(আরবের ওলির কথা বলা হচ্ছিল। যিনি আল্লাহ্-র র সাথে কথা বলতেন। তিনি এক নিঃসন্তান দম্পতির অনুরোধে আল্লাহ্-র কাছে জেনেছিলেন যে ঐ দম্পতির কোন সন্তান হবে না। কিন্তু এক ফকিরের কৃপায় ওদের কয়েকটি সন্তান হোল। ওলি কারন খুঁজতে আল্লাহ্র সাথে কথা বলতে গেল। তারপর….)
……ওনার কুঠিয়ায় পৌঁছে উনি ওনার নির্দিষ্ট আসনে বসে ডুবে গেলেন ধ্যানের অন্তর্লীনতায় _যোগাযোগ করলেন আল্লাহ্ পাকের সাথে। আল্লাহ পাক প্রকট হোতেই ওলি ঐ দম্পতির সন্তান হওয়ার কারণ জিজ্ঞাসা করলেন এবং কেনই বা আল্লাহ তাকে মিথ্যা বলেছিলেন তাও জিজ্ঞাসা করলেন। এছাড়া এইজন্য যে তাঁকেও মানুষের কাছে মিথ্যাবাদী হোতে হোল_এই অভিযোগ জানাতেও ভুললেন না। আল্লাহ কিন্তু ওলিকে কোন কথার উত্তর না দিয়ে কাতরকন্ঠে বলে উঠলেন _”আমি খুবই ক্ষুধার্ত! তুমি কি আমার জন্যে মানুষের শরীরের খানিকটা টাটকা মাংস এনে দিতে পারো_তাহলে আমার কষ্ট দূর হয়!”
ওলি আল্লাহর এইরূপ কাতর অবস্থা কখনো দেখেননি _তাই ঘাবড়ে গিয়ে তিনি একটা ধারালো ছুরি এবং একটা পাত্র হাতে নিয়ে ছুটল লোকালয়ের দিকে _টাটকা নরমাংসের সন্ধানে! সামনে যে গ্রামটি পেল, সেখানে ঢুকেই চিৎকার করে লোকজন জড়ো করে ফেলল এবং বলতে লাগলো _” আল্লাহ ক্ষুধায় ভীষন কাতর হয়ে পড়েছেন ! তিনি টাটকা নরমাংস চাইছেন _তোমরা এক্ষুনি তাঁরজন্য শরীরের মাংস কেটে দাও!”
লোকজন এই সব কথা শুনে ভাবল, ওলির বয়সও হয়েছে, তাছাড়া একা একা পাহাড়ের মাথায় থেকে এইবার ওর মাথাটা খারাপ হয়ে গেছে!
ঐ নিঃসন্তান দম্পতির সন্তান হওয়ার পর থেকেই ওলির কথার উপরে অনেকেই এমনিতেই আস্থা হারিয়েছিল_এখন আবার এই অবস্থা দেখে গ্রামবাসী নিশ্চিত করল যে ওলির মাথা নিশ্চয়ই বিগড়েছে! তারা ওনাকে মেরে-ধরে গ্রাম থেকে তাড়িয়ে দিল! যে গ্রামবাসীরা ওনাকে এতদিন কতো ভক্তি-শ্রদ্ধা করেছে আজ তাদেরকে ওলি কত করে বোঝানোর চেষ্টা করলেন। কিন্তু কেউ তাঁর কোন কথায় কর্নপাতই করল না!
ক্লান্ত, আহত ওলি শারীরিক ও মানসিক ভাবে বিধ্বস্ত হয়ে গ্রামের বাইরে একটা গাছতলায় এসে বসলেন। ঠিক সেই সময়ে ওখানে একজন রোগাপাতলা চেহারার ফকিরবাবা এসে হাজির!
