিনারার জনগণ এই মর্মান্তিক দৃশ্য দেখে কপালে করাঘাত করে উঠল – কিন্তু সকলে অবাক হয়ে যেটা দেখল সেটা সত্যি সত্যিই অবাক করার মতো ব্যাপার ঘটল! রাজামশাই জলের মধ্যে থেকে শিশুপুত্রকে দুহাতে তুলে আনছেন!
ঘটনাটি কি ঘটেছিল — যেই মুহূর্ত্তে শিশুটি রাজার হাত ফসকে জলে পড়ে – সেই মুহূর্ত্তেই রাজা জলে লাফিয়ে পড়েছিল! এতটুকু দেরী করেনি ৷ রাজার আদেশে বা বিনা আদেশেও মন্ত্রী, সেনাপতি, সান্ত্রীরা, জনগণ, মাঝি-মাল্লা – সকলেই জলে লাফাতো বা শিশুটিকে উদ্ধার করার চেষ্টা কোরতো । কিন্তু সন্তান স্নেহ – অপত্য স্নেহ এতই প্রবল যে রাজা ঐ মুহূর্ত্তে নিজের অস্তিত্ব ভুলে, জগৎ-সংসারের নিয়ম ভুলে, নিজে বাঁচবে কি মরবে তা না ভেবে তৎক্ষণাৎ জলে ঝাঁপিয়ে পড়েছিল এবং শিশুকে উদ্ধার করে রানীর কোলে ফিরিয়ে দিয়েছিল!
গল্পটি শেষ করার পর গুরু মহারাজ বললেন – অনেকেই জিজ্ঞাসা করে ঈশ্ববের অবতরণের কি প্রয়োজন ? বিভিন্ন মহাপুরুষরাও তো লোককল্যাণ, জনকল্যাণই করেন — তাহলে স্বয়ং ঈশ্বরের শরীরধারণের কি প্রয়োজন ? এর উত্তর এই গল্পটায় (ঘটনা)রয়েছে! রাজামশাই তো শিশুকে উদ্ধারের জন্য সেনাপতিকে বলতে পারতেন – মন্ত্রীকে বা সান্ত্রীদের বলতে পারতেন ; আর রাজার আদেশে তারা নিজেদের জীবন বিপন্ন করেও শিশুটিকে অর্থাৎ রাজপুত্রকে বাঁচাতোও ওরা! রাজ্যের জনগণ উভয় তীর থেকে লাফিয়ে পড়ে হয়তো নদীটাকে তোলপাড় করে তুলতে পারতো — কিন্তু রাজা কাউকে কিছু না বলে নিজেই লাফিয়ে পড়ল এবং নিজপুত্রকে চরম সংকট থেকে রক্ষাও করল! এইভাবেই মানুষ যখন ত্রিতাপ জ্বালায় ক্লিষ্ট হয়, ধার্মিকেরা বিপন্ন হয়, ধর্মের গ্লানি যখন সমাজকে গ্রাস করে, দেবতারা স্বর্গরাজ্য থেকে বহিস্কৃত হয় এবং অসুরেরা স্বর্গের সিংহাসন দখল করে (সৎ, সাত্ত্বিক মানুষেরা সমাজে অবহেলিত হয় এবং অসৎ, তামসিক বা তমো – রজঃ প্রভাবযুক্ত মানুষেরা সমাজের শাসনকর্ত্তা হয়, সমাজের রক্ষক হয়) তখনই পরমেশ্বরের আসন টলে!
” অভ্যুথানমধর্মস্য , তদাত্মানং সৃজম্যহম ,
পরিত্রাণায় সাধুনাং , বিনাশায় চ দুস্কৃতাম্ ,
ধর্মসংস্থাপনার্থায় , সম্ভবামি যুগে যুগে ।”
যুগে যুগে তিনি স্বয়ং অবতীর্ণ হ’ন! ধরায় ধূলায় মানুষের বেশে, মানুষের কাছে মনুষ্যত্বের জাগরণের বাণী এবং আধ্যাত্মিক কর্মপ্রবাহ নিয়ে করুণাধারায় নেমে আসেন তিনি! অমূর্ত্ত হয়ে ওঠেন মূর্ত্তিমান, অরূপ রূপ পরিগ্রহ করেন, অধরা ধরা দেন সাধারণ মানুষের কাছে! তাকে ছোঁওয়া যায়, তার সাথে কথা বলা যায়, তাকে কিছু খাওয়ানো যায়, তাকে ভালোবাসা যায়, শ্রদ্ধা করা যায় আবার তার সাথে খুনসুটি – ঝগড়াও করা যায়! ঠিক শিশুর আদরের বাবার মতো! এইভাবেই কারনে অথবা তথাকথিত কারন ছাড়াই অর্থাৎ শুধুমাত্র অকারন প্রেমের জন্যই হয় ঈশ্বরের অবতরন! ভাগবতী তনু ধারনকারী ভগবানের শরীর ধারণ! [ক্রমশঃ]
….ঘটনার আকস্মিকতায় সকলে সাময়িক বিহ্বল হয়ে পড়লেও মন্ত্রী, সেনাপতি, সান্ত্রীরা হাঁ – হাঁ করে উঠল! নদীর দুই কিনারার জনগণ এই মর্মান্তিক দৃশ্য দেখে কপালে করাঘাত করে উঠল – কিন্তু সকলে অবাক হয়ে যেটা দেখল সেটা সত্যি সত্যিই অবাক করার মতো ব্যাপার ঘটল! রাজামশাই জলের মধ্যে থেকে শিশুপুত্রকে দুহাতে তুলে আনছেন!