ওলিকে দেখেই ফকির সসম্ভ্রমে তাঁকে অভিবাদন জানালেন এবং এইভাবে বিপর্যস্ত অবস্থায় তাঁর ওইখানে বসে থাকার কারণটা কি _তা জানতে চাইলেন। ওলি ফকিরকে সমস্ত কথা খুলে বললেন _এবং আল্লাহর ক্ষুধায় কাতরতার জন্য যে তিনি খুবই চিন্তিত _তাও জানালেন।
ঐ ফকির আল্লাহর কষ্টের কথা শুনেই কেঁদে ফেললেন এবং ওলিকে বললেন _”আল্লাহ নরমাংস খেতে চেয়েছেন!! নাও-নাও, আমার শরীর থেকে যতটা খুশি মাংস নাও!”
ওলি আনন্দে অধীর হয়ে ছুরি হাতে ফকিরের গায়ের মাংস কাটতে গিয়ে দেখেন _শরীরে মাংস কোথায়? শরীরে শুধু হাড় — মাংস দিয়ে ঢাকা! একমাত্র পাছার কাছে কিছু নরম মাংস পাওয়ায় ওলি সেখান থেকেই কিছুটা মাংস কেটে নিয়ে ছুট লাগাতে চাইলেন আল্লাহর উদ্দেশ্যে!
কিন্তু তাঁকে থামালেন রক্তাক্ত ফকির! যন্ত্রনাক্লিষ্ট কন্ঠে ফকির বললেন _”শুনুন ওলিসাহেব! জীবনে এই প্রথম সরাসরি আল্লাহর সেবা করার সুযোগ পেয়েছি, তিনি তাজা নরমাংস খেতে চেয়েছেন_তাহলে তাঁকে পাছার মাংস কেন দেব? আপনি ওটা ফেলে দিয়ে, আমার কলিজাটা কেটে নিয়ে গিয়ে আল্লাহকে দিন।”
ওলি তাই করল, ছুরি দিয়ে ফকিরের কলিজাটা কেটে, রক্তাক্ত কলিজাটাকে পাত্রে ভরে নিয়ে ছুটে গেল সেই পাহাড়ের দিকে, যেখানে ক্ষুধার্ত আল্লাহ তার অপেক্ষায় বসে আছেন। ওলি পৌঁছাতেই আল্লাহ তার দেরির কারন কি _তা জানতে চাইলেন! ওলি তার সঙ্গে ঘটা সারাদিনের সমস্ত ঘটনা খুলে বললেন।
সব কথা শুনে আল্লাহ ওলি কে বললেন_”হে আমার প্রিয় ভক্ত ওলি! তুমি সাধন-ভজন-তপস্যার দ্বারা এমন একটা উচ্চ স্থিতিতে পৌঁছেছ যে লক্ষ লক্ষ ভক্তদের মধ্যে একমাত্র তুমিই আমার সাথে সরাসরি কথা বলার যোগ্যতা অর্জন করেছ! কিন্তু তবু তুমি এখনো সর্বোচ্চ অবস্থায় পৌঁছাতে পারোনি। কারন তোমার অন্তঃকরনে এখনও ‘প্রেম’ জাগ্রত হয় নি_যেটা ঐ ফকিরের মধ্যে পুরোমাত্রায় রয়েছে। দ্যাখো, তোমাকে স্বয়ং আমি নিজের মুখে আমার ক্ষুধার কথা এবং তা নিবৃত্তি কিভাবে হবে _তাও বলেছিলাম! তুমি যদি প্রেমিক হোতে _তাহলে তুমি নিজেই তৎক্ষণাৎ তোমার শরীরের মাংস কেটে আমাকে দিতে!! তুমি তা না করে _আমাকে অসুবিধার মধ্যে ফেলে রেখে পাহাড় থেকে নেমে গ্রামের দিকে ছুটলে_সাধারন মানুষের গায়ের মাংস আনতে! তোমার মাথায় এটা এল না যে, তোমার মতো উন্নত সাধক যা করতে পারল না _সাধারণ গৃহস্থী মানুষজন কিভাবে করবে?? তোমাকে যে সাধারণ মানুষের হাতে নিগৃহীত হোতে হল সেটা _এই জন্যই!
অপরদিকে ঐ ফকিরকে দ্যাখো! ও কোনদিন সরাসরি আমাকে দেখেনি, সরাসরি কোন নির্দেশ ও আমার কাছ থেকে পাযনি! ফকির তোমার মুখ থেকে আমার ক্ষুধার কথা শুধু শুনেছিল__তাতেই সে হাসতে হাসতে আমার খুশির জন্য নিজের জীবনকে মুহূর্তে উৎসর্গ করে দিল! এরাই আল্লাহর (ঈশ্বরের) সবচাইতে প্রিয় ভক্ত!! এই ধরনের ভক্তদের মধ্যে দিয়েই আল্লাহর লীলা বা মহিমা প্রকটিত হয়।
সুতরাং তুমি যে জিজ্ঞাসা করছিলে_আমি ‘না’ বলা সত্ত্বেও ঐ দম্পতির বাচ্চা হোল কি করে _তাই তো? এর উত্তর হচ্ছে __এই ধরনের ভক্তদের কাছে স্বয়ং আল্লাহ (ঈশ্বর) – ও অসহায়! এদের অপার্থিব সারল্য ও সহজতার মধ্যে দিয়েই ঈশ্বরের মহিমা _সাধারণ মানুষের কাছে প্রকাশিত হয়।
তাই _হে ওলি! ঐ ফকিরটির মতো মহাভক্ত বা মহাসাধকের ‘কথা’_রাখতে আমি একবার কেন বারবার মিথ্যাবাদী হোতে রাজী আছি!”
গল্পটা শেষ করে গুরুমহারাজ উপস্থিত সকলকে উদ্দেশ্য করে বললেন _এইভাবেই যুগে যুগে দেশ-কাল-পাত্র ভেদে ভক্ত ও ভগবানের লীলা হয়ে চলেছে। কথাতেই আছে ‘লীলা বোঝা ভার’! কথাটা ঠিকই। সাধারণ মানুষ কেন বড় বড় মহাত্মারাও ঈশ্বরের লীলা ঠিক ঠিক বুঝে উঠতে পারেন না। যখন যখন ঈশ্বরের অবতরণ হয় _তখন তখন কতিপয় উপস্থিত জন সরাসরি ঈশ্বরের লীলা প্রত্যক্ষ করতে সমর্থ হন। এখানে আবার মজা আছে _লীলা প্রত্যক্ষ করল _মানেই যে তারা সবাই ঈশ্বর পরায়ণ হয়ে উঠল, হয়তো তাও হয় না! সেখানেও সন্দেহ-সংশয়-তর্ক-যুক্তি চলতেই থাকে। এইভাবে বিবর্তনের পথ ধরে চলছে মানবের উন্নতি! Evolution আর revolution হয়ে উঠছে কই?