ঘটনাটি কি ঘটেছিল — যেই মুহূর্ত্তে শিশুটি রাজার হাত ফসকে জলে পড়ে – সেই মুহূর্ত্তেই রাজা জলে লাফিয়ে পড়েছিল! এতটুকু দেরী করেনি ৷ রাজার আদেশে বা বিনা আদেশেও মন্ত্রী, সেনাপতি, সান্ত্রীরা, জনগণ, মাঝি-মাল্লা – সকলেই জলে লাফাতো বা শিশুটিকে উদ্ধার করার চেষ্টা কোরতো । কিন্তু সন্তান স্নেহ – অপত্য স্নেহ এতই প্রবল যে রাজা ঐ মুহূর্ত্তে নিজের অস্তিত্ব ভুলে, জগৎ-সংসারের নিয়ম ভুলে, নিজে বাঁচবে কি মরবে তা না ভেবে তৎক্ষণাৎ জলে ঝাঁপিয়ে পড়েছিল এবং শিশুকে উদ্ধার করে রানীর কোলে ফিরিয়ে দিয়েছিল!
গল্পটি শেষ করার পর গুরু মহারাজ বললেন – অনেকেই জিজ্ঞাসা করে ঈশ্ববের অবতরণের কি প্রয়োজন ? বিভিন্ন মহাপুরুষরাও তো লোককল্যাণ, জনকল্যাণই করেন — তাহলে স্বয়ং ঈশ্বরের শরীরধারণের কি প্রয়োজন ? এর উত্তর এই গল্পটায় (ঘটনা)রয়েছে! রাজামশাই তো শিশুকে উদ্ধারের জন্য সেনাপতিকে বলতে পারতেন – মন্ত্রীকে বা সান্ত্রীদের বলতে পারতেন ; আর রাজার আদেশে তারা নিজেদের জীবন বিপন্ন করেও শিশুটিকে অর্থাৎ রাজপুত্রকে বাঁচাতোও ওরা! রাজ্যের জনগণ উভয় তীর থেকে লাফিয়ে পড়ে হয়তো নদীটাকে তোলপাড় করে তুলতে পারতো — কিন্তু রাজা কাউকে কিছু না বলে নিজেই লাফিয়ে পড়ল এবং নিজপুত্রকে চরম সংকট থেকে রক্ষাও করল! এইভাবেই মানুষ যখন ত্রিতাপ জ্বালায় ক্লিষ্ট হয়, ধার্মিকেরা বিপন্ন হয়, ধর্মের গ্লানি যখন সমাজকে গ্রাস করে, দেবতারা স্বর্গরাজ্য থেকে বহিস্কৃত হয় এবং অসুরেরা স্বর্গের সিংহাসন দখল করে (সৎ, সাত্ত্বিক মানুষেরা সমাজে অবহেলিত হয় এবং অসৎ, তামসিক বা তমো – রজঃ প্রভাবযুক্ত মানুষেরা সমাজের শাসনকর্ত্তা হয়, সমাজের রক্ষক হয়) তখনই পরমেশ্বরের আসন টলে!
” অভ্যুথানমধর্মস্য , তদাত্মানং সৃজম্যহম ,
পরিত্রাণায় সাধুনাং , বিনাশায় চ দুস্কৃতাম্ ,
ধর্মসংস্থাপনার্থায় , সম্ভবামি যুগে যুগে ।”
যুগে যুগে তিনি স্বয়ং অবতীর্ণ হ’ন! ধরায় ধূলায় মানুষের বেশে, মানুষের কাছে মনুষ্যত্বের জাগরণের বাণী এবং আধ্যাত্মিক কর্মপ্রবাহ নিয়ে করুণাধারায় নেমে আসেন তিনি! অমূর্ত্ত হয়ে ওঠেন মূর্ত্তিমান, অরূপ রূপ পরিগ্রহ করেন, অধরা ধরা দেন সাধারণ মানুষের কাছে! তাকে ছোঁওয়া যায়, তার সাথে কথা বলা যায়, তাকে কিছু খাওয়ানো যায়, তাকে ভালোবাসা যায়, শ্রদ্ধা করা যায় আবার তার সাথে খুনসুটি – ঝগড়াও করা যায়! ঠিক শিশুর আদরের বাবার মতো! এইভাবেই কারনে অথবা তথাকথিত কারন ছাড়াই অর্থাৎ শুধুমাত্র অকারন প্রেমের জন্যই হয় ঈশ্বরের অবতরন! ভাগবতী তনু ধারনকারী ভগবানের শরীর ধারণ! [ক্রমশঃ]