তবে জেনে রাখবে- ‘পরমেশ্বরের করুনা অপার’!সমাজে পরপর মহাপুরুষদের আগমন ঘটতে থাকবেই! কোথায় কখন শরীর নেবেন _তা নির্ধারণ করবেন মহাকাল! ওটি তোমার আমার চিন্তার বিষয় নয়! তাঁরা এই পৃথিবীতে বারবার শরীর নেবেন _মানুষ বারবার তাদেরকে লাঞ্ছনা করবে, হয়তো মেরেও ফেলবে! তবু তাঁরা আসবেন মানুষের কাছে ‘আলোর দিশারী’ হয়ে। মায়া-মোহে আচ্ছন্ন, বিভিন্ন সংস্কারে আবদ্ধ মানুষের চেতনার উত্তরণ ঘটাতে!! পৃথিবী গ্রহ তো এখনো খুবই অনুন্নত _তাই মহাপুরুষদের ঘনঘন আসতে হচ্ছে _এখানকার মানুষেরা উন্নত হয়ে গেলে অবতরনের আর প্রয়োজনই হবে না! এখানকার উন্নত চেতনার মানুষকে দিয়েই কাজ চালিয়ে নেওয়া যাবে।” [ক্রমশঃ]
……ওনার কুঠিয়ায় পৌঁছে উনি ওনার নির্দিষ্ট আসনে বসে ডুবে গেলেন ধ্যানের অন্তর্লীনতায় _যোগাযোগ করলেন আল্লাহ্ পাকের সাথে। আল্লাহ পাক প্রকট হোতেই ওলি ঐ দম্পতির সন্তান হওয়ার কারণ জিজ্ঞাসা করলেন এবং কেনই বা আল্লাহ তাকে মিথ্যা বলেছিলেন তাও জিজ্ঞাসা করলেন। এছাড়া এইজন্য যে তাঁকেও মানুষের কাছে মিথ্যাবাদী হোতে হোল_এই অভিযোগ জানাতেও ভুললেন না। আল্লাহ কিন্তু ওলিকে কোন কথার উত্তর না দিয়ে কাতরকন্ঠে বলে উঠলেন _”আমি খুবই ক্ষুধার্ত! তুমি কি আমার জন্যে মানুষের শরীরের খানিকটা টাটকা মাংস এনে দিতে পারো_তাহলে আমার কষ্ট দূর হয়!”
ওলি আল্লাহর এইরূপ কাতর অবস্থা কখনো দেখেননি _তাই ঘাবড়ে গিয়ে তিনি একটা ধারালো ছুরি এবং একটা পাত্র হাতে নিয়ে ছুটল লোকালয়ের দিকে _টাটকা নরমাংসের সন্ধানে! সামনে যে গ্রামটি পেল, সেখানে ঢুকেই চিৎকার করে লোকজন জড়ো করে ফেলল এবং বলতে লাগলো _” আল্লাহ ক্ষুধায় ভীষন কাতর হয়ে পড়েছেন ! তিনি টাটকা নরমাংস চাইছেন _তোমরা এক্ষুনি তাঁরজন্য শরীরের মাংস কেটে দাও!”
লোকজন এই সব কথা শুনে ভাবল, ওলির বয়সও হয়েছে, তাছাড়া একা একা পাহাড়ের মাথায় থেকে এইবার ওর মাথাটা খারাপ হয়ে গেছে!
ঐ নিঃসন্তান দম্পতির সন্তান হওয়ার পর থেকেই ওলির কথার উপরে অনেকেই এমনিতেই আস্থা হারিয়েছিল_এখন আবার এই অবস্থা দেখে গ্রামবাসী নিশ্চিত করল যে ওলির মাথা নিশ্চয়ই বিগড়েছে! তারা ওনাকে মেরে-ধরে গ্রাম থেকে তাড়িয়ে দিল! যে গ্রামবাসীরা ওনাকে এতদিন কতো ভক্তি-শ্রদ্ধা করেছে আজ তাদেরকে ওলি কত করে বোঝানোর চেষ্টা করলেন। কিন্তু কেউ তাঁর কোন কথায় কর্নপাতই করল না!
ক্লান্ত, আহত ওলি শারীরিক ও মানসিক ভাবে বিধ্বস্ত হয়ে গ্রামের বাইরে একটা গাছতলায় এসে বসলেন। ঠিক সেই সময়ে ওখানে একজন রোগাপাতলা চেহারার ফকিরবাবা এসে হাজির!
ওলিকে দেখেই ফকির সসম্ভ্রমে তাঁকে অভিবাদন জানালেন এবং এইভাবে বিপর্যস্ত অবস্থায় তাঁর ওইখানে বসে থাকার কারণটা কি _তা জানতে চাইলেন। ওলি ফকিরকে সমস্ত কথা খুলে বললেন _এবং আল্লাহর ক্ষুধায় কাতরতার জন্য যে তিনি খুবই চিন্তিত _তাও জানালেন।
ঐ ফকির আল্লাহর কষ্টের কথা শুনেই কেঁদে ফেললেন এবং ওলিকে বললেন _”আল্লাহ নরমাংস খেতে চেয়েছেন!! নাও-নাও, আমার শরীর থেকে যতটা খুশি মাংস নাও!”
ওলি আনন্দে অধীর হয়ে ছুরি হাতে ফকিরের গায়ের মাংস কাটতে গিয়ে দেখেন _শরীরে মাংস কোথায়? শরীরে শুধু হাড় — মাংস দিয়ে ঢাকা! একমাত্র পাছার কাছে কিছু নরম মাংস পাওয়ায় ওলি সেখান থেকেই কিছুটা মাংস কেটে নিয়ে ছুট লাগাতে চাইলেন আল্লাহর উদ্দেশ্যে!
কিন্তু তাঁকে থামালেন রক্তাক্ত ফকির! যন্ত্রনাক্লিষ্ট কন্ঠে ফকির বললেন _”শুনুন ওলিসাহেব! জীবনে এই প্রথম সরাসরি আল্লাহর সেবা করার সুযোগ পেয়েছি, তিনি তাজা নরমাংস খেতে চেয়েছেন_তাহলে তাঁকে পাছার মাংস কেন দেব? আপনি ওটা ফেলে দিয়ে, আমার কলিজাটা কেটে নিয়ে গিয়ে আল্লাহকে দিন।”
ওলি তাই করল, ছুরি দিয়ে ফকিরের কলিজাটা কেটে, রক্তাক্ত কলিজাটাকে পাত্রে ভরে নিয়ে ছুটে গেল সেই পাহাড়ের দিকে, যেখানে ক্ষুধার্ত আল্লাহ তার অপেক্ষায় বসে আছেন। ওলি পৌঁছাতেই আল্লাহ তার দেরির কারন কি _তা জানতে চাইলেন! ওলি তার সঙ্গে ঘটা সারাদিনের সমস্ত ঘটনা খুলে বললেন।
সব কথা শুনে আল্লাহ ওলি কে বললেন_”হে আমার প্রিয় ভক্ত ওলি! তুমি সাধন-ভজন-তপস্যার দ্বারা এমন একটা উচ্চ স্থিতিতে পৌঁছেছ যে লক্ষ লক্ষ ভক্তদের মধ্যে একমাত্র তুমিই আমার সাথে সরাসরি কথা বলার যোগ্যতা অর্জন করেছ! কিন্তু তবু তুমি এখনো সর্বোচ্চ অবস্থায় পৌঁছাতে পারোনি। কারন তোমার অন্তঃকরনে এখনও ‘প্রেম’ জাগ্রত হয় নি_যেটা ঐ ফকিরের মধ্যে পুরোমাত্রায় রয়েছে। দ্যাখো, তোমাকে স্বয়ং আমি নিজের মুখে আমার ক্ষুধার কথা এবং তা নিবৃত্তি কিভাবে হবে _তাও বলেছিলাম! তুমি যদি প্রেমিক হোতে _তাহলে তুমি নিজেই তৎক্ষণাৎ তোমার শরীরের মাংস কেটে আমাকে দিতে!! তুমি তা না করে _আমাকে অসুবিধার মধ্যে ফেলে রেখে পাহাড় থেকে নেমে গ্রামের দিকে ছুটলে_সাধারন মানুষের গায়ের মাংস আনতে! তোমার মাথায় এটা এল না যে, তোমার মতো উন্নত সাধক যা করতে পারল না _সাধারণ গৃহস্থী মানুষজন কিভাবে করবে?? তোমাকে যে সাধারণ মানুষের হাতে নিগৃহীত হোতে হল সেটা _এই জন্যই!
অপরদিকে ঐ ফকিরকে দ্যাখো! ও কোনদিন সরাসরি আমাকে দেখেনি, সরাসরি কোন নির্দেশ ও আমার কাছ থেকে পাযনি! ফকির তোমার মুখ থেকে আমার ক্ষুধার কথা শুধু শুনেছিল__তাতেই সে হাসতে হাসতে আমার খুশির জন্য নিজের জীবনকে মুহূর্তে উৎসর্গ করে দিল! এরাই আল্লাহর (ঈশ্বরের) সবচাইতে প্রিয় ভক্ত!! এই ধরনের ভক্তদের মধ্যে দিয়েই আল্লাহর লীলা বা মহিমা প্রকটিত হয়।
সুতরাং তুমি যে জিজ্ঞাসা করছিলে_আমি ‘না’ বলা সত্ত্বেও ঐ দম্পতির বাচ্চা হোল কি করে _তাই তো? এর উত্তর হচ্ছে __এই ধরনের ভক্তদের কাছে স্বয়ং আল্লাহ (ঈশ্বর) – ও অসহায়! এদের অপার্থিব সারল্য ও সহজতার মধ্যে দিয়েই ঈশ্বরের মহিমা _সাধারণ মানুষের কাছে প্রকাশিত হয়।
তাই _হে ওলি! ঐ ফকিরটির মতো মহাভক্ত বা মহাসাধকের ‘কথা’_রাখতে আমি একবার কেন বারবার মিথ্যাবাদী হোতে রাজী আছি!”
গল্পটা শেষ করে গুরুমহারাজ উপস্থিত সকলকে উদ্দেশ্য করে বললেন _এইভাবেই যুগে যুগে দেশ-কাল-পাত্র ভেদে ভক্ত ও ভগবানের লীলা হয়ে চলেছে। কথাতেই আছে ‘লীলা বোঝা ভার’! কথাটা ঠিকই। সাধারণ মানুষ কেন বড় বড় মহাত্মারাও ঈশ্বরের লীলা ঠিক ঠিক বুঝে উঠতে পারেন না। যখন যখন ঈশ্বরের অবতরণ হয় _তখন তখন কতিপয় উপস্থিত জন সরাসরি ঈশ্বরের লীলা প্রত্যক্ষ করতে সমর্থ হন। এখানে আবার মজা আছে _লীলা প্রত্যক্ষ করল _মানেই যে তারা সবাই ঈশ্বর পরায়ণ হয়ে উঠল, হয়তো তাও হয় না! সেখানেও সন্দেহ-সংশয়-তর্ক-যুক্তি চলতেই থাকে। এইভাবে বিবর্তনের পথ ধরে চলছে মানবের উন্নতি! Evolution আর revolution হয়ে উঠছে কই?
তবে জেনে রাখবে- ‘পরমেশ্বরের করুনা অপার’!সমাজে পরপর মহাপুরুষদের আগমন ঘটতে থাকবেই! কোথায় কখন শরীর নেবেন _তা নির্ধারণ করবেন মহাকাল! ওটি তোমার আমার চিন্তার বিষয় নয়! তাঁরা এই পৃথিবীতে বারবার শরীর নেবেন _মানুষ বারবার তাদেরকে লাঞ্ছনা করবে, হয়তো মেরেও ফেলবে! তবু তাঁরা আসবেন মানুষের কাছে ‘আলোর দিশারী’ হয়ে। মায়া-মোহে আচ্ছন্ন, বিভিন্ন সংস্কারে আবদ্ধ মানুষের চেতনার উত্তরণ ঘটাতে!! পৃথিবী গ্রহ তো এখনো খুবই অনুন্নত _তাই মহাপুরুষদের ঘনঘন আসতে হচ্ছে _এখানকার মানুষেরা উন্নত হয়ে গেলে অবতরনের আর প্রয়োজনই হবে না! এখানকার উন্নত চেতনার মানুষকে দিয়েই কাজ চালিয়ে নেওয়া যাবে।” [ক্রমশঃ]
